সর্বশেষ

তীব্র সংকটে সরকার

Unknown নভেম্বর ০১, ২০২৫

অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে এখন তীব্র আর্থিক সংকটের বাস্তবতা। রাজস্ব আদায় হ্রাস, পূর্ববর্তী সরকারের নেওয়া ঋণ পরিশোধের চাপ এবং লাগামহীন মূল্যস্ফীতির ফলে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এমন জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সরকারের পরিকল্পিত চলতি ব্যয় মেটাতেও এখন ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির সূচকগুলো নেমে গেছে, আর্থিক প্রবাহ সংকুচিত হচ্ছে, আর উৎপাদন ও কর্মসংস্থান থমকে আছে।

রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি, ঋণ পরিশোধের বোঝা ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সরকার ইতিমধ্যে কৃচ্ছসাধনের নীতি নিয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পে নতুন ব্যয় কার্যত স্থগিত রাখা হয়েছে। এরপরও অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের ঋণ ক্রমাগত বাড়ছে। বিপরীতে, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমছে—যা বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে সরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বেড়েছে ১ দশমিক ৭৯ শতাংশ, আর বেসরকারি খাতে তা কমেছে দশমিক ০৩ শতাংশ। টানা দুই মাস ধরে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ নেতিবাচক রয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা, রপ্তানিতে স্থবিরতা এবং শিল্পখাতের দুরবস্থার কারণে এ প্রবণতা অব্যাহত আছে।

দেশের মোট অভ্যন্তরীণ ঋণের স্থিতি প্রায় ২৩ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে বেসরকারি খাতে রয়েছে সাড়ে ১৭ লাখ কোটি এবং সরকারি খাতে সাড়ে ৫ লাখ কোটি টাকা। সরকারি খাতে ঋণ বাড়লেও এর বেশিরভাগই ব্যয় হচ্ছে চলতি খরচ মেটাতে, উন্নয়ন বা উৎপাদন বাড়াতে নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশঙ্কা করছে, কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা আকস্মিক ব্যয় সংকট দেখা দিলে সরকারের ঋণ আরও বৃদ্ধি পাবে।

প্রতিবেদনে সরকারি ঋণ বৃদ্ধির তিনটি মূল কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে—রাজস্ব আদায়ের ব্যর্থতা, বিগত সরকারের বিশাল ঋণ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা এবং সুদ ও দণ্ডসুদ বাড়ার চাপ। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে নেওয়া বিপুল ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে বর্তমান সরকারকে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে ডলার সংকট। ঋণের কিস্তি স্থগিত রাখায় অতিরিক্ত সুদও গুনতে হচ্ছে।

 

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ছাপানো টাকার ঋণ পরিশোধ করেছে ৩ হাজার ১০৫ কোটি টাকা। ব্যাংক খাত থেকে আগের নেওয়া ঋণের মধ্যে ২ হাজার ৫১৭ কোটি টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে নন-ব্যাংকিং উৎস থেকে প্রায় ৬৪ হাজার কোটি টাকা নতুন ঋণ নেওয়া হয়েছে। এসব ঋণের সুদহার ১১ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত, যা ব্যাংক ঋণের তুলনায় অনেক বেশি।

মূল্যস্ফীতি এখনও ৮ শতাংশের ওপরে রয়েছে। গত তিন বছর ধরে গড় মূল্যস্ফীতি ৯ থেকে ১১ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীকে টিকিয়ে রাখতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাড়াতে হচ্ছে, যা সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের একটি বড় অংশ দখল করছে।

রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে সংস্কার আন্দোলন, অর্থনৈতিক স্থবিরতা এবং কর ফাঁকির কারণে রাজস্ব আয় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ কমেছে। জুলাই-আগস্টে আদায় হয়েছে ৫৪ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা, যেখানে লক্ষ্য ছিল ৬১ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

 

অন্যদিকে, ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট বাড়ছে। আগস্টের শেষে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আমানত বেড়েছে মাত্র ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ, যা ঋণ সরবরাহ বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মেয়াদি আমানত বাড়লেও চলতি আমানত কমে যাওয়ার অর্থ হচ্ছে ব্যবসায়িক লেনদেন ও নগদ প্রবাহ কমে গেছে, যা অর্থনীতির মন্থরতারই প্রতিফলন।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারের ব্যয় ও ঋণ কাঠামো এখন এমন এক অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে নতুন কোনো দুর্যোগ বা অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলানো কঠিন হবে। রাজস্ব প্রবাহ না বাড়লে এবং বেসরকারি খাতের কার্যক্রম না ঘুরে দাঁড়ালে সংকট আরও গভীর হতে পারে।

বর্তমান সরকারের সামনে তাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ঋণনির্ভর ব্যয় কমিয়ে রাজস্ব আয় বাড়ানো, বিনিয়োগ পুনরুজ্জীবিত করা এবং মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে আনা। অন্যথায়, এই আর্থিক সংকট অচিরেই অর্থনীতির স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করতে পারে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সর্বশেষ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবিতে নারায়ণগঞ্জে সড়ক অবরোধ

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে নারায়ণগঞ্জে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক অবরোধ করেছেন কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।   সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে সদর উপজেলার কুতুবআইল কাঠেরপুল এলাকায় শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেন। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাঁরা ওই এলাকায় জড়ো হন।   আন্দোলনে ফতুল্লার মেট্রো নিটিং, পলমল গার্মেন্টস, আবির ফ্যাশন, আজাদ-রিফাত ডাইংসহ কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা অংশ নেন। তাঁদের প্রধান দাবি, মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে।   নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি শ্রমিক সংগঠনের নেতা জানান, কোনো নির্দিষ্ট সংগঠনের ব্যানারে নয়, শ্রমিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতেই তাঁরা সড়ক অবরোধ করেছেন।   অবরোধের খবর পেয়ে জেলা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেছেন। শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ অব্যাহত, ভাঙচুর অর্ধশতাধিক যানবাহন

লন্ডনে ধর্ষণের অভিযোগ: দুই বাংলা‌দেশিকে ধর‌তে ১০ হাজার পাউন্ড পুরস্কার ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

বারিধারায় নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু: অভিযুক্ত কিশোরের জামিন মঞ্জুর

বিগ-বি সম্প্রসারণে বঙ্গোপসাগর ঘিরে নতুন প্রত্যাশা

বঙ্গোপসাগর ঘিরে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ বিবেচনায় নানা পরিকল্পনা নিচ্ছে চীন, জাপান, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ। এমন প্রেক্ষাপটে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে অর্থনৈতিক সংযোগ বাড়াতে দীর্ঘদিনের ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ (বিগ-বি) উদ্যোগ নতুন কাঠামোয় সম্প্রসারণের অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ ও জাপান। এরই অংশ হিসেবে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে শিল্প, জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা কথা জানিয়েছে জাপান। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে জাপানি বেসরকারি খাতের এক লাখ কোটি ইয়েন (৬৩০ কোটি ডলার) বিনিয়োগের প্রত্যাশার কথা জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টিরও আশা করছে দুই দেশ।   গত মঙ্গলবার টোকিওতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বিগ-বির নতুন নাম ঘোষণা করা হয়– ‘বিগ-বি ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি’। নতুন কাঠামোর লক্ষ্য, বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে অর্থনৈতিক সংযোগ বাড়ানো এবং অভিন্ন সমৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করা।   এতে যোগাযোগব্যবস্থা শক্তিশালী করা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলা, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   ২০১৪ সালে শুরু, এবার নতুন রূপ   বিগ-বি উদ্যোগের সূচনা ২০১৪ সালে। ওই বছরের মে মাসে টোকিওতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের বৈঠকে বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক শিল্প ও যোগাযোগ উন্নয়নের এ পরিকল্পনা সামনে আসে। এর লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশে শিল্পায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযোগ বাড়ানো।   শুরুতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারকে ঘিরে যোগাযোগ ও শিল্প উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিগ-বি কোনো একক অবকাঠামো প্রকল্প নয়। এটি বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের বৃহত্তর উদ্যোগ। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প এ পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পর্কিত।   ২০২৩ সালে জাপান বঙ্গোপসাগর ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে যুক্ত করে শিল্পভিত্তিক মূল্যশৃঙ্খল গড়ে তোলার পরিকল্পনা সামনে আনে। এর উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশ ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার এবং পণ্য পরিবহনের সুযোগ বাড়ানো।   বিগ-বিকে নতুন কাঠামোয় সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে এবার প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলার পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।   মাতারবাড়ী নিয়ে আগ্রহ   বিগ-বির সম্প্রসারণে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কক্সবাজারের মহেশখালী-মাতারবাড়ী এলাকাকে কেন্দ্র করে জ্বালানি, শিল্প ও পণ্য পরিবহনের সমন্বিত কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বন্দরটির সক্ষমতা বাড়লে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের পাশাপাশি আঞ্চলিক পণ্য পরিবহনেরও নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।   প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর শুরুর আগে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ আমদানি-রপ্তানির চাহিদা পূরণে মাতারবাড়ী বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। বাংলাদেশের নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর অতিরিক্ত সক্ষমতা থাকলে তা অন্য কাজে ব্যবহারের বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে।   মাতারবাড়ীকে ঘিরে জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা থাকলেও বন্দর পরিচালনার দায়িত্ব জাপানকে দেওয়ার বিষয়ে যৌথ বিবৃতিতে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়নি।   ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়লে বাংলাদেশের বন্দর ও পরিবহন অবকাঠামো ব্যবহারের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বিগ-বির নতুন কাঠামোয় ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করার ঘোষণা যৌথ বিবৃতিতে নেই।   আঞ্চলিক স্বার্থের জটিল সমীকরণ   বঙ্গোপসাগর ঘিরে চীন, জাপান ও ভারতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে। চীন বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের মাধ্যমে আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে। অন্যদিকে, জাপান বিগ-বির মাধ্যমে বাংলাদেশে শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিনিয়োগের পরিবেশ শক্তিশালী করতে চায়। ভারতের আগ্রহের অন্যতম দিক হলো, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান কাজে লাগিয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সমুদ্রবন্দর ও আঞ্চলিক বাজারের যোগাযোগ বাড়ানো।   এই তিন দেশের উদ্যোগের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৪ সালে চীন ও জাপান পৃথক উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক যোগাযোগ পরিকল্পনায় যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিল। পরে জাপান বাংলাদেশ ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে যুক্ত করে শিল্পভিত্তিক মূল্যশৃঙ্খল গড়ে তোলার পরিকল্পনা সামনে আনে। এসব উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ, শিল্পকারখানা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।                 বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ হলো, কোনো একটি দেশের কৌশলগত অগ্রাধিকারের মধ্যে নিজেদের স্বার্থ সীমাবদ্ধ না রেখে সবার সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা। চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জাপানের উন্নয়ন সহযোগিতা এবং ভারতের সঙ্গে যোগাযোগের সম্ভাবনা সব ক্ষেত্রেই জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রকল্পের অর্থায়ন, ঋণের শর্ত, স্থানীয় কর্মসংস্থান ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।   সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলেন, জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা চীনের বিরুদ্ধে কোনো অবস্থান নয়। একইভাবে চীনের সঙ্গে বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্কও জাপানের সঙ্গে নতুন অংশীদারিত্বের বাধা হওয়া উচিত নয়।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ২৯, ২০২৬

বাংলাদেশিদের নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে যা বলা হলো

ছবি: সংগৃহীত

নতুন সচিবালয়ের সয়েল টেস্টিংয়ে বাধা, মালামাল নিয়ে গেলেন শেকৃবি শিক্ষার্থীরা

পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা নেমেছে ১৭ ডিগ্রিতে, বাড়ছে শীতের অনুভূতি

ছবি: সংগৃহীত
প্রাণ বাঁচাতে পানিতে লাফ, বাড়িতে ঢুকে কাওসারকে কুপিয়ে হত্যা; গ্রেপ্তার ৯

বরিশালের উজিরপুরে প্রাণ বাঁচাতে ব্রিজ থেকে পানিতে লাফ দিয়েও রক্ষা পাননি ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক কাওসার হাওলাদার (৩৭)। হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে পরে একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি। তবে সেখানেও হামলাকারীরা পৌঁছে ঘরের দরজা ভেঙে ঢুকে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রধান আসামিসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, শরীয়তপুরের পদ্মা সেতু এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ওই নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি, ধারালো কুড়াল ও স্টিলের পাইপসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা হয়েছে আসামিদের ব্যবহৃত একটি হাইয়েস মাইক্রোবাস।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের আলমদী এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।   পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে একটি সাদা হাইয়েস মাইক্রোবাস ও কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে একদল ব্যক্তি আলমদী এলাকার একতা বাজারসংলগ্ন শাহ আলম সরদারের বন্ধ চায়ের দোকানের সামনে আসেন। সেখানে কাওসার হাওলাদার ও রাশেদ ওরফে আমিন হাওলাদারকে পেয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।   হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে কাওসার ও রাশেদ পানিতে লাফ দেন। পরে তারা পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা ওই বাড়িতে ঢুকে দরজা ভেঙে কাওসারকে চাপাতি ও ধারালো কুড়াল দিয়ে কোপান এবং লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সেখানে ফেলে রেখে পালিয়ে যান তারা।   পরে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন কাওসারকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই ঘটনায় রাশেদ ওরফে আমিন হাওলাদারও গুরুতর আহত হন।   পুলিশ আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর উজিরপুর মডেল থানার একটি বিশেষ দল জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজনদের অবস্থান শনাক্তের পর শরীয়তপুরের পদ্মা সেতু এলাকায় অভিযান চালিয়ে নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।   গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন উজিরপুরের আলমদী গ্রামের সজল মোল্লা (৩৮), শামীম মোল্লা (৩৬) ও তারিকুল ইসলাম (৩০); মুলাদী উপজেলার দড়িচর গ্রামের সোহাগ হোসেন (৩০); গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার খাগবাড়িয়া গ্রামের সাগর শেখ (২৬); গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ভূষিদিয়া গ্রামের হাসিব শেখ (৩০) ও হাবিব শেখ (১৮); বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার মানিকখালী গ্রামের মাহাবুবুর রহমান (৫০) এবং ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বাটামারা গ্রামের শরিফ হোসাইন (৩০)।   সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার সজল মোল্লার দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে প্লাস্টিকের হাতলযুক্ত একটি চাপাতি, কাঠের হাতলযুক্ত একটি ধারালো কুড়াল এবং কালো কসটেপ দিয়ে প্যাঁচানো একটি স্টিলের পাইপ। এ ছাড়া সন্দেহভাজনদের ব্যবহৃত হাইয়েস মাইক্রোবাসটিও জব্দ করা হয়েছে।   নিহত কাওসার হাওলাদার আলমদী গ্রামের মোনাসেফ হাওলাদারের ছেলে। তিনি ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তিনি যুবদলের কর্মী ছিলেন। একই ঘটনায় আহত রাশেদ আমিনও যুবদলের কর্মী বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।   উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পালিয়ে যাওয়ার সময় মাইক্রোবাসসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শ্যামলীতে অটোরিকশায় থাকা নারীর ব্যাগ ছিনতাই, আঙুলে আঘাত

ছবি: সংগৃহীত

সাইবার হামলার সতর্কতায় দ্বিতীয় দিনও বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট

মানবতার সেবায় পথশিশুদের পাঠদান থেকে বৈশ্বিক অঙ্গনে মাস্তুল ফাউন্ডেশন

0 Comments