অধস্তন আদালতের বিচারকদের বড় সংখ্যা পদোন্নতি পেয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকার সারা দেশে একযোগে ৮২৬ জন বিচারককে পদায়ন ও বদলি করার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। বুধবার (২৬ নভেম্বর) বিকালে উপসচিব এ এফ এম গোলজার রহমান স্বাক্ষরিত পদোন্নতি ও বদলির পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পদোন্নতি প্রাপ্তদের নতুন কর্মস্থলে নিয়োগও নিশ্চিত করা হয়েছে।
জেলা ও দায়রা জজ পদে পদোন্নতির প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৬’ এর বেতন স্কেলের প্রথম গ্রেডে ৭০,৯২৫-৭৬,৩৫০ টাকা বেতনক্রম অনুযায়ী অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পদ থেকে জেলা ও দায়রা জজ পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের নিয়োগ ও বদলি প্রযোজ্য থাকবে।
প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, তিনটি পদে মোট পদোন্নতি ও পদায়ন হয়েছেন ৮২৬ জন। এর মধ্যে অতিরিক্ত জেলা জজ থেকে জেলা ও দায়রা জজ পদে ২৫০ জন, যুগ্ম জেলা জজ থেকে অতিরিক্ত জেলা জজ পদে ২৯৪ জন এবং সিনিয়র সহকারী জজ থেকে যুগ্ম জেলা জজ পদে ২৮২ জন পদোন্নতি পেয়েছেন।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, বদলি হওয়া বিচারকদের দপ্তরপ্রধান কর্তৃক মনোনীত কর্মকর্তার কাছে আগামী ২৭ নভেম্বর বর্তমান পদের দায়িত্বভার হস্তান্তর করতে হবে এবং আগামী ১ ডিসেম্বরের মধ্যে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদানের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রশিক্ষণরত, মাতৃত্বকালীন ছুটি বা বহিঃবাংলাদেশে থাকা কর্মকর্তাদের জন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা ছুটি বা প্রশিক্ষণ শেষে কর্মস্থলে যোগ দিয়ে কার্যভার হস্তান্তর করবেন এবং অবিলম্বে পদোন্নতিপ্রাপ্ত নতুন পদে যোগদান করবেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বাংলাদেশে বিএনপির নতুন সরকার এ মুহূর্তে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে সরিয়ে দেওয়া বা ওই পদে পরিবর্তনের চিন্তা করছে না। রাষ্ট্রপ্রধানের পদে পরিবর্তনের প্রশ্নে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি বলেই সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানাচ্ছে। তবে ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় বিজয় নিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন প্রশ্নে নানা আলোচনা চলছে রাজনীতিতে। এমনকি বিএনপির কারা রাষ্ট্রপতি হতে পারেন, অনেক নাম দিয়েও খবর হচ্ছে সংবাদমাধ্যমে। সামাজিক মাধ্যমেও রয়েছে অনেক নাম নিয়ে আলোচনা। দলটির নেতা-কর্মীদেরও অনেকে ধারণা করছেন, রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তন আসতে পারে। যদিও বিএনপির নীনিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদের এখনো অনেকটা সময় বাকি আছে। ফলে সংবিধান অনুযায়ী এখনই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয় নেই। তারা এই প্রশ্নও করছেন যে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রশ্ন কেন তোলা হচ্ছে? প্রসঙ্গত, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারের আমলে ২০২৩ সালের ২৪শে এপ্রিল পাঁচ বছর মেয়াদে রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্বে আসেন মো. সাহাবুদ্দিন। ফলে তার মেয়াদ রয়েছে ২০২৮ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত। সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেহেতু মেয়াদ রয়েছে, সেখানে মো. সাহাবুদ্দিন যদি পদত্যাগ না করেন অথবা তাকে অভিশংসন বা অপসারণ না করা পর্যন্ত নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইনগত সুযোগ নেই। কিন্তু জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাষ্ট্রপতি হয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন। ফলে আলোচনায় আসছে, সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপি সরকার চাইলেই রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন করতে পারে, সেটা তারা করবে কি না। আসলে কী করবে বিএনপি রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের প্রশ্নে বিএনপির শীর্ষ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এখনো তাদের শীর্ষ পর্যায়ের অন্য নেতাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা করেননি বলে জানা গেছে। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের আরেকজন নেতার বক্তব্য হচ্ছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের শাসনের পতনের পর সেই আন্দোলনের নেতৃত্বের একটা আংশ রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবি তুলেছিল। বিএনপি নেতাদের অনেকের ধারণা, সদ্য বিদায় নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের একটা অংশও ওই দাবির পেছনে ছিল। সে সময় সংবিধান সমুন্নত রাখার কথা উল্লেখ করে বিএনপি প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছিল রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবির বিপক্ষে। তখন তাদের যুক্তি ছিল, রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দেওয়া হলে দেশে সংবিধান ও আইন বহির্ভূত একটা অরাজকতা বা নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। কোনো কোনো মহল সে ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করতে চেয়েছিল। সেই উদাহরণ টেনে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ওই নেতা জানান, বিএনপি এবং তাদের সরকার এখন পর্যন্ত সংবিধান সমুন্নত রাখার পুরোনো অবস্থানেই আছে। বিএনপি নেতৃত্ব নতুন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ গঠনসহ সামনে চলার ক্ষেত্রে সংবিধান সমুন্নত রাখার কথা বলছেন। সে অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে যাচ্ছে আগামী ১২ই মার্চ। সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি এখন জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের এই ভাষণেরও বিরোধিতা করছে। তারা রাষ্ট্রপতিকে সংসদে অভিশংসন বা অপসারণের দাবিও তুলেছে। তাদের যুক্তি, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংসদ গঠিত হচ্ছে। সেই সংসদে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের আমলের রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিতে পারেন না। এনসিপির এই অবস্থানের প্রতি সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীরও সমর্থন রয়েছে বলে দলটির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে। আইনজ্ঞরা বলছেন, এনসিপি ও জামায়াতের এমন অবস্থান পুরোনো ও রাজনৈতিক। কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের শুরু থেকেই তাদের এই অবস্থান ছিল রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে। বিএনপি অবশ্য এনসিপিসহ বিভিন্ন দলের ওই অবস্থানকে আমলে নিচ্ছে না। সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এর মানে বিএনপি সরকার এখনই রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের পথে যাচ্ছে না এবং পরিবর্তন করতে চাইলে সেজন্য সময় নেবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। সরকারের ভেতরেও এ নিয়ে এখনো কোনো আলোচনা নেই বলেও সংশ্লিষ্টরা বলছেন। আর বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান যেহেতু দলের বা সরকারের অন্য নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে এখনো কোনো আলোচনা করেননি। ফলে তারা সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে বহাল রাখার পুরোনো অবস্থানেই থাকার কথা বলছেন। কিন্তু ভিন্নমতও আছে বিএনপির সাধারণ নেতা-কর্মীদের মধ্যে। তাদের কেউ কেউ বলছেন, জাতীয় সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। সেখানে ভিন্ন রাজনীতির কাউকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে বহাল রেখে সংবিধান সমুন্নত রাখার বিষয়টি তাদের কাছে যৌক্তিক নয়। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারই সংবিধান সমুন্নত রাখবে এবং বিএনপি চাইলেই রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন করতে পারে। তবে যারা আপাতত রাষ্ট্রপতির পরিবর্তন চান না, তারা চান সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যেন তাদের নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির মেয়াদ থাকে। আপাতত রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন না করার চিন্তার পেছনে এটি অন্যতম যুক্তি হিসেবে আসছে। রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রস্তুতি যদিও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সংসদে ভাষণ দেওয়ার বিরোধীতা করছে এনসিপিসহ বিভিন্ন দল। কিন্তু বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদের জন্য রাষ্ট্রপতির ভাষণ তৈরি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে আলোচনাও করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংসদের জন্য রাষ্ট্রপতির ভাষণ এখন প্রস্তুত। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ভাষণে কি থাকবে, তা সরকারের পক্ষ থেকে ঠিক করে মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করতে হয়। অর্থ্যাৎ যখন যে রাজনৈতিক সরকার থাকে, সংসদের প্রথম অধিবেশনে বা বছরের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণে সেই সরকারের বক্তব্য তুলে ধরা হয়। এর আগে রাষ্ট্রপতিরা সেভাবেই ভাষণ দিয়েছেন সংসদে। শুধু ব্যতিক্রম করেছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে তাদের প্রথম সরকারে এসে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করেছিল বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদকে। তিনি পাঁচ বছর রাষ্ট্রপতি থাকার সময় সংসদে বছরের প্রথম অধিবেশনে তৎকালীন সরকার অনুমোদিত ভাষণ পড়তেন। তিনি ভাষণের শেষে গিয়ে দুএকটি বাক্য নিজ থেকে বলতেন এবং সেটাই শিরোনাম হতো সংবাদ মাধ্যমে। আওয়ামী লীগের সেই সরকারের একপর্যায়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, এর পেছনে বিভিন্ন কারণের মধ্যে সংসদে বিচারপতি আহমদের স্বাধীনভাবে দুএকটি বাক্য বলার বিষয়টিও অন্যতম কারণ ছিল। যা নিয়ে সে সময় অনেক আলোচনাও হয়েছে। এখন বিএনপি সরকার সংসদে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ দেওয়ার ব্যাপারে যে ব্যবস্থা নিচ্ছে, তাতেই নতুন সরকার সংবিধানের বিরোধীতাকারীদের জন্য একটা বার্তা দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন। তারা বলছেন, আগের রাষ্ট্রপতিকে বহাল রেখে বিএনপি সরকার তাদের যাত্রার প্রথম পর্যায়ে সংসদ গঠন করাসহ সাংবিধানিক কাজগুলো সেরে নিতে চাইছে। একইসঙ্গে সংবিধান সমুন্নত রাখার যে কথা দলটি বলে আসছে, সেই অবস্থানে থাকার ব্যাপারেও একটা বার্তা দেওয়া হচ্ছে বিরোধীদের প্রতি। কিন্তু এমন অবস্থান নিয়ে বিএনপির ভেতরেও প্রশ্ন আছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা যায় কখন প্রথমত রাষ্ট্রপতির পদে থাকা ব্যক্তি নিজে থেকে পদত্যাগ করলে ওই পদ শূন্য হবে। তখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কোনো বাধা থাকে না। সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করা যেতে পারে। কিন্তু সেক্ষেত্রে সংবিধান লঙ্ঘন ও গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ থাকতে হবে। এই অভিশংসন প্রশ্নে সংবিধানে যা বলা আছে, সাধু ভাষায় ওই অংশ হুবহু তুলে ধরা হলো–– ৫২। ১. এই সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসিত করা যাইতে পারিবে; ইহার জন্য সংসদের মোট সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের স্বাক্ষরে অনুরূপ অভিযোগের বিবরণ লিপিবদ্ধ করিয়া একটি প্রস্তাবের নোটিশ স্পীকারের নিকট প্রদান করিতে হইবে; স্পীকারের নিকট অনুরূপ নোটিশ প্রদানের দিন হইতে চৌদ্দ দিনের পূর্বে বা ত্রিশ দিনের পর এই প্রস্তাব আলোচিত হইতে পারিবে না; এবং সংসদ অধিবেশনরত না থাকিলে স্পিকার অবিলম্বে সংসদ আহ্বান করিবেন। ২. এই অনুচ্ছেদের অধীন কোনো অভিযোগ তদন্তের জন্য সংসদ কর্তৃক নিযুক্ত বা আখ্যায়িত কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা কর্তৃপক্ষের নিকট সংসদ রাষ্ট্রপতির আচরণ গোচর করিতে পারিবেন। ৩. অভিযোগ-বিবেচনাকালে রাষ্ট্রপতির উপস্থিত থাকিবার এবং প্রতিনিধি-প্রেরণের অধিকার থাকিবে। এছাড়া সংবিধানে বলা হয়েছে, শারীরিক ও মানসিক অসামর্থের কারণে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের ভোটে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করা যায়। তখন সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সুযোগ তৈরি হয়। বিএনপি কী অভিশংসনের পথে যাবে? অভিশংসন বা অপসারণ-এই উপায়গুলো অনুসরণ করলে রাষ্ট্রপতিকে সরানোর দায় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের ওপর বর্তায় বলে উল্লেখ করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শাহদীন মালিক। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা বলছেন, এ মুহূর্তে এই দুই পথের কোনো পথই অনুসরণ করতে চান না তারা। সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিন নিজ থেকে পদত্যাগ করলে পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা বলছেন। প্রসঙ্গত, ভোটের আগে গত ডিসেম্বর মাসে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে হোয়াটসঅ্যাপে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর তিনি সরে যেতে চান। কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তিনি "অপমানিত বোধ করছেন"। রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ করতে হয় জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে। সংবিধান অনুযায়ী স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে অভিশংসনের প্রয়োজন হয় না। ১২ই মার্চ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই নতুন স্পিকার নির্বাচিত হবেন। তবে, মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের প্রশ্নে তার সেই আগের অবস্থান থেকে কিছুটা ভিন্ন বক্তব্য এসেছে এখন। সম্প্রতি কালের কণ্ঠ পত্রিকায় তার একটি সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন করা হয়েছিল, বিএনপি যদি মনে করে, তারা নিজেদের মতো রাষ্ট্রপতি চায়, সে ক্ষেত্রে আপনি কী করবেন? জবাবে তিনি বলেছেন, "যদি তারা মনে করে আমি থাকি, তাহলে আমি থাকব। আর যদি বলে যে, সরে যাওয়া ভালো; তাহলে আমি নিজেই সম্মানজনকভাবে সরে যাব"। এদিকে, যদিও বিএনপি সরকারের উচ্চপর্যায়ের কেউ কেউ বলছেন, অভিশংসন বা অপসারণের পথে যেতে চান না তারা। কিন্তু সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপি রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের জন্য সংবিধানে থাকা যে কোনো উপায়ই ব্যবহার করতে পারে। সেখানে কোনো বিতর্ক কিংবা দায় এড়াতে অভিশংসন বা অপসারণের সেই পথে না গিয়েও বিএনপি চাইলে রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগের জন্য বলতে পারে। তাতে জটিলতা দেখেন না বিএনপি নেতাদেরই অনেকে। সরকারের কোনো দায়িত্বে নেই, বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এমন একজন নেতা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি পদে মো. সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত আরও দুই বছর রয়েছে। এত লম্বা সময় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের রাষ্ট্রপতিকে রাখা হবে, এটাও মনে করেন না তাদের অনেকে। অন্যদিকে, সরকার ও বিএনপির নেতাদের যারা সংবিধান সমুন্নত রাখতে মো. সাহাবুদ্দিনকেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে আপাতত বহাল রাখার কথা বলছেন, তাদের অবশ্য ভিন্ন একটা হিসাব-নিকাশ আছে। সেটি যদি এভাবে বলা যায় যে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার জন্য সংবিধান সংশোধন করে তিন মাস মেয়াদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরত আনতে হবে। সেই পরিস্থিতি বিবেচনায় রাখছেন বিএনপির ওই নেতারা। কারণ, বিএনপি সরকার এখন নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করলে, তার মেয়াদও পাঁচ বছর পর এই সরকারের মেয়াদের সঙ্গে শেষ হবে। ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হলে তখন বিএনপির রাষ্ট্রপতি থাকবে না। এছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার যেহেতু নির্বাচিত হবে না, সে সময় রাষ্ট্র প্রধানের পদে নির্বাচিত ব্যক্তি না থাকলে সাংবিধানিক, রাজনৈতিক সংকট হতে পারে। সেজন্য বিএনপি সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যাতে একটা যথাযথ সময়ের জন্য রাষ্ট্রপতির মেয়াদ থাকে, সেটি চান সরকার ও দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের অনেকে। এমন প্রেক্ষাপটে মো. সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি পদে বহাল রেখে তার মেয়াদ শেষে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বা তার আগেও তাকে পরিবর্তনের সাংবিধানিক উপায় বিএনপির হাতে আছে। ফলে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা এখনই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রশ্নে চিন্তিত নন বলে মনে হয়েছে। তবে বিএনপির সাধারণ নেতা-কর্মীরা মনে করছেন,, রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের প্রশ্নে তাদের শীর্ষ নেতা যেহেতু তার চিন্তা বা মনোভাব এখনো প্রকাশ করেন নি। ফলে নতুন জাতীয় সংসদ যাত্রা শুরুর পর বিষয়টিতে দল ও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হতে পারে যে, মো. সাহাবুদ্দিনই রাষ্ট্রপতি হিসেবে আপাতত বহাল থাকছেন নাকি পরিবর্তন আসবে। উল্লেখ্য, বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনটি সরকারের শপথ পড়িয়ে উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সাত মাস আগে ২০২৪ সালের ৭ই জানুয়ারি একতরফা ও বিতর্কিত নির্বাচনের পর ওই সরকারের প্রধানমন্তী-মন্ত্রীদের শপথ পড়িয়েছিলেন তিনি। আওয়ামী লীগের শাসনের পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ পড়ান বর্তমান রাষ্ট্রপতি। সর্বশেষ ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর তিনি শপথ পড়ান তারেক রহামানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারকে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের স্থগিত হওয়া ঢাকা-সিলেট-ম্যানচেস্টার রুট ফের চালু হচ্ছে। আগামী ১ জুলাই থেকে ফের এ রুটে বিমানের ফ্লাইট চলবে। বুধবার (১১ মার্চ) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে গত ৪ জানুয়ারি বিমানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকা-ম্যানচেস্টার ফ্লাইট স্থগিত থাকবে। পরে বিমান আরেক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ১ মার্চ থেকে ওই রুটের ফ্লাইট স্থগিত করা হবে। জনপ্রিয় ওই রুট বন্ধে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। প্রবাসীরা রুটটিতে নিয়মিত ফ্লাইট চালানোর দাবি তুলেছিলেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম বলেন, যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের স্থগিত হয়ে যাওয়া ঢাকা-সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটটি ফের চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আসন্ন হজ কার্যক্রম শেষে আগামী ১ জুলাই থেকে পুনরায় ওই রুট চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ফ্লাইটের সময়সূচি এবং অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য যথাসময়ে অবহিত করা হবে।
জামায়াত আমিরের উপদেষ্টাকে মন্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পদায়নের চিঠি দেওয়া নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষাপটে একটি বিবৃতি দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আজ বুধবার ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে লেখা একটি চিঠি ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে তিনি একই চিঠি সরাসরি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছেও হস্তান্তর করেন।’ ‘চিঠিটি বিরোধীদলীয় নেতার জাতীয় সংসদের প্যাডে লেখা ছিল।চিঠির বিষয়বস্তু হচ্ছে ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা বা মন্ত্রী পদমর্যাদায় নিয়োগ ও সুপারিশ।’ বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘বিরোধীদলীয় নেতা তার স্বাক্ষরিত চিঠিতে ড. হাসানের দক্ষতা, পেশাদারি ও বিচক্ষণতার প্রশংসা করেন এবং দেশের পররাষ্ট্রনীতিকে একত্রে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে তাঁকে উল্লিখিত পদে পদায়নের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকট সুপারিশ করেন। তিনি বিষয়টিকে বিশেষভাবে বিবেচনার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান। চিঠির নিচে শুধুমাত্র বিরোধীদলীয় নেতার স্বাক্ষর রয়েছে।বিরোধীদলীয় নেতা লিখিতভাবে সম্মতি প্রদান করলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চিঠিটির পূর্ণ পাঠ জনসমক্ষে প্রকাশ করতে প্রস্তুত রয়েছে।’ এদিকে একটি পত্রিকার প্রতিবেদন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচর হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে ‘জামায়াতের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি ফোনে যোগাযোগ করা হয়। সেখানে জানানো হয় যে উক্ত চিঠির বিষয়ে আমিরে জামায়াত অবগত ছিলেন না।’ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে এ ধরনের কোনো ফোনালাপ সংঘটিত হয়নি।