জাতীয়

তারেক রহমানের ভারত সফরে সম্মানজনক অভ্যর্থনার আশ্বাস মোদির: দীনেশ ত্রিবেদী

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফরে গেলে তাকে প্রাপ্য মর্যাদায় সম্মানজনক অভ্যর্থনা দেওয়া হবে বলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আশ্বস্ত করেছেন—এমনটাই জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী এবং কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) সফররত প্রতিনিধিদলের সম্মানে ভারতীয় হাইকমিশন অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।

 

দীনেশ ত্রিবেদী জানান, বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি দিল্লি যান এবং সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে নরেন্দ্র মোদি দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।

 

ভারতের হাইকমিশনার বলেন, নরেন্দ্র মোদি তাকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে গেলে তার জন্য এমন একটি অভ্যর্থনার আয়োজন করা হবে, যা তার প্রাপ্য মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। সফরটি স্মরণীয় হবে এবং এর সুফল শেষ পর্যন্ত দুই দেশের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশ শুধু সীমান্তই ভাগ করে নেয় না, তাদের মধ্যে অভিন্ন স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা ও সমতার বিষয়ও রয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তিনি একজন ‘জনগণের মানুষ’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নির্বাচিত হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানান।

 

তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীই প্রথম তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রধানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছিলেন। এরপর ভারতের লোকসভার স্পিকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করেছেন।

 

দুই দেশের সম্পর্কে কিছু মতপার্থক্য থাকার কথাও স্বীকার করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি বলেন, সমস্যা থাকা স্বাভাবিক এবং প্রাণবন্ত গণতন্ত্রে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। এসব বিষয় নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশের মন্ত্রীদের সঙ্গে ভারত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।

 

বাংলাদেশের মানুষের উদ্বেগ ভারত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে জানিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, পারস্পরিক যোগাযোগ ও সাক্ষাতের মাধ্যমেই এসব উদ্বেগ কমানো সম্ভব। দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বাড়ানোর ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

 

নতুন বাংলাদেশের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এ দেশের তরুণরা অনেক সংগ্রাম ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে এগিয়ে এসেছে। দুই দেশের লক্ষ্য শান্তি ও সমৃদ্ধি অর্জন। তরুণদের জন্য সেই সুযোগ তৈরি করতে বাংলাদেশ ও ভারতকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

 

তিনি আরও বলেন, অতীতকে ভুলে যাওয়ার প্রয়োজন নেই; বরং অতীতের মতপার্থক্যগুলো সমাধান করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। স্থবির না থেকে দুই দেশকে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামসহ দুই দেশের ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেশী দেশের ভরসায় ক্ষমতায় থাকার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আলাপ করে তাদের ভরসায় ক্ষমতায় থাকার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ।    তিনি বলেছেন, ঐতিহ্যবাহী জেএম সেন হলে তারা সবসময় এসেছেন। তবে তাদের আগেও কেউ কেউ এখানে এসে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিশ্চিন্তে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।    মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রামের জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চেয়েছিলাম যেখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না। আমাদের স্বাধীনতার শহীদ মুক্তিযোদ্ধাগণ এরকম একটি বাংলাদেশ চেয়েছিলেন যেখানে ধর্মীয় সম্প্রীতি থাকবে। আমি খুব সচেতনভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি শব্দটা এড়িয়ে চলি। কারণ আমরা কোথাও আইনিভাবে সম্প্রদায়কে স্বীকৃতি প্রদান করি না। পৃথিবীর সব দেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ কমবেশি থাকে। সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকে। কিন্তু আমরা এখানে কাউকে সংখ্যালঘু হিসেবে তুলনা দিতে চাই না। সেই জন্য আমরা সবাই বাংলাদেশি সিটিজেন, বাংলাদেশি নাগরিক। এই পরিচয়টা নতুনভাবে অনুধাবন করার জন্য চব্বিশ-পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা যে সংস্কৃতি চালু করেছি, তার নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   তিনি বলেন, আমরা এ দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বী ও বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মাবলম্বীরা রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছি। গণ-অভ্যুত্থানে সব ধর্মাবলম্বী ভাইয়েরা রক্ত ঝরিয়েছে এই ফ্যাসিবাদমুক্ত হওয়ার জন্য।   তিনি আরও বলেন, আমরা ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন চাই না। ধর্মের ভিত্তিতে কোনো রাজনীতি করি না। ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি বিশ্বাস করি না। সুতরাং যারা আপনাদেরকে ভোট ব্যাংক হিসেবে সব সময় মনে করেছিল, তাদের ভ্রম ভেঙে দিয়েছিলেন গতবার। আপনারা আস্থা প্রকাশ করেছেন, আমরা বিশ্বাস রেখেছি। আস্থা এবং বিশ্বাসের প্রতীক আমাদের নেতা তারেক রহমান।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২০, ২০২৬

বাংলাদেশ-জাপান চিকিৎসা সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ

ছবি: সংগৃহীত

নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১২ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর, তদন্ত কমিটি গঠন

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম মার্শালিং ইয়ার্ড পরিদর্শনে রেলওয়ের জিএম, কার্যক্রম ও নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত
অনলাইনে মুহূর্তেই শেষ ট্রেনের টিকিট, নতুন এজেন্সি নিয়োগের উদ্যোগ রেলওয়ের

অনলাইনে বিক্রি শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যেই ট্রেনের টিকিট শেষ হয়ে যাওয়া, স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার বা বটের মাধ্যমে টিকিট ব্লক করা এবং কালোবাজারির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে টিকেটিং ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। আগামী নভেম্বর মাসে নতুন টিকেটিং এজেন্সি নিয়োগের জন্য দরপত্র আহ্বানের পরিকল্পনা নিয়েছে সংস্থাটি।   রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে টিকিট ব্যবস্থাপনার প্রশাসনিক কার্যক্রম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে সমন্বিত টিকেটিং সিস্টেমের নিরাপত্তা, আর্থিক স্বচ্ছতা ও পরিচালনাগত অনিয়ম নিয়ে পরিচালিত আইটি অডিটে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে।   ২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশ রেলওয়ের সমন্বিত টিকেটিং সিস্টেম (বিআরআইটিএস) নিয়ে পরিচালিত অডিটে দেখা যায়, সাধারণ যাত্রীদের জন্য টিকিট বিক্রি শুরুর আগেই অ্যাডমিন ড্যাশবোর্ড ব্যবহার করে টিকিট ব্লক করার সুযোগ রয়েছে।   অডিট প্রতিবেদনে টিকেটিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান সহজের কর্মীদের পরিচালনায় প্রায় ১৬৯টি অ্যাডমিন অ্যাকাউন্টের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব অ্যাকাউন্টের অপব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সম্ভাব্য যোগসাজশে টিকিট কালোবাজারির সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এসব পর্যবেক্ষণকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।   এ ছাড়া অনলাইন টিকিট বিক্রির আয় ও সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া অর্থের মধ্যে অসংগতি এবং দীর্ঘ সময় টিকেটিং সিস্টেম অকার্যকর থাকার পরও সহজ লিমিটেডের কাছ থেকে ১ কোটি ৩৯ লাখ ৮৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় না করার বিষয়টি অডিটে উঠে এসেছে।   গত ১৬ আগস্ট পরিবহন অডিট অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দপ্তর থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো চিঠিতে আইটি অডিট দলের ২২টি অডিট মেমোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।   বট ব্যবহার করে টিকিট ব্লক করার অভিযোগ বাংলাদেশ রেলওয়ের অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানে ‘bookmyrailbd.com’ নামের একটি ওয়েবসাইট ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে টিকিট ব্লক করার অভিযোগ উঠে এসেছে। রেলওয়ের নথি অনুযায়ী, অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিপুলসংখ্যক টিকিট ব্লক করে পরে অননুমোদিত মাধ্যমে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এতে সাধারণ যাত্রীরা নির্ধারিত মূল্যে টিকিট পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় টিকেটিং ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা সহজ-সিনেসিস-ভিনসেন জেভির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। গত ১১ অক্টোবর স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে তিন কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা চাওয়ার প্রস্তাবের বিষয়টিও উল্লেখ রয়েছে।   যাত্রীদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ অডিট প্রতিবেদনে রেলওয়ের অনলাইন টিকেটিং ব্যবস্থায় যাত্রীদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিআরআইটিএসের মূল ডেটাবেইস আমাজন ওয়েব সার্ভিসেসের সিঙ্গাপুর অঞ্চলের ভার্চুয়াল প্রাইভেট ক্লাউডে সংরক্ষিত রয়েছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা না হলে সাইবার হামলার মাধ্যমে যাত্রীদের নাম, মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা, ভ্রমণের ইতিহাস এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য চুরির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে অডিটে আশঙ্কা করা হয়েছে। তবে ডেটাবেইস বিদেশে সংরক্ষিত থাকার অর্থ এই নয় যে যাত্রীদের তথ্য ইতোমধ্যে চুরি হয়েছে। অডিটে সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।   টিকিট না পেয়ে ভোগান্তিতে যাত্রীরা অনলাইনে টিকিট ছাড়ার পরপরই শেষ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির অভিযোগ করে আসছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে ঢাকা থেকে সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্যের টিকিট সংগ্রহে সমস্যার কথা জানিয়েছেন অনেকে। ঢাকা-পঞ্চগড় রুটের নিয়মিত যাত্রী নুরুদ্দীন তাসলিম জানান, ঈদের সময় ট্রেনের টিকিট পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। গত পাঁচ বছরে হাতে গোনা কয়েকবার অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করতে পেরেছেন তিনি। অনেক সময় বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে কালোবাজার থেকে টিকিট কিনতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন। তার মতে, শুধু উৎসবের সময় নয়, সাধারণ দিনগুলোতেও স্বল্প সময়ের নোটিশে ট্রেনের টিকিট পাওয়া কঠিন। এতে দূরপাল্লার যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ছে। এদিকে গত ৭ অক্টোবর চলচ্চিত্র নির্মাতা ও নাট্যকার আশফাক নিপুণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি জানান, পূজার ছুটিতে কক্সবাজার যাওয়ার জন্য সকাল ৮টায় অনলাইনে টিকিট সংগ্রহের চেষ্টা করেন। কিন্তু সকাল ৮টা ১ মিনিটের মধ্যেই দুটি ট্রেনের সব টিকিট শেষ হয়ে যায় বলে তার অভিযোগ। এত অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক টিকিট শেষ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি টিকিট কালোবাজারি ও সম্ভাব্য সিন্ডিকেটের কার্যক্রম তদন্তের দাবি জানান।   নভেম্বরেই নতুন এজেন্সির জন্য দরপত্র বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. আফজাল হোসেন মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ঢাকা পোস্টকে জানান, টিকেটিং ব্যবস্থাপনার প্রশাসনিক বিষয়গুলো ইতোমধ্যে রেলওয়ের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী মাসে টিকেটিং সিস্টেম পরিচালনার জন্য নতুন এজেন্সি নিয়োগে দরপত্র আহ্বান করা হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু এজেন্সি পরিবর্তন করলেই টিকিট কালোবাজারি ও অনিয়ম বন্ধ হবে না। এজন্য টিকেটিং সফটওয়্যারের নিরাপত্তা জোরদার, অ্যাডমিন অ্যাকাউন্টের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা এবং অনিয়মের অভিযোগের কার্যকর তদন্ত নিশ্চিত করা প্রয়োজন। নতুন এজেন্সি নিয়োগের উদ্যোগে সাধারণ যাত্রীদের টিকিটপ্রাপ্তি কতটা সহজ হবে এবং দীর্ঘদিনের কালোবাজারি ও নিরাপত্তাঝুঁকি কতটা কমবে, তা নির্ভর করবে নতুন ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও রেলওয়ের তদারকির ওপর।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শরীয়তপুরে হোটেলকক্ষে শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দুর্গাপূজা পরিদর্শনে রংপুর ও রাজশাহী শেষে চট্টগ্রাম পৌঁছালেন প্রধানমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি

সরকারি কর্মচারীদের নতুন মূল বেতন কার্যকর হলেও ভাতার নিয়ম অপরিবর্তিত

প্রতীকী ছবি
বায়োমেট্রিক তথ্য না দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে এনআইডি আবেদন

অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা ভোটার নিবন্ধনের আবেদন করার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বায়োমেট্রিক তথ্য না দিলে আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন ভোটার নিবন্ধন কিংবা এনআইডি-সংক্রান্ত আবেদনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে বায়োমেট্রিক তথ্য না দেওয়া আবেদনকারীদের ঝুলে থাকা আবেদন নিষ্পত্তিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।     সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের মাসিক সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কারিগরি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।     ইসি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের সিস্টেম ম্যানেজারকে লিখিত নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্দেশনা অনুযায়ী, অনলাইনে নতুন ভোটার নিবন্ধন বা এনআইডি-সংক্রান্ত আবেদন করার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কার্যালয় বা বুথে গিয়ে ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশের তথ্য দিতে হবে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এসব বায়োমেট্রিক তথ্য জমা না দিলে আবেদনটি সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।       ইসির এই উদ্যোগের ফলে সার্ভারে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা অসম্পূর্ণ আবেদন কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আবেদন করে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা না দেওয়ার কারণে তৈরি হওয়া জটিলতাও কমবে।   এদিকে, মাঠপর্যায়ের নির্বাচন কার্যালয়গুলোতে সংরক্ষিত পুরোনো নথিপত্র ও অপ্রয়োজনীয় সামগ্রী অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। ২০১২ সাল থেকে জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে সংরক্ষিত স্ক্যান করা ও সার্ভারে আপলোড করা ভোটার নিবন্ধন ফরম-২ এবং অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় সামগ্রী নিষ্পত্তি করা হবে। এ কাজ আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করতে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়গুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।     তবে সব পুরোনো নথি অপসারণ করা হবে না। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০১১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধিত ও সংরক্ষিত ভোটার নিবন্ধন ফরম আগের মতোই সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে গুরুত্বের সঙ্গে সংরক্ষণ করতে হবে। ফলে ২০১২ সাল থেকে স্ক্যান করে সার্ভারে সংরক্ষিত ফরমগুলোর কাগজই কেবল অপসারণের আওতায় আসবে।     নথিপত্র নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে তথ্যের গোপনীয়তা ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এ জন্য বাতিলের জন্য নির্ধারিত ফরম ও নথিপত্র খোলাবাজারে বিক্রি না করে সরাসরি কাগজের মণ্ড তৈরির কাজে ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।     সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দেশের সব আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালকের কাছে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২০, ২০২৬
ছবি : পিএমও

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের অধিকার সমান : প্রধানমন্ত্রী

ছবি : পিএমও

সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ দিয়ে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা: তারেক রহমান

তথ্যমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে ভোলায় বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পেল ২২ হাজার মানুষ

0 Comments