অসাধারণ প্রতিভাবান সতীর্থদের নিয়ে রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপে মাঠে নামতে যাচ্ছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো। বৈশ্বিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে প্রথমবারের মতো শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে পর্তুগাল।
কোচ রবার্তো মার্টিনেজের দল গ্রুপ ‘কে’-তে অন্যতম ফেবারিট হিসেবেই আছে। এই গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ ডিআর কঙ্গো, বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া উজবেকিস্তান এবং তুলনামূলক কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী কলম্বিয়া।
ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো এবং দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি এবারের বিশ^কাপেরইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন। তারা দুজনেই বিশ্বকাপের ছয়টি আসরে অংশ নেওয়া প্রথম ফুটবলার হতে চলেছেন।
২০০৬ সালের বিশ্বকাপে রোনাল্ডোর অভিষেক আসরে পর্তুগাল চতুর্থ স্থান অর্জন করেছিল। কিন্তু এরপর আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা (১৪৩ গোল) রোনাল্ডোকে দলে রেখেও দলটি খুব কমই শিরোপার কাছাকাছি পৌঁছাতে পেরেছে।
বর্তমানে ৪১ বছর বয়সী রোনাল্ডোর উপস্থিতিকেই অনেকে সাম্প্রতিক বড় টুর্নামেন্টগুলোতে পর্তুগালের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে না পারার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন। বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে শেষ নয় ম্যাচে তিনি কোনো গোল করতে পারেননি। এমনকি ২০২২ বিশ্বকাপে তৎকালীন কোচ ফার্নান্দো সান্তোস রোনাল্ডোকে বেঞ্চে বসিয়ে গনসালো রামোসকে খেলিয়েছিলেন।
তবে মার্টিনেজ রোনাল্ডোর প্রতি আস্থা অটুট রেখেছেন এবং তার পেছনে যুক্তিও রয়েছে। গত বছর স্পেনকে টাইব্রেকারে হারিয়ে পর্তুগাল যখন উয়েফা নেশন্স লিগ জেতে তখন কোয়ার্টার-ফাইনাল, সেমি-ফাইনাল ও ফাইনাল- তিন ম্যাচেই গোল করেছিলেন রোনাল্ডো।
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও তিনি পাঁচ ম্যাচে পাঁচ গোল করেন, যদিও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে লাল কার্ড দেখেছিলেন। অন্য কোনো খেলোয়াড় হলে হয়তো টুর্নামেন্টের শুরুতেই দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তেন, কিন্তু রোনাল্ডো মাত্র এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হন।
রোনাল্ডোকে সমর্থনের আরেকটি কারণ হলো, আক্রমণভাগে পর্তুগালের কাছে খুব বেশি নির্ভরযোগ্য বিকল্প নেই। তবে তাদের আসল শক্তি সম্ভবত বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা মিডফিল্ড লাইনআপ।
পিএসজি জুটি ভিটিনহা, হুয়াও নেভেসের সাথে আরও আছেন প্রিমিয়ার লিগের বর্ষসেরা খেলোয়াড় ব্রুনো ফার্নান্দেস ও বার্নান্ডো সিলভা।
এদিকে গ্রুপের আরেক শক্তিশালী দল কলম্বিয়ার নেতৃত্বে রয়েছেন তাদের অভিজ্ঞ তারকা হামেস রদ্রিগেজ, যিনি ১২ বছর আগে বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্লাব ক্যারিয়ার খুব একটা সফল না হলেও ৩৪ বছর বয়সী হামেস এখনও কলম্বিয়া দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। দুই বছর আগে দলটি কোপা আমেরিকার ফাইনালে উঠেছিল এবং দক্ষিণ আমেরিকার বাছাইপর্বে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিল।
তবে এখন ‘লস কাফেতেরোস’র প্রধান তারকা লুইস দিয়াজ। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ক্যারিয়ারের সেরা মৌসুম কাটিযয়ে তিনি বিশ্বকাপে এসেছেন।
এই বিশ্বকাপে কলম্বিয়ার ম্যাচের টিকিট সবচেয়ে বেশি চাহিদা সম্পন্নগুলোর মধ্যে রয়েছে। বিপুলসংখ্যক প্রবাসী ও ভ্রমণকারী সমর্থকের উপস্থিতি দলটিকে বড় সমর্থন জোগাবে।
ফলে গ্রুপের অন্য দুই দল উজবেকিস্তান ও ডিআর কঙ্গোর জন্য দুই ফেবারিট পর্তুগাল ও কলম্বিয়াকে হারিয়ে চমক দেখানো আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
ম্যানচেস্টার সিটি ডিফেন্ডার আব্দুকোডির খুশানভ উজবেকিস্তান দলের সবচেয়ে পরিচিত মুখ। যদিও দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই দেশের ঘরোয়া লিগে খেলেন।
তবে উজবেকদের বেঞ্চে আছেন বিশ্বকাপজয়ী কোচ ফ্যাবিও ক্যানাভারো, যিনি ২০০৬ সালে ইতালিকে বিশ্বকাপ জেতানো দলের অধিনায়ক ছিলেন।
অন্যদিকে ডিআর কঙ্গো ৫২ বছর আগে একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল। যখন দেশটির নাম ছিল জায়ার। সে আসরে তারা কোনো পয়েন্ট বা গোল ছাড়াই বিদায় নিয়েছিল।
তবে এবার দলটিতে আছেন ইওয়ানে উইসা, নোহা সাদিকি ও এ্যারন ফন-বিসাকার মতো খেলোয়াড়রা। তাদের লক্ষ্য অন্তত বিশ্বকাপে প্রথম জয় অর্জন করা।
কোচ সেবাস্টিন ডিসাবরের দল প্লে-অফে ক্যামেরুন ও নাইজেরিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ইতিহাসের চাকা যেন ঘুরল দীর্ঘ ৪০ বছর পর। ১৯৮৬ সালে মেক্সিকোর মাটিতে ইংল্যান্ডকে চূর্ণ করে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তোলার রূপকার ছিলেন দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনা। ২০২৬ সালে এসে উত্তর আমেরিকার মাটিতে সেই ইংল্যান্ডকেই কাঁদিয়ে আলবিসেলেস্তেদের টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে তুললেন লিওনেল মেসি। সময়ের ব্যবধান চার দশকের হলেও, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী থ্রি লায়ন্সদের বিপক্ষে মহাকাব্যিক লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট যেন একই সুতোয় গেঁথে দিল আর্জেন্টিনার এই দুই ফুটবল ঈশ্বরকে। ম্যারাডোনার সেই বিখ্যাত ২-১ ব্যবধানের জয়কেই যেন গত রাতে আটলান্টায় ফিরিয়ে আনলেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। আর এর মাধ্যমেই আবারও প্রমাণিত হলো- নাম ম্যারাডোনা হোক কিংবা মেসি, আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাস আসলে এক অনন্য গৌরবের সুতোয় গাঁথা। ম্যারাডোনার ছায়া ও ফকল্যান্ডের আবহ ম্যাচের আগে থেকেই আটলান্টার বাতাসে ছিল চরম উত্তেজনা। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের রাজনৈতিক বৈরিতা এবং ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার সেই কিংবদন্তিতুল্য পারফরম্যান্সের স্মৃতি উসকে দিয়ে ম্যাচটি রূপ নিয়েছিল এক মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে। প্রথমার্ধে ফুটবলের চেয়ে মাঠের ফাউল আর শারীরিক শক্তির প্রদর্শনীই বেশি দেখা গেছে, যা দর্শকদের মনে করিয়ে দিচ্ছিল সেই পুরোনো বৈরিতার কথা। ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যারাডোনার সেই ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং পাঁচ ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে করা ‘শতাব্দীর সেরা গোল’ যেমন ইংল্যান্ডকে স্তব্ধ করেছিল, ২০২৬-এর সেমিফাইনালে মেসিও তৈরি করলেন এক নতুন রূপকথা। ইংলিশদের বিপক্ষে মেসির প্রথম ও ঐতিহাসিক ম্যাচ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের দীর্ঘ পথ চলায় এবারই প্রথম বিশ্বকাপের মঞ্চে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিলেন লিওনেল মেসি। এর আগে ২০০৫ সালে লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইংলিশদের বিপক্ষে খেলা হয়নি তার। ৩৯ বছর বয়সে এসে ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে যখন প্রত্যাশার পাহাড়, ঠিক তখনই জ্বলে উঠলেন এই জাদুকর। নিজে গোল না পেলেও দলের দুটি গোলেরই উৎস ছিলেন তিনি। ১৯৬৬ সাল থেকে বিশ্বকাপের পরিসংখ্যান রাখা শুরু হওয়ার পর মেসিই প্রথম ফুটবলার, যিনি বিশ্বকাপের কোনো নকআউট ম্যাচে ৯টি সফল ড্রিবলিংয়ের পাশাপাশি ২টি গোল তৈরি করেছেন। জয়ের পর মাঠেই হাঁটু মুড়ে বসা মেসির সেই আবেগঘন উদ্যাপন কোটি ভক্তের হৃদয়ে ম্যারাডোনার স্মৃতিকেই মনে করিয়ে দেয়। ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর বিরতির ঠিক পরপরই ৫৫ মিনিটে মর্গান রজার্সের ক্রস থেকে গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন অ্যান্থনি গর্ডন। ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে টমাস টুখেলের শিষ্যরা। পিছিয়ে পড়ার পর চারজন সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার নিয়ে রক্ষণভাগ নিরেট করে ফেলেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু শেষ বাঁশি বাজার আগে হাল না ছাড়ার অদম্য মানসিকতা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের শেষ দিকে উইং ব্যবহার করে ইংলিশ ডিফেন্স ভেঙে ফেলেন মেসিরা। ৮৫ মিনিটে লিওনেল মেসির নিখুঁত পাস থেকে বক্সের বাইরে থেকে এক দুর্দান্ত শটে গোল করে আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরান এনজো ফার্নান্দেজ। অতিরিক্ত সময়ে (৯০+২ মিনিট) মেসির করা নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে জয়সূচক গোলটি করেন বদলি হিসেবে নামা লাওতারো মার্তিনেজ। ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এখন ফাইনালে। নিউ জার্সিতে আগামী রোববার রাতে শিরোপার লড়াইয়ে মেসিদের প্রতিপক্ষ ইউরোপের পরাশক্তি স্পেন। এই জয়ের ফলে ইতিহাসের তৃতীয় দল হিসেবে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের সোনালী সুযোগ এখন আর্জেন্টিনার সামনে। ১৯৮৬ সালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ম্যারাডোনা আর্জেন্টিনাকে এনে দিয়েছিলেন বিশ্বকাপ। আর ২০২৬-এ এসে সেই ইংল্যান্ডকে বিদায় করে মেসি দলকে নিয়ে গেলেন ফাইনালে। ফুটবল বিশ্ব তাই আজ অকপটে স্বীকার করছে- যুগ কেটে গেলেও আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে ম্যারাডোনা ও মেসি আসলে একই সুতোয় গাঁথা দুই মহানায়ক।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্রেফ একটি বাক্যই আছে বাংলাদেশকে নিয়ে। তামিম ইকবাল ও তার নেতৃত্বে পরিচালনা পর্ষদের জন্য সেই একটি লাইনই বড় স্বস্তির। আইসিসির বোর্ড সদস্য হিসেবে তামিমকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে আইসিসি। যেটির মানে, এই পরিচালনা পর্ষদকেও বৈধতা দিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থাটি। সম্প্রতি স্কটল্যান্ডে আইসিসির বার্ষিক সাধারণ সভা শেষ হওয়ার পর বুধবার বিকেলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এটি জানায় আইসিসি। তামিম নিজেও এই সভায় অংশ নেন। বিসিবি সভাপতি হিসেবে এটিই ছিল আইসিসি সভায় তার প্রথম যোগদান। আইসিসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে "আইসিসি সদস্যপদ সংক্রান্ত বিষয়" অংশে বিসিবিকে নিয়ে বলা হয়, "বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নবনির্বাচিত সভাপতিকে সদস্যদের পূর্ণ সদস্য পরিচালক হিসেবে নিয়োগকে স্বীকৃতি দিয়েছে আইসিসি বোর্ড।" গত ৭ জুন বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে পরিচালক নির্বাচিত হন তামিম, পরে সেদিনই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন সভাপতি। আইসিসির স্বীকৃতি নিয়ে জটিলতার কারণে আইসিসি বোর্ডে তখনও পর্যন্ত বিসিবির সভাপতি ছিলেন প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরি। গত এপ্রিলে বোর্ডের অ্যাডহক কমিটির প্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পরই আইসিসি ও এসিসিতে বিসিবির প্রতিনিধি হিসেবে তামিমকে মনোনয়ন দেন বোর্ড সদস্যরা। কিন্তু তখন বিসিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, আইসিসির পরামর্শক্রমে আইসিসিতে প্রতিনিধি হিসেবে প্রধান নির্বাহীকেও রাখা হয়েছে। নির্বাচনে জিতে বিসিবি সভাপতি হওয়ার পরও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না আসায় আইসিসি বোর্ডে জায়গা পাচ্ছিলেন না তামিম। তার আইসিসির স্বীকৃতির ব্যাপারটি ঝুলে ছিল মূলত সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের অভিযোগের প্রেক্ষিতে। গত অক্টোবরে বিসিবি নির্বাচনে জিতে সভাপতি হয়েছিলেন আমিনুল। তবে সেই নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও অনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগে গত ৭ এপ্রিল সেই পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। এরপরই আইসিসি অভিযোগ জানান আমিনুল। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গঠন করে আইসিসি। আইসিসি বোর্ড পরিচালক ড. মোহাম্মদ এ. এস. মুসাজি (ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা) এবং জনাব তাভেঙ্গুয়া মুকুলানিকে (জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট) নিয়ে গঠিত কমিটি বাংলাদেশে এসে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে একটি প্রতিবেদন দেন আইসিসিতে। এখন বলা যেতে পারে, সেই প্রতিদেনের প্রেক্ষিতেই তামিমকে স্বীকৃতি দিল আইসিসি। এই প্রক্রিয়া চলার সময় অবশ্য ভেঙে দেওয়া বোর্ডের পরিচালকদের একটি অংশ বেশ কয়েকবার আদালতে রিট করেছে জুনের বিসিবি নির্বাচন স্থগিত চেয়ে। প্রতিটি রিটই খারিজ হয়ে যায়। এছাড়াও আইসিসিতে দফায় দফায় চিঠি দিয়েছেন সাবেক সভাপতি আমিনুল। সেরকম একটি চিঠিতে তিনি অনুরোধ করেছিলেন বর্তমান বোর্ড দায়িত্বে থাকলে যেন বাংলাদেশের পূর্ণ সদস্যপদ স্থগিত করা হয়, আইসিসির তহবিল বন্ধ করা হয় ও আইসিসি টুর্নামেন্টগুলো থেকে বাদ দেওয়া হয়। তবে আইসিসি সেসবে সাড়া দেয়নি। আইসিসি বোর্ডে জায়গা পেয়েই স্কটল্যান্ডে সাধারণ সভায় অংশ নেন তামিম। স্রেফ ঘোষণাটি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে দেওয়া হলো। বিসিবি ছাড়াও আরও কয়েকটি দেশের বোর্ড বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বিসিবি। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের বিষয়ে একটি হালনাগাদ তথ্য পেয়েছে আইসিসি বোর্ড এবং একটি সংশোধিত গঠনতন্ত্রের দিকে অগ্রগতির বিষয়টি লক্ষ্য করেছে। সেখানে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তার ওপর পুনরায় জোর দিয়েছে বোর্ড এবং এই মর্মে সম্মত হয়েছে যে, আপাতত আইসিসি বোর্ডের সভায় প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে না শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট। ক্রিকেট কানাডার জন্য পুনর্বহালের শর্তাবলী অনুমোদন করেছে আইসিসি বোর্ড, যেখানে আইসিসি সদস্যপদ থেকে তাদের স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়ার আগে অবশ্যই পূরণ করতে হবে এমন শর্তগুলো উল্লেখ করা হয়েছে। এই শর্তগুলো সম্পূর্ণরূপে পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ক্রিকেট কানাডার সদস্যপদ স্থগিত থাকবে। এছাড়াও আইসিসি সদস্যপদের মানদণ্ড লঙ্ঘনের জন্য ফ্রান্স ক্রিকেটকে সতর্ক করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে আইসিসি।
শেষ হওয়ার পথে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে একধাপ এগিয়ে গেল স্পেন। স্পেনের কাছে হেরে শেষ হয়ে গেল ফ্রান্সের বিশ্বকাপ যাত্রা। তবে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে লিওনেল মেসিকে টেক্কা দেওয়ার সুযোগ থাকছে কিলিয়ান এমবাপের। কারণ ফ্রান্স তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলবে। বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে শীর্ষে আছেন এমবাপে ও মেসি। দুজনের গোলই ৮টি করে। মেসি এই সংখ্যা বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন সেমিফাইনালে। আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ডের। আর এমবাপে এই সেমিফাইনালের পরাজিত দলের মুখোমুখি হবেন ১৮ জুলাই। সেই ম্যাচে ৮-কে পরিবর্তন করার সুযোগ থাকছে ফ্রান্স অধিনায়কের। তবে এই লড়াইয়ে মেসি এগিয়ে থাকছেন। কারণ আর্জেন্টিনা অন্তত আরও দুটি ম্যাচ খেলবে—সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল কিংবা তৃতীয় স্থান নির্ধারণী। কথা হচ্ছে দুজনেই যদি আর কোনো না গোল করেন, অথবা আরও গোল করলেও সমতায় থাকেন, তখন কীভাবে গোল্ডেন বুট নির্ধারণ করা হবে? সেক্ষেত্রে এই পুরস্কার ভাগাভাগি করা হবে না কিংবা দুজনকেই দেওয়া হবে না। বেশ কিছু মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে একজনকে বিজয়ী করা হবে। গোল সমান থাকলে এই পুরস্কার উঠবে সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট যে করেছেন, তার হাতে। এখন পর্যন্ত মেসির দুটির বিপরীতে তিনটি অ্যাসিস্টে এমবাপে এগিয়ে। পরের মানদণ্ড খেলার সময়। যিনি সবচেয়ে কম সময় খেলেছেন, তিনিই জিতবেন এই পুরস্কার। তারপরও যদি সমতা থাকে, সেক্ষেত্রে ওপেন প্লে থেকে সর্বোচ্চ গোল বিবেচনা করা হবে। মানে পেনাল্টি বহির্ভূত গোল। এই ক্যাটাগরিতে মেসি ভালো অবস্থানে। তিনি দুটি পেনাল্টি নিয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ (অস্ট্রিয়া ও মিশর) কিপার দুটোই সেভ করেছেন। এমবাপে দুটি পেনাল্টি নিয়ে একটি গোল করেছেন, প্যারাগুয়ের বিপক্ষে। আর্জেন্টাইন ও ফরাসি তারকার পাশাপাশি গোল্ডেন বুটের দৌড়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহাম। দুজনেই ছয়টি করে গোল করেছেন। তাদের পরে আছেন উসমান দেম্বেলে (ফ্রান্স) ও মিকেল ওয়ারসাবাল (স্পেন)। দুজনেই পাঁচটি করে গোল করেছেন, তাদের হাতেও রয়েছে একটি করে ম্যাচ। আর্লিং হালান্ড সাত গোল করে দুই নম্বরে থাকলেও তার দল নরওয়ে বাদ পড়ার কারণে গোল্ডেন বুট জয়ের কোনো সুযোগ নেই।