অর্থনীতি

সোনার দামে বড় পতন, ভরিতে কমলো ৫ হাজার টাকার বেশি

আক্তারুজ্জামান জুন ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বাজারে আবারও কমেছে সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) নতুন মূল্য তালিকা ঘোষণা করে জানিয়েছে, প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৪৮২ টাকা পর্যন্ত হ্রাস করা হয়েছে।

 

শনিবার (৬ জুন) সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। নতুন নির্ধারিত মূল্য একই দিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

 

নতুন দরে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। বাজুসের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজার ও তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম কমে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারেও মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

 

নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ১৮ হাজার ৬৮৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের সোনার দাম ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৭ টাকা।

 

এদিকে সোনার পাশাপাশি রুপার দামও কমানো হয়েছে। নতুন দরে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হবে ৫ হাজার ২৪৯ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ২০৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মূল্য হ্রাসের ফলে স্বর্ণ ক্রেতাদের মধ্যে আগ্রহ বাড়তে পারে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ ব্যাংক কেন ডলার কেনে

বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও বাজার থেকে ডলার কিনছে। প্রায় প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে নিলামের মাধ্যমে কোটি কোটি ডলার সংগ্রহ করছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে— বাংলাদেশ ব্যাংকের তো নিজস্ব বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আছে, তাহলে আবার কেন ডলার কিনতে হচ্ছে?   প্রশ্নটি স্বাভাবিক। কারণ অনেকেই মনে করেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ মানেই বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে জমা থাকা বিপুল পরিমাণ ডলার। বাস্তবে বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন।   অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার কেনার পেছনে শুধু রিজার্ভ বাড়ানোর লক্ষ্যই নয়, বরং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ভারসাম্য রক্ষা, ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং রফতানি ও রেমিট্যান্স প্রবাহকে উৎসাহিত করার মতো একাধিক অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করে।   রিজার্ভ আসলে কী সহজ ভাষায় বলতে গেলে, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়ই হলো রিজার্ভ। এই রিজার্ভ ব্যবহার করা হয় বিদেশি ঋণ পরিশোধ, আমদানি বিল মেটানো এবং জরুরি অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার জন্য। বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি রফতানি বা রেমিট্যান্স থেকে ডলার পায় না। এসব ডলার প্রথমে আসে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক সেই ডলার বাজার থেকে কিনে রিজার্ভে যোগ করে। অর্থাৎ রিজার্ভ বাড়াতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বাজার থেকেই ডলার সংগ্রহ করতে হয়।   ডলার বেশি হলে কেন বাংলাদেশ ব্যাংক কেনে? এক সময় দেশে ডলারের তীব্র সংকট ছিল। তখন বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করেছিল। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে। প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, রফতানি আয়ের উন্নতি এবং অর্থপাচার নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপের ফলে বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। ফলে অনেক ব্যাংকের হাতে অতিরিক্ত ডলার জমা হচ্ছে।   বাজারে কোনও পণ্যের সরবরাহ বেড়ে গেলে সাধারণত তার দাম কমে যায়। ডলারের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে ডলারের দাম দ্রুত কমতে শুরু করলে রপ্তাফতানিকারক ও প্রবাসীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।   কারণ একজন প্রবাসী যদি এক হাজার ডলার দেশে পাঠান, তাহলে ডলারের দাম কমে গেলে তিনি কম টাকা পাবেন। একইভাবে রফতানিকারকরাও কম টাকার সমপরিমাণ আয় পাবেন। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনে অতিরিক্ত সরবরাহের একটি অংশ তুলে নেয়। ফলে ডলারের দাম হঠাৎ করে পড়ে যায় না এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।   ডলার কেনা মানে কি শুধু রিজার্ভ বাড়ানো না। এটি একইসঙ্গে একটি বাজার ব্যবস্থাপনার কৌশল। বাংলাদেশ ব্যাংক যখন বাজার থেকে ডলার কেনে, তখন একদিকে রিজার্ভ বাড়ে, অন্যদিকে বাজারে ডলারের অতিরিক্ত সরবরাহ কমে যায়। ফলে ডলারের বিনিময় হার একটি গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে থাকে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডলারের দাম খুব বেশি বেড়ে যাওয়া যেমন অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর, তেমনই খুব দ্রুত কমে যাওয়াও ভালো নয়। উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবসা-বাণিজ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাজ হলো দুই দিকের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা।   আগে ডলার বিক্রি, এখন ডলার কেনা গত কয়েক বছরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের কারণে বাংলাদেশ ব্যাংককে রিজার্ভ থেকে বিপুল পরিমাণ ডলার বিক্রি করতে হয়েছিল। তিন অর্থবছরে ২৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে সরবরাহ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মূলত জ্বালানি, খাদ্যশস্য, সার এবং অন্যান্য জরুরি আমদানি ব্যয় মেটাতে এই ডলার ব্যবহার করা হয়। এর ফলে রিজার্ভ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।   বর্তমানে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক সেই হারানো রিজার্ভ পুনর্গঠনের সুযোগ পাচ্ছে। তাই বাজার থেকে ডলার কিনে ধীরে ধীরে রিজার্ভ শক্তিশালী করা হচ্ছে।   আইএমএফের শর্তও একটি কারণ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) দীর্ঘদিন ধরে ডলারের বাজারকে আরও বাজারভিত্তিক করার পরামর্শ দিয়ে আসছে। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিদিন ডলারের রেফারেন্স রেট নির্ধারণ করছে এবং বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। যদি বাজারে ডলারের দাম নির্ধারিত গ্রহণযোগ্য সীমার নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়, তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিলামের মাধ্যমে ডলার কিনে থাকে। এতে বিনিময় হার কৃত্রিমভাবে নয়, বরং বাজারের স্বাভাবিক চাহিদা-সরবরাহের ভিত্তিতে স্থিতিশীল থাকে।   সাধারণ মানুষের জন্য এর অর্থ কী বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার কেনা সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। প্রথমত, রিজার্ভ শক্তিশালী হলে বিদেশি ঋণ পরিশোধ ও আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা বাড়ে। দ্বিতীয়ত, ডলারের বাজার স্থিতিশীল থাকলে আমদানি পণ্যের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয় না। তৃতীয়ত, রেমিট্যান্স ও রফতানি খাত উৎসাহিত হয়, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান দুই উৎস। চতুর্থত, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও ঋণদাতা সংস্থাগুলোর কাছে দেশের আর্থিক সক্ষমতার ইতিবাচক বার্তা যায়।   সামনের চ্যালেঞ্জ তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, শুধু রেমিট্যান্সের প্রবাহ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার কেনার ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা ধরে রাখা সম্ভব নয়। রফতানি পণ্যের বহুমুখীকরণ, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অর্থপাচার নিয়ন্ত্রণ এবং আমদানি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধাক্কা বা বৈদেশিক লেনদেনের চাপ আবারও ডলারের বাজারকে অস্থির করে তুলতে পারে।   কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কেনে মূলত তিন কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার কেনে মূলত তিনটি কারণে— রিজার্ভ বাড়াতে, ডলারের দাম স্থিতিশীল রাখতে এবং রফতানি ও রেমিট্যান্স খাতকে সুরক্ষা দিতে। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ডলার কেনা কোনও সংকটের লক্ষণ নয়, বরং বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে এবং অর্থনীতির অবস্থার উন্নতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে রিজার্ভ পুনর্গঠনের একটি কৌশল।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সোনার দামে বড় পতন, ভরিতে কমলো ৫ হাজার টাকার বেশি

প্রতীকী ছবি

সাত বছরের পুরোনো বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি চূড়ান্ত হচ্ছে

ছবি: সংগৃহীত

দেশের বাজারে কত দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে আজ

ছবি: সংগৃহীত
মূল্যস্ফীতির চাপে পিষ্ট মধ্যবিত্ত, করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়নোর পরামর্শ

বাজারে ১০ শতাংশের কাছাকাছি মূল্যস্ফীতি। চাল, ডাল, তেল থেকে সব নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী। বাজারের এমন অবস্থায় সাড়ে তিন লাখ টাকার করমুক্ত আয়ের সীমা মধ্যবিত্তের জন্য দেখা দিয়েছে চরম বোঝা হিসেবে।   সাধারণের অভিযোগ, মধ্যবিত্তের আয়ের একটি অংশ থেকে কর দিতে গেলে জীবনযাত্রা হয়ে পড়বে আরও কঠিন। তাই আসছে বাজেটে করমুক্ত সীমা বাড়নোর দাবি তাদের।   উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা নিম্ন আয়ের করদাতাদের স্বস্তি দিতে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়ের সীমা বর্তমানের সাড়ে ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সাধারণ করদাতার পাশাপাশি নারী, ৬৫ বছরের বেশি বয়সী প্রবীণ, প্রতিবন্ধী এবং গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধাদের জন্যও করমুক্ত আয়ের সীমা আনুপাতিক হারে বাড়ানো হবে।   এদিকে এবারের বাজেটে একটি বড় পরিবর্তন হতে পারে সর্বনিম্ন ৫ শতাংশ করহারের স্ল্যাবটি তুলে দেয়া। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার পরবর্তী আয়ের ওপর সরাসরি ১০ শতাংশ হারে কর আরোপ করা হতে পারে। এতে যারা করমুক্ত সীমার ঠিক ওপরে অবস্থান করছেন, তাদের করের বোঝা কমার বদলে উল্টো বাড়তে পারে।   মূল্যস্ফীতির চেয়ে মজুরি বা আয় বৃদ্ধি কম হলে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় কমে যায়। তাই করের হার না বাড়িয়ে করদাতার সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি এবারের বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়নোর পরামর্শ অর্থনীতিবিদের।   ১ কোটি ২৮ লাখ টিআইএনধারী এবং ৪২ লাখ নিয়মিত করদাতার জন্য একই সঙ্গে স্বস্তি ও উদ্বেগের বার্তা নিয়ে আসছে এবারের বাজেট।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিনিয়োগে খরা, অর্থনীতির চাকা কবে ঘুরবে?

ছবি : সংগৃহীত

দায়িত্ব নিয়েই আইন প্রয়োগে কঠোর হওয়ার বার্তা বিএসইসি চেয়ারম্যানের

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন ট্রেজারিকে টপকে বিশ্বের প্রধান রিজার্ভ সম্পদ এখন স্বর্ণ

বাংলাদেশ ব্যাংক। ছবি: সংগৃহীত
বন্ধ কারখানা সচল করতে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল, সুদ মাত্র ৭%

বন্ধ ও আংশিক চালু শিল্পকারখানাগুলোকে পুনরায় পূর্ণ সক্ষমতায় সচল করতে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই তহবিল থেকে বড় শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো স্বল্প সুদে ঋণ নিতে পারবে। নতুন এই স্কিমের আওতায় ঋণের সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৭ শতাংশ, যেখানে বর্তমানে ব্যাংক খাতে ঋণের সুদহার ১৪ শতাংশেরও বেশি। ফলে প্রচলিত বাজারদরের প্রায় অর্ধেক সুদে চলতি মূলধনের ঋণ নিয়ে উৎপাদন কার্যক্রম জোরদার করার সুযোগ পাবেন উদ্যোক্তারা। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রজ্ঞাপনে ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত–সহায়ক প্রাক্‌-অর্থায়ন স্কিম’ নীতিমালা ঘোষণা করে। এর আগে, গত ২৩ মে দেশের অর্থনীতি চাঙা করতে এবং বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালুর লক্ষ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি বৃহৎ তহবিল ঘোষণার কথা জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এবার ২০ হাজার কোটি টাকার এ বিশেষ তহবিলের নীতিমালা ঘোষণা করা হলো। এই নীতিমালা অনুযায়ী, বন্ধ ও আংশিক সচল কারখানা পুরোপুরি চালু করতে একটি কোম্পানি বা গ্রুপ সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা চলতি মূলধন ঋণ নিতে পারবে। এতে সুদের হার হবে ৭ শতাংশ। চলতি মূলধন নেওয়া কোম্পানিতে প্রতিনিধি বসাতে পারবে ব্যাংক। স্কিমের আওতায় ঋণের সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখা কোম্পানি ও ব্যাংক পাবে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা। মূলত ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রাক্‌-অর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের সেই তহবিল থেকে ৪ শতাংশ সুদে টাকা নিয়ে ঋণ দিতে পারবে ব্যাংকগুলো। দেশের সব ব্যাংক এই তহবিল থেকে টাকা নিতে পারবে। কারা ঋণ পাবে নীতিমালায় বলা হয়েছে, তহবিলের প্রধান লক্ষ্য বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতের এমন প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করা, যারা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও শুধু চলতি মূলধনের অভাবে পূর্ণ ক্ষমতায় উৎপাদন বা সেবা দিতে পারছে না। এই সহায়তার মাধ্যমে রপ্তানি বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী সংজ্ঞায়িত বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতের আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ যে প্রতিষ্ঠানগুলো আবার চালু হতে সক্ষম, তারা এই সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। পাশাপাশি রপ্তানিমুখী ও প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোও ঋণ পাবে। কোনো দক্ষ প্রতিষ্ঠান যদি বন্ধ থাকা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে সচল করার উদ্দেশ্যে অধিগ্রহণ করে বা ইজারা নেয়, তবে তারাও এই সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। ঋণগ্রহীতাকে অবশ্যই ঋণ তথ্য ব্যুরো (সিআইবি) অনুযায়ী খেলাপি হওয়া যাবে না এবং ইতিপূর্বে অর্থ পাচার বা ঋণের অর্থ অপব্যবহারের কোনো রেকর্ড থাকা চলবে না। ঋণের ব্যবহার একটি একক প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপ সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে। গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ এক বছর, যা ব্যবহারের ভিত্তিতে নবায়নযোগ্য হতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলো ৪ শতাংশ সুদে এই তহবিল থেকে ঋণ পাবে। গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদের হার হবে ৭ শতাংশ। গ্রাহকদের জন্য ৬ মাসের গ্রেস পিরিয়ড সুবিধা থাকবে, অর্থাৎ প্রথম ৬ মাস পর থেকে সুদের কিস্তি আদায় শুরু হবে। শ্রমিক-কর্মচারীদের সর্বোচ্চ চার মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধে এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য পরিষেবা বিল পরিশোধ এবং উৎপাদনের জন্য কাঁচামাল সংগ্রহে ব্যয় করা যাবে। শ্রমিকদের বেতন সরাসরি তাঁদের ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং সেবার হিসাবে দিতে হবে। কোনোভাবেই নগদ লেনদেন করা যাবে না। এই ঋণ দিয়ে আগের কোনো ঋণের দায় সমন্বয় বা পরিশোধ করা যাবে না। আদায় ও তদারকি ব্যবস্থা নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের চলতি হিসাব থেকে টাকা কেটে নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অতিরিক্ত ২ শতাংশ দণ্ড সুদ আরোপ হবে। ঋণের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলো গ্রাহক থেকে সাপ্তাহিক বিক্রয় বা রাজস্ব রিপোর্ট সংগ্রহ করবে। ব্যাংকের প্রতিনিধিরা প্রতি তিন মাস অন্তর কারখানা পরিদর্শন করে প্রতিবেদন তৈরি করবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকও যেকোনো সময় সরেজমিনে পরিদর্শন করে ঋণের ব্যবহার যাচাই করতে পারবে। গ্রাহকের সব ব্যবসায়িক আয়-ব্যয় একটি নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। শ্রমিকদের বেতন প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই বাধ্যতামূলক। নীতিমালার সফল বাস্তবায়নে বড় অবদান রাখা গ্রাহক ও ব্যাংককে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়া হবে।

মারিয়া রহমান জুন ০৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বিদেশি বিনিয়োগ আনলেই মিলবে বিশেষ প্রণোদনা

ছবি: সংগৃহীত

খেলাপি ঋণ ও ব্যাংক খাতের দুর্বলতায় চাপে অর্থনীতি: ফাহমিদা খাতুন

ছবি: সংগৃহীত

চেয়ারম্যানসহ বিএসইসির চার কমিশনারের পদত্যাগ

0 Comments