নতুন স্মার্টফোন কেনার সময় ক্রেতাদের বড় একটি অংশ প্রথমেই জানতে চান, ফোনটিতে কত জিবি র্যাম রয়েছে। ৮ জিবি, ১২ জিবি কিংবা ১৬ জিবি র্যামের বিজ্ঞাপনও এখন বেশ চোখে পড়ে। ফলে অনেকের মধ্যেই ধারণা তৈরি হয়েছে, র্যাম যত বেশি হবে, ফোনের গতিও তত বেশি হবে। তবে বাস্তবতা কিছুটা ভিন্ন। একটি স্মার্টফোন কতটা দ্রুত ও সাবলীলভাবে কাজ করবে, তা শুধু র্যামের ওপর নির্ভর করে না। প্রসেসর, স্টোরেজ, সফটওয়্যারসহ আরও বেশ কিছু বিষয় এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তাই ফোন কেনার সময় র্যামের সংখ্যা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এর কাজ এবং পারফরম্যান্সের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়গুলোও জেনে নেওয়া প্রয়োজন।
র্যামের কাজ কী?
র্যাম বা র্যান্ডম অ্যাকসেস মেমোরি হলো ফোনের অস্থায়ী মেমোরি। ব্যবহারকারী যখন একাধিক অ্যাপ চালু রাখেন, তখন সেগুলোর প্রয়োজনীয় তথ্য সাময়িকভাবে র্যামে সংরক্ষিত থাকে। এর ফলে একটি অ্যাপ থেকে অন্য অ্যাপে যাওয়ার পর আগের অ্যাপে ফিরে এলে সেটি অনেক সময় আগের অবস্থাতেই পাওয়া যায়।
ফোনের গতিতে প্রসেসরের ভূমিকা বেশি
স্মার্টফোনের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নির্ধারণে প্রসেসর বা চিপসেটের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাপ চালানো, গেম খেলা, ছবি তোলা কিংবা ভিডিও সম্পাদনার মতো কাজগুলো কত দ্রুত হবে, তার বড় একটি অংশ প্রসেসরের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে।
এ কারণে ৮ জিবি র্যাম থাকা পুরোনো চিপসেটের ফোনের তুলনায় ৬ জিবি র্যামের আধুনিক প্রসেসরযুক্ত ফোন ভালো পারফরম্যান্স দিতে পারে।
ফোন কেনার সময় শুধু প্রসেসরের ব্র্যান্ড নয়, নির্দিষ্ট মডেল, প্রজন্ম ও সক্ষমতাও যাচাই করা উচিত। স্ন্যাপড্রাগন, মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি, অ্যাপল এ-সিরিজ কিংবা এক্সিনোসের বিভিন্ন চিপসেটের মধ্যে পারফরম্যান্সের পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে গেমিং বা ভারী কাজের জন্য ফোন কিনলে চিপসেটের বাস্তব পারফরম্যান্স সম্পর্কে ধারণা নেওয়া জরুরি।
স্টোরেজের গতিও প্রভাব ফেলে
ফোনের স্টোরেজ বলতে সাধারণত ছবি, ভিডিও, অ্যাপ ও অন্যান্য ফাইল রাখার জায়গাকে বোঝানো হয়। তবে স্টোরেজের ধারণক্ষমতার পাশাপাশি এর প্রযুক্তিও গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে স্মার্টফোনে বিভিন্ন ধরনের স্টোরেজ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। যেমন, ইএমএমসি তুলনামূলক ধীরগতির। অন্যদিকে ইউএফএস ২.২, ইউএফএস ৩.৩ এবং ইউএফএস ৪.০ ক্রমান্বয়ে আরও উন্নত গতি দিতে পারে।
দ্রুত স্টোরেজ থাকলে অ্যাপ চালু করা, বড় ফাইল স্থানান্তর এবং গেম লোড করার মতো কাজ দ্রুত সম্পন্ন হয়। ফলে বেশি র্যাম থাকা সত্ত্বেও ধীরগতির স্টোরেজযুক্ত ফোনে কাঙ্ক্ষিত পারফরম্যান্স নাও পাওয়া যেতে পারে।
সফটওয়্যারের মানও গুরুত্বপূর্ণ
একই পরিমাণ র্যাম ও কাছাকাছি হার্ডওয়্যার থাকা সত্ত্বেও দুটি ফোনের ব্যবহারের অভিজ্ঞতায় পার্থক্য দেখা যায়। এর অন্যতম কারণ সফটওয়্যার অপটিমাইজেশন।
ফোনের অপারেটিং সিস্টেম, ইউজার ইন্টারফেস এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা অ্যাপগুলো র্যাম ও প্রসেসরের ওপর প্রভাব ফেলে। কিছু ফোনে অতিরিক্ত প্রি-ইনস্টলড অ্যাপ এবং ভারী ইউজার ইন্টারফেস থাকায় সিস্টেমের রিসোর্স বেশি ব্যবহার হয়।
অন্যদিকে ভালোভাবে অপটিমাইজ করা সফটওয়্যার তুলনামূলক সীমিত হার্ডওয়্যারেও সাবলীল অভিজ্ঞতা দিতে পারে। এ কারণেই আইফোনের মতো ডিভাইসে তুলনামূলক কম র্যাম থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে ভালো পারফরম্যান্স দেখা যায়।
তাই ফোন কেনার আগে শুধু স্পেসিফিকেশন না দেখে সফটওয়্যার ব্যবহারের অভিজ্ঞতা, আপডেট সুবিধা এবং দীর্ঘমেয়াদি পারফরম্যান্সের রিভিউ দেখে নেওয়া ভালো।
ভার্চুয়াল র্যাম কি সত্যিই কাজে আসে?
বর্তমানে অনেক স্মার্টফোনের বিজ্ঞাপনে ৮ জিবি র্যামের পাশাপাশি আরও ৮ জিবি এক্সটেন্ডেড বা ভার্চুয়াল র্যামের কথা উল্লেখ করা হয়। এতে মোট ১৬ জিবি র্যাম মনে হলেও বিষয়টি আসলে তেমন নয়।
ভার্চুয়াল র্যাম তৈরির জন্য ফোনের অভ্যন্তরীণ স্টোরেজের একটি অংশ ব্যবহার করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী এটি অস্থায়ী মেমোরির মতো কাজ করতে পারে। তবে স্টোরেজের গতি প্রকৃত র্যাম তুলনায় অনেক কম।
ফলে ভার্চুয়াল র্যাম কিছু পরিস্থিতিতে ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করলেও এটি প্রকৃত বিকল্প হতে পারে না। তাই ৮ জিবি র্যামের ফোনে ভার্চুয়াল র্যাম যোগ করে ১৬ জিবি হিসেবে প্রচার করা হলে সেটিকে আসল ১৬ জিবি র্যাম মনে করা ঠিক হবে না।
স্মার্টফোন কেনার আগে যে বিষয়গুলো যাচাই করবেন
একটি ভালো স্মার্টফোন বেছে নিতে কয়েকটি বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
প্রসেসর: চিপসেটের মডেল, প্রজন্ম ও পারফরম্যান্স সম্পর্কে জেনে নিন।
স্টোরেজ: ফোনে ইএমএমসি নাকি ইউএফএস স্টোরেজ ব্যবহার করা হয়েছে, তা যাচাই করুন।
ডিসপ্লে: পর্দার রিফ্রেশ রেট, রেজল্যুশন ও প্যানেলের মান দেখে নিন।
ব্যাটারি: ব্যাটারির ধারণক্ষমতার পাশাপাশি চার্জিং প্রযুক্তি ও ব্যাকআপ কেমন, তা বিবেচনা করুন।
সফটওয়্যার আপডেট: ফোনটি কত দিন অ্যান্ড্রয়েড ও নিরাপত্তা আপডেট পাবে, সেটি জেনে নিন।
বাস্তব অভিজ্ঞতা: কেনার আগে নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলের রিভিউ দেখুন। সম্ভব হলে দোকানে ফোনটি নিজে ব্যবহার করে দেখুন।
ওয়ারেন্টি ও দাম: অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি, বিক্রয়োত্তর সেবা এবং বর্তমান বাজারদর যাচাই করে তারপর সিদ্ধান্ত নিন।
স্মার্টফোনের ভালো পারফরম্যান্সের জন্য র্যাম অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটিই সবকিছু নয়। শক্তিশালী প্রসেসর, দ্রুত স্টোরেজ এবং উন্নত সফটওয়্যার অপটিমাইজেশন একসঙ্গে কাজ করেই একটি ফোনকে দ্রুত ও সাবলীল করে তোলে।
তাই শুধু বিজ্ঞাপনে বড় করে লেখা র্যামের সংখ্যা দেখে ফোন কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। নিজের ব্যবহারের ধরন, প্রয়োজন এবং বাজেট অনুযায়ী সঠিক সমন্বয়ের ফোন বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ইন্টারনেটে তথ্য খোঁজার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবহারকারীদের প্রথম পছন্দ গুগল। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রসারের সঙ্গে বদলাচ্ছে সেই অভ্যাস। সার্চ ইঞ্জিনে একের পর এক ওয়েবসাইট ঘেঁটে তথ্য বের করার পরিবর্তে সরাসরি উত্তর পেতে অনেকে এখন ব্যবহার করছেন চ্যাটজিপিটি। ওপেনএআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটির সার্চধর্মী প্রশ্নের পরিমাণ গুগলের মোট অনুসন্ধানের প্রায় ২০ শতাংশে পৌঁছেছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চ্যাটজিপিটির ভোক্তা পণ্য বিভাগের প্রধান অ্যাডাম ফ্রাই এ তথ্য জানিয়েছেন। ‘বিগ টেকনোলজি’ নিউজলেটারের জন্য অ্যালেক্স কান্ট্রোভিটজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গুগলের তুলনায় চ্যাটজিপিটিতে সার্চধর্মী প্রশ্নের পরিমাণ এখন প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। ফ্রাই আরো জানান, মাত্র দুই মাসে চ্যাটজিপিটির সাপ্তাহিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০০ কোটি থেকে বেড়ে ১২০ কোটিতে পৌঁছেছে। অর্থাৎ এই সময়ে ব্যবহারকারী বেড়েছে প্রায় ২০ কোটি। তথ্য খোঁজার নতুন ঠিকানা চ্যাটজিপিটি চ্যাটজিপিটিতে তথ্য অনুসন্ধানের প্রবণতা বাড়ার পেছনে ব্যবহারকারীদের অভ্যাসের পরিবর্তনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রচলিত সার্চ ইঞ্জিনে কোনো বিষয় লিখে একাধিক ওয়েবসাইটের লিংক পাওয়া যায়। এরপর ব্যবহারকারীকে সেসব ওয়েবসাইট ঘেঁটে প্রয়োজনীয় তথ্য বের করতে হয়। অন্যদিকে চ্যাটজিপিটি বিভিন্ন তথ্য একত্র করে সরাসরি উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করে। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা সংস্থা পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপেও এআই চ্যাটবট ব্যবহারের ক্ষেত্রে তথ্য অনুসন্ধানের প্রবণতা উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ৪২ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা তথ্য খুঁজতে এআই চ্যাটবট ব্যবহার করেছেন। কর্মজীবীদের মধ্যে ৩৮ শতাংশ কাজের প্রয়োজনে এআই ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন। জরিপ অনুযায়ী, মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কদের ৪৪ শতাংশ চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেছেন। অন্যদিকে গুগলের এআই চ্যাটবট জেমিনি ব্যবহার করেছেন ২৪ শতাংশ। অ্যাডাম ফ্রাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, মানুষ এখন ব্যক্তি, স্থান ও বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য জানতে চ্যাটজিপিটিকে প্রশ্ন করছেন। অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয়েও এআই চ্যাটবটের ব্যবহার বাড়ছে, যেখানে সাম্প্রতিক তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। এখনো এগিয়ে গুগল তবে এসব পরিসংখ্যানের অর্থ এই নয় যে, সার্চের বাজারে গুগলের অবস্থান হুমকির মুখে পড়ে গেছে। গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের দাবি, তাদের সার্চ ইঞ্জিনে বছরে প্রায় ৫ লাখ কোটি অনুসন্ধান হয়। অ্যালফাবেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুন্দর পিচাইও আগে বলেছেন, এআই চ্যাটবটের প্রসার মানেই গুগলের সার্চ ব্যবসার ক্ষতি নয়। তাঁর মতে, বিষয়টি এমন নয় যে একটি সেবার ব্যবহার বাড়লে অন্যটির ব্যবহার কমতেই হবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি টিকটকের জনপ্রিয়তা বাড়ার পরও ইউটিউবের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকার কথা উল্লেখ করেছেন। এদিকে গুগল সার্চের ফলাফল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবহারকারীদের একাংশের অসন্তোষ রয়েছে। বিশেষ করে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা এসইওনির্ভর অনেক ওয়েবসাইটের ভিড়ে নির্ভরযোগ্য ও প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে অনেক ব্যবহারকারী গুগলে অনুসন্ধানের সময় নির্দিষ্ট আলোচনার জন্য ‘রেডিট’ শব্দটিও যুক্ত করেন। চ্যাটজিপিটি সরাসরি উত্তর দেওয়ার সুবিধা দিলেও এর দেওয়া তথ্য সব সময় নির্ভুল নয়। ভুল তথ্য বা বিভ্রান্তিকর উত্তর দেওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। তা সত্ত্বেও দ্রুত তথ্য পাওয়ার সুবিধা ব্যবহারকারীদের কাছে এআই চ্যাটবটকে আকর্ষণীয় করে তুলছে। তবে চ্যাটজিপিটির সার্চধর্মী প্রশ্নের পরিমাণ গুগলের মোট অনুসন্ধানের ২০ শতাংশে পৌঁছানোর অর্থ এই নয় যে, গুগল থেকে ঠিক ওই পরিমাণ ব্যবহারকারী চ্যাটজিপিটিতে চলে গেছেন। পরিসংখ্যানটি মূলত দুই প্ল্যাটফর্মের অনুসন্ধানের পরিমাণের তুলনা তুলে ধরে। তা সত্ত্বেও তথ্য খোঁজার অভ্যাসে এআই চ্যাটবটের ক্রমবর্ধমান প্রভাব স্পষ্ট।
একটি নতুন অ্যানড্রয়েড ফোন কেনার পর পুরনো আইফোনের ছবি, ভিডিও, কন্টাক্ট, বার্তা ও অন্যান্য তথ্য স্থানান্তর নিয়ে অনেকেই ঝামেলায় পড়েন। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হারানোর আশঙ্কাও থাকে। তবে এখন গুগল ও অ্যানড্রয়েড ফোন নির্মাতাদের দেওয়া বিভিন্ন সুবিধার মাধ্যমে সহজেই আইফোন থেকে নতুন অ্যানড্রয়েড ফোনে প্রয়োজনীয় তথ্য নেওয়া যায়। সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি ধাপে ধাপে নির্দেশনা প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেবল ব্যবহার করে অথবা ‘সুইচ টু অ্যানড্রয়েড’ অ্যাপের সাহায্যে তারবিহীনভাবেও তথ্য স্থানান্তর করা সম্ভব। প্রথম ধাপ : নতুন অ্যানড্রয়েড ফোন চালু করুন প্রথমে নতুন অ্যানড্রয়েড ফোনটি চালু করে পর্দায় দেখানো নির্দেশনা অনুসরণ করুন। সেটআপ প্রক্রিয়া শুরু করতে ‘স্টার্ট’ অপশনে চাপ দিন। দ্বিতীয় ধাপ: ইন্টারনেট সংযোগ চালু করুন ফোন সেটআপের সময় ওয়াই-ফাই বা মোবাইল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়া তথ্য স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে না। ফিজিক্যাল সিম ব্যবহার করলে পুরোনো আইফোন থেকে সেটি খুলে নতুন অ্যানড্রয়েড ফোনে লাগানো যাবে। আর ই-সিম ব্যবহারকারীরা মোবাইল অপারেটরের সহায়তায় নতুন ফোনে ই-সিম চালু করতে পারবেন। তৃতীয় ধাপ: কেবল দিয়ে তথ্য স্থানান্তর করুন বেশি ধরনের তথ্য স্থানান্তরের জন্য কেবল ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পুরোনো আইফোনের চার্জিং কেবলের এক প্রান্ত আইফোনে এবং অন্য প্রান্ত নতুন অ্যানড্রয়েড ফোনে সংযুক্ত করতে হবে। প্রয়োজনে উপযুক্ত অ্যাডাপ্টার ব্যবহার করা যাবে। সংযোগ দেওয়ার পর আইফোনে অনুমতি চাওয়া হলে ‘ট্রাস্ট’ অপশনে চাপ দিতে হবে। এরপর নতুন ফোনে গুগল অ্যাকাউন্টে সাইন ইন করতে হবে। অ্যাকাউন্ট না থাকলে নতুন করে তৈরি করা যাবে। এরপর নতুন ফোনে কোন কোন তথ্য স্থানান্তর করতে চান, তা নির্বাচন করে ‘কপি’ অপশনে চাপ দিতে হবে। দুই ফোনে নির্দেশনা অনুসরণ করলেই তথ্য স্থানান্তর শুরু হবে। চতুর্থ ধাপ: কেবল ছাড়াই তথ্য স্থানান্তর কেবল ব্যবহার করতে না চাইলে ‘সুইচ টু অ্যানড্রয়েড’ অ্যাপের সাহায্যে তারবিহীনভাবেও তথ্য নেওয়া যায়। এ জন্য নতুন অ্যানড্রয়েড ফোন চালু করে সেটআপের সময় পুরোনো ফোন থেকে অ্যাপ ও তথ্য কপি করার অপশন নির্বাচন করতে হবে। এরপর ‘নো কেবল’ অথবা ‘কেবল ডাজ়ন্ট ফিট’ অপশনে গিয়ে ‘সুইচিং ফ্রম আইফোন অর আইপ্যাড’ নির্বাচন করতে হবে। এরপর গুগল অ্যাকাউন্টে সাইন ইন করলে নতুন ফোনের পর্দায় একটি কিউআর কোড দেখা যাবে। পঞ্চম ধাপ: আইফোন দিয়ে কিউআর কোড স্ক্যান করুন পুরোনো আইফোনের ক্যামেরা দিয়ে নতুন অ্যানড্রয়েড ফোনে দেখানো কিউআর কোড স্ক্যান করতে হবে। এরপর অ্যাপ স্টোর থেকে ‘সুইচ টু অ্যানড্রয়েড’ অ্যাপ ডাউনলোড করে চালু করতে হবে। অ্যাপের পর্দায় দেখানো নির্দেশনা অনুসরণ করলে তথ্য স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এ ক্ষেত্রে আইফোন ও অ্যানড্রয়েড ফোন কাছাকাছি রাখতে হবে এবং পুরো প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংযোগ বজায় রাখতে হবে। হোয়াটসঅ্যাপের তথ্য স্থানান্তর করবেন যেভাবে আইফোন থেকে অ্যানড্রয়েডে হোয়াটসঅ্যাপের চ্যাট ও অন্যান্য তথ্য নেওয়ার জন্য আলাদা নির্দেশনা অনুসরণ করতে হতে পারে। নতুন অ্যানড্রয়েড ফোনে স্থানান্তরের সময় দেখানো কিউআর কোড আইফোন দিয়ে স্ক্যান করে পর্দায় আসা নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। তবে কোন কোন তথ্য স্থানান্তর করা যাবে, তা ফোনের মডেল ও ব্যবহৃত পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে। কিছু অ্যাপের তথ্য, অর্থের বিনিময়ে কেনা অ্যাপ এবং আইক্লাউডে সংরক্ষিত ছবি-ভিডিও সরাসরি স্থানান্তর নাও হতে পারে। উল্লেখ্য নতুন ফোনে ছবি, ভিডিও, কন্টাক্ট ও বার্তাগুলো ঠিকভাবে এসেছে কি না, তা যাচাই করে নেওয়া ভালো।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল প্রশিক্ষণের জন্য সংবাদমাধ্যমসহ বিভিন্ন ওয়েবসাইটের কনটেন্ট অনুমতি ছাড়া সংগ্রহ (স্ক্র্যাপিং) বন্ধে প্রকাশকদের নতুন একটি অভিন্ন ব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রযুক্তি খাতের চার বড় প্রতিষ্ঠান—ওপেনএআই, গুগল, মাইক্রোসফট ও অ্যানথ্রোপিক। শুক্রবার প্রতিষ্ঠানগুলো জানায়, নতুন এ ব্যবস্থার মাধ্যমে সংবাদমাধ্যম ও অন্যান্য ওয়েবসাইট কর্তৃপক্ষ একটি মাত্র নির্দেশনার সাহায্যে এআই কোম্পানিগুলোকে তাদের ওয়েবসাইটের কনটেন্ট সংগ্রহ ও এআই মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখতে পারবে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। বর্তমানে ইন্টারনেট থেকে তথ্য সংগ্রহকারী প্রতিটি বটের জন্য ওয়েবসাইট কর্তৃপক্ষকে আলাদাভাবে কনটেন্ট সংগ্রহ বন্ধের নির্দেশনা দিতে হয়। নতুন প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় একটি অভিন্ন ও নির্দিষ্ট ফরম্যাটের নির্দেশনা দিলেই হবে। যেসব এআই কোম্পানি এ পদ্ধতি গ্রহণ করবে, তাদের সবাই সেই নির্দেশনা মেনে চলবে। তবে নতুন ব্যবস্থাটি পুরোপুরি কার্যকর হতে আরও কয়েক মাস সময় লাগবে। মাইক্রোসফট ২০২৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এ ব্যবস্থা চালু করবে। গুগল একই বছরের কোনো এক সময়ে এটি বাস্তবায়ন করবে। চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআই জানিয়েছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে তারা এ ব্যবস্থা চালু করবে। আর ক্লডের নির্মাতা অ্যানথ্রোপিক বলেছে, তারা ইতোমধ্যে এটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। এ ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটের তথ্য সংগ্রহকারী বটের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরোধও বাড়ছে। এমনকি নিউইয়র্ক টাইমসের মতো সংবাদমাধ্যম বিষয়টি আদালত পর্যন্ত নিয়ে গেছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে নিউইয়র্ক টাইমস ওপেনএআই ও মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে মামলা করে। পত্রিকাটির অভিযোগ, অনুমতি বা অর্থ পরিশোধ ছাড়াই তাদের প্রকাশিত লাখ লাখ প্রতিবেদন ব্যবহার করে চ্যাটজিপিটিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান দুটি কপিরাইট আইনের ‘ফেয়ার ইউজ’ বা ন্যায্য ব্যবহারের বিধানের কথা উল্লেখ করে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে। এ বিধানের আওতায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কপিরাইটযুক্ত উপাদান অনুমতি ছাড়াও ব্যবহার করা যেতে পারে। এদিকে, ইন্টারনেট অবকাঠামো সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ার ২০২৫ সালের জুলাই থেকে নতুন গ্রাহকদের ওয়েবসাইটে ডিফল্টভাবে এআই বটের প্রবেশ বন্ধ রাখার ব্যবস্থা চালু করেছে। অন্যদিকে, ‘রিয়েলি সিম্পল লাইসেন্সিং’ নামে একটি মানদণ্ডের মাধ্যমে ওয়েবসাইটে প্রবেশকারী বটগুলোর কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। মাইক্রোসফট তাদের এক ব্লগ পোস্টে জানিয়েছে, নতুন এ ব্যবস্থা শুধু ভবিষ্যতে এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য কনটেন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এটি ওয়েবসাইটে বটের স্বাভাবিক প্রবেশ বা তথ্য সংগ্রহ পুরোপুরি বন্ধ করবে না। এ ছাড়া ওয়েবসাইট কর্তৃপক্ষ নিজেরা সেটিংস পরিবর্তন না করা পর্যন্ত কনটেন্ট সংগ্রহের অনুমতি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই চালু থাকবে। মাইক্রোসফট ও গুগল পৃথক ব্লগ পোস্টে সতর্ক করে বলেছে, কোনো প্রকাশক যদি তাদের কনটেন্ট এআই মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহার করতে না দেন, তাহলে এআই অ্যাপ ও অন্যান্য সেবায় সেই প্রকাশকের কনটেন্ট দেখানোর সুযোগ কমে যেতে পারে। এ উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে মেটাও। প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘একটি অভিন্ন সংকেত বা নির্দেশনা তৈরি করা, যার মাধ্যমে একই সঙ্গে একাধিক সেবাদাতাকে কনটেন্ট ব্যবহারের বিষয়ে প্রকাশকদের পছন্দ জানানো যাবে, তা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’ তিনি আরও বলেন, এ খাতের অন্যান্য এআই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ ধরনের মানদণ্ড তৈরি ও বাস্তবায়নে কাজ করতে তারা আগ্রহী।