জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল ও সাবেক আইজি আবদুল্লাহ আল মামুনের রায়ের দিন আগামী ১৭ নভেম্বর ধার্য করেছেন আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনাল গঠন হওয়ার পর এটি হবে প্রথম রায়।
চব্বিশের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকে ঝটিকা মিছিলের চেষ্টায় ছিল কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। শেখ হাসিনার রায় ঘিরে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্য লকডাউনের ঘোষণা আসে। এরপর শুরু হয় চোরাগোপ্তা ককটেল হামলা আর আগুন দেয়ার ঘটনা।
বিশ্লেষকদের শঙ্কা, সামনের দিনগুলোয় দলটির এমন নাশকতার অপচেষ্টা আরও বাড়বে। পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে বিপুল অর্থ ব্যবহারের শঙ্কাও করছেন তারা।
রাজনীতি বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ বলেন, সামনের দিন এরকম কর্মসূচি আরও আসবে। আগুন, বাস পোড়ানো ও জনগণের জীবনযাত্রা ব্যহত হওয়ার যেন আমাদের কপালের লিখন হয়েই থাকলো।
ইতিহাসবিদ ও বিশ্লেষক ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, আওয়ামী লীগের অর্থ ও অস্ত্র রয়েছে। তাদের প্রায় ৮ হাজার নেতাকর্মীর অবৈধ অস্ত্র আছে। সেগুলো যে ব্যবহার হবে না, বিষয়টি এমন নয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ১৯৯৬ এবং ২০০৬ সালেও দলটির এমন সহিংস কর্মসূচি দেখা গেছে। এবারও সেই পথে হাঁটছে নৌকার নেতাকর্মীরা। এই পরিস্থিতি মোকাবেলা সরকারের দায়িত্ব।
ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, রাজপথে পিটিয়ে মানুষ মারার ঘটনা দেখেছি। আওয়ামী লীগের সাস্প্রতিক তৎপরতা আমাদের শঙ্কার মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। সেই অপতৎপরতা প্রতিহত করার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। সরকার এতে বিশেষ নজর দেবে বলে আশা করি।
এদিকে, শেখ হাসিনার মামলা ছাড়াও ট্রাইব্যুনালে আরও বেশ কয়েকটি মামলার বিচার প্রায় শেষের দিকে। এসব মামলার রায়ের পাশাপাশি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জোর প্রস্তুতি চলছে। এতে সংকট ঘনীভূত হবার শঙ্কা বিশ্লেষকদের।
আলতাফ পারভেজ বলেন, আগামীতেও আওয়ামী লীগ কর্মসূচি দেবে। অন্য দলগুলো তাতে বাধা দেবে। আবার নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতাও হবে।
প্রসঙ্গত, গণঅভ্যুত্থানের পর কার্যক্রম আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ করা হয়। পাশাপাশি দলের নিবন্ধনও স্থগিত করা হয়। নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে দলটির ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন ছাত্রলীগও।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
পুঁজিবাদ যে মৌলবাদকে পুষ্ট করে, তা অস্পষ্ট নয়, যদিও এ বিষয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা চলে। পুঁজিবাদ দারিদ্র্য, বৈষম্য এবং অজ্ঞতা সৃষ্টি ও বৃদ্ধি করে। আর দারিদ্র্য ও অজ্ঞতাই মৌলবাদের প্রধান আশ্রয়। পুঁজিবাদী বৈষম্য গরিব মানুষকে বিক্ষুব্ধ করে। রাষ্ট্র, বিশেষ করে প্রান্তিক পুঁজিবাদী রাষ্ট্র, অধিকাংশ মানুষকে বঞ্চিত ও বিচ্ছিন্ন রাখে। শ্রমজীবী মানুষের জন্য এসব রাষ্ট্র নিপীড়নের যন্ত্র হিসেবে কাজ করে; তাদের কাছে ন্যায়বিচার বা আশ্রয় নেই, প্রতিশ্রুতিও পূরণ হয় না। অন্যদিকে, খুব অল্প কিছু মানুষ যারা সম্পদশালী, তারা পরম বিলাস ও অপচয়ের জীবন যাপন করছে। পীড়িত মানুষ গণতান্ত্রিক পথ না পেয়ে ক্রোধ ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে ব্যর্থ হয়ে ধর্মের দিকে ঝুঁকে যায়। আর ধর্মব্যবসায়ী মৌলবাদীরা এই সুযোগে সমর্থক ও অনুসারী সংগ্রহ করে, তাদের হিংস্রতা আরও উগ্র হয়ে ওঠে। বাংলাদেশে মৌলবাদ আবারও মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। এটি কিছুটা অপ্রত্যাশিত, কারণ দেশের অভ্যুদয় ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। কিন্তু পরাজিত শক্তি ফিরে এসেছে, এবার আরও শক্তিশালীভাবে। তাদের পরাজয় শুধু অস্ত্রের মাধ্যমে নয়, আদর্শিকভাবেও হয়েছিল। মৌলবাদীরা এই আদর্শিক পরাজয় মেনে নেয়নি; তারা পুনরায় শক্তি সংগ্রহ করেছে। এর অন্যতম কারণ হলো পুঁজিবাদের পুনঃপ্রতিষ্ঠা। আগের রাষ্ট্রগুলোতে যা কার্যকর ছিল, তা এখন বাংলাদেশের কিছু অংশে পুনরায় দৃঢ় হচ্ছে। স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক হবে, রাষ্ট্র সবার সাধারণ সম্পত্তি রক্ষা করবে, সমাজে অধিকার ও সুযোগের সমতা থাকবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে। অধিকাংশ মানুষের জীবন এখন দুঃস্বপ্নের মতো, কারণ মুক্তিযুদ্ধের পর আশা ছিল যে সমষ্টির স্বার্থ বজায় রাখা হবে। মানুষ দেখেছে, যুদ্ধে সবাই অংশ নিয়েছিল, কিন্তু সুফল ধনীদের ঘরে গিয়েছে। একাত্তরের পরাজিত মৌলবাদী চক্র আবার দেশে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। ভোট ও নির্বাচন আছে, কিন্তু তা এখনো পুরো বিশ্বাস যোগ্য নয়। দীর্ঘ সময় অসাংবিধানিক সরকারের অধীনে থাকা দেশের জন্য শুভকর নয়। তাই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এখন জরুরি। পথ হলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অনুসরণ করা। চেতনার মূল বিষয় হলো ব্যক্তির নয়, সমষ্টির স্বার্থকে বিকশিত করা। সম্পদ উৎপাদন ও সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে। শত্রু চলে গেছে মনে হলেও, আসলে শত্রু এখনো আছে—এটি ব্যক্তির স্বার্থকে বড় করে তোলা, পুঁজিবাদী অর্থনীতি এবং আদর্শ। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি; যুদ্ধে হেরে গেলে আমরা শুধু পেছনে হটব, যেমন এখন হচ্ছে ক্রমাগত। রাষ্ট্র এখনও পুঁজিবাদী পথে এগোচ্ছে। গণতন্ত্রের পরিবর্তে স্বৈরশাসন দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী হয়েছে। দারিদ্র্য, বৈষম্য ও অজ্ঞতা বৃদ্ধি পেয়েছে। রাষ্ট্র অধিকাংশ মানুষের স্বার্থ উপেক্ষা করে কতিপয়ের স্বার্থ রক্ষা করছে। শিক্ষা, যা সর্বজনীন হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। ধনী জনগোষ্ঠী নিজের সুবিধার জন্য ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, মৌলবাদী ও বুর্জোয়া রাজনৈতিক দলও ধর্মকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাজে লাগাচ্ছে। সমাজের প্রায় সবাই পুঁজিবাদী; ব্যক্তিগত মুনাফা চায়, অন্যের প্রতি আগ্রহ কমছে। হতাশা ভয়ংকরভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। ধর্মসহ নানাবিধ আসক্তি এই পরিস্থিতিতে লালিত হচ্ছে। রাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা, কিন্তু তা কার্যকর হয়নি। বরং রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষতার ধারকরা দুই ভাগে বিভক্ত—উদারনীতি ও বামপন্থি। উদারনীতিবাদীরা জনগণের প্রতি প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হয়েছেন। কারণ তারা ভদ্র, জনবিচ্ছিন্ন এবং পুঁজিবাদী ব্যবস্থার সমর্থক। বামপন্থিরা প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষতার সমর্থক, কিন্তু কিছু দার্শনিক দুর্বলতা, পরদেশনির্ভরতা ও রাষ্ট্র ও সমাজের বৈরিতার কারণে তারা প্রবল হতে পারেনি। তাহলে সমাধান কী? মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ফিরে আনা। সমষ্টির স্বার্থের উপর জোর দেয়া। সম্পদ উৎপাদন এবং সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা। শত্রু এখনো আছে—পুঁজিবাদী স্বার্থ ও আদর্শ। মুক্তিযুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি, এবং আমরা এখনো সেই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করছি।
লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ই-পাসপোর্ট সেবা উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সেবার উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স কাজী আসিফ আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. জসিম উদ্দিন এবং ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। অনুষ্ঠানে দূতাবাসের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ত্রিপলিস্থ বাংলাদেশ কমিউনিটির প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) মো. আমিনুর রহমানের সঞ্চালনায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন ই-পাসপোর্ট প্রকল্পের ওপর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি ই-পাসপোর্টে ব্যবহৃত আধুনিক প্রযুক্তি এবং এর বিভিন্ন সুবিধা সম্পর্কে আলোকপাত করেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. জসিম উদ্দিন ই-পাসপোর্টের মাধ্যমে প্রবাসীদের জন্য নিরাপদ ও উন্নত সেবা প্রদানের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাজী আসিফ আহমেদ বলেন, লিবিয়ায় অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ই-পাসপোর্ট সেবা চালু হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীরা ই-পাসপোর্ট নবায়ন ও নতুন পাসপোর্ট প্রাপ্তির জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। আজ থেকে সেই অধ্যায়ের অবসান ঘটল। এখন থেকে দূতাবাসেই ই-পাসপোর্টের আবেদন, তথ্য সংগ্রহ ও বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে, যা প্রবাসীদের জীবনযাত্রাকে আরও সহজ ও নিরাপদ করবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ দূরে অবস্থান করলেও রাষ্ট্রের সেবা কখনোই প্রবাসীদের থেকে দূরে থাকে না। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিরা দীর্ঘদিন পর লিবিয়ায় ই-পাসপোর্ট সেবা চালু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা জানান, এ সেবার মাধ্যমে প্রবাসীদের ভোগান্তি কমবে এবং তাদের আইনগত সুরক্ষা আরও সুদৃঢ় হবে। লিবিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে আধুনিক এ পাসপোর্ট সেবা পৌঁছে দেওয়ায় সরকারের উদ্যোগকে তারা আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান। ৭১তম মিশন হিসেবে ই-পাসপোর্ট সেবার উদ্বোধনের মাধ্যমে লিবিয়া ও দূতাবাসের আওতাভুক্ত দেশগুলোতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা এখন থেকে আরও উন্নত, দ্রুত ও নিরাপদ কনস্যুলার সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। আজ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ওপরই বিশ্বের অগ্রগতি নির্ভরশীল, আর এই ধারার সাথে তাল রাখতে রাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজন যথাযথ দক্ষতাসম্পন্ন গ্র্যাজুয়েট। আজ কুমিল্লার সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিসিএন-ইউএসটি) দ্বিতীয় সমাবর্তন ২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এ সব কথা বলেন। গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে উপদেষ্টা বলেন, জীবনে দ্রুত সফলতা কামনা করা স্বাভাবিক, কিন্তু প্রকৃত সফলতা আসে ধৈর্য, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে। নিজের দুর্বলতাকে চিহ্নিত করে সেটিকেই সফলতার দিকে অগ্রসর হওয়ার শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। জীবনের লক্ষ্য স্থির করে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে গেলেই সফলতার পথ খুঁজে পাওয়া যাবে। উপদেষ্টা সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জনকে শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক আস্থার প্রতিফলন হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এই আস্থা গড়ে উঠেছে সময়, দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, গ্র্যাজুয়েটদের সাফল্যের মাধ্যমে। এই আস্থা ধরে রাখাই ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং এই দায়িত্ব এখন সমাবর্তনোত্তর গ্র্যাজুয়েটদেরই বহন করতে হবে। অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিজ অব বাংলাদেশ (এপিইউবি)-এর চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. সানোয়ার জাহান ভুঁইয়া এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ও শিক্ষকবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ, সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান, সদস্য, উপাচার্য, উপ-উপাচার্য এবং ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, এই সমাবর্তনে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সময়কালে বিভিন্ন অনুষদ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিপ্রাপ্ত মোট ৩৫২ জন গ্র্যাজুয়েটকে ডিগ্রি দেওয়া হয়। এদিকে সমাবর্তনে সর্বোচ্চ সিজিপিএ পেয়ে চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন মোসাম্মৎ মাহমুদা আক্তার এবং তানজিদা চৌধুরী প্রমি। এছাড়া, বিওটি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ২ জন, ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ৩ জন, ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ৭ জন।