জাতীয়

সংসদে উত্থাপনের পরই প্রত্যাহার ‘মদ ও জুয়া নিষিদ্ধকরণ’ বিল

মারিয়া রহমান জুলাই ০৯, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
সংগৃহীত ছবি

দেশে মদ্যপান, মদ্যজাতীয় পানীয় ও জুয়া নিষিদ্ধের বিধান রেখে নতুন আইন প্রণয়নে ‘মদ ও জুয়া (নিষিদ্ধকরণ) আইন, ২০২৬’ এবং ‘ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) অ্যাক্ট, ২০২৬’ নামের বেসরকারি বিল সংসদে উত্থাপনের পরই প্রত্যাহার করা হয়েছে। আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের অনুরোধে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বিল দুটি প্রত্যাহার করে নেন।

 
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বেসরকারি বিল উত্থাপনের পর আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সংসদ সদস্য যে উদ্দেশ্যে বিল দুটি এনেছেন, তা বিদ্যমান আইনেই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি জানান, চলতি অধিবেশনেই ‘জুয়া আইন, ২০২৬’ পাস হয়েছে। এ ছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর বিভিন্ন ধারায় মদ ও মাদক নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত আছে। তাই নতুন করে একই ধরনের আইন প্রণয়নের প্রয়োজন নেই।বিল দুটি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান তিনি।


আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের পর শাহজাহান চৌধুরী বিল দুটি প্রত্যাহারে সম্মতি দেন। পরে অধিবেশন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, প্রস্তাবকারী সদস্য বিল উত্থাপন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিষয়টি আর ভোটে দেওয়া হচ্ছে না।


সংসদে প্রস্তাবিত ‘মদ ও জুয়া (নিষিদ্ধকরণ) আইন, ২০২৬’ বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, মদ ও জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনগণ, বিশেষ করে তরুণ ও যুবসমাজকে সুরক্ষা দেওয়া, পারিবারিক ও সামাজিক অবক্ষয় রোধ এবং জনস্বাস্থ্য ও নৈতিক মূল্যবোধ রক্ষার লক্ষ্যে মদ ও জুয়া নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন।


মদ ও জুয়ার আসক্তি তরুণদের নৈতিকতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও কর্মক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত করে। এতে তারা অপরাধপ্রবণ হয়ে পড়তে পারে, পড়াশোনা ও কর্মজীবন থেকে বিচ্যুত হয় এবং সহজে অর্থ উপার্জনের লোভে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। পাশাপাশি মদ্যপান শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি এবং পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের অবনতি ঘটায়। এছাড়া সংবিধানের ১৮ অনুচ্ছেদের আলোকে জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতার উন্নয়নের স্বার্থে দেশে মদ ও জুয়া নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন বলেও উদ্দেশ্য ও কারণ অংশে উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, সরকারি বিলের বাইরে কোনো সংসদ সদস্য, যিনি মন্ত্রী নন, জনস্বার্থে আইন প্রণয়নের প্রস্তাব হিসেবে বেসরকারি বিল উত্থাপন করতে পারেন।


তবে বিলটি উপস্থাপনের আগে সংসদের অনুমতি নিতে হয়। অনুমতি পাওয়ার পর বিলটি উত্থাপিত হলে তা পরবর্তী পর্যায়ে বিবেচনার জন্য সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অগ্রসর হয়। দেশে সংসদীয় ইতিহাসে বেসরকারি বিল উত্থাপনের নজির থাকলেও সেগুলোর খুব কম সংখ্যকই শেষ পর্যন্ত আইনে পরিণত হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংসদীয় সমর্থনের অভাব, সরকারের অনাগ্রহ এবং পরবর্তী আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় অধিকাংশ বেসরকারি বিল চূড়ান্ত পরিণতি পায় না। তবু জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে আইন প্রণয়নের প্রস্তাব এবং সংসদে রাজনৈতিক ও নীতিগত অবস্থান তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় মাধ্যম হিসেবে বেসরকারি বিলকে বিবেচনা করা হয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর ঘিরে পুনর্বহালের দাবিতে চাকরিচ্যুত ব্যাংকারদের অবস্থান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফরকে কেন্দ্র করে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে নগরের লালখান বাজারে ফ্লাইওভারের প্রবেশমুখে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।   এ সময় আন্দোলনকারীরা চাকরিতে পুনর্বহালসহ তাদের ন্যায্য দাবিগুলো পূরণে সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।   চাকরিচ্যুত ব্যাংকারদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ব্যাংকিং খাতে দায়িত্ব পালনের পরও ন্যায়বিচার ও আত্মপক্ষ সমর্থনের যথাযথ সুযোগ না দিয়ে তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এতে তারা এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা আর্থিক ও সামাজিক সংকটে পড়েছেন।   আন্দোলনকারীরা জানান, চাকরি হারিয়ে অনেকেই অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। পরিবারের ভরণপোষণ, সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন খরচ মেটাতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। বয়স বেড়ে যাওয়ায় নতুন কর্মসংস্থান পাওয়ার সুযোগও কমে এসেছে বলে দাবি করেন তারা।   দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকটের কারণে ইতোমধ্যে কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে বলেও দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।   কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যাংকাররা বলেন, দীর্ঘদিন ব্যাংকিং সেবায় নিয়োজিত থাকার পর হঠাৎ চাকরি হারিয়ে তারা অনিশ্চিত জীবনযাপন করছেন। নিজেদের অধিকার ফিরে পাওয়া এবং কর্মস্থলে পুনর্বহালের মাধ্যমে আবারও মর্যাদার সঙ্গে জীবিকা নির্বাহ করতে চান তারা। এ বিষয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রত্যাশা তাদের।   চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে এর আগেও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন চাকরিচ্যুত ব্যাংকাররা। গত ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জনসভায় হলুদ রঙের টি-শার্ট উঁচিয়ে নিজেদের দাবি তুলে ধরেন তারা। একই দিন সকালে নগরের হোটেল রেডিসন ব্লুর সামনেও অবস্থান নিয়ে তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন।   সে সময় চাকরিচ্যুত ব্যাংকার ইলিয়াস হোসেন অভিযোগ করেছিলেন, তাদের অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বিষয়টি সমাধানে তারেক রহমান উদ্যোগ নেবেন—এমন প্রত্যাশা থেকেই তারা সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ দিয়ে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে: তারেক রহমান

ছবি: সংগৃহীত

আলুর বাজারে ধস, কেজিতে ১৪–১৬ টাকা লোকসানের শঙ্কায় কৃষক

ছবি: সংগৃহীত

নির্ধারিত সময়ে বায়োমেট্রিক না দিলে বাতিল হবে ভোটার নিবন্ধনের আবেদন

ছবি: সংগৃহীত
খুলনায় নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ৩

খুলনার তেরখাদা উপজেলায় এক নারীকে (৩১) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (১৯ অক্টোবর) গভীর রাতে উপজেলার মধুপুর শ্যামনগর পুরাতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত ভবনে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।   ভুক্তভোগী নারী বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।   আটক ব্যক্তিরা হলেন তেরখাদা উপজেলার মধুপুর গ্রামের মিকাঈল শেখের ছেলে সামিউল শেখ (২৮), মো. আলমগীর কাজীর ছেলে মাজাহারুল কাজী (২২) এবং আশরাফ শরীফের ছেলে শাহাজাহান শরীফ (৩৮)।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে দিঘলিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে তেরখাদা উপজেলার ৬ নম্বর মধুপুর ইউনিয়নের বেলেঘাট এলাকায় অপেক্ষা করছিলেন ওই নারী। এ সময় কয়েকজন জেলে নদী পার করে দেওয়ার কথা বলে তাকে একটি নৌকায় তোলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।   তবে নৌকাটি দিঘলিয়ার দিকে না নিয়ে মধুপুর শ্যামনগর পুরাতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ওই নারীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।   খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। পরে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়।   খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার উন্নতি, সহিংসতা কমেছে: যুক্তরাজ্যের সিপিআইটি

ছবি: সংগৃহীত

বাউফলে ১৪ বছরের কিশোর নিখোঁজ, সন্ধান চায় পরিবার

ছবি: সংগৃহীত

কুড়িগ্রামে বৃদ্ধের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার, নাতির বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ

ইসির এক নির্দেশনায় দেশের সব উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
ভোটার স্থানান্তরের আবেদন ৫ নভেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ ইসির

জানুয়ারিতে শুরু হতে যাওয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন আগামী ৫ নভেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। হালনাগাদের পর ২৫ নভেম্বর চূড়ান্ত করা হবে ভোটার তালিকা। চূড়ান্ত তালিকায় যাদের নাম থাকবে, তারাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন।     সোমবার (১৯ অক্টোবর) ইসির এক নির্দেশনায় দেশের সব উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।      নির্দেশনায় বলা হয়, ২০০৮ সালের ৩১ অক্টোবর বা এর আগে যাদের জন্ম, তাদের মধ্যে যারা এ বছরের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ভোটার ডেটাবেজে নিবন্ধিত হবেন, তাদের অন্তর্ভুক্ত করে হালনাগাদ ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। এ জন্য ৫ নভেম্বর সারা দেশে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে ২৫ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।       স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন করা যাবে। এসব আবেদন ৫ নভেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।      নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ হবে আগামী বছরের ২১ জানুয়ারি। দ্বিতীয় ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপে ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপে ১৩ মে এবং পঞ্চম ও শেষ ধাপে ২৭ মে ভোটগ্রহণ হবে। এসব নির্বাচনের তফসিল জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা ঘোষণা করবেন।     স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে হালনাগাদ ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা ছিল গত আগস্টে। ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, নভেম্বরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু হওয়ার কথা ছিল এবং সেপ্টেম্বরে তফসিল ঘোষণার পরিকল্পনা ছিল। এ লক্ষ্যে ভোটার তালিকা মুদ্রণের কাজও শুরু করার পরিকল্পনা ছিল।     তবে ভোট পিছিয়ে যাওয়ায় দেশজুড়ে আবারও ভোটার স্থানান্তর কার্যক্রম চালু করে নির্বাচন কমিশন।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে অতিরিক্ত ডিআইজির ভাড়া দেওয়া বাড়িতে ডিবির অভিযান, বিদেশিসহ আটক ৮৪

ছবি: সংগৃহীত

সোনারগাঁয়ে পাশাপাশি মসজিদ-মন্দির, ১৪৩ বছর ধরে অটুট ধর্মীয় সম্প্রীতির বন্ধন

সংগৃহীত ছবি

জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে আলজেরিয়া সফরে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান

0 Comments