জাতীয়

সমাজ বদলাতে শুধু প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না: চট্টগ্রামের ডিসি

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দেশ ও সমাজে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে শুধু প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে না থেকে প্রত্যেক নাগরিককে নিজের দায়িত্ব ও অবদানের বিষয়ে ভাবতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

 

তিনি বলেছেন, উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর জন্য গবেষণা ও উদ্ভাবনের পাশাপাশি বাজার ও ভোক্তার পরিবর্তিত চাহিদা সম্পর্কে আগাম ধারণা নিতে হবে। ভবিষ্যতের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে এখন থেকেই পরিকল্পনা করা জরুরি।

 

শুক্রবার (২ অক্টোবর) জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

জেলা প্রশাসক বলেন, দেশের উন্নয়ন সবাই চায়। কিন্তু সেই উন্নয়নে নিজের ভূমিকা কী—প্রত্যেকেরই এই প্রশ্ন করা প্রয়োজন। শুধু অন্যের কাজের সমালোচনা না করে দেশ ও সমাজের জন্য নিজের অবদান কী, তা নিয়ে ভাবতে হবে।

 

উৎপাদনশীলতার সঙ্গে গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ভোক্তার চাহিদা বুঝতে না পারলে এবং সে অনুযায়ী গবেষণা না থাকলে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকা কঠিন। সফল প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতের ক্রেতাদের পছন্দ ও প্রয়োজন নিয়ে আগেই গবেষণা করে।

 

তরুণদের পরিবর্তনশীল রুচির বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী দিনের ভোক্তারা কী ধরনের পণ্য বা সেবা চাইবে, তা বিবেচনায় নিয়েই ব্যবসায়িক পরিকল্পনা করতে হবে।

 

পরিবর্তনকে স্বাগত জানানোর আহ্বান

পরিবর্তনের প্রতি অনীহাকে অগ্রগতির অন্যতম বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তার মতে, প্রচলিত ব্যবস্থাকে ধরে রাখার প্রবণতা থাকলে নতুন কিছু সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। পরিবর্তনের সঙ্গে সমালোচনা ও চ্যালেঞ্জ থাকলেও বড় অর্জনের জন্য এসব মোকাবিলা করতে হয়।

তিনি বলেন, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে প্রচলিত চিন্তার বাইরে গিয়ে নতুন ধারণা ও সৃষ্টিশীলতার চর্চা বাড়াতে হবে।

চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্যের ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ তুলে জেলা প্রশাসক বলেন, দেশের অর্থনীতিতে চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবেই এ অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিস্তার ঘটেছে। তাই চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নতুন ধারণা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রত্যাশাও বেশি।

 

শুধু প্রশাসনকে দায়ী করে পরিবর্তন সম্ভব নয়

সমাজের বিভিন্ন সমস্যার জন্য শুধু প্রশাসনকে দায়ী করার মানসিকতা পরিবর্তনের আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক।

তিনি বলেন, সমাজের প্রতি নিজের দায়িত্ব ও অবদান নিয়ে না ভেবে শুধু ডিসি বা এসপি কী করেননি—এভাবে প্রশ্ন তুললে সমাজের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না। পরিবর্তনের জন্য প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে।

 

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও সম্ভাবনার যথাযথ ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তার বক্তব্য, বিশ্বের অনেক দেশের মানুষ প্রতিকূল আবহাওয়া ও পরিবেশের মধ্যেও উন্নতি করেছে। বাংলাদেশের তুলনামূলক অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ ও উর্বর ভূমির সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো প্রয়োজন।

 

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ রাষ্ট্রের প্রত্যাশা

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও উন্নত দেশ রেখে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, আগামী প্রজন্ম যেন মনে না করে আগের প্রজন্ম রাষ্ট্রের সব সম্পদ ভোগ করে তাদের জন্য অনিরাপদ পরিবেশ রেখে গেছে।

হানাহানি, রাহাজানি, নিরাপত্তাহীনতা এবং নিরাপদ খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটমুক্ত একটি রাষ্ট্র গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

 

আলোচনা সভার শেষে দেশ ও সমাজের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনে সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
হজে ২০ হাজার কোটা বাড়ানোর আবেদন বাংলাদেশের

আগামী বছর বাংলাদেশ থেকে হজে যেতে ৭৮ হাজার ৫০০ জনকে সৌদি আরব সরকার সুযোগ দিলেও আরও ২০ হাজার কোটা চেয়েছে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)।   ধর্ম মন্ত্রণালয় সংগঠনটির এ দাবি আমলে নিয়ে সৌদি সরকারের কাছে চিঠি দিলেও এখনো সাড়া মেলেনি।   ধর্ম মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফরহাদ আহমেদ শুক্রবার বিকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বাড়তি কোটার বিষয়টি সৌদি সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।”   হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, “আরও ২০ হাজার হজ কোটা বাড়ানোর জন্য বলেছি। সরকার এবং মাননীয় ধর্মমন্ত্রীকেও বিষয়টি নিয়ে বেশ আন্তরিক মনে হয়েছে।   “তারা ডিও লেটার দিয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। এখন সৌদি সরকারের সম্মতি পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছি।”   আগামী বছর হজ করতে আগ্রহীদের নিবন্ধনের সময়সীমা শেষ হয়েছে গত ২৪ সেপ্টেম্বর। নির্ধারিত কোটা পূরণ হওয়ায় নিবন্ধনের সময় আরও বাড়ানো হয়নি।   ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, হজে যেতে এখন পর্যন্ত সরকারি মাধ্যমে নিবন্ধন করেছেন ৫ হাজার ৯০ জন, আর বেসরকারি মাধ্যমে নিবন্ধন সেরেছেন ৭০ হাজার ৮৯২ জন। সবমিলিয়ে ৭৫ হাজার ৯৮২ জন আগামী বছর হজে যেতে নিবন্ধন সেরেছেন।   ধর্ম মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফরহাদ আহমেদ বলেন, “অনেকে নিবন্ধনের ভাউচার সংগ্রহ করেছেন। নিবন্ধিতদের সঙ্গে হজ ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যরাও যুক্ত হবেন। সবমিলিয়ে কোটা পূরণ হয়েছে।”   চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী বছরের ১৫ মে হজ অনুষ্ঠিত হবে।   ধর্ম মন্ত্রণালয় বলছে, বাংলাদেশ থেকে হজের ভিসা দেওয়া শুরু হবে আগামী ২৮ জানুয়ারি থেকে। এরপর ৮ এপ্রিল হজের প্রাক ফ্লাইট শুরু হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

২০ ইউনিটের বিল ২৯ হাজার টাকা, মাগুরায় ফের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

সমাজ বদলাতে শুধু প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না: চট্টগ্রামের ডিসি

ছবি: সংগৃহীত

বাকিতে সিগারেট না দেওয়ায় দোকানিকে পেট্রোল ঢেলে আগুন, গ্রেপ্তার ১

শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে ২ কোটি টাকার স্বর্ণের বারসহ ২ জনকে আটক

ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের সোনার বারসহ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক কর্মী ও একজন যাত্রিকে আটক করেছেন ঢাকা কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তারা।    শুক্রবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আটক বিমান কর্মীর নাম ওবায়দুর রহমান। অপর ব্যক্তি একজন যাত্রী, তার পরিচয় জানানো হয়নি। এতে বলা হয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক কর্মীর দেহ তল্লাশি করে ২ কোটি ১০ লাখ টাকার স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়েছে।   গত রাত আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এভসেকের সহায়তায় এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার উপস্থিতিতে ঢাকা কাস্টমস হাউসের এয়ারপোর্ট ইউনিট কর্তৃক বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কর্মী ওবায়দুর রহমানের দেহ তল্লাশি করে তার শার্টের পকেট ও কোমরের বেল্ট থেকে টিস্যুতে মোড়ানো নয়টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।   উদ্ধারকৃত স্বর্ণের মোট ওজন ১,০৪৯.৪০ গ্রাম (প্রায় ১.০৫ কেজি), যার আনুমানিক মূল্য ২ কোটি ১০ লাখ টাকা। প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের পর ওবায়দুরের তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে এক যাত্রীকে আটক করা হয়।   এতে আরো বলা হয়, জড়িতের বিরুদ্ধে কাস্টমস আইন-২০২৩ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনের অধীন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার অভিযোগ, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি: সংগৃহীত

বরগুনায় আবারও বাড়ছে ডেঙ্গু, হাসপাতালে শয্যা সংকট

ছবি: সংগৃহীত

ডেঙ্গু-হাম মোকাবিলায় নগর পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান

ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ গুলশানে টস বন্ডের চার ওয়্যারহাউস সিলগালা

অনুমোদনহীন স্থানে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা শুল্কমুক্ত পণ্য সংরক্ষণের অভিযোগে রাজধানীর দক্ষিণ গুলশানে টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেডের চারটি ওয়্যারহাউস সিলগালা করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।   বন্ড সুবিধায় আমদানি করা পণ্য অনুমোদিত ওয়্যারহাউসের বাইরে মজুতের তথ্য পাওয়ার পর যৌথ অভিযান চালিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) রাতে অভিযান শেষে ওয়্যারহাউসগুলো সিলগালা করা হয় বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে।   এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেডের অনুমোদিত ওয়্যারহাউস রয়েছে দুটি। তবে সরেজমিন পরিদর্শনে প্রতিষ্ঠানটির চারটি স্থাপনায় পণ্য সংরক্ষণের তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে দুটি ওয়্যারহাউস অনুমোদিত তালিকায় নেই বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে।   অনুমোদিত স্থাপনার বাইরে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা শুল্কমুক্ত পণ্য কীভাবে রাখা হলো, সেখান থেকে কোনো পণ্য অন্যত্র সরানো বা অপসারণ করা হয়েছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।   অভিযানসংশ্লিষ্টরা জানান, বন্ড সুবিধায় আমদানি করা পণ্য নির্ধারিত ও অনুমোদিত ওয়্যারহাউসে সংরক্ষণ করার নিয়ম রয়েছে। তাই অনুমোদনহীন স্থাপনায় এসব পণ্য পাওয়া যাওয়ার ঘটনায় মজুতের বৈধতা, পণ্যের হিসাব এবং স্থানান্তরের অনুমোদনসহ বিভিন্ন বিষয় যাচাই করা হচ্ছে।   তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওয়্যারহাউসগুলো সিলগালা থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।   এর আগে কূটনীতিকদের জন্য বিশেষ সুবিধায় শুল্কমুক্ত মদ আমদানি ও বিক্রির অভিযোগেও টস বন্ড লিমিটেড আলোচনায় আসে। ২০২৩ সালে এনবিআরের শুল্ক বিভাগ প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ডিপ্লোম্যাটিক বন্ড সুবিধার আওতায় মদ আমদানির ঘটনায় সরকারের প্রায় ২৪৯ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতির প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছিল।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরে কিশোর অপরাধবিরোধী অভিযান, তিন দিনে আটক ৫৪৯

মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে সাগরে ডুবছিল বোট, ৭৬ জনকে উদ্ধার করল নৌবাহিনী

‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি ঘোষণা ইনকিলাব মঞ্চের

0 Comments