প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)-এর সভায় সভাপতিত্ব করছেন। সোমবার সকাল ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন মিলনায়তনে এ সভা শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানান।
সভায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বিষয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।
সভা চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)-এর সভা শেষে ‘সংবাদ সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)-এর সভায় সভাপতিত্ব করছেন। সোমবার সকাল ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন মিলনায়তনে এ সভা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানান। সভায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বিষয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। সভা চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)-এর সভা শেষে ‘সংবাদ সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হবে।
রাজধানী কারওয়ানবাজারে সোনারগাঁও হোটেল ক্রসিংয়ের কোনো লেইনে যানবাহন থামাতে এখন আর দৌড়ঝাঁপ করতে হচ্ছে না পুলিশকে; একটি জায়গায় দাঁড়িয়ে শুধু তারা মাঝেমধ্যে হাতের ইশারা দিচ্ছেন। দিন কয়েক আগেও রাজধানী ঢাকার ব্যস্ততম এ সিগন্যালে এক লেইন আটকে আরেকটি ছাড়তে গিয়ে রীতিমতো গলদঘর্ম অবস্থা দেখা যেত ট্রাফিক পুলিশের। শনিবার সকালে সেই চিত্র আর দেখা গেল না। এদিন লাল-সবুজ বাতি মেনে চলছিল সব ধরনের বাহন। ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশনার ফাঁক গলে কোনো যানবাহন চলছিল না। এ সিগন্যালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্যামেরা বসানোর পর থেকেই পাল্টে গেছে আগের হ-য-ব-র-ল চিত্র; বিপরীতে দেখা যাচ্ছে এমন শৃঙ্খলা। ক্যামেরায় নজরদারির মাধ্যমে আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ভয়ে বাহনের চালকরা আর ঝুঁকি নিচ্ছেন না। যদিও কোনো যানবাহনের নম্বর প্লেট অস্পষ্ট কিংবা নম্বর প্লেট না থাকার কারণে জটিলতাও তৈরি হচ্ছে। কেননা অস্পষ্ট নম্বর প্লেট শনাক্ত করতে পারছে না এসব ক্যামেরা। শুধু এ মোড় নয়, রাজধানীর মোট ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংয়ে চালু থাকা সিগন্যাল লাইট পয়েন্টে এআই প্রযুক্তির পিটিজেড ক্যামেরা বসিয়ে কাজ করার কথা বলছে পুলিশ। সোনারগাঁও মোড়ে সিগন্যালে দায়িত্ব পালন করা ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের একজন বিদ্যুৎ হোসেন শনিবার বলেন, ক্যামেরার ভয়ে কেউ সিগন্যাল ভাঙছে না। সোনারগাঁও হোটেলের সামনের ‘স্টপ লাইন’ দেখিয়ে তিনি বলেন, “দেখেন কেউ লাইনই ক্রস করছে না। বেশির ভাগই সিগন্যাল মানছে। আমরা সিগন্যাল মতো গাড়ি ছাড়ার বা থামার ইশারা দিচ্ছি দাঁড়িয়ে থেকে।” এআই ক্যামেরা লাগানোর পর থেকে ট্রাফিক পুলিশের কষ্ট কমেছে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় পুলিশ বেশি মনোযোগ দিতে পারছে বলে মনে করেন বিদ্যুৎ হোসেন। পরীক্ষামূলকভাবে গত ৭ মে থেকে ঢাকার বিভিন্ন ট্রাফিক পয়েন্টে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। এআইভিত্তিক ক্যামেরাগুলোতে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ লঙ্ঘন শনাক্ত করার সফটওয়্যার সংযোজন করা হয়েছে। সফটওয়্যারের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী আইন লঙ্ঘন হলেই সেই গাড়ি শনাক্ত করছে ক্যামেরা। সে অনুযায়ী ডিজিটাল মামলা দেওয়া হচ্ছে গাড়ির মালিককে। এ ব্যবস্থা চালুর প্রথম সপ্তাহেই যানবাহনগুলোর সিগন্যাল মানার ক্ষেত্রে ‘অভাবনীয় সাফল্য’ পাওয়ার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা। ডিএমপি সদর দপ্তরে গত ২৯ এপ্রিল আইজিপি আলী হোসেন ফকির এ সফটওয়্যার উদ্বোধন করেন। এরপর ৩ মে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চালক ও গাড়ির মালিকদের ‘ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে ট্রাফিক মামলার’ বিষয়ে সতর্ক করা হয়। কয়েকদিন পরীক্ষামূলকভাবে চলার পর ৭ মে থেকে নির্ধারিত পয়েন্টগুলোতে এই স্বয়ংক্রিয় মামলা কার্যক্রম শুরু করে পুলিশ। ‘পিটিজেড ক্যামেরা’ আইন লঙ্ঘন করা গাড়ির নম্বর শনাক্ত করতে এআইভিত্তিক এ ক্যামেরাগুলোকে ‘পিটিজেড ক্যামেরা’ বলছে পুলিশ। এটি ‘প্যান-টিল্ট-জুম’ প্রযুক্তির উন্নত নিরাপত্তা ক্যামেরা, যা দূরবর্তী স্থান থেকে ডানে-বামে, ওপরে-নিচে ঘোরানো ও জুম করা যায়। বড় এলাকা বা জনসমাগমপূর্ণ জায়গা পর্যবেক্ষণের জন্য এ ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়। এটি ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে ঘুরে চিত্র ধারণ করতে পারে। চলন্ত বস্তু বা ব্যক্তিকে অনুসরণ করতে পারে। এটি ওয়াইফাই সংযোগের মাধ্যমে সহজেই অ্যাপ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ‘অপটিক্যাল জুম’ এর মাধ্যমে অনেক দূর থেকে স্পষ্ট ছবি বা গাড়ির নম্বর প্লেট শনাক্ত করতে পারে। ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ বলছে, প্রাথমিকভাবে ক্যামেরাগুলোতে দেওয়া সফটওয়্যারে ছয়টি ‘লজিক’ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ছয় ধরনের আইন অমান্য করা যানবাহন শনাক্ত করে নম্বরপ্লেটসহ গাড়ির ছবি তুলে রাখছে। সেসব ছবি-ভিডিও ডিএমপি সদর দপ্তরের ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিটের (টিটিইউ) সার্ভারে জমা করছে। এ সফটওয়্যারের সঙ্গে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সার্ভারও যুক্ত করা হয়েছে। ফলে সহজেই আইন ভঙ্গকারী যানবাহনের নম্বর দিয়ে নিমিশেই মিলছে গাড়ির মালিকের বিস্তারিত তথ্য। টিটিইউ টিমের সদস্যরা সার্ভারের ছবি ও ভিডিও পর্যালোচনা করে আইন অমান্য করা গাড়ির মালিকের নামে মামলা দিচ্ছেন। ‘ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সফটওয়্যারের’ মাধ্যমে মালিক/চালকদের রেজিস্ট্রি করা ঠিকানায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেসব মামলার কপি ডাকযোগে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ৪ শতাধিক মামলা এ প্রযুক্তির ক্যামেরা ব্যবহার শুরুর প্রথম আট দিনে সার্ভারে ১০ হাজারের বেশি ভিডিও জমা হয়েছে। সেগুলো টিটিইউ ইউনিটের সদস্যরা যাচাইবাছাই করে আইন ভঙ্গের মাত্রা অনুযায়ী মামলা দিচ্ছেন। ডিএমপি ট্রাফিকের এআই প্রযুক্তির সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট শারমিন আফরোজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “হিউজ ভিডিও পাচ্ছি। যেমন ধরেন সফটওয়্যারকে ‘লেইন ভায়োলেশনের’ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছি। এখন কোনো গাড়ির চাকা একটু এদিক-ওদিক হলেই ক্যামেরা সেটিকে ‘ভায়োলেশন’ হিসেবে ধরে ফুটেজ দিচ্ছে। “কিন্তু যেহেতু এই ব্যবস্থাপনাটা নতুন, তাই আমরা ছোটোখাটো ভায়োলেশনগুলো এড়িয়ে যাচ্ছি। বিবেচনায় নিচ্ছি, তার ওই ভায়োলেশনটার কারণে যানজট তৈরি হচ্ছে কিনা, স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে কিনা। এসব ফুটেজ যাচাইবাছাই করে এখন পর্যন্ত ৪০০ এর বেশি ‘প্রসিকিউশন’ (মামলা) প্রস্তুত করেছি। এর মধ্যে অনেগুলোই (মালিক/চালকদের) পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, বাকিগুলো পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।” প্রতিদিন কী পরিমাণ আইন লঙ্ঘন হচ্ছে, এ ব্যাপারে শারমিন বলেন, “গত বুধবার আমরা ৭৪৮টি ভিডিও পেয়েছি। বৃহস্পতিবার একটু কম পেয়েছি।” কোন ধরনের আইন অমান্যের প্রবণতা বেশি, এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “বেশির ভাগই বাম লেইন দখল করে রাখা আর ‘স্টপ লাইন’ না মানার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবে এখন ‘স্টপ লাইন’ মানার প্রবণতা বাড়ছে। বেশির ভাগই সিগন্যাল অনুযায়ী স্টপ লাইনটা মানছেন।” ডিএমপির সাবেক কমিশনার সরওয়ার বলেন, “আমাদের লোকজন কাজ করতেছে, ভবিষ্যতে দেখা যাবে যে প্রতিদিন হয়ত ১ হাজার মামলা হবে।” যেসব যানবাহন শনাক্ত করছে ক্যামেরা বর্তমানে বাম লেইন বন্ধ করা, অবৈধভাবে লেইন পরিবর্তন বা বারবার পরিবর্তন, সিগন্যাল লাইট অমান্য বা স্টপ লাইট অমান্য বা জেব্রা ক্রসিংয়ের উপর গাড়ি উঠিয়ে দেওয়া, রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা বা রাস্তায় বা ক্রসিংয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করানো, অবৈধ পার্কিং করা এবং উল্টো পথে যানবাহন চালালে এ মামলা হবে। গত ১১ মে বিমানবন্দর ক্রসিংয়ে সৌরশক্তির সিগন্যাল লাইট স্থাপন অনুষ্ঠানে ডিএমপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার সরওয়ার বলেন, “আরো অনেকগুলো লজিক দেওয়া হবে। এই লজিক যত বাড়ানো হবে, ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারী আইনের আওতা আরো বাড়বে।” মামলার কপি যাচ্ছে ডাকযোগে ডিএমপি বলছে, বর্তমানে ক্যামেরার মাধ্যমে শনাক্ত আইন ভঙ্গকারী মালিক/চালকদের ঠিকানায় ‘অটো জেনারেটেড নোটিস’ ডাকযোগে পাঠানো হচ্ছে। নোটিস পাওয়ার পর মালিক/চালকরা ডিএমপি সদর দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে হাজির হয়ে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারার নির্ধারিত জরিমানা ব্যাংক/মোবাইল ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করে মামলা নিষ্পত্তি করবেন। নোটিস পাওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট মালিক/চালকরা সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে হাজির না হলে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করবেন ডিএমপির ম্যাজিস্ট্রেটরা। তবে মামলার তথ্য চালক/মালিকের মোবাইলে পাঠানোর পরিকল্পনার কথাও বলছে পুলিশ। ডিএমপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, “বর্তমানে চিঠি পাঠিয়ে ট্রাফিক মামলা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মোবাইলের অ্যাপের মাধ্যমে বা মোবাইলে এসএমএস পাঠিয়ে মামলার তথ্য জানাবে পুলিশ।” মোবাইল ফোনের বার্তায় অভিযোগ লিংকও পাঠানো হবে, যেখানে অভিযোগ ওঠা ব্যক্তি প্রসিকিউশনের চিঠি এবং নিজের আইন ভঙ্গের কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও সরাসরি দেখতে পারবেন। এতে ‘স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা বাড়বে’ বলে মনে করেন ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ বলছে, সড়কে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে একসময় কাগজের স্লিপে মামলা দেওয়া হতো। পরে ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সিস্টেমের অংশ হিসেবে পস (পয়েন্ট অব সেল) মেশিন চালু করা হয়। তবে সড়কে গাড়ি থামিয়ে তাৎক্ষণিক মামলা ও জরিমানা আদায়ের কারণে যানজট আরো বাড়ার অভিযোগ রয়েছে। এআইভিত্তিক ক্যামেরায় মামলা কার্যক্রমের দিকে যাওয়ায় সেই সমস্যা কমবে বলেও মনে করা হচ্ছে। যেসব পয়েন্টে বসেছে ক্যামেরা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং থেকে জাহাঙ্গীর গেইট পর্যন্ত সাতটি, গুলশান-১ নম্বর ও ২ নম্বরসহ মোট নয়টি, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় হাই কোর্ট ক্রসিং থেকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং পর্যন্ত ছয়টি এবং ডিএমপির ব্যবস্থাপনায় ১৫টিসহ মোট ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংয়ে সিগন্যাল লাইট চালু রয়েছে। এই ৩০টি পয়েন্টেই এআই প্রযুক্তির পিটিজেড ক্যামেরা বসিয়ে কাজ করার কথা বলছে পুলিশ। পর্যায়ক্রমে সব সিগন্যাল লাইটের খুঁটিতেই এ ক্যামেরা বসানো হবে। সিস্টেম অ্যানালিস্ট শারমিন আফরোজ বলেন, “বর্তমানে শতাধিক পিটিজেড ক্যামেরার মাধ্যমে এ ব্যবস্থাপনা চলছে। পর্যায়ক্রমে আরো ক্যামেরা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।” জটিলতা কোথায়? ডিএমপির কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন এ ব্যবস্থায় প্রধান যে জটিলতা দেখা গেছে সেটি হচ্ছে, অনেক যানবাহনের নম্বর প্লেট অস্পষ্ট। আবার কিছু গাড়িতে নম্বর প্লেট নেই। ফলে ক্যামেরা সেসব যানবাহন শনাক্ত করতে পারছে না। ট্রাফিক বিভাগ বলছে, অনেক চালক নির্ধারিত নম্বর প্লেট ব্যবহার না করে শুধু পেইন্ট দিয়ে গাড়ির নিবন্ধন নম্বর লিখে চালাচ্ছেন। আবার অনেক যানবাহনের মালিক নম্বর প্লেটের ফি পরিশোধ করলেও বিআরটিএ থেকে নির্ধারিত নম্বর প্লেট ও আরএফআইডি (রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন) ট্যাগ সংগ্রহ করেননি। বিভিন্ন যানবাহনের উইন্ডশিল্ডে স্থাপন করা আরএফআইডি ট্যাগ অকার্যকর পাওয়া যাচ্ছে, যা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি করছে। সে কারণে চলতি সপ্তাহ থেকেই অভিযানে নামার কথা গত ১১ মে গণবিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরে ডিএমপি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সড়কে চলাচলকারী নিবন্ধিত যানবাহনে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত রং, ডিজাইন এবং সাইজের নাম্বার প্লেট যথাযথ স্থানে লাগানোর আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ডিএমপির এক কর্মকর্তা বলেন, “কয়েকদিনের মধ্যে যদি বিআরটিএ নির্ধারিত নম্বর প্লেট না লাগায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” গত কয়েকমাসে এক্সপ্রেসওয়েতে অনিয়ন্ত্রিত গতির গাড়ি শনাক্ত করে মামলা করেছে পুলিশ। এর বাইরে বিভিন্ন ক্যামেরায় ভুল পার্কিং, রাস্তায় স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোসহ বিভিন্ন আইন ভঙ্গকারীর ভিডিও সংগ্রহ করছেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। এর ভিত্তিতে ওই গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে। ডিএমপি বলছে, ‘হ্যালো ডিএমপি’ নামে একটি অ্যাপ চালু করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যে কেউ ওই অ্যাপে কোনো যানবাহনের আইন অমান্যের ভিডিও আপলোড করতে পারবেন। এরপর সেটি যাচাইবাছাই করে মামলায় যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে পুলিশের।
মাদারীপুর শহরের আমিরাবাদ এলাকায় আত্মীয়ের বাসা থেকে শিশুসহ একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন সদর উপজেলার কলাগাছিয়া এলাকার চিত্ময় দাস, তার স্ত্রী ইশা দাস এবং তাদের আট মাস বয়সী সন্তান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাদারীপুর সদর মডেল থানা–এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ। পুলিশ জানায়, আমিরাবাদ এলাকার একটি বাসায় প্রায় তিন বছর ধরে ভাড়া থাকেন গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার ইতালি প্রবাসী যতীন বাড়ৈর স্ত্রী মিষ্টি বাড়ৈ। রোববার বিকেলে চাচাতো ভাই পরিচয়ে সেখানে যান চিত্ময় দাস ও তার পরিবার। পরে রাতে মিষ্টি বাড়ৈ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ঘরের দরজা ভেঙে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় পাশের কক্ষে একাই ছিলেন মিষ্টি বাড়ৈ। প্রাথমিকভাবে তাকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা— তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল–এর মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে র্যাব-৮–এর সিপিসি-৩ (মাদারীপুর ক্যাম্প)–এর কোম্পানি কমান্ডার পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। আলামত সংগ্রহ ও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত জানা যাবে।