যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলটিমেট ফাইটিং চ্যাম্পিয়ানশিপ-ইউএফসি প্রধান ডানা হোয়াইটকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। শনিবার নিজের মালিকানার ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ’ডানা এমন এক প্রেস সেক্রেটারি হবেন যা আগে কখনো দেখা যায়নি।
’ এরপর তিনি লেখেন, ’ডানা, প্লিজ চাকরিটা নাও!’
তবে প্রেসিডেন্টের এই প্রকাশ্য চাকরির অফারটি কতটা আন্তরিক ছিল বা এটি রসিকতা করে বলা কিনা তা স্পষ্ট নয়। মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর ট্রাম্পের প্রশাসনে নানা রদবদল হচ্ছে। এ অফার সেই রদবদলের অংশ কিনা তাও নিশ্চিত নয়। তবে হোয়াইট পরবর্তীতে শনিবার বলেছিলেন, ’আমি তার সাথে দেখা করতে যাচ্ছি, সোমবার আমাদের একটি মিটিং আছে।
’
গত অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে কেটি জ্যাকারিয়া চাকরি নেওয়ার পাঁচ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে পদত্যাগ করার পর থেকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির পদটি শূন্য রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইটকে একজন ‘হিংস্র যোদ্ধা এবং বীর’ বলে অভিহিত করেছেন এবং অনুরোধ করেছেন যেন তিনি তার সাথে বেশ কয়েকজন হাই-প্রোফাইল ইউএফসি ফাইটারদের নিয়ে আসেন, ‘যদিও তাদের মধ্যে কেউ কেউ আমাদের দেশের নন।’ ছয়জন ফাইটারের ছবিসহ ট্রাম্প লিখেছেন, ’পাগল বামপন্থিদের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করার জন্য এই মানুষদের প্রয়োজন।’
ট্রাম্পের এই পোস্টের পর, হোয়াইট হাউস প্রেস ব্রিফিং রুমের পোডিয়ামের পেছনে নিজের একটি ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন ডানা হোয়াইট।
তিনি সেখানে লেখেন, ‘পরবর্তী অধ্যায়ের দিকে।’ তবে ডানা পোস্টটি রসিকতা করে করেছেন কিনা তা স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের কমিউনিকেশন ডিরেক্টর স্টিভেন চেং প্রেসিডেন্টের বার্তাটি এক্স-এ শেয়ার করে লিখেছেন, ’হেল ইয়াহ! এটা করে ফেলো ডানাহোয়াইট!’
শনিবার রাতে লন্ডনের কপার বক্স অ্যারেনায় ব্রিটিশ সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান ক্রিস বিলাম-স্মিথ এবং জ্যামাইকান বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ফাইটার শেভন ক্লার্কের মধ্যকার একটি ম্যাচ দেখার জন্য হোয়াইট সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ম্যাচ পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের অফার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, ইউএফসি প্রধান নির্বাহী জানান যে তিনি সোমবার ট্রাম্পের সাথে বৈঠকের জন্য ওয়াশিংটন যাচ্ছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমার অলরেডি অনেক কাজ আছে।
’ রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম এই কঠিনতম কাজটি নিতে তিনি আগ্রহী কিনা সে বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে তিনি যোগ করেন, ’আমি নিশ্চিত যে সেই বৈঠকের পর আমাদের কথা বলার মতো কিছু থাকবে।’ তবে সিএনএন একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, হোয়াইট এই প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি যেমনটি উল্লেখ করেছেন, তার ইতোমধ্যেই বেশ কিছু সময়সাপেক্ষ ব্যস্ততা রয়েছে। ইউএফসি এবং পাওয়ার স্ল্যাপ পরিচালনার পাশাপাশি, ডানা সম্প্রতি 'জুফা বক্সিং' নামে একটি পেশাদার প্রমোশন কোম্পানি চালু করেছেন। এছাড়া গত বছর ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মেটা-র তিনজন নতুন বোর্ড সদস্যের একজন হিসেবে তার নাম ঘোষণা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সাথে ডানা হোয়াইটের সংঘর্ষের ইতিহাস রয়েছে। ২০২০ সালে মহামারির সময়ে ইউএফসি ম্যাচ আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তিনি সাংবাদিকদের তীব্র সমালোচনা করে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন। ২০০৯ সালে ইউএফসি ইভেন্টের ব্যাকস্টেজ ক্রেডেনশিয়াল নিয়মের পরিবর্তন নিয়ে এক সাংবাদিকের রিপোর্টের জবাবে তিনি গালিগালাজ এবং সমকামী-বিদ্বেষী শব্দ ব্যবহার করে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছিলেন।
হোয়াইট দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের মিত্র এবং বন্ধু। ২০০১ সালে যখন হোয়াইট এবং তার ব্যবসায়িক অংশীদাররা মাত্র ২ মিলিয়ন ডলারে সংকটাপন্ন ইউএফসি সংস্থাটি কিনেছিলেন, তখন এই খেলার ভবিষ্যৎ ছিল অনিশ্চিত। এর ঠিক পাঁচ বছর আগে, রিপাবলিকান সিনেটর জন ম্যাককেইন মিশ্র মার্শাল আর্টকে ’মানুষের মোরগ লড়াই’ বলে অভিহিত করেছিলেন, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৬টি রাজ্যে এটি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
২০২৫ সালে হোয়াইট বলেছিলেন, ’কোনো ভেন্যুই ইউএফসি-কে জায়গা দিতে চায়নি। তারা এটা বিশ্বাস করত না, পছন্দ করত না এবং এই ধরণের ইভেন্টে কেমন দর্শক আসবে তা নিয়ে চিন্তিত ছিল।’ মূলধারার অ্যারেনাগুলো যখন তাদের ফিরিয়ে দিচ্ছিল, হোয়াইট তখন ২০০১ সালে নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে ট্রাম্প তাজমহল ক্যাসিনোতে দুটি ইউএফসি ইভেন্ট আয়োজন করার জন্য ট্রাম্পকে এই সংস্থাটি বাঁচানোর কৃতিত্ব দেন।
পরবর্তীতে হোয়াইট ২০১৬, ২০২০ এবং ২০২৪ সালের রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশনে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস প্রচারণার জন্য বক্তব্য রাখেন। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের বিজয়ী ভাষণের সময়ও তিনি মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। চলতি বছরের গ্রীষ্মে, হোয়াইট হাউসের লনে ইউএফসি একটি ম্যাচের আয়োজন করেছিল।
সূত্র: বিবিসি
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলটিমেট ফাইটিং চ্যাম্পিয়ানশিপ-ইউএফসি প্রধান ডানা হোয়াইটকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। শনিবার নিজের মালিকানার ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ’ডানা এমন এক প্রেস সেক্রেটারি হবেন যা আগে কখনো দেখা যায়নি। ’ এরপর তিনি লেখেন, ’ডানা, প্লিজ চাকরিটা নাও!’ তবে প্রেসিডেন্টের এই প্রকাশ্য চাকরির অফারটি কতটা আন্তরিক ছিল বা এটি রসিকতা করে বলা কিনা তা স্পষ্ট নয়। মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর ট্রাম্পের প্রশাসনে নানা রদবদল হচ্ছে। এ অফার সেই রদবদলের অংশ কিনা তাও নিশ্চিত নয়। তবে হোয়াইট পরবর্তীতে শনিবার বলেছিলেন, ’আমি তার সাথে দেখা করতে যাচ্ছি, সোমবার আমাদের একটি মিটিং আছে। ’ গত অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে কেটি জ্যাকারিয়া চাকরি নেওয়ার পাঁচ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে পদত্যাগ করার পর থেকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির পদটি শূন্য রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইটকে একজন ‘হিংস্র যোদ্ধা এবং বীর’ বলে অভিহিত করেছেন এবং অনুরোধ করেছেন যেন তিনি তার সাথে বেশ কয়েকজন হাই-প্রোফাইল ইউএফসি ফাইটারদের নিয়ে আসেন, ‘যদিও তাদের মধ্যে কেউ কেউ আমাদের দেশের নন।’ ছয়জন ফাইটারের ছবিসহ ট্রাম্প লিখেছেন, ’পাগল বামপন্থিদের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করার জন্য এই মানুষদের প্রয়োজন।’ ট্রাম্পের এই পোস্টের পর, হোয়াইট হাউস প্রেস ব্রিফিং রুমের পোডিয়ামের পেছনে নিজের একটি ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন ডানা হোয়াইট। তিনি সেখানে লেখেন, ‘পরবর্তী অধ্যায়ের দিকে।’ তবে ডানা পোস্টটি রসিকতা করে করেছেন কিনা তা স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের কমিউনিকেশন ডিরেক্টর স্টিভেন চেং প্রেসিডেন্টের বার্তাটি এক্স-এ শেয়ার করে লিখেছেন, ’হেল ইয়াহ! এটা করে ফেলো ডানাহোয়াইট!’ শনিবার রাতে লন্ডনের কপার বক্স অ্যারেনায় ব্রিটিশ সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান ক্রিস বিলাম-স্মিথ এবং জ্যামাইকান বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ফাইটার শেভন ক্লার্কের মধ্যকার একটি ম্যাচ দেখার জন্য হোয়াইট সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ম্যাচ পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের অফার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, ইউএফসি প্রধান নির্বাহী জানান যে তিনি সোমবার ট্রাম্পের সাথে বৈঠকের জন্য ওয়াশিংটন যাচ্ছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমার অলরেডি অনেক কাজ আছে। ’ রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম এই কঠিনতম কাজটি নিতে তিনি আগ্রহী কিনা সে বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে তিনি যোগ করেন, ’আমি নিশ্চিত যে সেই বৈঠকের পর আমাদের কথা বলার মতো কিছু থাকবে।’ তবে সিএনএন একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, হোয়াইট এই প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি যেমনটি উল্লেখ করেছেন, তার ইতোমধ্যেই বেশ কিছু সময়সাপেক্ষ ব্যস্ততা রয়েছে। ইউএফসি এবং পাওয়ার স্ল্যাপ পরিচালনার পাশাপাশি, ডানা সম্প্রতি 'জুফা বক্সিং' নামে একটি পেশাদার প্রমোশন কোম্পানি চালু করেছেন। এছাড়া গত বছর ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মেটা-র তিনজন নতুন বোর্ড সদস্যের একজন হিসেবে তার নাম ঘোষণা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সাথে ডানা হোয়াইটের সংঘর্ষের ইতিহাস রয়েছে। ২০২০ সালে মহামারির সময়ে ইউএফসি ম্যাচ আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তিনি সাংবাদিকদের তীব্র সমালোচনা করে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন। ২০০৯ সালে ইউএফসি ইভেন্টের ব্যাকস্টেজ ক্রেডেনশিয়াল নিয়মের পরিবর্তন নিয়ে এক সাংবাদিকের রিপোর্টের জবাবে তিনি গালিগালাজ এবং সমকামী-বিদ্বেষী শব্দ ব্যবহার করে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছিলেন। হোয়াইট দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের মিত্র এবং বন্ধু। ২০০১ সালে যখন হোয়াইট এবং তার ব্যবসায়িক অংশীদাররা মাত্র ২ মিলিয়ন ডলারে সংকটাপন্ন ইউএফসি সংস্থাটি কিনেছিলেন, তখন এই খেলার ভবিষ্যৎ ছিল অনিশ্চিত। এর ঠিক পাঁচ বছর আগে, রিপাবলিকান সিনেটর জন ম্যাককেইন মিশ্র মার্শাল আর্টকে ’মানুষের মোরগ লড়াই’ বলে অভিহিত করেছিলেন, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৬টি রাজ্যে এটি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ২০২৫ সালে হোয়াইট বলেছিলেন, ’কোনো ভেন্যুই ইউএফসি-কে জায়গা দিতে চায়নি। তারা এটা বিশ্বাস করত না, পছন্দ করত না এবং এই ধরণের ইভেন্টে কেমন দর্শক আসবে তা নিয়ে চিন্তিত ছিল।’ মূলধারার অ্যারেনাগুলো যখন তাদের ফিরিয়ে দিচ্ছিল, হোয়াইট তখন ২০০১ সালে নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে ট্রাম্প তাজমহল ক্যাসিনোতে দুটি ইউএফসি ইভেন্ট আয়োজন করার জন্য ট্রাম্পকে এই সংস্থাটি বাঁচানোর কৃতিত্ব দেন। পরবর্তীতে হোয়াইট ২০১৬, ২০২০ এবং ২০২৪ সালের রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশনে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস প্রচারণার জন্য বক্তব্য রাখেন। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের বিজয়ী ভাষণের সময়ও তিনি মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। চলতি বছরের গ্রীষ্মে, হোয়াইট হাউসের লনে ইউএফসি একটি ম্যাচের আয়োজন করেছিল। সূত্র: বিবিসি
কানাডার নতুন অভিবাসন পরিকল্পনায় আগামী তিন বছরে ১১ লাখ ৪০ হাজার মানুষকে স্থায়ী বসবাসের (পিআর) সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে দেশটির সরকার। ২০২৭ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ৩ লাখ ৮০ হাজার করে স্থায়ী বাসিন্দা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কানাডায় আগে থেকেই বসবাসরত সর্বোচ্চ ২ লাখ অস্থায়ী বাসিন্দাকে স্থায়ী বাসিন্দায় রূপান্তরের সুযোগ দেওয়ার বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশটিতে কর্মরত ও দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করা ব্যক্তিদের স্থায়ী হওয়ার পথ সহজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ২০২৭ থেকে ২০২৯ সালের অভিবাসন পরিকল্পনা এবং ২০২৬ সালের বাজেটে এসব লক্ষ্যমাত্রার কথা জানানো হয়েছে। প্রতিবছর ৩ লাখ ৮০ হাজার পিআর কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ববিষয়ক বিভাগ (আইআরসিসি) জানিয়েছে, ২০২৭, ২০২৮ ও ২০২৯ সালে প্রতিবছর ৩ লাখ ৮০ হাজার নতুন স্থায়ী বাসিন্দা নেওয়া হবে। অর্থাৎ তিন বছরে নিয়মিত পিআর ভর্তির লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়াবে ১১ লাখ ৪০ হাজারে। এই পরিকল্পনায় অর্থনৈতিক অভিবাসনকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মোট স্থায়ী বাসিন্দার প্রায় ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশ অর্থনৈতিক শ্রেণির আওতায় নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এর মাধ্যমে দক্ষ কর্মী সংগ্রহ, শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে চায় কানাডা। ২ লাখ অস্থায়ী বাসিন্দার স্থায়ী হওয়ার সুযোগ নতুন পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, কানাডায় আগে থেকেই অবস্থানরত সর্বোচ্চ ২ লাখ অস্থায়ী বাসিন্দাকে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দেওয়া। এ উদ্যোগের আওতায় প্রায় ১ লাখ কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের পিআর দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, মানবিক বিবেচনায় আরও ১ লাখ মানুষকে স্থায়ী বাসিন্দায় রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে। দীর্ঘদিন ধরে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তি এবং নির্দিষ্ট মানবিক কর্মসূচির আওতায় থাকা আবেদনকারীরা এ সুযোগের আওতায় আসতে পারেন। সরকারের লক্ষ্য, দেশটিতে আগে থেকেই প্রতিষ্ঠিত এবং অর্থনীতি ও সমাজে অবদান রাখা ব্যক্তিদের স্থায়ী হওয়ার সুযোগ বাড়ানো। অস্থায়ী কর্মী ও শিক্ষার্থী নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা স্থায়ী বাসিন্দার পাশাপাশি অস্থায়ী কর্মী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নেওয়ার ক্ষেত্রেও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কানাডা। ২০২৭, ২০২৮ ও ২০২৯ সালে প্রতিবছর ৩ লাখ ৭০ হাজার নতুন অস্থায়ী বাসিন্দা নেওয়া হবে। এর মধ্যে থাকবেন প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার কর্মী এবং ১ লাখ ৫০ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী। শ্রমবাজারের চাহিদা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন অঞ্চলের কর্মসংস্থানের প্রয়োজন বিবেচনায় এ সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফরাসিভাষীদের জন্য বাড়ছে সুযোগ কানাডার কুইবেক প্রদেশের বাইরে ফরাসিভাষী অভিবাসীদের সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যও রয়েছে নতুন পরিকল্পনায়। ২০২৭ সালে মোট পিআরের ৯ দশমিক ৫ শতাংশ, ২০২৮ সালে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০২৯ সালে ১২ শতাংশ ফরাসিভাষী অভিবাসী নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। এর মাধ্যমে দেশটির ফরাসিভাষী সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বিকাশ এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে সহায়তা করতে চায় কানাডা। আবেদনকারীদের জন্য কী বার্তা? নতুন পরিকল্পনায় পিআরের সংখ্যা স্থিতিশীল রাখা হলেও দক্ষ কর্মী এবং কানাডার শ্রমবাজারে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক অভিবাসন, প্রাদেশিক মনোনয়ন এবং নির্দিষ্ট দক্ষতাভিত্তিক কর্মসূচিতে গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে। তবে ১১ লাখ ৪০ হাজার পিআরের লক্ষ্যমাত্রা মানেই সবার জন্য আবেদন উন্মুক্ত বা ভিসা নিশ্চিত নয়। আবেদনকারীদের যোগ্যতা, সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির শর্ত এবং সরকারি নির্বাচনপ্রক্রিয়া অনুসরণ করেই স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়া হবে।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালির ‘অননুমোদিত পথে’ চলাচলের চেষ্টা করার সময় মাইনের আঘাতে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। স্থানীয় সময় শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি কেশম দ্বীপ, জাস্ক, সিরিক ও বন্দর আব্বাস শহরে এসব বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তবে এসব এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে কি না সেটি নিশ্চিত করতে পারেনি ইরানি কর্তৃপক্ষ। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে দেশটির সামরিক তৎপরতার সঙ্গে এসব বিস্ফোরণের সম্পর্ক থাকতে পারে। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জলপথটিতে বাণিজ্যিক জাহাজে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ঘটনাগুলো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে ইরানি কর্মকর্তারা নিশ্চিত করে কিছু জানাননি। অন্যদিকে, আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম একটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণের শব্দের সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কোনো সম্পর্ক নেই। এদিকে রবিবার (৮ নভেম্বর) ভোরে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ‘অননুমোদিত পথে’ চলাচলের চেষ্টা করার সময় মাইনের আঘাতে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। তবে ট্যাংকার দুটিতে আগুন লাগার ঘটনার সঙ্গে আগের দিন দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় শোনা বিস্ফোরণের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না সেটি তাৎক্ষণিক স্পষ্ট হয়নি। হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের অভিযোগে বিভিন্ন জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরান। গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে তেহরান।এর আগে শনিবার তাসনিম জানিয়েছিল, কেশম দ্বীপে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে এ ঘটনায় সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ওই দ্বীপে হামলা চালানোর কয়েক দিন পরই নতুন করে বিস্ফোরণের খবর সামনে এল। এর আগে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ছিল সীমিত পরিসরের। বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর অংশ হিসেবে ওই হামলা চালানো হয়নি। এদিকে শনিবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, অবরোধ ভেঙে যাওয়ার চেষ্টা করা একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে অচল করে দিয়েছে তাদের বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজটি অবরোধ লঙ্ঘনের চেষ্টা করলে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে সেটির পেছনের অংশ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এতে জাহাজটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। সূত্র: রয়টার্স