খেলাধুলা

ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের যুগে প্রবেশ করছে সৌদি আরব

মারিয়া রহমান মে ১৪, ২০২৬
প্রতীকী ছবি : সংগৃহীত
প্রতীকী ছবি : সংগৃহীত

বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চালু আছে ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট। আইপিএল-পিএসএলের মতো এসব টুর্নামেন্টে দেখা যায় টাকার ছড়াছড়ি। এবার ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট শুরু করছে মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ ধনী দেশ সৌদি আরব। চলতি বছরের অক্টোবরেই দেশটিতে শুরু হতে যাচ্ছে প্রথম ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট ‘ডিউনস লিগ টি-টোয়েন্টি’। টুর্নামেন্টটির অনুমোদন দিয়েছে সৌদি আরাবিয়া ক্রিকেট ফেডারেশন (এসএসি‌এফ)।

জানা গেছে, এই লিগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়াদের নিয়ে হলেও বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে সক্রিয় থাকা বেশ কয়েকজন তারকা ক্রিকেটার অংশ নেবেন।

গত পাঁচ বছরে ক্রীড়াঙ্গনে বড় বিনিয়োগের মাধ্যমে আলোচনায় এসেছে সৌদি আরব। অর্থনীতিকে বহুমুখী করতে ফুটবল, টেনিস ও বক্সিংয়ে বড় বড় আয়োজন করেছে তেলসমৃদ্ধ দেশটি।

ইএসপিএন ক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছর ধরেই গুঞ্জন ছিল সৌদি আরব ভারতীয় প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বড় টি-টোয়েন্টি লিগ চালু করতে পারে। এমনকি গত বছর অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে গ্র্যান্ড স্ল্যাম ধাঁচের বৈশ্বিক টি-টোয়েন্টি সার্কিটে সৌদির বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা হয়।

ছয় দল নিয়ে আয়োজিত হবে ডিউনস টি-টোয়েন্টি লিগ। জেদ্দার কাছের শহর তাইফে ম্যাচগুলো আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ান নেটওয়ার্কের সঙ্গে যৌথভাবে লিগটি আয়োজন করা হচ্ছে। এ ছাড়া দুটি ট্যালেন্ট এজেন্সি; ইউনিক স্পোর্টস গ্রুপ এবং প্রলিথিক এই প্রকল্পে যুক্ত রয়েছে। ইউনিক স্পোর্টস গ্রুপের সঙ্গে আছেন জোফরা আর্চার, আর প্রোলিথিকের সঙ্গে কাজ করেন অভিষেক শর্মা। লিগটির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ভারতের সাবেক অলরাউন্ডার যুবরাজ সিং।

লিগটিতে সর্বোচ্চ চারজন এমন ক্রিকেটার খেলতে পারবেন, যারা গত দুই বছরের মধ্যে পূর্ণ সদস্য দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন। শীর্ষ খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক এক লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলেও জানা গেছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
মাঠের বাইরেও দুঃসময়, প্রেমিকার সঙ্গে বিচ্ছেদের খবর ভিনিসিয়ুসের

মাঠের পারফরম্যান্স ও শৃঙ্খলাজনিত ঘটনায় চাপে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ব্যক্তিগত জীবনেও নতুন অস্থিরতার খবর সামনে এসেছে। প্রেমিকা ভার্জিনিয়া ফনসেকার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের ইতি ঘটেছে বলে জানিয়েছে ফরাসি সংবাদমাধ্যম আরএমসি নেটওয়ার্ক।   স্প্যানিশ লা লিগায় ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ের ম্যাচে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন ভিনিসিয়ুস। ফলে তাঁর শাস্তির মেয়াদ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে আগামী ২৫ অক্টোবর বার্সেলোনার বিপক্ষে বহুল প্রতীক্ষিত এল ক্লাসিকোতে খেলতে নাও পারেন এই ফরোয়ার্ড।   এর মধ্যেই ফনসেকার সঙ্গে বিচ্ছেদের খবর সামনে আসে। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফনসেকার প্রেস অফিসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কোনো বিরোধ বা তর্ক ছাড়াই পারস্পরিক নীরব সম্মতির ভিত্তিতে সম্পর্কের সমাপ্তি হয়েছে। তবে ভিনিসিয়ুস কিংবা ফনসেকা—কেউই এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।   ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে ব্রাজিল ও স্পেনের সংবাদমাধ্যমে আলোচনা চলছিল। চলতি বছরের মে মাসে একবার বিচ্ছেদের খবর এলেও জুলাইয়ে আবার একসঙ্গে দেখা যায় দুজনকে। এরপর বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও তাঁদের একসঙ্গে উপস্থিত হতে দেখা গেছে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি স্প্যানিশ ফর্মুলা ওয়ান গ্রাঁ প্রিতে হাত ধরে উপস্থিতি তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।   অন্যদিকে, মাঠেও সময়টা ভালো যাচ্ছে না ভিনিসিয়ুসের। চলতি মৌসুমে প্রথমবার তাঁকে বেঞ্চে থাকতে হয়েছিল। ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে মাঠে নেমে গোল করার পর উদ্‌যাপনের সুযোগ তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত লাল কার্ডের ঘটনায় আলোচনায় আসেন তিনি।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যাচের ৭০ মিনিটে গোলের পর গোলের বিল্ডআপের সময় কানাডীয় ফুটবলার নাথান সালিবার চুল টেনে ধরার অভিযোগে ভিনিসিয়ুসকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হন কোচ হোসে মরিনিও। ঘটনার প্রতিবাদে তিনি ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনেও উপস্থিত হননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   সব মিলিয়ে মাঠের শাস্তির আশঙ্কা ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন—দুই দিক থেকেই কঠিন সময় পার করছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা। তবে লাল কার্ডের শাস্তির চূড়ান্ত মেয়াদ এবং বিচ্ছেদের খবরের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষা রয়েছে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে মহারণের আগে সুখবর পিএসজি শিবিরে

ছবি: সংগৃহীত

ভারতকে হারিয়ে বাজিমাত বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়নদের

ছবি: সংগৃহীত

অ্যানফিল্ডে ১০ জনের লিভারপুলকে উড়িয়ে দিল সিটি

ছবি: সংগৃহীত
তাসকিনের রেকর্ড ভেঙে শীর্ষে এখন হাসান

লিটন দাস ক্যাচ ধরার পরপরই করলেন আবেদন। হাসান মাহমুদ ঘুরে তাকাতেই আম্পায়ার আলাউদ্দিন পালেকের আঙুল তুলে দিলেন। আফগানিস্তানের টেলএন্ডার ব্যাটার ইয়ামিন আহমাদজাই রিভিউ নিয়ে শুধু হাসানের অপেক্ষাই বাড়ালেন। আল্ট্রা এজে স্পাইক ধরা পড়তেই হাসান আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামের পিচে সিজদা দিয়েছেন।   আহমাদজাইকে ফিরিয়ে টেস্টে ৫০তম উইকেট পেয়ে গেলেন হাসান। ‘ফিফটি’ পূর্ণ করতে হাসানের লেগেছে ১৭ ম্যাচ। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে টেস্টে দ্রুততম ৫০ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন তিনি। তাতে পেছনে পড়ে গেলেন তাসকিন আহমেদ। তাসকিনের টেস্টে ৫০তম উইকেট পেতে খেলতে হয়েছে ১৮ ম্যাচ। তিনে থাকা মাশরাফি বিন মর্তুজার ক্রিকেটের রাজকীয় সংস্করণে ১৯ ম্যাচে উইকেটের ফিফটি পূর্ণ করেছেন।   উইকেটের ফিফটি পূর্ণ করার পাশাপাশি টেস্টে এই নিয়ে চতুর্থবারের মতো ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন হাসান। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে টেস্টে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ফাইফারের কীর্তি এখন শাহাদাত হোসেন এবং হাসানের। দুজনই ক্রিকেটের রাজকীয় সংস্করণে চারবার করে ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন। দুই নম্বর স্থানটিও যৌথভাবে রবিউল ইসলাম, নাহিদ রানার। রানা, রবিউল দুজনেই টেস্টে দুইবার করে ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন।   ৫০তম উইকেট নেওয়ার পথে হাসান বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেছেন। ইসমাত আলম, কায়েস আহমেদ, জিয়া-উর-রহমান আকবরকে ফিরিয়ে তুলে নেন হাসান তাঁর প্রথম টেস্ট হ্যাটট্রিক। ৮৩তম ওভারের তৃতীয় থেকে পঞ্চম বলে এই কীর্তি গড়েন হাসান। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করেছেন তিনি। এর আগে অলক কাপালি ২০০৩ সালে পেশোয়ারে পাকিস্তানের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন। ঠিক তার ১০ বছর পর হ্যাটট্রিক করেন সোহাগ গাজী। চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই কীর্তি গড়েন তিনি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১২, ২০২৬
ছবি : বিসিসিআই

ইন্দোরে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে ভারত

সংগৃহীত ছবি

হেঁটে হেঁটে ক্রিজে ফেরার পথে অদ্ভুত রান আউটের শিকার তিলক বর্মা

ছবি: সংগৃহীত

রুটকে ছাড়িয়ে স্মিথের রেকর্ড

ছবি: সংগৃহীত
হাসান মাহমুদের ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক, দ্রুত ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে আফগানিস্তান

আবুধাবি টেস্টের তৃতীয় দিনের শুরুতেই আফগানিস্তানের ব্যাটিংয়ে ধস নামিয়েছে বাংলাদেশ। পেসার হাসান মাহমুদ হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস গড়েছেন। বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিক করার কীর্তি গড়েন তিনি। তাঁর সঙ্গে এবাদত হোসেনের দাপটে অল্প সময়ের ব্যবধানে চার উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে আফগানিস্তান।   আগের দিন ৪ উইকেটে ২১৭ রান নিয়ে দিন শেষ করেছিল আফগানিস্তান। তৃতীয় দিনের শুরুতে এবাদত হোসেনের বোলিংয়ে ইকরাম আলিখিলের উইকেট হারায় তারা। ইনসুইং ডেলিভারিতে বোল্ড হওয়ার আগে ইকরাম করেন ৩২ রান।   এরপর বল হাতে ঝড় তোলেন হাসান মাহমুদ। ইসমত আলমকে বোল্ড করে উইকেট নেওয়া শুরু করেন তিনি। পরের বলে কায়েস আহমেদকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন। হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন জিয়া-উর-রেহমানকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে। পরপর তিন বলে তিন উইকেট নিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিকের তালিকায় নাম লেখান হাসান।   এর আগে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে হ্যাটট্রিক করেছিলেন স্পিনার অলক কাপালি ও সোহাগ গাজী। যথাক্রমে ২০০৩ ও ২০১৩ সালে এই কীর্তি গড়েন তাঁরা। হাসানের হ্যাটট্রিক বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করেছে।   এদিকে আফগানিস্তানের অধিনায়ক রহমত শাহ এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন। আগের দিনের ৮৬ রানের সঙ্গে তিনি দলের ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে একের পর এক উইকেট হারানোয় চাপে পড়ে আফগানিস্তান।   বাংলাদেশের হয়ে হাসান মাহমুদ ও এবাদত হোসেনের বোলিংয়ে আফগান ব্যাটিং লাইনআপ বড় ধাক্কা খায়। হাসান হ্যাটট্রিকসহ গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন, এবাদতও কার্যকর ভূমিকা রাখেন। মেহেদী হাসান মিরাজ পান একটি উইকেট।   আবুধাবির এই টেস্টে বাংলাদেশের লক্ষ্য এখন আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস দ্রুত গুটিয়ে দিয়ে বড় লিড নেওয়া।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সমর্থকদের কাগুজে বিমান নিক্ষেপ, প্রতিবাদে পরিত্যক্ত রায়ো-অ্যাথলেটিক বিলবাও ম্যাচ

ছবি: সংগৃহীত

টানা আট জয়ে ১৩ বছরের রেকর্ড স্পর্শ বার্সার, এবার ইতিহাস গড়ার অপেক্ষা

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উন্মাদনা, শুরু হচ্ছে ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬

0 Comments