ফসলের উন্নত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চীন প্রথমবারের মতো ওপেন-সোর্স লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল ‘গ্রিন শিল্ড’ চালু করলো। মডেলটি মূলত বিজ্ঞানসম্মত কৃষি নির্দেশনা প্রদান এবং কীটনাশকের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।
নানচিং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি জৈব-নিরাপত্তা বিষয়ক প্রধান জাতীয় গবেষণাগার এবং ৩০টিরও বেশি শিল্প প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে এই মডেলটি তৈরি করা হয়েছে।
চীন প্রতিনিয়ত ফসলের ক্ষতিকারক পোকা-মাকড়ের আক্রমণ এবং কীটনাশক প্রতিরোধী ক্ষমতার মুখোমুখি হচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ে কৃষকদের এখন জরুরি ভিত্তিতে পেশাদার নির্দেশনার প্রয়োজন। তবে সাধারণ কাজের জন্য তৈরি এআই মডেলগুলো প্রায়শই উদ্ভিদ সুরক্ষার প্রশ্নে ভুল উত্তর দেয়। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, সেগুলো কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানহীন এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরামর্শ দিয়ে থাকে।
এই সমস্যার সমাধানে বিশেষজ্ঞ দল ২ দশমিক ৫ বিলিয়নেরও বেশি টোকেনের একটি বিশেষায়িত ডেটাবেস তৈরি করেছে। একাডেমিক পেপার, পেটেন্ট, জাতীয় মানদণ্ড এবং মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্যগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে। এই ডেটাবেসে ধান, গম, সয়াবিন, শাকসবজি এবং ফলমূলসহ প্রধান প্রধান ফসলের বিবরণ রয়েছে। এ ছাড়া এতে পোকা-মাকড় পর্যবেক্ষণ, পরিবেশবান্ধব নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং কীটনাশক নিবন্ধনের তথ্য যুক্ত করা হয়েছে।
সূত্র: সিনহুয়া।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য এশিয়ার সেরা ১০০ বিজ্ঞানীর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট’। এতে বাংলাদেশের তিন বিজ্ঞানীও স্থান পেয়েছেন। তারা হলেন- তরুণ গবেষক মারজানা আক্তার, ড. তাহমিদ আহমেদ এবং ড. মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন শায়ক। এছাড়া তালিকায় আরও স্থান পেয়েছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেলজয়ী শিমন সাকাগুচি, রসায়নে নোবেলজয়ী সুসুমু কিতাগাওয়া এবং গণিতের নোবেল-সমতুল্য আবেল প্রাইজ জয়ী মাসাকি কাশিওয়ারা। গবেষকদের এই আন্তর্জাতিক তালিকায় স্থান পেতে হলে পূর্ববর্তী বছরে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক স্তরে বড় কোনো বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার, পুরস্কার কিংবা অ্যাকাডেমিয়া ও শিল্প খাতে নেতৃত্বের প্রমাণ দিতে হয়। আন্তর্জাতিক এই তালিকায় স্থান পাওয়া গবেষকদের অনারি (সম্মানিত ব্যক্তি) হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। চলতি বছরের তালিকার সবচেয়ে কম বয়সী বিজ্ঞানী হলেন বাংলাদেশের তরুণ গবেষক মারজানা আক্তার।বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থী কৃষিবিজ্ঞান বিভাগে এই গৌরব অর্জন করেছেন। তিনি বাংলাদেশের পোলট্রি খাতে প্রথমবারের মতো একটি বিশেষ ভাইরাস শনাক্ত করে ভাইরোলজি গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ করেন। তিনি বিশ্বের ১৯৩টি দেশের মধ্যে মাত্র ১০ জন নির্বাচিত তরুণীর একজন হিসেবে ২০২৫ সালে জাতিসংঘের মর্যাদাপূর্ণ ‘ইয়াং উইমেন ফর বায়োসিকিউরিটি ফেলোশিপ’ লাভ করেন। এর মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বায়োসিকিউরিটি, বায়োসেফটি এবং সায়েন্স ডিপ্লোম্যাসি নিয়ে কাজ করছেন। মারজানার এই অর্জনের বিষয়ে তার স্বামী নিউজিল্যান্ডভিত্তিক ওয়্যারলেস পাওয়ার ট্রান্সফার কোম্পানির সহপ্রতিষ্ঠাতা ইউশা আরাফ জানান, মারজানার এই পথচলা সহজ ছিল না। মাস্টার্সে ভর্তির পর গর্ভাবস্থায় ল্যাব ও থিসিসের কাজ করার সময় শারীরিক জটিলতায় আইসিইউতেও ছিলেন। সন্তান জন্মের মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরই তার মাস্টার্স থিসিস সফলভাবে ডিফেন্ড করেন। তালিকায় জায়গা পাওয়া আরেক বাংলাদেশি গবেষক ড. তাহমিদ আহমেদ বর্তমানে আইসিডিডিআর,বি’র নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মা ও শিশুর পুষ্টিহীনতা দূরীকরণ এবং ডায়রিয়া প্রতিরোধে যুগান্তকারী অবদান রাখছেন। তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে তালিকায় স্থান পাওয়া ড. মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন শায়ক বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) ডায়স অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। পরিবেশবান্ধব টেক্সটাইল শিল্প ও কম কার্বন নির্গমন নিয়ে গবেষণা করছেন তিনি। জানা যায়, এই গবেষকের প্রতিষ্ঠিত ‘ডিকার্বোনাইজেশন ল্যাব’ প্রকল্পে কম ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করে কাপড়ে রং করার সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি নিয়ে কাজ হচ্ছে।
এবার কোরবানি ঈদের আগে নারায়ণগঞ্জের একটি খামারে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের একটি মহিষ নিয়ে বেশ আলোচনা তৈরি হয়। সাদা-ক্রিম রঙের শরীর, মাথায় সোনালি ঝুঁটির মতো লোম, গোলাপি আভাযুক্ত নাক—সব মিলিয়ে মহিষটি দ্রুত মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রে চলে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর মহিষটি দ্রুত ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’ হয়ে ওঠে; পরে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও জায়গা করে নেয়। সংবাদমাধ্যমে মহিষটির ওজন প্রায় ৭০০ কেজি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কেউ একে বিরল প্রজাতির মহিষ বলছেন, কেউ বলছেন বিদেশি জাত, আবার কেউ বলছেন অদ্ভুত বা অলৌকিক প্রাণী। ফলে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—এই মহিষটি কি সত্যিই কোনো বিরল প্রজাতির? প্রাণিবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বিষয়টি পরিষ্কার করা দরকার। অ্যালবিনো মহিষ কোনো আলাদা জাত বা প্রজাতি নয়। এটি মহিষের শরীরে দেখা দেওয়া একটি বিরল জিনগত বৈশিষ্ট্য। অর্থাৎ কোনো মহিষের গায়ের রং সাদা, ক্রিম বা ফ্যাকাশে হলেই সেটি নতুন জাতের মহিষ হয়ে যায় না। অ্যালবিনিজম আসলে কী অ্যালবিনিজম সত্যিকার অর্থে একধরনের জিনগত অবস্থা। এটি বিরল, তবে এটি কোনো জাত নয়। জিনগত পরিবর্তনের কারণে প্রাণীর দেহে মেলানিন নামের রং সৃষ্টিকারী পদার্থ কমে গেলে বা না থাকলে এমন রং দেখা যায়। মেলানিন হলো প্রাণীর শরীরের স্বাভাবিক রং তৈরির প্রধান উপাদান। মানুষের চুল, ত্বক ও চোখের রং যেমন মেলানিনের ওপর নির্ভর করে, তেমনি গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, হরিণ, পাখিসহ অনেক প্রাণীর গায়ের রংও মেলানিনের কারণে তৈরি হয়। যে প্রাণীর শরীরে মেলানিন বেশি থাকে, তার রং সাধারণত গাঢ় হয়। আর মেলানিন কম থাকলে বা অনুপস্থিত থাকলে শরীরের রং সাদা, ক্রিম, ফ্যাকাশে বা গোলাপি আভাযুক্ত হতে পারে। বাংলাদেশে সাধারণত মহিষের গায়ের রং কালো বা গাঢ় ধূসর। কারণ, তাদের শরীরে রং সৃষ্টিকারী পদার্থ স্বাভাবিকভাবে বেশি থাকে। কিন্তু কোনো মহিষের শরীরে জন্মগত কারণে এই পদার্থ তৈরি কম হলে তার রং স্বাভাবিক কালো না হয়ে সাদা বা ফ্যাকাশে হতে পারে। কেন এমন হয় প্রাণীর শরীরের রং, লোমের ধরন, শিংয়ের গঠন, চোখের রং—এসব অনেক কিছু নির্ভর করে জিনের ওপর। জিন হলো শরীরের ভেতরের একধরনের নির্দেশনা, যা মা-বাবা থেকে সন্তানের মধ্যে আসে। কখনো কখনো এই জিনে পরিবর্তন ঘটে। সেই পরিবর্তনের ফলে শরীরে মেলানিন তৈরির প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। তখন প্রাণীর গায়ের রং স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক হালকা হয়ে যায়। এটাই অ্যালবিনিজমের মূল কারণ। সহজভাবে বলা যায়, এটি কোনো খাবার, ওষুধ, খামারির বিশেষ কৌশল বা পরিবেশের কারণে হয় না। এটি জন্মগত জিনগত বৈশিষ্ট্য। পৃথিবীতে কি এ রকম ঘটনা আগে ঘটেছে হ্যাঁ, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সাদা বা অ্যালবিনো মহিষের ঘটনা আগে দেখা গেছে। তাই নারায়ণগঞ্জের ভাইরাল ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মহিষটি একেবারে পৃথিবীর প্রথম ঘটনা নয়। তবে বাংলাদেশে এ ধরনের মহিষ খুবই বিরল। ব্রাজিলে মুররাহ জাতের মহিষের একটি পালে অ্যালবিনিজম নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণা হয়েছে। ওই গবেষণায় দেখা যায়, মেলানিন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ জিনে পরিবর্তনের কারণে মহিষগুলোর শরীরে অ্যালবিনো বৈশিষ্ট্য দেখা দেয়। অর্থাৎ মহিষের মধ্যেও অ্যালবিনিজম বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত ঘটনা। থাইল্যান্ডেও সাদা বা অ্যালবিনো মহিষ নিয়ে মানুষের আগ্রহ দীর্ঘদিনের। দেশটির বিভিন্ন মহিষ প্রদর্শনীতে সাদা মহিষ দেখা যায়। সাম্প্রতিক সময়েও সেখানে দামি সাদা মহিষ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা জরুরি। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ‘সাদা মহিষ’ নামে যেসব ঘটনা আলোচিত হয়, তার সবই আমাদের দেশের পানিমহিষ নয়। কোনোটি হতে পারে বাইসন, কোনোটি হতে পারে অন্য ধরনের প্রাণী, আবার কোনোটি হতে পারে আংশিক রংহীন। তাই সব সাদা প্রাণীকে একভাবে অ্যালবিনো বলা ঠিক নয়। সাদা হলেই কি অ্যালবিনো না, সাদা বা ফ্যাকাশে রঙের সব প্রাণী অ্যালবিনো নয়। কোনো প্রাণীর গায়ে সাদা দাগ থাকতে পারে, কোনো প্রাণী আংশিক সাদা হতে পারে, আবার কোনো জাতের প্রাণীর রং স্বাভাবিকভাবেই হালকা হতে পারে। অ্যালবিনো প্রাণীর ক্ষেত্রে সাধারণত শরীরের রং খুব ফ্যাকাশে হয়। চোখ, নাক, মুখের চারপাশ বা ত্বকে গোলাপি আভা দেখা যেতে পারে। তবে শুধু চোখে দেখে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায় না। নিশ্চিত হতে হলে পশুচিকিৎসা পরীক্ষা, শরীরের রং পর্যবেক্ষণ, বংশগত তথ্য এবং প্রয়োজনে জিন পরীক্ষা দরকার। তাহলে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মহিষটি কী? সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও বর্ণনা অনুযায়ী, মহিষটির শরীরে অস্বাভাবিকভাবে ফ্যাকাশে রং, মাথায় সোনালি ধরনের লোম এবং গোলাপি আভাযুক্ত অংশ রয়েছে। এসব বৈশিষ্ট্য অ্যালবিনিজম বা রং-ঘাটতির সঙ্গে মেলে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও এটিকে বিরল অ্যালবিনো মহিষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বৈজ্ঞানিকভাবে সবচেয়ে সতর্ক ভাষা হলো—মহিষটি সম্ভবত অ্যালবিনিজম বা জিনগত রং-ঘাটতিযুক্ত। কিন্তু এটি কোনো আলাদা প্রজাতি নয়। প্রাণীর কল্যাণের প্রশ্ন মেলানিন শুধু শরীরে রং দেয় না, সূর্যের তীব্র আলো থেকে শরীরকে কিছুটা সুরক্ষাও দেয়। তাই যেসব প্রাণীর শরীরে মেলানিন কম থাকে, তারা তীব্র রোদ ও আলোতে বেশি সংবেদনশীল হতে পারে। চোখেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ধরনের প্রাণীর জন্য ছায়াযুক্ত পরিবেশ, পর্যাপ্ত পানি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সুষম খাদ্য, নিয়মিত পশুচিকিৎসকের নজরদারি এবং অতিরিক্ত ভিড় থেকে দূরে রাখা জরুরি। ভাইরাল হওয়ার কারণে যদি মানুষ ভিড় করে, শব্দ করে, ছবি তোলে বা প্রাণীটিকে বারবার নাড়াচাড়া করে, তাহলে প্রাণীটি মানসিক চাপে পড়তে পারে। প্রাণী যতই বিরল বা আকর্ষণীয় হোক, তার কল্যাণ আগে ভাবতে হবে। গণমাধ্যমে শব্দ ব্যবহারে সতর্কতা ‘বিরল প্রজাতির মহিষ’—এ ধরনের শব্দ শুনতে আকর্ষণীয় হলেও তা বিভ্রান্তিকর। কারণ প্রজাতি, জাত ও জিনগত বৈশিষ্ট্য এক জিনিস নয়। প্রজাতি মানে প্রাণীর বড় বৈজ্ঞানিক পরিচয়। জাত মানে একই প্রাণীর ভেতরে আলাদা গোষ্ঠী বা ধরন। জিনগত বৈশিষ্ট্য মানে জন্মগত কোনো বিশেষ লক্ষণ, যা শরীরে প্রকাশ পেতে পারে। তাই ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মহিষকে বিরল প্রজাতি বলা ঠিক নয়। বরং বলা উচিত—বিরল জিনগত বৈশিষ্ট্যযুক্ত মহিষ। ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামে ভাইরাল মহিষটি নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী চেহারার কারণে মানুষের মনোযোগ কেড়েছে। কিন্তু বৈজ্ঞানিকভাবে এটি কোনো নতুন জাত, নতুন প্রজাতি বা অলৌকিক প্রাণী নয়। অ্যালবিনিজম সত্যিকার অর্থে একধরনের জিনগত অবস্থা। এটি বিরল, তবে এটি মহিষের কোনো জাত নয়। জিনগত পরিবর্তনের ফলে শরীরে মেলানিন কমে গেলে বা অনুপস্থিত থাকলে প্রাণীর গায়ের রং এমন সাদা, ক্রিম বা ফ্যাকাশে হতে পারে। যেকোনো জাতের মহিষে বিরলভাবে এমন বৈশিষ্ট্য দেখা যেতে পারে। তাই সবচেয়ে সহজ ও সঠিক কথা হলো, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মহিষটি বিরল, কিন্তু বিরল প্রজাতির নয়; এটি বিরল জিনগত বৈশিষ্ট্যযুক্ত একটি মহিষ। ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির শিক্ষক, গবেষক ও লেখক, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম। akmhumayun@cvasu.ac.bd
কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসকের বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। কুমিল্লা–৪ আসনের (দেবীদ্বার) এই সংসদ সদস্য বলেছেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক যে টাকার কথা বলেছেন, সেটি উপজেলার জন্য বাজেট বরাদ্দ। সে টাকা তাঁকে দেওয়া হয়নি। কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া আজ শনিবার দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে অভিযোগ করেন, এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে ১৫ কোটি টাকা নিয়েছেন। আর এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ নিয়েছেন ১০ কোটি টাকা। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ওই আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল। মোস্তাক মিয়া বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদকের পদে রয়েছেন। জেলা পরিষদ প্রশাসকের এ বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসনাত আবদুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘জেলা পরিষদের প্রশাসক যে কথা বলেছেন, তিনি সেটি দ্বারা উপজেলার জন্য বাজেট নেওয়ার কথা বুঝিয়েছেন। আর উপজেলার জন্য বাজেটের টাকা তো আমাকে দেওয়া হয়নি। এ বাজেট তো কোনো ব্যক্তিকে দেওয়া হয় না। দেওয়া হয়েছে উপজেলাকে।’ দেবীদ্বার উপজেলাকে কোন কোন খাতে, কোন কাজে টাকা দেওয়া, সে তালিকা জেলা প্রশাসনের কাছে আছে জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘উপজেলাও সে টাকা কোন খাতে কত টাকা, কোথায় খরচ করেছে, সে হিসাব আছে। তারা সেটি প্রকাশ করুক।’ উপজেলার উন্নয়নের জন্য সবকিছু করতে রাজি আছেন জানিয়ে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমি আমার উপজেলার মানুষের জন্য কোথাও যদি কোনো কিছু ভিক্ষা চাইতে হয়, সেটি নিয়েও আমার আপত্তি নাই। কারণ, আমি তো আমার জন্য চাচ্ছি না। আমি মানুষের জন্য চাচ্ছি।’ হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এই বরাদ্দ স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দেওয়া বিশেষ বরাদ্দ, যেটা জেলা পরিষদের মাধ্যমে ব্যয় হয়েছে। দেবীদ্বার উপজেলাকে ৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ এডিপি প্রকল্পের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের রাজস্বের সঙ্গে এর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। জেলা পরিষদ প্রশাসকের বক্তব্যের সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘উনি এমনভাবে বলেছেন মনে হচ্ছে, টাকা আমরা নিজেরা পকেটে নিয়ে গেছি। অথচ দেবীদ্বারের বিভিন্ন কাজে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উনি বলেছেন, রাজস্ব খাত থেকে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এটি তো রাজস্ব খাতের বরাদ্দ নয়, এডিপি প্রকল্পের বরাদ্দ।’