আন্তর্জাতিক

পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে পুতিনের কঠোর হুঁশিয়ারি

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে পশ্চিমাদের উত্তেজনা না বাড়ানোর সতর্কবার্তা দিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে মস্কো পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে কালিনিনগ্রাদ রক্ষা করবে। বৃহস্পতিবার মস্কোয় ভালদাই ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় পুতিন এই কথা বলেন। তিনি জানান, ইউরোপীয় কোনও দেশকে আক্রমণ করার কোনও পরিকল্পনা রাশিয়ার নেই এবং তারা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চায়। তবে কালিনিনগ্রাদ বা রাশিয়ার অন্য কোনও ভূখণ্ড সরাসরি হামলার শিকার হলে মস্কো তার অস্ত্রাগারের সব অস্ত্র ব্যবহার করবে বলে জোর দিয়ে উল্লেখ করেন।

 

পুতিন বলেন, রাশিয়ার ওপর সরাসরি হামলা হলে বিশেষ করে কালিনিনগ্রাদ বা অন্য কোনও ভূখণ্ডে তাহলে রাশিয়ার হাতে থাকা সব অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি অনিবার্যভাবে এবং তাৎক্ষণিকভাবে আলোচনায় আসবে। তিনি আরও যোগ করেন, ‘এটি অনিবার্য’।

 

রাশিয়ার সর্বপশ্চিমের ভূখণ্ড কালিনিনগ্রাদ ন্যাটো সদস্য পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মাঝে অবস্থিত এবং এটি ব্যাপকভাবে সামরিকীকৃত। পুতিন বলেন, ন্যাটো রাশিয়ার তুলনায় ‘দ্বিগুণ বড়’- এ বিষয়টি মস্কো জানে এবং কোনও সংঘাত হলে জোটটিকে তার সামরিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করতে হবে।

 

ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের পারমাণবিক সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাশিয়া সে সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন। তবে মস্কোর এমন অস্ত্র রয়েছে যা তাদের একটি ‘প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা’ দেয়।

 

পুতিনের এই মন্তব্যের আগে ন্যাটো জানায়, কালিনিনগ্রাদ বিচ্ছিন্ন করার কোনও চেষ্টা করা হলে রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে প্রস্তুত এমন একটি কূটনৈতিক নোট মস্কো থেকে পেয়েছে তারা। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, জোটটি এর জবাবে জানিয়েছে, ন্যাটো প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে এবং পারমাণবিক হুমকি কোনোভাবেই সহায়ক নয়।

 

২০২২ সালে ইউক্রেনে সর্বাত্মক আক্রমণ শুরুর পর থেকে রাশিয়া ও পশ্চিমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত টানাপোড়েনপূর্ণ রয়েছে। ইউরোপীয় সরকারগুলো রাশিয়ার বিরুদ্ধে নাশকতা ও অগ্নিসংযোগের মতো তথাকথিত ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ তীব্র করার অভিযোগও তুলেছে। তবে মস্কো এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং ন্যাটো দেশকে আক্রমণ করার দাবি নাকচ করে দিয়েছে।

 

পুতিন সতর্ক করে দিয়ে বলেন, চলমান উত্তেজনা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যেখান থেকে আর ফিরে যাওয়ার কোনও উপায় থাকবে না। তিনি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই উপলব্ধি করতে হবে যে এমন একটি মুহূর্ত খুব দ্রুত এবং অপ্রত্যাশিতভাবে আসতে পারে যখন আর কিছুই পরিবর্তন করা যাবে না’। ক্রমবর্ধমান গুরুতর প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা একটি ‘মারাত্মক প্রত্যাবর্তনের অযোগ্য বিন্দুতে’ নিয়ে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

 

বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলোর ধ্বংসাত্মক ক্ষমতার কথা তুলে ধরে তিনি সরকারগুলোকে এমন পরিস্থিতি এড়ানোর আহ্বান জানান যাতে ওই ধরনের অস্ত্র ব্যবহার না হতে পারে। এছাড়া পূর্বনির্ধারিত যথাযথ এজেন্ডায় সম্মত হলে তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ত্রিমুখী বৈঠকে বসতেও প্রস্তুত বলে জানান।

 

ইউক্রেন প্রসঙ্গে পুতিন কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে ইউক্রেনীয় লক্ষ্যবস্তুতে রুশ হামলা বন্ধ করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি স্বীকার করেন যে রাশিয়ান তেল শোধনাগারের ওপর ইউক্রেনীয় হামলায় রাশিয়ার জিডিপির প্রায় ১ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে এবং মস্কো এর উপযুক্ত জবাব দিচ্ছে।

 

রাশিয়ার ভেতরে ইউক্রেনের হামলায় পশ্চিমা সমর্থনের সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করার পাশাপাশি পুতিন বলেন, ইউক্রেনকে সরবরাহকারী ইউরোপীয় অস্ত্র কারখানাগুলোতে ‘আগামীকালই’ হামলা চালানোর কোনও পরিকল্পনা মস্কোর নেই। 

 

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
হিজাব পরা বিচারককে দেখে আদালতেই ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান আসামির

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি আদালতে হিজাব পরা এক নারী বিচারককে দেখে এক আসামি ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আদালতে ঘটা এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এদিকে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন আইনজীবীদের একাংশ। তবে অভিযুক্তের বিজেপিপন্থি আইনজীবী ক্ষমা চাইলেও দাবি করেছেন, অনেকেই নাকি সম্ভাষণের সময়ে ‘জয় শ্রীরাম’ বলে থাকেন।   বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।   এদিকে আদালতকক্ষে এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন শিলিগুড়ি বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি।   আদালত সূত্রে জানা যায়, গতকাল এজলাসে নাম ধরে অভিযুক্তদের উপস্থিতি নেওয়ার সময় তাদের মধ্যে একজন ‘জয় শ্রীরাম’ বলে স্লোগান দেন। বিচারকের পোশাক দেখে তিনি ওই মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালতকক্ষেই বিতর্ক তৈরি হয়। পরে আদালতকক্ষেই ক্ষমা চান অভিযুক্তদের আইনজীবী ত্রিদিব সাহা।   এর আগে, ২০১৮ সালের একটি মামলায় গতকাল ২৪ জনতে তলব করা হয়েছিল আদালতে। তাদের মধ্যে ত্রিদিব সাহাও ছিলেন। ২০১৮ সালে একটি ভিনধর্মী বিয়েকে কেন্দ্র করে ওই মামলার সূত্রপাত। সে সময় পুলিশের পক্ষ থেকে ২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।   ওই মামলায় কয়েকজন আগেই জামিন পেয়েছিলেন। পরে বাকি কয়েকজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে হাজির হতে বলা হয়। শুনানির জন্য বাকিদেরও আদালতে ডাকা হয়।   এ সময় আদালতের পক্ষ থেকে নাম ধরে উপস্থিতি নেওয়ার সময় অভিযুক্তদের মধ্যে একজন বিচারকের পোশাক দেখে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দেন।   শিলিগুড়ি বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি উদয়শঙ্কর মালাকার ঘটনাটিকে নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করে বলেন, ‘এটা একেবারেই অনভিপ্রেত। আদালতকক্ষে এ সব কখনোই কাম্য নয়। আদালত চাইলে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলা হতে পারত।’   এ বিষয়ে অল ইন্ডিয়া লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের দার্জিলিং জেলা সম্পাদক দিবাকর রায় বলেন, ‘আদালতকক্ষ ধর্ম-রাজনীতি বা অন্য সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে গিয়ে নিরপেক্ষ বিচারের জায়গা। সেখানে কোনোভাবেই কোনো ধর্মীয় অথবা রাজনৈতিক স্লোগান দেয়া বা মন্তব্য করা যায় না। এই ধরনের ঘটনা কখনোই নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আমরা আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে এই ধরনের কার্যকলাপের তীব্র বিরোধিতা করি এবং নিন্দা জানাই।’   এদিকে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় আদালতকক্ষের প্রোটোকল ভাঙার অভিযোগ তুলেছেন শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতের আইনজীবী এবং পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের সদস্য অলকেশ চক্রবর্তী। অলকেশ বলেন, ‘আদালতকক্ষে সর্বদাই নির্দিষ্ট প্রোটোকল মেনে চলতে হয়। বিচারক কিংবা বিচারপ্রার্থী—কারও পরিধেয় বস্ত্র দেখে কখনও কোনো মন্তব্য করা যায় না। আদালত নিরপেক্ষ বিচারের জায়গা।    এসময় যদি পোশাক দেখে এমন স্লোগান দেওয়া হয়ে থাকে, তা হলে সেটা ভুল নয়, এটা অপরাধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   অপরদিকে ঘটনাটিকে কাকতালীয় বলে মন্তব্য করে আদালতকক্ষেই ক্ষমা চেয়েছেন বিজেপিপন্থি আইনজীবী ত্রিদিব সাহা।    একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ‘বহু মানুষ সম্ভাষণ জানানোর সময় জয় শ্রীরাম, রাধে রাধে বা এই ধরনের বাক্য ব্যবহার করে থাকেন। নাম ধরে ডাকার সময় অভিযুক্তদের মধ্যে একজন না বুঝেই জয় শ্রীরাম বলে ফেলেছেন। যদিও ঘটনার জন্য তৎক্ষণাৎ আমি এবং আমরা ক্ষমা চেয়ে নিয়েছি।’ পাশাপাশি বিচারককে উদ্দেশ্য করে ওই স্লোগান দেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে পুতিনের কঠোর হুঁশিয়ারি

ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপকে ডিজেলের মজুদ ছাড়ার চাপ যুক্তরাষ্ট্রের

ছবি: সংগৃহীত

ভারত যাকে নিহত দাবি করেছে, সেই পাকিস্তানি সেনাকে সাংবাদিকদের সামনে জীবিত হাজির

ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়া থেকে প্রত্যাবাসিতদের নিয়ে মিয়ানমারের জাহাজ নিজেদের জলসীমায়

মিয়ানমারের প্রায় ১৫০০ জন নাগরিককে নৌবাহিনীর একটি জাহাজে করে মালয়েশিয়া থেকে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে তাদের বহনকারী জাহাজ বাণিজ্য নগরী ইয়াঙ্গুনের বন্দরে পৌঁছবে বলে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম জানিয়েছে।   জাতিসংঘ ও মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো সতর্ক করে বলেছে, তুমুল গৃহযুদ্ধের মধ্যে দেশে ফিরে এসে ওই প্রত্যাবাসিতরা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।   গ্লোবাল নিউ লাইট অফ মিয়ানমার সংবাদপত্র শুক্রবার জানিয়েছে, মিয়ানমার নৌবাহিনীর তিনটি জাহাজ মিয়ানমারের ১৪৭৬ জন নাগরিককে নিয়ে বৃহস্পতিবার নিজেদের জলসীমায় প্রবেশ করেছে।   অবৈধভাবে অবস্থান ও অভিবাসন সংক্রান্ত বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে সাজা ভোগ করার পর মালয়েশিয়ার অভিবাসন আটক কেন্দ্রগুলো থেকে মিয়ানমারের এসব নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।   রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম জানিয়েছে, সমুদ্র যাত্রাকালে মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ ও নৌবাহিনীর সদস্যরা প্রত্যাবাসিতদের চিকিৎসা সেবা, খাবার ও পোশাক দিয়েছে। ইয়াঙ্গুনের বন্দরে প্রত্যাবাসিতদের সঙ্গে তাদের পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সাক্ষাৎ করবে। প্রত্যাবাসিতদের পুনর্বাসনের জন্য আরও সাহায্য দেওয়া হবে।   রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম পরিচয় প্রকাশ না করা তিনজন প্রত্যাবাসিতের সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে। তাদের মধ্যে দুইজন জানিয়েছেন, ফেরত পাঠানোর আগে তাদের মালয়েশিয়ার অভিবাসন আটক কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল।   রয়টার্স জানিয়েছে, এই প্রত্যাবাসিতদের মধ্যে মিয়ানমারের মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের কোনো সদস্য আছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি। অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় থাকা মিয়ানমারের পাঁচ হাজার নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে, এই প্রত্যাবাসিতরা তাদের প্রথম দল।   বিবিসি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, মিয়ানমারে ফিরিয়ে দেওয়া হলে এই আশ্রয়প্রার্থীরা চরম সহিংসতা, নিপীড়ন কিংবা জান্তা বাহিনীতে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবায় ঠেলে দেওয়ার চরম ঝুঁকিতে পড়বেন।   মালয়েশিয়া এই পদক্ষেপকে ‘স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তন’ বলে দাবি করছে। তবে বন্দিশালাগুলোতে রাখা এসব মানুষের অবস্থা সরেজমিনে দেখা কিংবা তথ্য যাচাইয়ের জন্য জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থাকে (ইউএনএইচসিআর) কোনও অনুমতি দেয়নি তারা।   ২০২১ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানে নির্বাচিত বেসামরিক সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে মিয়ানমারে অস্থিরতা চলছে। তারপর থেকে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার এ দেশটিতে গৃহযুদ্ধ চলছে।   মিয়ানমারের জান্তা প্রধান থেকে দেশটির প্রেসিডেন্ট হওয়া মিন অং হ্লাইংয়ের চলতি অক্টোবরে মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা রয়েছে। এই দেশ দুটি শরণার্থী ও সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।   মালয়েশিয়ায় শরণার্থীদের বিরুদ্ধে শত্রুতা বৃদ্ধি পেতে থাকায় সম্প্রতি দেশটির সরকার অভিবাসন সংক্রান্ত আইন প্রয়োগ জোরদার করেছে, বিশেষভাবে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে। ২০১৭ সালে সামরিক বাহিনীর দমনপীড়নের মুখে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা দেশ থেকে পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশে আশ্রয় নেয়। তাদের অনেকে মালিয়েশিয়া গিয়েও হাজির হয়েছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০২, ২০২৬
পাকিস্তান ও সৌদি আরবের পতাকা। ছবি: সংগৃহীত

মদিনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার নিন্দা জানাল পাকিস্তান

ছবি: সংগৃহীত

চ্যাটজিপিটিকে বারবার ‘স্যার’ ডেকে ভাইরাল ৭৭ বছরের ভারতীয়

ছবি: সংগৃহীত

বিমান ছিনতাই নিয়ে ইরানি সংবাদমাধ্যমের বিস্ফোরক দাবি, ‘নেতানিয়াহু-বিন জায়েদের ষড়যন্ত্র’

ছবি: সংগৃহীত
হামলার পর মোদির সঙ্গে কথা বললেন সেই পাইলট, জানালেন ভয়াবহ অভিজ্ঞতা

দুবাই থেকে তেল আবিবগামী একটি বিমানে হামলার ঘটনায় আহত ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছাড় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেছেন। প্রায় ১০ মিনিটের ওই আলাপে তিনি হামলার সময় কী ঘটেছিল এবং কীভাবে ককপিটের দরজা খুলেছিলেন, তা জানিয়েছেন।   ভিডিও কলে কথা বলার সময় স্মিতের মাথায় ব্যান্ডেজ দেখা যায়। তাকে কিছুটা ক্লান্ত মনে হলেও তিনি স্বাভাবিকভাবেই কথা বলেন।   মোদির সঙ্গে আলাপকালে স্মিত জানান, হামলার সময় তিনি গুরুতর আহত হয়ে মেঝেতে পড়ে যান। তখন তার মূল চিন্তা ছিল কীভাবে আবার উঠে ককপিটের দরজা খুলবেন।   পাইলট বলেন, হামলার পর তার মনে হচ্ছিল, আরেকবার চেষ্টা করে তাকে দাঁড়াতেই হবে। কারণ ককপিটের দরজা খুলতে না পারলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।   তার ভাষায়, হামলার সময় কো-পাইলটের কাছ থেকেও তিনি আঘাত পাচ্ছিলেন। এরপরও শেষবারের মতো উঠে ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।   স্মিত বলেন, দরজা খোলার পর অন্যরা ককপিটের ভেতরে প্রবেশ করেন। নিজের জীবন রক্ষার পাশাপাশি বিমানে থাকা অন্য যাত্রীদের নিরাপত্তার কথাও তার মাথায় ছিল বলে জানান তিনি।   আঘাত পাওয়ার পর মেঝেতে পড়ে থাকা অবস্থায় বিমানটির গতিবিধি নিয়েও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন স্মিত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় তিনি বুঝতে পারেন বিমানটি খাড়াভাবে নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে।   সেই সংকটময় মুহূর্তে তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র ধর্মীয় পাঠ হনুমান চালিশা পাঠ করছিলেন বলেও মোদিকে জানান।   আলাপের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পাইলটের সাহসিকতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, স্মিতের এই পদক্ষেপ ১৪০ কোটি ভারতীয়কে গর্বিত করেছে।   বিমানে হামলার ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত ও ঘটনার বিস্তারিত কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আরও তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা রয়েছে।   সূত্র: সিএনএন, এনডিটিভি

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হুথিদের ৪ ড্রোন ও ২ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দাবি সৌদি জোটের

ছবি: সংগৃহীত

মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা

ছবি: সংগৃহীত

শান্তিতে নোবেল নিয়ে অনিশ্চয়তা, ট্রাম্পকে ঘিরে বাড়ছে আন্তর্জাতিক আলোচনা

0 Comments