গাজার উদ্দেশে যাত্রা করা আন্তর্জাতিক ত্রাণবাহী নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ আটকের ঘটনায় ইসরায়েলের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে স্পেন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস এ ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের ‘নতুন লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
সোমবার মাদ্রিদে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আলবারেস জানান, ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে নৌবহরে থাকা বেশ কয়েকজন স্প্যানিশ নাগরিক আটক হয়েছেন। তাদের সংখ্যা প্রায় ৪৫ জন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, স্পেন সরকার বিষয়টি মিনিটে মিনিটে পর্যবেক্ষণ করছে এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করছে।
স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ ঘটনাকে অগ্রহণযোগ্য এবং অবৈধ আটক বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, শান্তিপূর্ণ মানবিক মিশনের ওপর এমন অভিযান আন্তর্জাতিক আইন পরিপন্থি।
এর আগে সোমবার আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজাগামী ত্রাণবাহী নৌবহরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০০ জন কর্মীকে আটক করে।
তুরস্কের মারমারিস বন্দর থেকে বৃহস্পতিবার যাত্রা শুরু করা এই বহরে ৫০টির বেশি নৌযান ছিল। গাজায় ২০০৭ সাল থেকে আরোপিত অবরোধ ভেঙে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই ছিল এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
আয়োজকদের তথ্যমতে, এ মিশনে ৪২৬ জন অংশ নেন। তাদের মধ্যে ৯৬ জন ছিলেন তুরস্কের নাগরিক। এছাড়া স্পেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, জার্মানি, ফ্রান্স, পাকিস্তান, মিসর, মরক্কো, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ ৪০টির কাছাকাছি দেশের নাগরিক এতে অংশ নেন।
এর আগেও গত ২৯ এপ্রিল গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছে একই ধরনের একটি ত্রাণবাহী বহরে অভিযান চালিয়ে কর্মীদের ফেরত পাঠায় ইসরায়েলি বাহিনী।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ ‘পারমাণবিক অস্ত্র’ হাতে থাকার মতোই বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপ-চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ। আনাদোলু বার্তা সংস্থার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে। মেদভেদেভের মতে, এ গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাই তেহরানের কৌশলগত সক্ষমতা দেখিয়ে দেয়। ইরানে সফর শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মেদভেদেভ বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় আরও বড় সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে তেহরান বাব আল-মান্দেব প্রণালিতেও জাহাজ চলাচল ঠেকিয়ে দিতে পারে। এমন পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল ও বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন পুরোপুরি থমকে দিতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। মেদভেদেভ বলেন, “আমি আশা করি, পরিস্থিতি এতদূর গড়াবে না। তবে পশ্চিম এশিয়ায় যারা যুদ্ধ ও সংঘাত উসকে দিতে চাইছে, তাদের সবারই এ বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত।” ইরানের ওপর সম্প্রতি চালানো মার্কিন হামলার তীব্র সমালোচনাও করেন মেদভেদেভ। কোনও রকম উস্কানি ছাড়া এ হামলা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলার সময় যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরান কোনও হুমকি তৈরি করেনি। মেদভেদেভ আরও বলেন, এ হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগ দূর করতে রাশিয়া এর আগেই একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সমঝোতা চুক্তির বিষয়ে মেদভেদেভ বলেন, সংঘাতের চেয়ে যে কোনও আলোচনা বা সমঝোতা সব সময়ই শ্রেয়। তবে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন হবে বলে তিনি সতর্ক করেন। বিশেষ করে তেহরানের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের পুনর্গঠনে অর্থায়নের মতো বিষয়গুলোতে একমত হওয়া সহজ হবে না। মেদভেদেভ বলেন, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাধার আওতায় থাকা দেশগুলো যাতে এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে পারে, সেজন্য একটি যৌথ প্ল্যাটফর্ম তৈরির বিষয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে। রাশিয়া এসব নিষেধাজ্ঞাকে অবৈধ বলে আসছে। মেদভেদেভ আরও বলেন, কয়েক বছর আগে ইরানই প্রথম ওই প্রস্তাব দিয়েছিল। নিষেধাজ্ঞাকবলিত দেশগুলোকে নিয়ে এটি একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি বা সংস্থায় রূপ নিতে পারে। ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজার আনুষ্ঠানিকতার ফাঁকে গত শুক্রবার তেহরানে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন মেদভেদেভ। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত হিসেবে শোক জানাতে তিনি ইরান সফরে যান।
ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তুরস্ক সফরকে ঘিরে নতুন করে আশাবাদী আঙ্কারা। বিশ্লেষকদের ধারণা, এ সফরের মাধ্যমে তুরস্কের নিজস্ব কেএএএন স্টেলথ যুদ্ধবিমান প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় এফ-১১০ যুদ্ধবিমান ইঞ্জিন সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন মিলতে পারে। বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। ৭ ও ৮ জুলাই তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নেবেন ট্রাম্প। এর আগে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানকে তিনি ‘খুব খুশি’ করবেন। এরপর থেকেই ইঞ্জিন সরবরাহের বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির আশা করছেন তুর্কি কর্মকর্তারা। বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্ককে প্রায় ৪০টি এফ-১১০ ইঞ্জিন সরবরাহের অনুমতি দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এসব ইঞ্জিন দিয়ে কেএএএন যুদ্ধবিমানের আরও প্রোটোটাইপ ও পরীক্ষামূলক বিমান তৈরি করা সম্ভব হবে। বর্তমানে তুরস্ক দুটি কেএএএন প্রোটোটাইপে এই ইঞ্জিন ব্যবহার করছে। কেএএএন হলো তুরস্কের নিজস্বভাবে তৈরি পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান, যা ভবিষ্যতে দেশটির বিমানবাহিনীর এফ-১৬ বহরের বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও দীর্ঘমেয়াদে এতে দেশীয় ইঞ্জিন ব্যবহারের লক্ষ্য রয়েছে, তবে সেই প্রকল্প এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। উল্লেখ্য, এফ-১১০ ইঞ্জিন সরবরাহে অগ্রগতি হলেও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতে তুরস্কের পুনরায় অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা এখনই কম। কারণ, রাশিয়ার এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার জেরে যুক্তরাষ্ট্র ২০১৯ সালে তুরস্ককে এফ-৩৫ প্রকল্প থেকে বাদ দেয় এবং পরবর্তীতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সেই বিরোধ এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩ হাজারে পৌঁছেছে। সর্বশেষ সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৫৪ জনে। এখনও কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ২৪ জুন আঘাত হানা ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুই ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাসের উত্তরের উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চল। সেখানে বহু আবাসিক ভবন ধসে পড়েছে এবং হাজারো মানুষ গৃহহীন হয়ে আশ্রয়কেন্দ্র ও খোলা জায়গায় অবস্থান করছেন। ভূমিকম্পের ১০ দিন পর আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো জীবিতদের খোঁজে অভিযান গুটিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে। দুর্যোগে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা সাধারণত প্রথম ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই সবচেয়ে বেশি থাকলেও চলতি সপ্তাহেও কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলোর সম্মানে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। তিনি বলেন, দেশ এখনও গভীর শোকের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং অনেক পরিবার প্রিয়জনদের খুঁজে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এদিকে, দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের ধীর প্রতিক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা করেছেন অনেক বাসিন্দা। তাদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত স্বজনদের উদ্ধারে তাদের নিজেদেরই ধ্বংসস্তূপে খোঁজ চালাতে হয়েছে। তবে সরকার দাবি করেছে, উদ্ধার ও ত্রাণকাজে হাজারো সেনা সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তাকে মোতায়েন করা হয়েছে।