আন্তর্জাতিক

নাইজেরিয়ায় নামাজের সময় মসজিদে হামলা : নিহত ৭

মো: দেলোয়ার হোসাইন ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ায় জনাকীর্ণ একটি মসজিদে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বর্নো প্রদেশে সন্ধ্যায় নামাজের সময় হওয়া এই হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশের মুখপাত্র নাহুম দাসো। এ ঘটনায় আরও ৩৫ জন আহত হয়েছেন। 

 

কর্তৃপক্ষ বলছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখনো কেউ হামলার দায় স্বীকার করেনি। খবর বিবিসির।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্নোর রাজধানী মাইদুগুরির গাম্বোরু মার্কেট এলাকার একটি মসজিদে সন্ধ্যায় নামাজের সময় ঘটনাটি ঘটে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে বিস্ফোরণের পরের দৃশ্য উঠে এসেছে। সেখানে দেখা গেছে— মার্কেট এলাকায় ধুলা উড়ছে, মানুষজন আতঙ্কে ছুটোছুটি করছে। এ হামলার দায় এখনও কোনও পক্ষ স্বীকার করেনি। তবে এর আগেও এ অঞ্চলে মসজিদ ও জনাকীর্ণ স্থানে আত্মঘাতী হামলা এবং আইইডি বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী।

মাইদুগুরি দীর্ঘদিন ধরেই জঙ্গি সংগঠন বোকো হারাম ও তাদের সহযোগী আইএস পশ্চিম আফ্রিকা প্রদেশের তৎপরতার কেন্দ্রে রয়েছে। বর্নোতে ইসলামি খিলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে বোকো হারামের সশস্ত্র অভিযান শুরু হয় ২০০৯ সালে। বছরের পর বছর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হলেও উত্তর-পূর্ব নাইজেরিয়ায় এখনও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে সহিংস হামলা ঘটে।

অন্যদিকে আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুলিশ মুখপাত্র নাহুম দাসো বলেন, মাইদুগুরির গাম্বোরু মার্কেট এলাকার ওই মসজিদে বিস্ফোরণের পরপরই বোমা নিষ্ক্রিয়কারী একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে শুরুতে সরকারিভাবে হতাহতের কোনো সংখ্যা জানানো হয়নি।

মসজিদের ইমাম মাওলানা আবুনা ইউসুফ এএফপিকে জানান, অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে বাবাকুরা কলো নামে এক মিলিশিয়া নেতা বলেন, নিহতের সংখ্যা সাত। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মুসা ইউশাউ জানান, তিনি বহু আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে দেখেছেন।

বিস্ফোরণের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে যে শহরে এই হামলার ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি প্রায় দুই দশক ধরে বোকো হারাম ও আইএস–সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতার কেন্দ্রে ছিল। জাতিসংঘের হিসেবে, ২০০৯ সাল থেকে চলমান এই সংঘাতে অন্তত ৪০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং প্রায় ২০ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। সহিংসতা কমলেও তা ছড়িয়ে পড়েছে পার্শ্ববর্তী নাইজার, চাদ ও ক্যামেরুনেও।

এছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় আবারও সহিংসতা বাড়ার আভাসে সম্প্রতি উদ্বেগ বাড়ছে। দীর্ঘ সামরিক অভিযানের পরও এসব গোষ্ঠী প্রাণঘাতী হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে।

 

একসময় প্রতিদিন রাতেই যেখানে গোলাগুলি ও বোমা হামলার খবর পাওয়া যেত, সেই মাইদুগুরি শহর গত কয়েক বছরে তুলনামূলক শান্ত ছিল। ২০২১ সালের পর থেকে এটাই সেখানে সবচেয়ে বড় হামলা হিসেবে ধরা হচ্ছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
রুপার অলংকার। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ববাজারে ঊর্ধ্বমুখী রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। শুক্রবার রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।   জিএমটি সময় অনুযায়ী, স্পট সিলভারের দাম ৩.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৩.৪৮ ডলারে পৌঁছেছে।   এদিকে, প্লাটিনামের দাম ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ১,৭৫৫.৯০ ডলারে লেনদেন হয়েছে। একই সময়ে প্যালাডিয়ামের দাম ০.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১,৩৭৪.৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।   বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে মূল্যবান ধাতুগুলোর দাম বাড়ছে। ফলে সপ্তাহজুড়েই রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়াম তিনটি ধাতুই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির পথে রয়েছে।   এদিকে জিএমটি সময় ০৬:৩৫ পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ১.১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,২৮৫.৮৯ ডলারে পৌঁছায়। এর আগে বৃহস্পতিবার স্বর্ণের দাম সাত সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে। সপ্তাহজুড়ে এ পর্যন্ত স্বর্ণের দাম প্রায় ৬ শতাংশ বেড়েছে।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার্সের দামও ১.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪,৩৪৪.৯০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ইতিবাচক সংকেত ইরানের

সংগৃহীত ছবি

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মাঝে রিয়াদে এরদোগান-সালমান-শাহবাজ বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত

নেতানিয়াহুর ফোনে মোদির সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা

ছবি: সংগৃহীত
দুই দশক আগে যে কিশোরের লিভারে বেঁচেছিলেন, এবার তার ভাইকেই বিয়ে করছেন তরুণী

যুক্তরাষ্ট্রে এক হৃদয়ছোঁয়া ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে দুটি পরিবার। প্রায় দুই দশক আগে যে কিশোরের দান করা লিভারে নতুন জীবন পেয়েছিলেন ব্রুকলিন ডোস্টন, এবার তিনি বিয়ে করতে যাচ্ছেন সেই কিশোরের ছোট ভাই নোহা ডোটোনকে।   ঘটনার শুরু ২০০৩ সালে। তখন কেন্টাকির বাসিন্দা ব্রুকলিন ছিলেন শিশু। তার লিভারে জটিল রোগ ধরা পড়ে এবং চিকিৎসকরা জানান, দ্রুত লিভার প্রতিস্থাপন না করলে তার বাঁচার সম্ভাবনা খুবই কম।   এ সময় ব্রুকলিনের মা মরিয়া হয়ে ডোনার খুঁজতে থাকেন।   ঠিক তখনই ওহিওতে ঘটে মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনা। ১০ বছর বয়সী মাইকেল ডোটোন গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যায়। শোকের মধ্যেও তার বাবা-মা মানবিক সিদ্ধান্ত নিয়ে মাইকেলের অঙ্গ দান করতে সম্মত হন।   পরবর্তীতে মাইকেলের লিভার প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে ব্রুকলিন নতুন জীবন ফিরে পান।   এই ঘটনার পর থেকেই দুই পরিবারের মধ্যে গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বছরের পর বছর সেই যোগাযোগ বজায় থাকে। একসময় মাইকেলের ছোট ভাই নোহা ডোটোন ও ব্রুকলিনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়, যা পরে প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়।   নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর তাদের বিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।   নোহা এ প্রসঙ্গে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় বলেন,   ‘আমি কখনো ভাবিনি, ২০ বছর আগে আমার বড় ভাই যে শিশুটির জীবন বাঁচিয়েছিল, সেই মেয়েটিই একদিন আমার স্ত্রী হবে।’   মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনা থেকে শুরু হওয়া এই গল্প এখন পরিণতি পাচ্ছে ভালোবাসা ও জীবনের নতুন অধ্যায়ে।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হুথি হামলায় ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর ৩০ সদস্য নিহত

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে টানা চতুর্থ দিনের মতো ঊর্ধ্বমুখী স্বর্ণের দাম

সংগৃহীত ছবি

ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ কমার খবর নাকচ করল যুক্তরাষ্ট্র

গত ১ মে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ। ছবি: সংগৃহীত
স্বস্তির বার্তা, হরমুজ প্রণালি খুলতে চুক্তির পথে অগ্রগতি

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি আবারও খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ইরান জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলপথটি নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চলতি সপ্তাহেই এ বিষয়ে একটি চুক্তি ঘোষণা করা হতে পারে।   বুধবার (৫ আগস্ট) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ওমানের সঙ্গে চুক্তির খসড়া তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। কোনো পক্ষ এ প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি না করলে শিগগিরই একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হতে পারে। তবে তিনি কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, তার মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ভূমিকার ইঙ্গিত রয়েছে।   তবে চুক্তি বাস্তবায়নের পথে এখনও বেশ কিছু জটিলতা রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তিটি প্রায় চূড়ান্ত হলেও এটি কার্যকর করতে এক পক্ষ বা উভয় পক্ষকেই কিছু বিষয়ে ছাড় দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, ইরানের বিভিন্ন বন্দরের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহারের বিষয়টি চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   এর আগে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের কর্তৃত্ব আরও জোরদার হয়, এমন কোনো শর্ত ট্রাম্প প্রশাসন প্রত্যাখ্যান করেছিল। ওয়াশিংটনের মতে, এ ধরনের শর্ত আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্যও ইতিবাচক নয়।    অন্যদিকে, তেহরান বলছে, হরমুজের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ অটুট থাকবে। তারা বলছে, যুদ্ধের আগের মতো এটি পুরোপুরি উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে পরিচালিত হবে না।   নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা জানান, ইরান ও ওমানের আলোচকরা প্রণালিটি পুনরায় চালুর লক্ষ্যে খসড়া চুক্তিটি চূড়ান্ত করেছেন। এখন এটি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনেইয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।   আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তিটি হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান বিরোধের একটি অস্থায়ী সমাধানের পথ খুলে দেবে। তাদের দাবি, এটি গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতার ধারাবাহিক কার্যক্রম। ওই সমঝোতার লক্ষ্য ছিল, যুদ্ধ বন্ধ এবং প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করা। তবে সেটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমান চুক্তি কার্যকর হলে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের স্থগিত আলোচনা আবারও শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।   এদিকে, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চুক্তির বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘এটা হতে পারে। হয়তো আগামীকাল বা পরশু। এ বিষয়ে অনেক অগ্রগতি হয়েছে।’   প্রসঙ্গত, হরমুজ প্রণালি-সংক্রান্ত এই চুক্তি প্রক্রিয়ায় ওমান প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। ভৌগোলিকভাবে প্রণালির আন্তর্জাতিক নৌপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ওমানের জলসীমায় অবস্থিত। ফলে এ জলপথকে ঘিরে যেকোনো সমঝোতা বা সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টায় দেশটি সরাসরি সম্পৃক্ত। সূত্র: এপি

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৬, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

বিদেশি কর্মীদের ১৫ হাজার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী

রুখসার আহমেদে

যুক্তরাজ্যে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন পাকিস্তানের সাবেক মন্ত্রী

সংগৃহীত: ছবি

ইমরান খানের মুক্তি চেয়ে রাজপথে বিক্ষোভ

0 Comments