প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আমরা কেউই চিরস্থায়ী নই; তবে নতুন প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণা অপরিহার্য। তারা যেন জানে এই দেশ কোথা থেকে এসেছে, কীভাবে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে টিকে থাকতে হবে।
রোববার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি। বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অতীতের ভুল যেন কেউ পুনরায় করতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সচেতন ও শক্ত থাকতে হবে। দেশের স্থায়ী মঙ্গলের জন্য সম্পদ ও উদ্যোগকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে কাজে লাগাতে হবে। সরকার যেমন দায়িত্ব পালন করছে, তেমনি নাগরিক হিসেবেও সবার দায়িত্ব রয়েছে।
বৈঠকে বীর মুক্তিযোদ্ধারা প্রধান উপদেষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকারের উদ্যোগের ফলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে বাস্তব পরিবর্তন এসেছে। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করা হয়েছে, কল্যাণ ট্রাস্টের সম্পদ যাচাই করা হচ্ছে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পৌঁছে দিতে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধারা জানান, জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হলে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সুযোগ থাকবে না। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে দেশ এগিয়ে যাবে, আর ‘না’ জয়ী হলে তা দেশের জন্য দুর্ভাগ্যজনক হবে।
ক্যাপ্টেন (অব.) নুরুল হুদা বলেন, বাকস্বাধীনতা দীর্ঘদিন সীমিত ছিল; বর্তমান সময়ে মানুষ আবার কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে এবং নিজেদের উপযুক্ত নেতৃত্ব খুঁজে নিচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের সংজ্ঞা নিয়ে যে বিভ্রান্তি ছিল, তা দূর করতে সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ইতিহাস সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া একটি পবিত্র কাজ। এই দায়িত্ব পালন করতে পারা গর্বের বিষয়। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ধরে রাখা এবং তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করাই আমাদের মূল দায়িত্ব।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
দেশীয় স্পিনিং শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগাতে ১০ থেকে ৩০ কাউন্ট কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন খাতটির শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। পাশাপাশি শিল্পকারখানায় বর্তমান গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রাখা এবং রিসাইকেল ও টেকসই পণ্য উৎপাদনে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ প্রণোদনার দাবিও জানানো হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্পিনিং খাতে কর্মরতদের পক্ষ থেকে এসব দাবি তুলে ধরেন সালমা গ্রুপের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) আজহার আলী। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ৭ সেপ্টেম্বরের আদেশ অনুযায়ী এইচএস হেডিং ৫২০৫, ৫২০৬ ও ৫২০৭-এর আওতাভুক্ত ১০ থেকে ৩০ কাউন্ট কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী প্রকৃত রপ্তানিকারকদের ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে সুতা আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে। আজহার আলী বলেন, এ সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে প্রকৃত রপ্তানিকারকদের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানির সুযোগও থাকবে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুতার ব্যবহার বাড়লে বন্ধ ও আংশিক বন্ধ থাকা স্পিনিং মিলগুলো পুনরায় চালুর সম্ভাবনা তৈরি হবে এবং কর্মসংস্থানও বাড়তে পারে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশে বর্তমানে প্রায় ৫৩০টি স্পিনিং মিল রয়েছে। এসব কারখানায় মোট স্পিন্ডল সক্ষমতা প্রায় ১৮ কোটি ২১ লাখ এবং বছরে সুতা উৎপাদনের স্থাপিত সক্ষমতা কমপক্ষে ৪২০ কোটি কেজি। ২০১৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন কারণে ১১৭টি স্পিনিং মিল পুরোপুরি বা আংশিকভাবে বন্ধ হয়েছে। বর্তমানে ৪১৩টি মিল পূর্ণ বা আংশিক উৎপাদনে রয়েছে। চালু থাকা মিলগুলোতে বছরে ১০ থেকে ৩০ কাউন্ট কটন সুতা উৎপাদনের সক্ষমতা প্রায় ১৩০ কোটি কেজি। বিপরীতে এনবিআরের আসাইকুডা তথ্যের বরাত দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে এ ধরনের সুতা আমদানির পরিমাণ ছিল ২১ কোটি ৬০ লাখ কেজি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে প্রায় ৪৬ কোটি কেজিতে পৌঁছেছে। দুই অর্থবছরের ব্যবধানে আমদানি প্রায় ১১৩ শতাংশ বেড়েছে বলে দাবি করা হয়। বক্তারা বলেন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুতা ব্যবহারের পরিমাণ বাড়লে টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক শিল্পে দেশীয় মূল্য সংযোজন বাড়বে। একই সঙ্গে আমদানিনির্ভরতা কমার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয়ও কমতে পারে। বন্ড সুবিধার আওতায় আমদানি করা সুতা স্থানীয় বাজারে অবৈধভাবে বিক্রির প্রবণতাও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে তারা মনে করেন। ব্যাংক গ্যারান্টি অবমুক্ত করার ক্ষেত্রে রপ্তানি আয় দেশে ফেরত আনার শর্ত থাকায় বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে জবাবদিহিতা বাড়বে বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। এ সময় সাম্প্রতিক তথ্যের বরাত দিয়ে প্রায় ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় দেশে প্রত্যাবাসিত না হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন বক্তারা। শিল্পে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তারা। আজহার আলী বলেন, একটি স্পিনিং কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ শুধু উৎপাদনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; এর সঙ্গে শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মসংস্থান এবং তাদের পরিবারের জীবিকাও জড়িত। তিনি জানান, প্রাইমারি টেক্সটাইল খাতে প্রায় ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ রয়েছে এবং সরাসরি প্রায় ৩০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। পরোক্ষভাবে এ খাতের ওপর প্রায় এক কোটি মানুষ নির্ভরশীল বলে দাবি করা হয়। সংবাদ সম্মেলন থেকে সরকারের কাছে চারটি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—১০ থেকে ৩০ কাউন্ট কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার এবং প্রকৃত রপ্তানিকারকদের ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে আমদানির সুযোগসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বহাল রাখা; শিল্পে বর্তমান গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি বজায় রাখা; শিল্প, ব্যাংকিং, কর্মসংস্থান ও রপ্তানির দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে সমন্বিত টেক্সটাইল-আরএমজি নীতি গ্রহণ; এবং রিসাইকেল ও টেকসই পণ্য উৎপাদনে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া। আজহার আলী বলেন, তাদের দাবি কোনো বিশেষ সুবিধা পাওয়ার জন্য নয়; বরং ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার বন্ধ করা, স্থিতিশীল নীতি বজায় রাখা এবং প্রকৃত রপ্তানিকারকদের আমদানি সুবিধা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। দেশীয় স্পিনিং শিল্প সচল থাকলে কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং রপ্তানি সক্ষমতার ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। এ সময় স্পিনিং খাতে কর্মরত বিভিন্ন শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও হাটবাজারের ছাদ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এজন্য প্রাথমিকভাবে ৩৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এসব তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এলজিইডি সদর দপ্তর, সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীদের কার্যালয়, ওয়াসা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলসহ স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন হাটবাজার ও গ্রোথ সেন্টারকেও এই কর্মসূচির আওতায় আনা হচ্ছে। তিনি জানান, দেশের মোট ৬ হাজার ৫৪৪টি প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য এডিবির বরাদ্দ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে অর্থ ছাড় করা হয়েছে। বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে পৃথকভাবে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী ২৭ জানুয়ারির মধ্যে কর্মসূচির বাস্তবায়ন শেষ করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে মোট ৩৭০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। সৌর প্যানেল স্থাপনের ব্যয় প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে একটি প্রাথমিক হিসাব নির্ধারণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী ৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে আনুমানিক ৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। এই হিসাবের ভিত্তিতে দেশের প্রায় সাড়ে তিন হাজার ইউনিয়ন পরিষদের ভবনেও সৌর প্যানেল স্থাপনের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। হাটবাজারগুলোর ক্ষেত্রেও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, উপজেলা উন্নয়ন তহবিল থেকে হাটবাজার উন্নয়নের জন্য নির্ধারিত অর্থের একটি অংশ ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট হাটের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর অব্যবহৃত ছাদ কাজে লাগিয়ে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সরকারের লক্ষ্য। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নিজেদের কাজে ব্যবহার করবে। অতিরিক্ত প্রায় ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে আয় করা গেলে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ব্যয় করা অর্থ প্রায় ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে উঠে আসতে পারে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর এবার যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে অভ্যন্তরীণ নৌপথে যাত্রী পরিবহনকারী লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাপ) সংস্থা। সংগঠনটির দাবি, প্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা ৫০ পয়সা ভাড়া বাড়ানো হলে দূরত্বভেদে যাত্রীভাড়া ৫১ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নৌপরিবহন, রেলপথ ও সেতু বিভাগ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে দেওয়া এক চিঠিতে এ দাবি জানানো হয়। সংগঠনের প্রেসিডেন্ট গোলাম নবী আলমগীর চিঠিতে স্বাক্ষর করেন। চিঠিতে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বের ক্ষেত্রে বর্তমান কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ২ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ৪৫ পয়সা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আর ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে বর্তমান ২ টাকা ৫২ পয়সার পরিবর্তে ৪ টাকা ২ পয়সা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি যাত্রীপ্রতি সর্বনিম্ন ভাড়া ৩৫ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। লঞ্চ মালিকদের দাবি, গত ২১ সেপ্টেম্বর ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা থেকে ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। এতে জ্বালানি ব্যয় প্রায় ১৮ শতাংশ বেড়েছে। অভ্যন্তরীণ নৌপথে চলাচলকারী লঞ্চগুলো মূলত ডিজেল ও মবিলনির্ভর হওয়ায় জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে পরিচালন ব্যয়ে। শুধু জ্বালানি নয়, নৌযান পরিচালনার অন্যান্য খরচও বেড়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। লঞ্চ মালিকদের ভাষ্য, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বিভিন্ন ফি ও চার্জও সম্প্রতি বেড়েছে। এর মধ্যে কনজারভেন্সি চার্জ ৩০ শতাংশ, রুট পারমিট ফি ৫০ শতাংশ এবং বার্দিং চার্জ ১১৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। রুট পারমিটের আবেদন ফিও ৬০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া বিশেষ অনুমতি, স্থগিত রুট পারমিট পুনর্বহাল এবং মালিকানা, নাম বা রেজিস্ট্রেশন পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও নতুন করে বিভিন্ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন লঞ্চ মালিকরা। চিঠিতে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, ডিজি শিপিংয়ের সার্ভে ও রেজিস্ট্রেশন ফি, নাম পরিবর্তন ফি, আয়কর ও ভ্যাটসহ বিভিন্ন ব্যয় বাড়ার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। লঞ্চ মালিকদের দাবি, নৌযান নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যবহৃত প্লেট, অ্যাঙ্গেল, প্রপেলার, ইঞ্জিনের খুচরা যন্ত্রাংশ, ওয়েল্ডিং রড, গ্যাস, রং ও অন্যান্য স্পেয়ার পার্টসের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ডকিংসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। এর সঙ্গে যাত্রী সংকটও লঞ্চ ব্যবসায় চাপ তৈরি করছে বলে দাবি সংগঠনটির। তাদের ভাষ্য, সারাদেশে সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি হওয়ায় অনেক যাত্রী এখন সড়কপথে চলাচল করছেন। ফলে লঞ্চগুলো ধারণক্ষমতা অনুযায়ী যাত্রী পাচ্ছে না। এতে আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রতি কিলোমিটারে ৪ টাকা ৪৫ পয়সা এবং ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে ৪ টাকা ২ পয়সা ভাড়া নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে লঞ্চ মালিকদের সংগঠন। একই সঙ্গে সর্বনিম্ন যাত্রীভাড়া ৩৫ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, প্রস্তাবিত ভাড়া কার্যকর করা না হলে বর্ধিত ডিজেলের দাম প্রত্যাহার করতে হবে। এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে সরকার সম্প্রতি সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। নতুন দামে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বেড়ে ১৩৫ টাকা হয়েছে। একইভাবে অকটেনের দাম ১৬০ টাকা এবং পেট্রোলের দাম ১৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।