জাতীয়

মোবাইল কলরেট নিয়ে সুখবর দিল বিটিআরসি

মারিয়া রহমান আগস্ট ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

গ্রাহকদের কথা বিবেচনায় মোবাইল ফোনে ভয়েস কলের সর্বনিম্ন সীমা বা ফ্লোর প্রাইস কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। বর্তমানে প্রতি মিনিটে ৪৫ পয়সা থাকা সর্বনিম্ন কলরেট আরও কমানোর বিষয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন কমিশনের সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহজাদ পারভেজ মহিউদ্দিন।


অনলাইনে অনুষ্ঠিত বিটিআরসির গণশুনানিতে বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে জামালপুরের এক গ্রাহকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।


ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহজাদ পারভেজ মহিউদ্দিন বলেন, বর্তমানে মোবাইলে কথা বলার সর্বনিম্ন সীমা বা ফ্লোর প্রাইস প্রতি মিনিটে ৪৫ পয়সা এবং সর্বোচ্চ দুই টাকা নির্ধারিত রয়েছে। সর্বনিম্ন কলরেট আরও কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে কাজ চলমান রয়েছে।


গণশুনানিতে তিনি জানান, গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ১১ মাসে সেবার মানসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিটিআরসিতে ১৩ হাজার ৯টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে হেল্পলাইনের মাধ্যমে পাঁচ হাজার ৫১টি এবং ওয়েববক্সের মাধ্যমে সাত হাজার ৯৫৮টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের মধ্যে ৮৬ দশমিক ৭০ শতাংশ, অর্থাৎ ১১ হাজার ২৭৯টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে।


তবে অভিযোগ নিষ্পত্তির বর্তমান হার নিয়ে সন্তুষ্ট নয় বিটিআরসি।দ্রুত ও কার্যকরভাবে গ্রাহকদের শতভাগ অভিযোগ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

 
এবারের গণশুনানিতে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ ও প্রশ্ন এসেছে ট্যারিফ, ডাটার মেয়াদ, ডাটা ক্যারি ফরওয়ার্ড, নেটওয়ার্ক কাভারেজ, সিম নিবন্ধন, মোবাইল ফোন রেজিস্ট্রেশন, এনইআইআর ও সেবার মান নিয়ে।


বিটিআরসি জানায়, গণশুনানিতে অংশ নিতে গত ১৭ থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত অনলাইনে দুই হাজার ৯৯০ জন গ্রাহক নিবন্ধন করেন। তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন পেশাজীবী ছিলেন এক হাজার ৪৭ জন, শিক্ষার্থী ৬৩৮ জন এবং নারী গ্রাহক ১৭২ জন।


গণশুনানিতে কমিশনের প্রশাসন বিভাগের মহাপরিচালক মো. মেহেদী উল সহিদ, স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আমিনুল হক, লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং বিভাগের মহাপরিচালক আশীষ কুমার কুন্ডুসহ বিটিআরসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সংগৃহীত ছবি
সরকারি কর্মচারীদের নতুন মূল বেতন কার্যকর হলেও ভাতার নিয়ম অপরিবর্তিত

চলতি অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গে নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো অনুযায়ী বর্ধিত মূল বেতন পেতে পারেন সরকারি চাকরিজীবীরা। এ জন্য বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।     তবে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলেও আপাতত প্রচলিত নিয়মেই বহাল থাকবে বিভিন্ন ধরনের ভাতা। সোমবার (১৯ অক্টোবর) অর্থ বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে সরকারি মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, দপ্তর, সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ভাতা প্রদানের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।     প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের নতুন বেতন ও ভাতাদি আদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত মূল বেতন পুরোপুরি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত প্রচলিত মূল বেতনের ভিত্তিতে আগের হারেই ভাতা দেওয়া হবে। এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর নতুন বেতন ও ভাতাদি আদেশের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে সরকার।     সে সময় নতুন কাঠামো অনুযায়ী ভাতা কার্যকরের বিষয়টি পরবর্তী সময়ে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছিল। নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোয় সরকারি কর্মচারীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। অন্যদিকে সর্বোচ্চ মূল বেতন হবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। গত ১ জুলাই থেকে নতুন কাঠামো কার্যকরের ঘোষণা দেওয়া হলেও বেতন ও ভাতার সব সুবিধা একসঙ্গে চালু করা হচ্ছে না।     কয়েকটি ধাপে এর বাস্তবায়ন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।   পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত, দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত এবং তৃতীয় ধাপে একই বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন কাঠামোর মূল বেতন কার্যকর করা হবে। অন্যদিকে, সংশোধিত কাঠামো অনুযায়ী ভাতা কার্যকরের নির্ধারিত সময় ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি।       এদিকে নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের কার্যক্রমও চলছে। এ লক্ষ্যে গত ৫ অক্টোবর থেকে সরকারি আইবাস++ ব্যবস্থার ‘পে ফিক্সেশন’ অপশনে প্রয়োজনীয় তথ্য দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা।     মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এ কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।   সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের বেতন পরিশোধের সময় সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতনে বাড়তি অর্থ যুক্ত হতে পারে। এ জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে নতুন কাঠামো অনুযায়ী ভাতা কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত কর্মচারীরা আগের নিয়মেই ভাতা পাবেন।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২০, ২০২৬
প্রতীকী ছবি

বায়োমেট্রিক তথ্য না দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে এনআইডি আবেদন

ছবি : পিএমও

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের অধিকার সমান : প্রধানমন্ত্রী

ছবি : পিএমও

সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ দিয়ে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা: তারেক রহমান

তথ্যমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে ভোলায় বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পেল ২২ হাজার মানুষ

অর্থাভাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা থেকে বঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ভোলার সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।    গত দুই মাসে পাঁচ ধাপে পরিচালিত কর্মসূচিতে এ পর্যন্ত প্রায় ২২ হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থের তত্ত্বাবধানে এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে।   কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় আজ ভোলা সদর উপজেলার ৮ নম্বর আলীনগর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত চলা এ ক্যাম্পে ১ হাজারের বেশি নারী, পুরুষ ও শিশুকে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ নুর নবী।   বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে চোখের আলো রেটিনা গ্লুকোমা হাসপাতাল অ্যান্ড ফ্যাকো সেন্টার। চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. মো. শাকিবের পরিচালনায় অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল রোগীদের চোখ পরীক্ষা, চিকিৎসা পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করছে।   অধ্যাপক মোহাম্মদ নুর নবী জানান, ভোলা সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে পাঁচ ধাপে এ চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। ঢাকা থেকে আসা ৯ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এ কর্মসূচিতে নিয়মিত সেবা দিচ্ছেন। বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পেয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ২২ হাজার মানুষ উপকৃত হয়েছেন।   চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীরা জানান, অর্থ ব্যয় ছাড়াই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়ায় তাদের চিকিৎসার ব্যয়ভার কমছে। বিশেষ করে আর্থিক সংকটের কারণে যারা নিয়মিত চিকিৎসা নিতে পারেন না, তাদের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ বেশ সহায়ক হচ্ছে। তারা এ কর্মসূচির জন্য তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থকে ধন্যবাদ জানান।   আয়োজক কমিটির সদস্য ও বিজেপির ভোলা জেলা সভাপতি আমিরুল ইসলাম রতন বাসস-কে বলেন, অর্থাভাবে অনেক মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার পরও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে পারেন না। এসব মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়াই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।   তিনি বলেন, ভোলা সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে পাঁচ ধাপে পরিচালিত এ কার্যক্রমে প্রায় ২২ হাজার মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পেয়েছেন। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এ মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ২০, ২০২৬

ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৩৬৬ জন

ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর ঘিরে পুনর্বহালের দাবিতে চাকরিচ্যুত ব্যাংকারদের অবস্থান

ছবি: সংগৃহীত

সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ দিয়ে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে: তারেক রহমান

ছবি: সংগৃহীত
আলুর বাজারে ধস, কেজিতে ১৪–১৬ টাকা লোকসানের শঙ্কায় কৃষক

রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলে আলুর বাম্পার ফলন এবার কৃষকদের জন্য আশীর্বাদের বদলে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হিমাগারে সংরক্ষিত আলুর দাম কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না অনেক চাষি। বর্তমানে রংপুরে হিমাগার গেটে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১১ থেকে ১৪ টাকায়। অথচ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজিতে লোকসানের আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।   রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার রানীপুকুর ইউনিয়নের কৃষক আতাউর রহমান এবার ৪৯ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। উৎপাদিত আলুর মধ্যে ৬১ কেজি ধারণক্ষমতার ৫ হাজার ২০০ বস্তা হিমাগারে রেখেছিলেন তিনি। এর মধ্যে ৩ হাজার ১৪২ বস্তা আলু বিক্রি করে পেয়েছেন ১৪ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। কিছুদিন আগে প্রায় ২৫০ বস্তা আলু প্রতি কেজি ১৫ টাকা দরেও বিক্রি করেন।   আতাউর রহমানের হিসাব অনুযায়ী, হিমাগার থেকে আলু তোলাসহ খরচ হয়েছে কেজিপ্রতি প্রায় ৭ টাকা। বর্তমানে বাজারে দাম কমে ১১ থেকে ১৪ টাকায় নেমে আসায় অবশিষ্ট আলু বিক্রি করে কতটা খরচ উঠবে, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন তিনি।   আতাউর রহমান বলেন, লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচ কতটা তুলতে পারবেন, সেটিই এখন বড় চিন্তা। গত বছর ৬৯ বিঘা জমিতে আলু চাষে প্রায় ৫৭ লাখ টাকা খরচ করেও সেই অর্থ তুলতে পারেননি। এবারও একই পরিস্থিতির আশঙ্কায় পড়েছেন তিনি।   শুধু আতাউর রহমান নন, হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করা অনেক কৃষক ও ব্যবসায়ী একই সংকটে রয়েছেন। কম দামে আলু বিক্রি করলে লোকসান বাড়বে—এমন আশঙ্কায় অনেকে আপাতত আলু তোলা বন্ধ রেখেছেন।   উৎপাদন বেশি, সংরক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় সংকট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রংপুর বিভাগের আট জেলায় ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬১৬ হেক্টর জমিতে ৫১ লাখ ৭৬ হাজার ৬৮৭ টন আলু উৎপাদিত হয়েছে। এর বিপরীতে ১২৪টি হিমাগারে সংরক্ষণ করা হয়েছে ১১ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯২ টন আলু, যা মোট উৎপাদনের প্রায় ২৩ দশমিক ১ শতাংশ। প্রতিবেদনে দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, সংরক্ষিত আলুর বড় একটি অংশ এখনো হিমাগারে মজুত রয়েছে। এদিকে নতুন মৌসুমের আলু চাষও শুরু হয়েছে। ফলে পুরোনো আলুর মজুত, সীমিত সংরক্ষণ সুবিধা এবং বাজারে কম দাম—এই তিন সংকটে পড়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে আলু উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ ৮৫ হাজার টন। সরকারি-বেসরকারি হিমাগার ও অ-হিমায়িত মডেল ঘরে সংরক্ষণ করা হয়েছে প্রায় ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টন আলু। অন্যদিকে বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, তাদের হিমাগারগুলোতে ৩৩ লাখ টনের বেশি আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে এখনো ১৫ লাখ টনের বেশি আলু মজুত রয়েছে। গত বছর কম দামের কারণে কৃষকরা প্রায় দুই লাখ টন আলু হিমাগার থেকে তোলেননি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।   উৎপাদন খরচের তুলনায় বিক্রিমূল্য অনেক কম রংপুর মহানগরীর রঘুবাজার এলাকার কৃষক ভুপাল চন্দ্র রায় দুটি হিমাগারে ৫০০ বস্তা আলু রেখেছেন। বর্তমানে হিমাগার গেটে প্রতি কেজি আলুর দাম ১১ থেকে ১৪ টাকা হওয়ায় তিনি আপাতত আলু বিক্রি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভুপাল ও আতাউরের মতো অন্তত ১৫ জন কৃষক ও ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হিমাগার ভাড়া, পরিবহন, বস্তা ও শ্রমিকের খরচ যোগ হওয়ায় আলু বিক্রি করে প্রত্যাশিত অর্থ পাওয়া যাচ্ছে না। তারাগঞ্জ উপজেলার বামনদীঘি গ্রামের কৃষক নাহিদুজ্জামান জানান, বৃষ্টির পানিতে আলু পচে যাওয়ায় এবার উৎপাদন কমেছে এবং খরচ বেড়েছে। প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ২০ টাকা। অথচ বাধ্য হয়ে ১০ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করতে হয়েছে। নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার কৃষক আমজাদ হোসেনও আগের মৌসুমের আলু হিমাগারে রেখেই নতুন করে আলু চাষ শুরু করেছেন। লোকসান কমানোর আশায় তিনি নতুন ফসলের ওপর নির্ভর করছেন।   হিমাগারে পড়ে আছে বিপুল পরিমাণ আলু রংপুরের বিভিন্ন হিমাগার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবার আলু উত্তোলনের গতি আগের বছরের তুলনায় ধীর। অনেক কৃষক ও ব্যবসায়ী লোকসানের আশঙ্কায় আলু তুলছেন না। তারাগঞ্জ উপজেলার এনএন হিমাগারের ব্যবস্থাপক শরিফুল ইসলাম জানান, তাঁদের হিমাগারে সংরক্ষিত ২ লাখ ৫০ হাজার বস্তা আলুর মধ্যে মাত্র ৬৩ হাজার বস্তা উত্তোলন করা হয়েছে। সাধারণত এ সময়ে আরও বেশি আলু হিমাগার থেকে বের হয়ে যায়। তিনি বলেন, আগামী ৪৫ থেকে ৫০ দিনের মধ্যে বাজারে নতুন আলু আসার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান গতিতে আলু উত্তোলন চলতে থাকলে নতুন ফসল আসার আগেই হিমাগারে থাকা সব আলু সরানো সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। পীরগাছা উপজেলার নব্দীগঞ্জের অপু মুন্সি হিমাগারের ব্যবস্থাপক রবিউল জানান, গত বছর অনেক কৃষককে বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও তাঁরা আলু তোলেননি। পরে হিমাগার কর্তৃপক্ষ ১ লাখ ৬৬ হাজার বস্তা আলু কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়। এতে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে বলে তিনি জানান।   হিমাগার ভাড়া কমানোর দাবি বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, উত্তরাঞ্চলে প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে কৃষকের গড় খরচ প্রায় ১৬ টাকা। মুন্সীগঞ্জসহ অন্যান্য এলাকায় তা প্রায় ১৯ টাকা। এর সঙ্গে হিমাগার ভাড়া, বস্তা, পরিবহন ও শ্রমিকের খরচ যুক্ত হলে বাজারজাত পর্যন্ত মোট ব্যয় আরও বেড়ে যায়। রংপুর আলুচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান বলেন, হিমাগার ভাড়া বেশি হওয়ায় আলু সংরক্ষণ করেও লোকসান এড়ানো যাচ্ছে না। ভাড়া কমানোর দাবিতে আন্দোলন করা হলেও এখনো প্রত্যাশিত সমাধান পাওয়া যায়নি। তাঁদের দাবি, প্রতি কেজি আলুর হিমাগার ভাড়া ৫ টাকা নির্ধারণ করা হোক।   বিকল্প ফসল চাষে কৃষকদের পরামর্শ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক এস এম আবু বকর সাইফুল ইসলাম বলেন, গত দুই বছর ধরে আলু চাষে লোকসানের অন্যতম কারণ হলো চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত উৎপাদন। কৃষকদের পরিকল্পিতভাবে চাষাবাদ করার পাশাপাশি কিছু জমিতে ভুট্টা, ধান ও বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, একাধিক ফসল চাষ করলে একটি ফসলে লোকসান হলেও অন্য ফসল থেকে তা কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকবে।   সরকারি সহায়তার দাবি খাতসংশ্লিষ্টদের হিসাবে, দেশে বছরে আলুর চাহিদা প্রায় ৯০ লাখ টন। বিপরীতে সাম্প্রতিক মৌসুমে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ টন। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে দাম কমে কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, আলুর দাম কমে যাওয়ায় কৃষকরা হিমাগার থেকে আলু তুলতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এতে কৃষক ও হিমাগার মালিক—উভয় পক্ষই আর্থিক চাপে পড়ছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষকদের ভর্তুকি দেওয়া এবং প্রয়োজনে সরকারিভাবে আলু কেনার উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।   কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলমের মতে, আলুচাষিদের লোকসান কমাতে সরকার দুটি উদ্যোগ নিতে পারে। প্রথমত, হিমাগার ভাড়ার ৫০ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়া। দ্বিতীয়ত, কৃষকদের মূল্য সহায়তা দিয়ে উৎপাদন খরচের তুলনায় কম দামে আলু বিক্রির চাপ থেকে তাঁদের রক্ষা করা। বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষকদের লোকসান কমানো, সংরক্ষণব্যবস্থার উন্নয়ন এবং উৎপাদন ও বাজারের চাহিদার মধ্যে সমন্বয় আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নির্ধারিত সময়ে বায়োমেট্রিক না দিলে বাতিল হবে ভোটার নিবন্ধনের আবেদন

ছবি: সংগৃহীত

খুলনায় নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ৩

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার উন্নতি, সহিংসতা কমেছে: যুক্তরাজ্যের সিপিআইটি

0 Comments