ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর নিশামনি (৫) নামে এক শিশুর মরদেহ কংস নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও রক্তক্ষরণের আলামত দেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ তুলেছেন স্বজনরা।
রোববার (১৪ জুন) বিকেলে ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের টাঙ্গাহাটি গ্রামের তাজু মিয়ার মেয়ে নিশামনি বাড়ির পাশ থেকে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে স্থানীয়রা কংস নদীতে একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখতে পান। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি নিশামনির বলে শনাক্ত করেন।
স্বজনদের ভাষ্য, মরদেহ উদ্ধারের পর রাতেই গোসল করানোর সময় তারা শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। বিশেষ করে গলা ও বুকে কামড়ের মতো দাগ এবং শরীর থেকে রক্তক্ষরণের আলামত লক্ষ করা যায়।
এতে তাদের সন্দেহ হয় যে শিশুটিকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে ধোবাউড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত শিশুটির স্বজন ফারহানা ইসলাম ঈষিতা বলেন, মাত্র পাঁচ বছরের একটি নিষ্পাপ শিশুকে ধর্ষণ করে কংস নদীতে ভাসিয়ে এভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
ধোবাউড়া থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে যাই। শিশুটির শরীরে কিছু আলামত পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে দেখে ধর্ষণের ঘটনা ঘটতে পারে বলে সন্দেহ হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি আরও বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
কারিগরি ত্রুটি সারিয়ে কক্সবাজারের মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) টার্মিনাল থেকে আংশিক গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। বুধবার রাত তিনটার দিকে টার্মিনালটির বন্ধ থাকা দুটি বয়লারের একটি চালু হলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। প্রথমদিকে ১১৫ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো গ্যাস পাওয়া গেলেও বিকাল নাগাদ তা বেড়ে ২৩০ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়ায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। জানা গেছে, সরবরাহ বাড়ায় গ্যাস সংকট কমতে শুরু করেছে। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) লাইনে গ্যাসের চাপ বাড়ছে। রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) মুহাম্মদ নাছির উদ্দীন বৃহস্পতিবার বিকালে জানান, বন্ধ থাকা এলএনজি টার্মিনাল থেকে বুধবার রাত তিনটার দিকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। ২৩০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো গ্যাস ন্যাশনাল গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। পরিমাণ আরও বাড়বে। তিনি জানান, মহেশখালীর দুটি ভাসমান টার্মিনালের একটি থেকে ২৩০ এবং অন্যটি থেকে ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুটসহ মোট ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। এদিকে সরবরাহ বাড়ায় গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা গ্যাস সংকট পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। চট্টগ্রামের বাসা-বাড়ি, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও সিনজি রিফুয়েলিং স্টেশনে সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। একদিন আগেও সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দেখা গেছে গাড়ির লম্বা লাইন। তবে বৃহস্পতিবার লাইন দেখা যায়নি। বাসা-বাড়িতেও গ্যাসের চাপ বাড়ছে বলে নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছে। কেজিডিসিএল মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস) মো. তাজউদ্দিন ঢালী জানান, বৃহস্পতিবার সকালের দিকে সরবরাহ বেড়ে ২০৪ মিলিয়ন এবং বিকালের দিকে ২৩০ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়ায়। আগের দিন সরবরাহ ছিল ১৯৪ মিলিয়ন ঘনফুট। ধীরে ধীরে সরবরাহ বাড়ছে। চট্টগ্রামে গ্যাসের চাহিদা ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট।
রাজধানীর সড়কে চলাচলকারী প্রতি চারটি বাসের মধ্যে প্রায় একটি বৈধ ফিটনেস সনদ ছাড়াই যাত্রী পরিবহন করছে। ফলে প্রতিদিন লাখো মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ এসব গণপরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। দুর্বল তদারকি, অপরিকল্পিত রুট ব্যবস্থাপনা, বাসের অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ এবং অকার্যকর স্ক্র্যাপিং ব্যবস্থার কারণে দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে অনুমোদিত বাসের সংখ্যা সাত হাজার ৪৩টি। এর মধ্যে নিয়মিত সড়কে চলাচল করছে চার হাজার ৫৪৬টি বাস। তবে এসব চলমান বাসের মধ্যে এক হাজার ৫৩টির কোনো বৈধ ফিটনেস সনদ নেই। অর্থাৎ রাজধানীতে চলাচলকারী বাসের প্রায় ২৩ শতাংশই ফিটনেসবিহীন অবস্থায় যাত্রী পরিবহন করছে। ডিটিসিএর তথ্য বলছে, তাদের আওতাধীন এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ৩৭ থেকে ৩৮ লাখ মানুষ বাসে যাতায়াত করে। ফলে বিপুলসংখ্যক যাত্রীকে যান্ত্রিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বা যথাযথ পরীক্ষা ছাড়াই চলাচলকারী বাসে ভ্রমণ করতে হচ্ছে। এতে সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিবহন বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. সামছুল হক বলেন, দেশে ফিটনেস সনদ দেওয়ার বর্তমান প্রক্রিয়া অনেকটাই কাগুজে। তাই কোনো যানবাহনের ফিটনেস সনদ থাকলে সেটিকে প্রকৃত অর্থে নিরাপদ বলা যায় না। তার মতে, নিরপেক্ষ ও কঠোরভাবে পরীক্ষা করা হলে বর্তমানে চলাচলকারী অনেক যানবাহনেরই ফিটনেস সনদ পাওয়ার কথা নয়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) বিধিমালা অনুযায়ী, একটি মোটরযানকে ফিটনেস সনদ দেওয়ার আগে এক্সেল লোড, ব্রেক, টায়ার, ধোঁয়ার নির্গমন, হেডলাইট, অ্যালাইনমেন্ট, আসনসংখ্যাসহ মোট ৬৫টি বিষয়ে পরীক্ষা করা হয়। বৈধ ফিটনেস সনদ না থাকলে যানবাহনকে ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ফিটনেসবিহীন যানবাহন শুধু যাত্রীদের ভোগান্তিই বাড়ায় না, বরং সড়ক নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করে। একটি যন্ত্রাংশে ত্রুটি দেখা দিলে তা ধীরে ধীরে ব্রেক, স্টিয়ারিং, সাসপেনশনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশেও প্রভাব ফেলে। এতে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। সংশ্লিষ্টদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সড়ক দুর্ঘটনায় জড়িত অনেক বাসের ব্রেক, স্টিয়ারিং, চাকা কিংবা সিগন্যাল ব্যবস্থায় ত্রুটি ছিল। এসব যান্ত্রিক সমস্যার কারণে অনেক সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। তাই ফিটনেস নিশ্চিত করাকে শুধু প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং জননিরাপত্তার অন্যতম শর্ত হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, রাজধানীতে ফিটনেসবিহীন বাসের সংখ্যা বাড়ার পেছনে অন্যতম কারণ অপরিকল্পিত রুট ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রণহীন প্রতিযোগিতা। একই রুটে একাধিক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বাস চলাচল করায় যাত্রী তুলতে চালকদের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। এর ফলে ওভারটেক, হঠাৎ থেমে যাত্রী ওঠানো-নামানো এবং অতিরিক্ত গতিতে বাস চালানোর মতো ঝুঁকিপূর্ণ প্রবণতা নিয়মিত দেখা যায়। তারা আরও বলেন, অনেক ছোট পরিবহন কোম্পানি তাৎক্ষণিক লাভের দিকে বেশি মনোযোগ দিলেও বাসের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, চালকদের প্রশিক্ষণ কিংবা ফিটনেস নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করে না। ফলে যানবাহনের সার্বিক মান ও নিরাপত্তা ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যাত্রী নিয়ে প্রতিযোগিতার সময় বাসগুলোর মধ্যে প্রায়ই ধাক্কাধাক্কি, ঘষাঘষি ও আকস্মিক ব্রেকের ঘটনা ঘটে। এতে বাসের বডি, চেসিসসহ বিভিন্ন যান্ত্রিক অংশ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবের সঙ্গে এই প্রতিযোগিতা যুক্ত হয়ে অনেক বাস নির্ধারিত সময়ের আগেই চলাচলের উপযোগিতা হারিয়ে ফেলে। বিআরটিএ ও পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের যৌথ অভিযানে এমন অনেক বাসও পাওয়া গেছে, যেগুলোর কাগজে-কলমে ফিটনেস সনদের মেয়াদ থাকলেও বাস্তবে নিরাপদ চলাচলের ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণ করে না। বিষয়টিকে সড়ক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে রাজধানীর বাস ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনা ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ডিটিসিএ। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান বলেন, এ লক্ষ্যে ৩২টি প্রধান রুট এবং ২৫টি সার্কুলার রুট চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব রুটে নির্ধারিত সময়সূচি ও রোটেশন পদ্ধতিতে বাস চলাচল করবে। তিনি বলেন, নতুন ব্যবস্থায় শুধু বাসের ফিটনেস নিশ্চিত করাই নয়, চালক ও সহকারীর প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, আধুনিক টিকিটিং ব্যবস্থা, নির্ধারিত স্টপেজ এবং সমন্বিত পরিচালনা কাঠামোও নিশ্চিত করা হবে। এ বিষয়ে পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে।
লৌহজং উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ। ছবি: কালবেলা মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ বলেছেন, নদী থেকে বালু কাটার সময় কোনো অবৈধ ড্রেজার বা ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে ধরিয়ে দিতে পারলে নগদ ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে জুলাই গণঅভ্যুথান দিবসে লৌহজং উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, যে বা যারা পদ্মা নদীতে বালু কাটার সময় অবৈধ ড্রেজার ও এর সঙ্গে জড়িত অসাধু চক্রকে ধরিয়ে দিতে পারবেন কিংবা সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে সহায়তা করবেন, তাকে আমার নিজ পকেট থেকে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কৃত করা হবে। পদ্মা নদীকে অবৈধ ড্রেজারমুক্ত করতে এই লড়াই অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অসাধু একটি বালুখেকো চক্র লৌহজং ও টঙ্গীবাড়ি এলাকার পদ্মার বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এর ফলে নদীভাঙন চরম আকার ধারণ করেছে। পদ্মা পাড়ে বালু খেকোদের আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতুর সভাপতিত্বে এবং সহকারী নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জুয়েল আহমেদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে সংসদ সদস্যের এই কঠোর বার্তা ঘোষণার পর থেকেই পুরো লৌহজং ও টঙ্গীবাড়িজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল এবং পদ্মাপাড়ের সাধারণ মানুষ সংসদ সদস্যের এই ব্যতিক্রমী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। প্রশাসনকেও বালু দস্যুতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রেখে দ্রুত অভিযান চালানোর আহ্বান জানান এলাকাবাসী।