বিশ্বকাপের কোনো পর্যায়েই গোল পাওয়া সহজ নয়। তবে গ্রুপ পর্বের চেয়ে নকআউট পর্বে জাল খুঁজে নেওয়া আরও বেশি কঠিন। সেই কঠিন কাজটি যেন কয়েকজনের জন্য ‘খুব সহজ।’ ওই ছোট্ট তালিকায় থাকা কিলিয়ান এমবাপের সামনে এবার সবাইকে ছাড়িয়ে যাওয়ার হাতছানি।
নকআউট পর্বে সর্বোচ্চ আটটি করে গোল করেছেন লেওয়ানিদাস, এমবাপে ও রোনালদো।
ব্রাজিলিয়ান গ্রেট লেওয়ানিদাস গোলগুলো করেন কেবল পাঁচ ম্যাচে! দুই আসর মিলিয়ে এমবাপের লাগে আট ম্যাচ। আরেক ব্রাজিলিয়ান গ্রেট রোনালদো ১০ ম্যাচে করেন আট গোল।
তালিকায় চার নম্বরে আছেন একজন ফরাসি- জুস্ত ফঁতেন। এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডধারী এই ফরোয়ার্ড নকআউটে সাত গোল করেন স্রেফ তিন ম্যাচে!
টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে সমান সাতটি করে গোল আছে ভাভা (৫ ম্যাচ), অল্ডরিখ নেয়েডলি (৬ ম্যাচ) ও ফুটবল কিংবদন্তি পেলের (৭ ম্যাচ)।
ছয়টি করে গোল করেছেন পর্তুগিজ গ্রেট ইউসেবিও (৩ ম্যাচ), ডিওর্ডি সারোসি (৫ ম্যাচ), গ্যারি লিনেকার (৬ ম্যাচ) ও রবের্তো বাজ্জিও (৯ ম্যাচ)।
জিনেদিন জিদান, মিরোস্লাভ ক্লোসা, টমাস মুলার, ভেসলি স্নেইডারসহ আট জনের আছে পাঁচ গোল। তাদের একজন লিওনেল মেসি পাঁচ গোল করেছেন ১২ ম্যাচে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
দলে জায়গা পাওয়া, বাদ পড়া, আবার ফিরে আসা—ভারতীয় দলে সঞ্জু স্যামসনের পথচলায় অনিশ্চয়তা যেন শেষই হচ্ছে না। এমন আসা-যাওয়ার বাস্তবতায় হিসাব-নিকাশ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ভারতীয় উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান। স্যামসনের ভাষায়, তিনি আর কোনো ‘ইঁদুরদৌড়ে’ থাকতে চান না। এখন তিনি ক্রিকেট খেলতে চান নিজের মতো করে, নিজের সিদ্ধান্তে। বার্তা সংস্থা আইএএনএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সঞ্জু বলেন, ‘আমি বুঝতে পেরেছি, আমাদের দেশে সব সময়ই একটা ইঁদুরদৌড় চলে। তাই ২০২৬ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের আগেই ঠিক করেছিলাম, আমি এই দৌড়ের অংশ হব না। আমি শুধু খেলাটা উপভোগ করতে চাই।’ ৩১ বছর বয়সি এই ক্রিকেটার বলেন, ‘ঈশ্বরের কৃপায় অনেক কিছুই অর্জন করেছি। সামনে আরও কয়েক বছর খেলতে পারব। তাই ঠিক করেছি, নিজের মতো করেই খেলব। কীভাবে ব্যাট করতে হবে বা কী করতে হবে, সেটা কেউ আমাকে বলে দেবে না। সঞ্জু কী করবে, সেটা সঞ্জুই ঠিক করবে।’ স্যামসনের কথায়, ‘সবাইকে যথাযথ সম্মান রেখেই বলছি, আমি খেলব, খেলাটা উপভোগ করব, ভালো সতীর্থ হওয়ার চেষ্টা করব, দলকে সমর্থন দেব। কিন্তু সবই করব আমার নিজের মতো করে।’ এ বছর ভারতের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ে বড় ভূমিকা ছিল সঞ্জু স্যামসনের। টানা তিনটি ফিফটি করে টুর্নামেন্ট–সেরার পুরস্কারও জেতেন। তবে জুন-জুলাইয়ে আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চার ম্যাচে রান না পাওয়ায় (৫, ০, ১, ২৭) সদ্য সমাপ্ত জিম্বাবুয়ে সফরের দল থেকে বাদ পড়েন। তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব বেশি ভাবতে রাজি নন স্যামসন, ‘২০২৪ বিশ্বকাপের পর তো আমি ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলব, এমন প্রত্যাশাও করিনি। একটা সময় ১৪ বা ১৫ জনের দলেও ছিলাম না। তাহলে ২০২৮ নিয়ে এখন কীভাবে পরিকল্পনা করি? যদি দলে থাকি, দল আমাকে চায় এবং আমি ভালো খেলি, তাহলে সব ঠিকঠাক হবে। না হলেও আমার কোনো আক্ষেপ নেই। যা অর্জন করেছি, সেটা কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।’ এদিকে জিম্বাবুয়ে সফরের দল থেকে স্যামসনকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভারতের সাবেক প্রধান নির্বাচক কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে তিনি বলেন, টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় হওয়া সত্ত্বেও স্যামসনকে সুযোগ না দেওয়া এবং অভিষেক শর্মাকে টানা সুযোগ দেওয়া একই মানদণ্ডের পরিচয় দেয় না। তার প্রশ্ন, ‘অভিষেক দীর্ঘ সময় সুযোগ পেতে পারে, তাহলে স্যামসন কেন নয়?’
টপ অর্ডারে একজন ডানহাতি লাগবেই লাগবে। অনেক দিন ধরেই এই নীতি অনুসরণ করে আসছিলেন জাতীয় নির্বাচকরা। এবার সেই ধারা থেকে সরে এসেছেন তারা। ডানহাতি মাহমুদুল হাসান জয়কে বাদ দিয়ে নেওয়া হয়েছে বাঁহাতি সৌম্য সরকারকে। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার জানালেন, অস্ট্রেলিয়ার উইকেট ও বোলিং আক্রমণ এবং জয়ের ফর্ম, সবকিছু ভাবনায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। সৌম্যকে দলে নেওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ব্যাটিং অর্ডারের প্রথম চার পজিশনের জন্য বিবেচনায় থাকবেন পাঁচজন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ওপেনিংয়ে তানজিদ হাসান, সাদমান ইসলাম ও সৌম্যর মধ্যে খেলবেন দুজন। তিন ও চারে মুমিনুল হক ও নাজমুল হোসেন শান্ত। গত কিছুদিনে টপ অর্ডারের একমাত্র ডানহাতি জয় হারিয়েছেন জায়গা। ডানহাতি বলেই মূলত বারবার সুযোগ পাচ্ছিলেন জয়। গত নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ১৭১ রানের ইনিংসও খেলেছিলেন, পরের টেস্টে করেছিলেন ফিফটি। তবে গত মে মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম তিন ইনিংসে আউট হন দু অঙ্ক ছোঁয়ার আগে। পরে শেষ ইনিংসে একটি ফিফটি করতে পারেন। কিন্তু জিম্বাবুয়ে সফরে হারারে টেস্টে তিনি আবারও ব্যর্থ। তার আউট হওয়ার ধরনগুলোও বেশ দৃষ্টিকটূ্। সব মিলিয়ে অবস্থা এমন যে, ডানহাতি একজনকে মরিয়া হয়ে রাখতে চেয়েও পারেননি নির্বাচকরা। প্রধান নির্বাচক সোমবার সংবাদ সম্মেলনে জানালে, ফর্ম ফেরাতে জয়কে পাঠানো হবে ইমার্জিং দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে। “কয়েকটা ব্যাপার আমাদের মাথায় ছিল। যখন আমরা সৌম্যকে নিয়েছিলাম, আমাদের মাথায় ছিল, একসঙ্গে অনেক বেশি বাঁহাতি হয়ে যাচ্ছে। টপ অর্ডারে এখন আমাদের পাঁচজন বাঁহাতি আছে এং যদি আমরা তানজিদ তামিম এবং সাদমানকে ওপেন করাই, তাহলে পরপর চারজন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান হয়ে যাচ্ছে। এটা আসলে আদর্শ নয়। জয় আমাদের ডানহাতি ওপেনারদের একজন, এই কম্বিনেশনের জন্য যাকে কাজে লাগে। তবে আসলে জয়ের পারফরম্যান্স এবং যেভাবে সে ব্যাটিং করছে, আমরা একটু চিন্তিত। তার পরও সে আমাদের পরিকল্পনায় ভালোমতো আছে, কারণ ডানহাতি ওপেনার আমাদের লাগবে। যেহেতু সে ফর্মে নেই এবং ব্যাটিং নড়বড়ে মনে হচ্ছে, তাকে আমাদের (ফর্মে ফিরিয়ে আনা দরকার)। সেক্ষেত্রে আমাদের ভাবনায় ছিল, ‘এ’ দলের (ইমার্জিং) সফর আছে দক্ষিণ আফ্রিকায়। সেখানে আমরা তাকে নিচ্ছি, যাতে রান করে টেস্ট দলে ফিরে আসতে পারে। কারণ এই সিরিজের পরও সামনে আমাদের অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ সফর আছে।” জয়ের জায়গায় আপাতত উপযুক্ত কোনো ডানহাতি বিকল্প খুঁজে পাননি নির্বাচকরা। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সবশেষ টেস্ট খেলা সৌম্যর কথা মনে পড়েছে তাদের। হাবিবুল বললেন, অস্ট্রেলিয়ান পেস সামলানোর ব্যাপারটি তারা জোর দিয়ে ভেবেছেন এখানে। “সৌম্য সরকার অনেক দিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলছে। যে পেসটা আমরা ধারণা করছি অস্ট্রেলিয়াতে, এটা খেলে সে অভ্যস্ত। আমরা অন্য ওপেনারের দিকেও চিন্তা করেছিলাম, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই মুহূর্তে আমাদের ডানহাতি ওপেনার খুব বেশি প্রস্তুত অবস্থায় নেই। আমরা যে কজনকে নিয়ে কাজ করছি, তারা একদম নতুন। তাদেরকে আসলে অস্ট্রেলিয়া সফরে নিয়ে যাওয়া তাদের জন্য একটু কঠিন হবে অবশ্যই। আমরা তাদেরকে নিয়ে কাজ করছি। আশা করছি, এক বছরের মধ্যে ডানহাতি ওপেনার একজনকে তৈরি করতে পারব আমরা, যেটা আমাদের খুব দরকার।” (সৌম্যকে রাখা) কিছুটা মরিয়া চেষ্টা বলতে পারেন। জাতীয় লিগে যারা রান করেছে, তারা আসলে একদম নবীন ক্রিকেটার। জাকির হাসান আছেন, যিনি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন। তবে আমাদের কাছে মনে হয়েছে, সৌম্য বেশি উপযুক্ত, এই পেস ও আগে খেলেছে। আমাদের পাইপলাইনে ক্রিকেটার আছে যারা, তারা কেউ প্রস্তুত নন। টেস্ট ম্যাচে আসার আগে তাদেরকে ২-১ বছর সময় দিতে হবে।” জিম্বাবুয়ে সফরে একমাত্র টেস্টে অভিষেক হয়েছিল তাওহিদ হৃদয়ের। ভালো করতে পারেননি তিনি। অস্ট্রেলিয়া সফরে জায়গাও পাননি। তবে ভবিষ্যতের ভাবনায় তাকে প্রবলভাবেই রাখছেন নির্বাচকরা। এজন্য তাকেও পাঠানো হবে ইমার্জিং দলের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে। “হৃদয়কে আমরা সবশেষ টেস্ট ম্যাচে খেলিয়েছিলাম। সেখানে মিরাজ ছিল না। এখন যেহেতু মিরাজ চলে এসেছে, হৃদয়ের খেলার সম্ভাবনা খুব কম। তবে ভবিষ্যৎ টেস্ট ব্যাটসম্যান হিসেবে আমরা ওকে চিন্তা করছি। ওকে আমরা দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘এ’ দলের সিরিজে পাঠাব। অস্ট্রেলিয়ায় ওর খেলার সম্ভাবনা কম। যদি জরুরি প্রয়োজন হয়, তখন তো পাঠানোর সুযোগ আছেই সসময়। কিন্তু এখনই অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে বসে থাকলে দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলার সুযোগ হাতছাড়া করবে। আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, ওকে যদি আমরা দক্ষিণ আফ্রিকায় ম্যাচগুলি খেলাতে পারি, ওই কন্ডিশনে যদি মানিয়ে নিতে পারে, সামনের পথচলায় সেটি বেশি কাজে লাগবে। ১৬তম সদস্য হিসেবে ওকে নেওয়ার ভাবনা আমাদের এসেছিল। তবে মনে হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ায় বসে থাকার চেয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘এ’ দলের ম্যাচগুলি খেললে ওর বেশি কাজে লাগবে।
ফুটবল বিশ্বের এই সময়ের সেরা তারকাদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ৪১ বছর বয়সী এই তারকা ফুটবলার ক্যারিয়ারের অন্তিম পর্যায়ে আছেন। সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপই ছিল রোনালদোর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। এবার তাকে দেখা যাবে নতুন ভূমিকায়। হলিউডে পা রাখছেন রোনালদো। ব্রিটিশ ফুটবল নিয়ে তৈরি একটি সিরিজে অভিনয় করতে দেখা যাবে তাকে। বর্তমানে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসেরে খেললেও তাকে পরিচিতি দিয়েছে ইংল্যান্ডের ক্লাব ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড। সেই ক্লাবে থাকাকালীন তার জীবন দেখানো হবে সিরিজে। ইংল্যান্ডের আর এক ক্লাব আর্সেনালের সাবেক তারকা ফ্রান্সের থিয়েরি অঁরিকেও দেখা যাবে সিরিজে। রোনালদো শুধুমাত্র এই সিরিজে অভিনয় করছেন তা-ই নয়, তিনি এই সিরিজের কার্যকরী প্রযোজক। ফুটবলের পাশাপাশি একটি প্রোডাকশন হাউস খুলেছেন রোনালদো। সেই প্রোডাকশন হাউসই এই সিরিজ প্রযোজনা করছে। এই বিষয়ে রোনাল্ডো বলেন, ‘আমার কাছে খুবই উত্তেজক একটা বিষয়। জীবনের নতুন একটা দিক খুলে গেল। আমরা বরাবরই নতুন কাজ করতে ভালোবাসি। আশা করছি সকলে পছন্দ করবেন।’