কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে ভয়াবহ ট্রেন ও বাস দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এই দুর্ঘটনার সঠিক কারণ খুঁজে বের করতে ৩টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
দুর্ঘটনার প্রাথমিক কারণ হিসেবে গেটম্যানের সঙ্গে মেইল ট্রেনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতাকে চিহ্নিত করেছেন কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় পদুয়ার বাজার রেল ক্রসিংয়ের গেটম্যান হেলাল উদ্দিনসহ দুজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
কুমিল্লা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইনের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে সার্বক্ষণিক একজন গেটম্যান সিগন্যালের কাজে নিয়োজিত থাকেন। রোববার ভোরে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেনটির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ ছিল না গেটম্যানের। গেটম্যান বেড়িয়ার না ফেলানোর কারণে মামুন পরিবহন নামের বাসটি সোজা রেলক্রসিংয়ে উঠে যায়। এতে মুহূর্তের মধ্যেই বাসটি দুমড়েমুচড়ে গেছে। দুর্ঘটনায় মারা যান ১২ জন। আহতদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন স্থানীয়রা।
রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঢাকাগামী প্রতিটি ট্রেন লালমাই ক্রস করার সঙ্গে সঙ্গে পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ের গেটম্যান সিগন্যাল পেয়ে থাকেন। তখন ওই গেটম্যান বেড়িয়ার ফেলে সিগন্যাল দিয়ে দেয়। কিন্তু ঢাকা মেইল ট্রেনের সঙ্গে গেটম্যানের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল বলে আমরা ধারণা করছি। আমরা গেটম্যানদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। ঘটনার সঠিক কারণ খুঁজতে আমরা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু রেজা হাসান বলেন, নিহত ১২ জনের লাশ নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে। ঘটনা খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, রোববার ভোরে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় মামুন পরিবহন নামে একটি বাসকে ধাক্কা দেয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার দিকে যাওয়া মেইল ট্রেন। বাসটিকে ধাক্কা দিয়ে আধা কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায় ট্রেনটি। এতে একে একে ১২ জনের প্রাণহানি ঘটে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেছেন গেটম্যানদের অবহেলায় ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। কুমিল্লায় বাস এবং ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনায় দুই গেটম্যানের অবহেলা রয়েছে। ইতিমধ্যে তাদেরকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। তাছাড়া স্টেশন মাস্টারকেও শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে। ঘটনা তদন্তের জন্য রেলওয়ের পক্ষ থেকে একটি বিভাগীয় এবং একটি জোনাল তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করা হবে না। রোববার দুপুরে কুমিল্লার বাস ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রতিটি বেরিয়ারকে অটোমেটিক সিস্টেমের আওতায় আনার চেষ্টা করছি। সেখানে নিরাপত্তাকর্মী থাকবে এবং ক্রসিং এর কাছাকাছি ট্রেন আসলে অটোমেটিক গেট গুলো বন্ধ হয়ে যাবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে এসব কাজ দ্রুত সম্পাদনের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। এ সময় মন্ত্রী রেলের দুর্ঘটনা কমাতে রেল কর্তৃপক্ষ নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
ঈদের দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় আট জেলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২৫ জন। শনিবার সকাল থেকে বিকালের মধ্যে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ময়মনসিংহে দুজন, চট্টগ্রামের পটিয়া ও মিরসরাইয়ে দুজন, ঝিনাইদহ, নড়াইল, চুয়াডাঙ্গা, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরে একজন করে নিহত হয়েছেন। ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহের তারাকান্দায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরো দুইজন। শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা সড়কে উপজেলার কাশিগঞ্জ বাজার সংলগ্ন খিচা বান্ডারির মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার কাপাসিয়া গ্রামের মো. আব্দুল আলীর ছেলে মো. রুবেল মিয়া (২০) ও ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বাউন্ডারী রোড এলাকার মো. গোলাম মাওলার মেয়ে রীতি আক্তার (৮)। নিহত দুইজনই সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন। চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের পটিয়ায় যাত্রীবাহী বাস সড়কের আইল্যান্ডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে উল্টে গেছে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম কক্সবাজার বাইপাস মহাসড়কের পটিয়া ভাটিখাইন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে বাসের অজ্ঞাতনামা (৩৫) এক যাত্রী নিহত হয়েছেন; আহত হয়েছেন অন্তত ১৮ যাত্রী। পটিয়া ক্রসিং হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার বাইপাস মহাসড়কের পটিয়া ভাটিখাইন এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাস এক পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে গাড়িটি আইল্যান্ডে তুলে দেয়। বাসটি ধাক্কা লেগে কাত হয়ে যায়। এতে এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি নিহত হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করেন এবং বাসটি উদ্ধার করে হেফাজতে নেওয়া হয়। এদিকে, মিরসরাইয়ে প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চালক নিহত হয়েছেন। সকাল ছয়টায় উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের হাদিফকিরহাট এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঢাকা-মুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত এনামুল হক (আইয়ুব) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাঘ গ্রাম এলাকার মৃত শামসুল হকের ছেলে। কুমিরা হাইওয়ে থানার ওসি জাকির রাব্বানী বলেন, এনামুল হক আইয়ুব তার প্রাইভেট কার চালিয়ে চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের গাছে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সহযোগিতায় তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নড়াইল: নড়াইল সদর উপজেলায় মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বেলা তিনটার দিকে উপজেলার ধোন্দা কাজীপাড়া মসজিদ এলাকায় মাগুরা-নড়াইল আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরেকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহত তরুণের নাম রাব্বী মোল্যা (২০)। তিনি নড়াইল পৌরসভার রঘুনাথপুর এলাকার পান্নু মোল্যার ছেলে। দুর্ঘটনার সময় তিনি মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন। নড়াইল সদর থানার ওসি ওলি মিয়া বলেন, মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে নিজেরাই পড়ে যান তারা। এতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নগরবাথান এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় আব্দুল গফুর (১৪) নামের সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কের নগরবাথান বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল গফুর হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ভায়না ইউনিয়নের বাগআঁচড়া গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে। পুলিশ জানায়, সকালে ঈদের নামাজ পড়ে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বের হয় আব্দুল গফুর। দুপুর ১২টার দিকে তারা ইঞ্জিনচালিত নসিমন করে ঝিনাইদহ জোহান পার্কে আসছিল। পথে ঝিনাইদহ সদরের নগরবাথান বাজারে পৌঁছালে তাদের বহনকারী নসিমন থেকে আব্দুল গফুর সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। পরে সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঝিনাইদহ আরাপপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস জানান, ময়নাতদন্তের পর নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। মাদারীপুর : শিবচরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মো. শাহাদাত খলিফা (১৫) নামের এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২১ মার্চ) বিকেলে শিবচরের এক্সপ্রেসওয়ের কুতুবপুর সীমানা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম। নিহত শাহাদাত খলিফা শিবচর উপজেলার দ্বিতীয়াখন্ড নিয়ামতকান্দি গ্রামের হিরু খলিফার ছেলে। সে ওই এলাকার দ্বিতীয়াখন্ড নূর ই আলম চৌধুরী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন বন্ধুদের সঙ্গে ভ্যানে চড়ে ঘুরতে বের হয় শাহাদাত। এসময় কুতুবপুর সীমানা নামক স্থানে আসলে ভ্যানটিকে একটি মোটরসাইকেল ধাক্কা দেয়। এতে ভ্যান থেকে ছিটকে রাস্তায় পড়ে যায় শাহাদাত। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ফরিদপুর : ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার বানায় ঈদের দিনে মোটরসাইকেলে ঘুরতে বেরিয়ে জিহাদ শেখ (১৬) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছেন। শনিবার (২১ মার্চ) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার আরাজী বানা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম জিহাদ শেখ উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের জয়দেবপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান শেখের ছেলে। জিহাদ একই ইউনিয়নের শিয়ালদী আলিয়া মাদ্রাসা থেকে এ বছর দাখিল পরীক্ষা দিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিভিন্ন ইটভাটার ট্রলিতে পরিবাহনকৃত মাটি ঝরে পড়ায় দুদিনের বৃষ্টিতে সড়ক পিচ্ছিল হয়ে যায়। দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পিচ্ছিল সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ছিটকে পড়ে মারাত্মক আহত হন জিহাদ। তাকে উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সুমন রায় বলেন, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই জিহাদ শেখ মারা যান। চুয়াডাঙ্গা : চুয়াডাঙ্গায় ঈদের দিনে ঘুরতে বের হয়ে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সুরুজ (১৮) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় হৃদয় নামের আরও এক মোটরসাইকেল আরোহী আহত হয়েছেন। শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা সড়কের ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সুরুজ চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ইসলাম পাড়ার বাসিন্দা স্বপনের ছেলে। আহত হৃদয় একই পৌর এলাকার শ্মশান পাড়ার বাসিন্দা। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন ঘুরতে বের হয়েছিলেন দুই যুবক। তারা মোটরসাইকেলযোগে চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটির নিকটবর্তী এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে একটি গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই তারা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুরুজকে মৃত ঘোষণা করেন এবং আহত হৃদয়কে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান জানান, এ ব্যাপারটি নিয়ে কেউ থানায় অভিযোগ না করায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তবে ঘটনাস্থল থেকে দুর্ঘটনায় কবলিত মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া উপজেলায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় এক বিদ্যুৎ কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। গাছের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার কলাবাড়ি ইউনিয়নের বৈকুন্ঠপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শরীফুল ইসলাম (৩০) ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার বাসিন্দা এবং ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) সুইচ বোর্ড অ্যাটেনডেন্স কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি কোটালিপাড়া উপজেলার টুপুরিয়া গ্রামের মোকসেদ আলী শেখের ছেলে।
জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের লোকদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ তুলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রংপুর জেলা কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব শেখ রেজওয়ান পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে দলের সব পদ ও দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। পদত্যাগের বিষয়ে শেখ রেজওয়ান কালবেলাকে বলেন, এনসিপির রংপুর জেলা ও মহানগর কমিটির নেতৃত্বে এমন ব্যক্তিদের আনা হয়েছে, যারা জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তার দাবি, যারা জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের লোক ছিল তারা নেতৃত্বে এসেছে। তিনি আরও বলেন, বিপ্লবীদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যারা বিপ্লবের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না, তাদের মাধ্যমে নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব না। জেলা কমিটির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিয়েও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, জেলা কমিটির সদস্য সচিব এরশাদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থাকায় তাকে তার পদ থেকে সরানোর পর সেই পদ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মনিরুজ্জামান মনির ওই পদে আসার কথা থাকলেও তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জেলা কমিটির ১ নম্বর যুগ্ম সদস্য সচিব হলেও গ্রুপিংয়ের কারণে তাকে দায়িত্ব না দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পদটি শূন্য রেখে দল পরিচালনা করা হচ্ছে। তার সঙ্গে দলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সাদিয়া ফারজানা দিনা ও আসাদুল্লাহ আল গালিবের দ্বন্দ্বের কারণে তাকে নেতৃত্ব থেকে সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। জেলা কমিটির আহ্বায়ক আল মামুনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলে শেখ রেজওয়ান বলেন, দলের মধ্যে গ্রুপিং ও বিভাজন চরম আকার ধারণ করেছে। এখানে ছোটরা বড়দের সম্মান করে না, দলীয় শৃঙ্খলা নেই। বিভিন্ন দলের লোক দলে ঢুকে পড়ায় সংকট তৈরি হয়েছে। এর আগে, গত বছরের ২ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টির ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্র সমাজের সাবেক সভাপতি আল মামুনকে সভাপতি ও এরশাদ হোসেনকে সদস্য সচিব করে রংপুর জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। পরে একটি জাতীয় দৈনিকে ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনসিপির সদস্যসচিব’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর এরশাদ হোসেনকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। এ বিষয়ে জানতে জেলা কমিটির আহ্বায়ক আল মামুনকে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সাড়া দেননি।