যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোর ক্লেইরমন্ট এলাকায় একটি ইসলামিক সেন্টার ও মসজিদে বন্দুকধারী দুই কিশোরের গুলিতে তিনজন নিহত হয়েছে। পরে তারা নিজেরাও গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছে। স্থানীয় সময় সোমবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সন্দেহভাজন বন্দুকধারীদের একজনের বয়স ১৭ বছর, অন্যজনের ১৯ বছর।
ইসলামিক সেন্টারটি ক্লেইরমন্ট এলাকায় অবস্থিত। সেখানে সান দিয়েগো কাউন্টির সবচেয়ে বড় মসজিদটির অবস্থান। পাশাপাশি সেখানে শিশুদের ইসলামী বিদ্যালয়ও রয়েছে। সেখানে যখন এই হামলার ঘটনা ঘটে, তখন মসজিদের ভেতর শিশুরা ক্লাসে ছিল। এই ইসলামিক সেন্টার ক্যাম্পাসের ভেতরেই ‘আল রশিদ স্কুল’ নামে একটি রয়েছে।
ঘটনার পর ওপর থেকে ধারণ করা এক ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ যখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে, তখন শিশুরা একে অপরের হাত ধরে নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তার স্বার্থে আশেপাশের অন্যান্য স্কুলগুলোও তাৎক্ষণিকভাবে লকডাউন করা হয়েছিল। হামলাটিকে একটি ‘বিদ্বেষমূলক অপরাধ’ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া এক আত্মঘাতী কিশোরের সন্ধানে তদন্তের সময় এই হামলার ঘটনা ঘটে। ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগো মসজিদে গুলির খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত সেখানে পৌঁছায়। তারা ভবনের সামনে গুলিবিদ্ধ তিনজনকে পড়ে থাকতে দেখেন। এর পরপরই পুলিশ খবর পায় যে, কাছেই একটি গাড়ি থেকে একজন মালিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে। পরে মসজিদ থেকে কিছু দূরে একটি গাড়ির ভেতর থেকে ১৭ ও ১৮ বছর বয়সী দুই সন্দেহভাজন হামলাকারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তারা নিজেদের গুলিতে আত্মহত্যা করেছে।
নিহতদের মধ্যে মসজিদের একজন নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন। তিনি হামলা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তার সাহসী পদক্ষেপের কারণে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এ ব্যাপারে সান ডিয়েগো পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘তার এই পদক্ষেপ বীরত্বপূর্ণ। নিঃসন্দেহে তিনি আজ অনেক মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ এখনও নিহত তিনজনের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই) ঘটনাটির তদন্ত করছে। এ বিষয়ে সারারণ নাগরিকদের কাছে তথ্যও চেয়েছে।
সিবিএস-এর বরাত দিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এফবিআই ঘটনাটিকে বিদ্বেষমূলক অপরাধ হিসেবে তদন্ত করছে এই কারণে যে, এক সন্দেহভাজনের মায়ের পাওয়া কিছু লেখা থেকে এই ইঙ্গিত মিলেছে। হামলার প্রায় দুই ঘণ্টা আগে এক সন্দেহভাজন কিশোরের মা পুলিশকে ফোন করে জানান যে, তার ছেলে বেশ কয়েকটি বন্দুক ও তার গাড়ি নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়েছে। তার ছেলের সঙ্গে আরেকজন রয়েছে। তারা দুজনই সামরিক ছদ্মবেশী পোশাকে ছিল।
স্কট ওয়াহল জানান, ওই তরুণের আচরণ কেবল ‘আত্মঘাতী’ মানুষের মতো ছিল না, বরং তা অন্য কিছুর ইঙ্গিত দেয়। তরুণটি বাড়িতে একটি চিরকুট রেখে যায়, যাতে ‘সাধারণ বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও উগ্র কথাবার্তা’ লেখা ছিল। তবে চিরকুটটিতে ওই নির্দিষ্ট মসজিদ, অন্য কোনো স্থান বা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকির উল্লেখ ছিল না। তদন্তকারীরা খবর পেয়ে এরই মধ্যে একটি স্থানীয় হাই স্কুলে যান, যেখানে দুই কিশোরের একজন শিক্ষার্থী ছিল। এছাড়া পুলিশ একটি শপিং মলেও তল্লাশি চালায়, যেখানে ওই গাড়িটির অবস্থান ট্র্যাক করা হয়েছিল।
পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহল জানিয়েছেন, হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে সান ডিয়েগো কাউন্টির সবচেয়ে বড় মসজিদ হওয়ায় এটিকে একটি বিদ্বেষমূলক অপরাধ বলে ধারণা করা হচ্ছে। যখন গুলির ঘটনা ঘটে, তখন পুলিশ কর্মকর্তারা সন্দেহভাজনের মায়ের সাথে কথা বলছিলেন এবং তারা মসজিদ থেকে কিছু দূরে ছিলেন।
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি একটি ‘সেমি-অটোমেটিক অস্ত্র’ থেকে প্রায় ৩০ রাউন্ড গুলির শব্দ শুনেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ৯১১-এ কল করেন এবং ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ছুটির দিনগুলোতে এই মসজিদে প্রচুর ভিড় হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভালো যে, ঘটনাটি শুক্রবার ঘটেনি। কারণ সেদিন রাস্তায় মানুষের উপচেপড়া ভিড় থাকে।’
ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগোর পরিচালক ইমাম ত্বহা হাসান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘কোনো উপাসনালয়কে লক্ষ্যবস্তু করা অত্যন্ত জঘন্য ও আপত্তিকর। এই স্থাপনাটি একটি উপাসনালয়, কোনো যুদ্ধক্ষেত্র নয়।
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম এক বিবৃতিতে বলেন, তিনি এই সহিংস হামলায় ‘স্তম্ভিত ও আতঙ্কিত’। এটি এমন একটি জায়গা ‘যেখানে পরিবার ও শিশুরা একত্রিত হয়। প্রতিবেশীরা শান্তিতে ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে উপাসনা করে। ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা ভীতি প্রদর্শন ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্য সহ্য করবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটিকে একটি ‘ভয়াবহ পরিস্থিতি’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রাথমিক কিছু তথ্য পেয়েছি। আমরা এই বিষয়টি খুব জোরালোভাবে খতিয়ে দেখব।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সৌদি আরবে ৮ হাজার সেনা, যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এই সামরিক মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তিনজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও দুই সরকারি সূত্র সামরিক অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাদের দাবি, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ সক্ষম বাহিনী, যা সৌদি আরবের ওপর আরও হামলা হলে দেশটির সেনাবাহিনীকে সহায়তা করবে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি পাকিস্তান আর্মড ফোর্স অথবা দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর কিংবা সৌদি আরবও এই বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। রয়টার্স বলছে, প্রায় ১৬টি যুদ্ধবিমান নিয়ে একটি স্কোয়াড্রন সৌদি আরবে পাঠিয়েছে পাকিস্তান। এর বেশিরভাগই ছিল চীনের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান। এছাড়া দুটি ড্রোন স্কোয়াড্রনও পাঠানো হয়েছে। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মোতায়েনকৃত বাহিনীতে প্রায় ৮ হাজার সেনা সদস্য রয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চীনা তৈরি এইচকিউ-৯ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও মোতায়েন করা হয়েছে। রয়টার্স জানায়, এসব সামরিক সরঞ্জাম পাকিস্তানি সেনা সদস্যরাই পরিচালনা করছে এবং এর অর্থায়ন করছে সৌদি আরব। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর স্বাক্ষরিত গোপন প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় হামলার মুখে পড়লে পাকিস্তান ও সৌদি আরব একে অপরের প্রতিরক্ষায় এগিয়ে আসবে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এই চুক্তির ফলে সৌদি আরব পাকিস্তানের ‘পারমাণবিক ছাতার’ আওতায় রয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান সংঘাতের সময় পাঠানো পাকিস্তানি সেনা ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা মূলত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শমূলক দায়িত্ব পালন করবে। তবে এর আগেও হাজার হাজার পাকিস্তানি সেনা সৌদি আরবে যুদ্ধ সক্ষম ভূমিকায় মোতায়েন ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় থাকার পাশাপাশি রিয়াদের সঙ্গে সামরিক সম্পর্কও জোরদার করছে ইসলামাবাদ।
গাজায় ‘গণহত্যা’ ঠেকাতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ‘জাতিগত নিধন’ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। সোমবার (১৮ মে) জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর প্রকাশিত এক নতুন প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর আলজাজিরার। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কার্যক্রম তদন্ত করেছে জাতিসংঘ। এতে বলা হয়েছে, ইসরায়েল আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন করেছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব কর্মকাণ্ড যুদ্ধাপরাধ ও অন্যান্য নৃশংস অপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে। জাতিসংঘ ও ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব জেনোসাইড স্কলার্সসহ একাধিক তদন্তে বলা হয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ গণহত্যার শামিল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭৩ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী জিম্মিদের ফেরাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এ ছাড়া তারা কিছু হামলায় সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছিল। তবুও বহু হত্যাকাণ্ড ছিল অবৈধ। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলার পর এই যুদ্ধ শুরু হয়। ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন এবং ২৪০ জনকে বন্দি করে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অক্টোবর মাসে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সংঘাত কিছুটা থামে। এরপরও গাজায় ইসরায়েলি বাহিনী কঠোর নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে এবং গত সাত মাসে আরও শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন। সংঘাত পর্যবেক্ষকরা বলছেন, গত মাসে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি হওয়ার পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারী ইসরায়েলি নাগরিক ও সামরিক বাহিনীর সহিংস অভিযানও বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বড় অংশ সংযুক্ত করার পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের জীবনব্যবস্থাকে ধ্বংস করার জন্য ইসরায়েলের ‘সমন্বিত ও দ্রুততর প্রচেষ্টা’ অত্যন্ত উদ্বেগজনক ইঙ্গিত দিচ্ছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক ইসরায়েলের প্রতি বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইসরায়েলকে গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করতে হবে, বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের নিজ বাড়িতে ফিরতে দিতে হবে এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে তাদের অবৈধ উপস্থিতি বন্ধ করতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরের প্রধান অজিত সুনঘাই সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যুদ্ধবিরতির পরও কোনো অর্থবহ জবাবদিহি নিশ্চিত হয়নি। মূল সমস্যা তথা দীর্ঘস্থায়ী দখলদারিত্বেরও কোনো মৌলিক সমাধান হয়নি।
উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন দেশটির সামরিক কর্মকর্তাদের দক্ষিণ সীমান্তকে ‘অভেদ্য দুর্গে’ পরিণত করার এবং একই সঙ্গে সামনের সারির সেনা ইউনিটগুলোকে আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। রোববার অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এক সামরিক বৈঠকে কিম জং উন এ নির্দেশ দেন। কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) কর্তৃক প্রকাশিত একটি ছবিতে তাকে পূর্ণ সামরিক পোশাক পরিহিত শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে দেখা যায়। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন সামরিক কর্মকর্তাদের বলেন, যুদ্ধ প্রতিরোধে ‘বড় ধরনের পরিবর্তন’ আনা হবে। একই সঙ্গে তিনি কমান্ডিং কর্মকর্তাদের ‘প্রধান শত্রু’ সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি আরও কঠোর ও স্পষ্ট করার নির্দেশ দেন। বিশ্লেষকদের মতে, এখানে ‘প্রধান শত্রু’ বলতে দক্ষিণ কোরিয়াকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। কেসিএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ প্রতিরোধকে আরও কার্যকর করতে সামনের সারির ইউনিট এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীকে সামরিক ও প্রযুক্তিগতভাবে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন কিম জং উন। তিনি এটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। কিম জং উন আরও বলেন, দক্ষিণ সীমান্তে সামনের সারির ইউনিটগুলোকে আরও শক্তিশালী করে সীমান্তকে ‘অভেদ্য দুর্গে’ রূপান্তর করা হবে। কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশনের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক হং মিন বলেন, কিম জং উনের এই নির্দেশনায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে পাওয়া সামরিক শিক্ষার প্রতিফলন রয়েছে। ওই যুদ্ধে উত্তর কোরিয়া সেনা পাঠিয়ে মস্কোকে সহায়তা করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি এএফপিকে বলেন, ‘এই বক্তব্যে ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে দেখা ড্রোন যুদ্ধ, নির্ভুল হামলা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ও বহু-মাত্রিক যুদ্ধক্ষেত্রের বিষয়গুলো এখন উত্তর কোরিয়ার সামরিক পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। হং মিন আরও বলেন, কিমের পরিকল্পনায় স্থল, নৌ ও আকাশসীমার বাইরে পানির নিচে, মহাকাশ, সাইবার ও ইলেকট্রনিক ক্ষেত্রকেও যুদ্ধ কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।