আন্তর্জাতিক

যুক্তরাজ্য থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করলো রাশিয়া

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনকে সহায়তার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে লন্ডন থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে রাশিয়া। কূটনৈতিক পদে সাত বছর দায়িত্ব পালনের পর গত মাসে আন্দ্রে কেলিন যুক্তরাজ্য ত্যাগ করেন। তবে তার জায়গায় নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।

 

ইউক্রেনকে যুক্তরাজ্যের হামলাকারী ড্রোন সরবরাহের খবর প্রকাশ্যে আসার পর গত সপ্তাহে রুশ দূতাবাস পরিণতির হুঁশিয়ারি দেয়। এর পরপরই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যে রুশ দূতাবাসের ওয়েবসাইটে জ্যেষ্ঠ কূটনৈতিক স্টাফ হিসেবে কেবল চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ভাসিলি এ সিগানোভের নাম রয়েছে।

 

মস্কো ও কিয়েভে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে জন ফোরম্যান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, রাষ্ট্রদূতের পদ সাময়িকভাবে ফাঁকা থাকা নজিরবিহীন নয়। তবে গত সপ্তাহের কঠোর বিবৃতি এবং ২০১৮ সালের পর থেকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবনতি দেখে মনে হচ্ছে, নতুন কাউকে না পাঠিয়ে মস্কো হয়তো স্থায়ীভাবেই এই কূটনৈতিক সম্পর্ককে নিম্নধাপে নামিয়ে আনছে।

 

রুশ দূতাবাসের এক মুখপাত্র দ্য সানডে টাইমস-কে জানান, কেলিন যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখার চেষ্টা করেছিলেন। তবে ব্রিটিশ সরকার রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাতের পথ বেছে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মুখপাত্র আরও বলেন, যুক্তরাজ্য নীতি পুনর্বিবেচনা করলে একটি গঠনমূলক ও সম্মানজনক সংলাপের আশা নিয়ে তিনি যুক্তরাজ্য ছেড়েছেন। ক্রেমলিন এখনও নতুন কোনও প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করেনি।

 

এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দফতরের এক মুখপাত্র জানান, এটি রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়। মস্কোয় যুক্তরাজ্যের নিজস্ব রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাস সক্রিয় রয়েছে এবং যুক্তরাজ্য বেআইনি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের পাশে দাঁড়িয়ে যাবে।

 

উল্লেখ্য, ইউক্রেনে দুটি ব্রিটিশ কোম্পানির তৈরি ড্রোন দিয়ে হামলার খবরের সত্যতা ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করার পর রাশিয়ার অবস্থান কঠোর হয়। টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে রুশ দূতাবাস বলেছে, লন্ডনের এই ধরনের পদক্ষেপের জন্য অনিবার্যভাবে পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে এবং জবাব দিতে হবে।

 

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
ভারতে গঙ্গায় নৌকাডুবি, প্রাণ গেল ১১ জনের

ভারতের বিহার রাজ্যে গঙ্গা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় শিশুসহ অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।   মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে রাজ্যের হাজিপুরের রাঘোপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নৌকায় প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন যাত্রী ছিলেন। তাঁরা পাশের গ্রামের একটি বাড়িতে দাওয়াত খেতে যাচ্ছিলেন। পথে রামপুর শ্যামচন্দ গ্রামের কাছে গঙ্গা নদীর মাঝপথে হঠাৎ নৌকাটি উল্টে যায়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রাঘোপুর থানার পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল। নদীতে ডুবুরি নামিয়ে নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে উদ্ধার করা হয় একের পর এক মরদেহ।   বৈশালীর জেলাশাসক বর্ষা সিং জানিয়েছেন, নৌকাডুবিতে এখন পর্যন্ত শিশুসহ ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। অন্য কেউ নিখোঁজ রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে উদ্ধার অভিযান চলছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তাঁদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।   এদিকে নৌকাডুবির কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। নৌকাটিতে অতিরিক্ত যাত্রী ছিল কি না এবং কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৪, ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাকে হামলাকারী নারী। ছবি: সংগৃহীত

পূজা উদ্বোধনে যাওয়ার পথে মমতার ওপর হামলার চেষ্টা, আটক নারী

সংগৃহীত ছবি

রাশিয়া-ইরান ও এআইয়ের হুমকি, সতর্কবার্তা ব্রিটিশ গোয়েন্দাপ্রধানের

ফাইল ছবি

ইরানের এক হামলায় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বহু দেশের ইন্টারনেট

সংগৃহীত ছবি
সৌদির তিন স্থাপনায় হামলার হুমকি হুতিদের, লোকজনকে সরে যাওয়ার নির্দেশ

ইয়েমেনের রাজধানী সানায় যদি কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন চালানো হয়, তবে তার উপযুক্ত জবাব দিতে প্রস্তুত হুতি বিদ্রোহীরা। এর অংশ হিসেবে সরাসরি সৌদি আরবের জ্বালানি ও পরিবহন খাতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি প্রাণকেন্দ্রকে ধ্বংস করার কড়া হুমকি দিয়েছে গোষ্ঠীটি।    মঙ্গলবার এক ঘোষণায় হুতিরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, সানা আক্রান্ত হলে সৌদি আরবের দাম্মামে অবস্থিত আরামকোর প্রধান কার্যালয়, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রাজধানী রিয়াদেই অবস্থিত আরামকোর শোধনাগারকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।   হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের যেকোনো তেল স্থাপনাকে তারা তাদের সামরিক বাহিনীর জন্য একটি বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে। এই সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার মধ্যেই তিনি সৌদি তেল স্থাপনাগুলোতে কর্মরত সকল বিদেশি বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী এবং সাধারণ শ্রমিকদের জীবনঝুঁকি এড়াতে অবিলম্বে ওইসব এলাকা থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার চূড়ান্ত সতর্কবার্তা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। শুধু তেলক্ষেত্রই নয়, এর আগে যেসব বিমানবন্দর ও আকাশপথকে হুতিরা নিজেদের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ঘোষণা করেছিল, সেই একই কারণে বিমান সংস্থা, সাধারণ যাত্রী এবং সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর কর্মীদেরও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।   সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট এবং ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বিরুদ্ধে হুতিদের এই নতুন হুমকি দুই পক্ষের দীর্ঘমেয়াদি ও চলমান সংঘাতের পারদকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলেছে। মূলত এই চরম উত্তেজনার সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার সকালেই, যখন সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হুতি-নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানার আল-সাবাহা এলাকায় অবস্থিত ইয়েমেন পেট্রোলিয়াম কোম্পানির কেন্দ্রীয় স্টেশনটি সাধারণ নাগরিকদের অবিলম্বে খালি করার নির্দেশ দেয়। জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, আসন্ন একটি সামরিক অভিযানের আগেই বড় ধরনের প্রাণহানি এড়াতেই এই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   আর ঠিক এর পরপরই পাল্টা জবাবে হুতিরা এই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। তারা সাধারণ মানুষকে অবিলম্বে রিয়াদ এবং দাম্মামের উল্লেখিত তিনটি মূল স্থাপনা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে, কারণ সৌদি বাহিনী যদি সানায় তাদের পূর্বঘোষিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে, তবে তার বিপরীতে এই স্থাপনাগুলোতেও অবধারিতভাবে হামলা চালানো হবে।    মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার এই সংকটময় মুহূর্তে এই পারস্পরিক হুমকি-ধমকি পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল ও রক্তক্ষয়ী করে তোলার আশঙ্কা তৈরি করেছে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাব আল-মান্দেবে সংঘর্ষ, ৪৭ পাকিস্তানিসহ সৌদি জোটের ৮৫ সেনা আটকের দাবি হুতিদের

সিজেপির নেতা আশুতোষ রানকা ও সৌরভ দাসের নেতৃত্বে একদল কর্মী যন্তর মন্তরে প্রবেশ করে প্রতিবাদ জানান। ছবি: সংগৃহীত

যন্তর মন্তরে গেট টপকে বিক্ষোভ, ফের আটক সিজেপি নেতারা

ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যোগ দিলে পাল্টা হামলার হুমকি হুথিদের

ছবি: সংগৃহীত
হুথিদের হামলার পর শনিবার পর্যন্ত বন্ধ রিয়াদের বিমানবন্দর

ইয়েমেনের হুথিদের বারবার হামলার পর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ রাখার মেয়াদ বাড়িয়েছে সৌদি আরব। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানবন্দরের স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা ও কার্যক্রম চালুর প্রস্তুতি যাচাই করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার গ্রিনিচ মান সময় রাত ৯টা পর্যন্ত বিমানবন্দরটি বন্ধ থাকবে। উড়োজাহাজ ও বিমানবন্দরের কর্মীদের কার্যক্রমে বিঘ্নের তথ্য জানাতে দেওয়া আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি ‘নোটিস টু এয়ারমেন’-এ এ সময় উল্লেখ করা হয়েছে।   গত এক সপ্তাহে সৌদি রাজধানীর প্রধান বিমানবন্দরটিতে বারবার হামলা চালিয়েছে হুথিরা। এতে অন্তত ১৮ জন নিহত ও আরও কয়েক শ মানুষ আহত হয়েছেন।   এসব ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নিন্দা জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। আঙ্কারায় মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করার পর তিনি রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হুথিদের হামলার নিন্দা জানান।   নিহতদের মধ্যে ওমরাহ পালনকারীও রয়েছেন। তাদেরসহ সব নিহতের জন্য শোক প্রকাশ করেন এরদোয়ান। আহত কয়েক শ মানুষের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন তিনি।   এরদোয়ান বলেন, এসব হামলা আইন ও মানবতার লঙ্ঘন। এ পরিস্থিতিতে তুরস্ক সৌদি আরব ও দেশটির জনগণের পাশে রয়েছে। পুরো অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা চান তারা।   এদিকে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী দাবি করেছে, হুথিদের বিরুদ্ধে তারা ১ হাজার ৮৭৯টি হামলা চালিয়েছে। দেশজুড়ে হুথিদের দখলে থাকা ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারে ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযানের অংশ হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়।   সামরিক মুখপাত্র মাজিদ আল-নুজাইলি জানিয়েছেন, হুথিদের অবস্থানে হামলায় যুদ্ধবিমান, কামান ও রকেট লঞ্চার ব্যবহার করেছেন সরকারি সেনারা।   তার দাবি, এসব হামলায় ৩৮০টি সামরিক যান ধ্বংস হয়েছে। নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করা এবং বাহিনী পুনর্গঠনের হুথিদের চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের নির্দেশনায় এয়ার ফ্রান্সের সিদ্ধান্ত, বাদ পড়ছেন বাংলাদেশিসহ ৩১ দেশের ক্রুরা

ছবি: সংগৃহীত

রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ১

ছবি: সংগৃহীত

দিল্লিতে নারী ও তৃতীয় লিঙ্গের চালকদের জন্য চালু হচ্ছে গোলাপি ই-অটো

0 Comments