বিশ্ব

যেভাবে মধ্যপ্রাচ্যে জন্ম নিল এক ‘বিষফোড়া’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ১৪, ২০২৬

ঐতিহাসিক ফিলিস্তিন ভূমিতে সন্ত্রাস, হত্যা–নির্যাতন, উচ্ছেদ–দখলের মধ্য দিয়ে ১৯৪৮ সালের ১৪ মে স্বাধীন ইসরায়েল রাষ্ট্রের ঘোষণা দেন জায়নবাদী নেতা ডেভিড বেন গুরিয়ন। কীভাবে অন্যায়ভাবে ফিলিস্তিনিদের উৎখাত করে ১৯৪৮ সালের এই দিনে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তা নিয়ে আজকের আয়োজন।

‘উড়ে এসে জুড়ে বসা’ যাকে বলে। ফিলিস্তিন ভূমিতে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ঘটেছে তেমনটাই।

না, বাংলা ভাষার এই সরল বাগধারায় আসল পরিস্থিতির চিত্র পুরোপুরি ফুটে ওঠে না। তাহলে কী সেই আসল পরিস্থিতি?

হুট করে ফিলিস্তিনের বুকে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি। উগ্র ইহুদিবাদীদের দীর্ঘদিনের সুনিপুণ পরিকল্পনা, গভীর ষড়যন্ত্রের সফল বাস্তবায়ন ‘ইসরায়েল’।

এই পরিকল্পনা, ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ধর্মগ্রন্থ–আশ্রিত এক কল্পকাহিনি সামনে এনে তা বিশ্বাসযোগ্য, প্রতিষ্ঠিত করতে উঠেপড়ে নামে জায়নবাদীরা। এই মিথ প্রতিষ্ঠায় অন্যায়ভাবে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় ব্রিটিশরা। অপরাধের হলো শুরু, আর ফিলিস্তিনিদের সারার সূচনা।

পরের ইতিহাস পাপে–অপরাধে পূর্ণ। কী হয়নি? অন্যায়-অবিচার, অত্যাচার-নির্যাতন-নিপীড়ন, জোর-জুলুম, সন্ত্রাস, জবরদখল, ধ্বংসযজ্ঞ, উচ্ছেদ-বিতাড়ন, ধর্ষণ-লুটতরাজ, হত্যা-গণহত্যা।

এসবের মধ্য দিয়ে ১৯৪৮ সালের ১৪ মে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন ইসরায়েল রাষ্ট্রের ঘোষণা দেওয়া হয়।

এখানেই শেষ নয়। ইসরায়েলের চূড়ান্ত লক্ষ্য ঐতিহাসিক ফিলিস্তিন ভূমি থেকে ফিলিস্তিনিদের পূর্ণ বিনাশ। এ লক্ষ্য অর্জনে দশকের পর দশক ধরে ফিলিস্তিনি জাতিহত্যার মিশন চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।

অস্ট্রীয় লেখক নাথান বারনবুম ১৮৯৫ সালে ‘জায়নিজম’ বা জায়নবাদ শব্দটি প্রবর্তন করেন। ‘নিজভূমিতে’ ইহুদিদের নিজস্ব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জাতীয় আন্দোলনই হলো ‘জায়নবাদ’(ইহুদি জাতীয়তাবাদ)।

এরপর ১৮৯৭ সালের আগস্টে সুইজারল্যান্ডের ব্যাসেলে প্রথম বিশ্ব জায়নবাদী সম্মেলন হয়। সম্মেলনের উদ্যোক্তা অস্ট্রিয়ার ইহুদি সাংবাদিক, নাট্যকার ও রাজনীতিক থিওডর হারজেল।

তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে গঠিত হয় জায়নবাদী সংস্থা। পরে যার নাম হয় বিশ্ব জায়নবাদী সংস্থা। একই সম্মেলনে ইহুদিদের জন্য একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার রূপরেখা গ্রহণ করা হয়।

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে একটি কল্পকাহিনি নির্মাণ করেন জায়নবাদীরা। এর জন্য তাঁরা ইহুদি ধর্মগ্রন্থ হিব্রু বাইবেলের (তানাখ) আশ্রয় নেন। এই ধর্মগ্রন্থ–আশ্রিত কল্পকাহিনিকে প্রতিষ্ঠিত ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে তাঁরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তাঁরা নানা ধরনের তৎপরতা চালিয়ে যেতে থাকেন।

তিন বয়ান
জায়নবাদীদের কল্পকাহিনির মূল বয়ান মূলত তিনটি। এগুলো হলো—‘প্রতিশ্রুত ভূমি’, ‘মনোনীত সম্প্রদায়’ ও ‘ভূমিহীন মানুষের জন্য মনুষ্যহীন ভূমি।’

তানাখ অনুসারে, নবী আব্রাহামকে (মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে যিনি ইব্রাহিম (আ.) নামে পরিচিত) তাঁর বংশধরদের জন্য একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ঈশ্বর। এই ভূখণ্ড পুণ্যভূমি হিসেবে বংশপরম্পরায় সংরক্ষিত থাকবে।

ভৌগোলিকভাবে এই ভূমি সেখানেই, যেখানে আজকের ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের অবস্থান। তবে তানাখের অন্য বিবরণে মিসর থেকে ফোরাত নদীর তীর পর্যন্ত এই ভূমির সীমা।

ইহুদিদের বিশ্বাস, তাঁরা ঈশ্বরের মনোনীত জাতি। সেই হিসেবে তাঁরা ঈশ্বরের প্রতিশ্রুত ভূমিতেই বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু তাঁরা এই ভূমি থেকে বিতাড়িত হন। দুই হাজার বছরের বেশি সময় আগে ৭০ খ্রিষ্টাব্দে তাঁদের উৎখাত করে রোমানরা। তাঁরা উৎখাত হওয়ার পর যাঁরা সেখানে থেকেছেন, অর্থাৎ ফিলিস্তিনিরা, তাঁরা এই ভূমির মানুষ নন। উগ্র ইহুদিদের চিন্তাধারা কতটা অসুস্থ তার একটি নমুনা হচ্ছে, তারা ফিলিস্তিনিদের কোনো মানব সম্প্রদায় মনে করে না। এই হিসেবে তারা এই ভূমিকে ‘মনুষ্যহীন ভূমি’ মনে করে।

সুতরাং এই ‘মনুষ্যহীন ভূমির’ আসল মালিক ইহুদিরা। তাই এখান থেকে ফিলিস্তিনিদের উৎখাত করে ভূমির মালিকানা ফিরিয়ে নেওয়াই যথাযথ।

ইহুদিদের ‘নিজভূমিতে’ ফেরা, ‘নিজভূমির’ ওপর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জায়নবাদীরা জাতীয় আন্দোলন শুরু করে। তারা দাবি তোলে, ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনের ভূমিতেই ইহুদিদের নিজস্ব রাষ্ট্র গড়তে হবে।

বেলফোর ঘোষণা
১৫১৬ থেকে ফিলিস্তিন ছিল অটোমান সাম্রাজ্যের অধীনে। ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে অটোমানরা অক্ষশক্তির পক্ষে যোগ দেয়।

১৯১৭ সালের ৩১ অক্টোবর মিত্রশক্তিভুক্ত ব্রিটিশ নেতৃত্বাধীন বাহিনী অটোমানদের কাছ থেকে বীরশেবা দখল করে নেয়। এর মধ্য দিয়ে সিনাই–ফিলিস্তিন অঞ্চলের অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করে তারা। ক্রমে অটোমান প্রতিরক্ষাব্যূহ ভেঙে পড়ে। ব্রিটিশ নেতৃত্বাধীন বাহিনী ধাপে ধাপে পুরো অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর অটোমান সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।

তৎকালীন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার জেমস বেলফোর ১৯১৭ সালের ২ নভেম্বর জায়নবাদী নেতা ওয়াল্টার রথসচাইল্ডকে একটি চিঠি দেন।

ইংরেজিতে লেখা সংক্ষিপ্ত চিঠিটির মূল কথা ছিল মাত্র ৬৭ শব্দে। চিঠিতে লেখা হয়েছিল—‘মহামান্য (ব্রিটিশ) সরকার ফিলিস্তিনে ইহুদি জনগণের জন্য একটি জাতীয় আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে। আর এ লক্ষ্য অর্জনে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবে। তবে এই বিষয়টি পরিষ্কার, এমন কিছু করা হবে না, যা ফিলিস্তিনে অবস্থানরত অ-ইহুদি সম্প্রদায়ের নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকার কিংবা অন্য কোনো দেশে বসবাসকারী ইহুদিদের বিদ্যমান অধিকার ও রাজনৈতিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে পারে।’

অর্থাৎ এই চিঠির মধ্য দিয়ে স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করা হয়, ফিলিস্তিনে ইহুদিদের জন্য জাতীয় আবাসভূমি গড়ে তোলার লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় সবকিছুই করবে ব্রিটিশ সরকার।

এই চিঠি ইতিহাসে ‘বেলফোর ঘোষণা’ নামে পরিচিতি পায়। বেলফোরের ঘোষণাটি ছিল জায়নবাদের প্রতি ব্রিটিশ সরকারের খোলামেলা স্বীকৃতি। তাঁর এই ঘোষণা ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ পরিষ্কার করে দেয়। ঘোষণাটি জায়নবাদীদের কাছে হয়ে ওঠে ফিলিস্তিনে ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম ভিত্তি।

তখনকার ফিলিস্তিনে ৯০ শতাংশ বা তার বেশি ছিল আরব অধিবাসী। আরবদের বেশির ভাগই ছিলেন মুসলিম। এ ছাড়া সেখানে কিছু খ্রিষ্টান ও ইহুদি অধিবাসীর বসবাস ছিল। এই বাস্তবতায় ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইহুদিদের জন্য রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেলফোর অন্যায়-অবিচার-অপরাধ করেছিলেন। তাঁর ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস, ভূরাজনীতিকে চিরতরে বদলের সূত্রপাত ঘটায়।

ব্রিটিশ শাসকের মদদ, সমর্থনের ধারাবাহিকতায় ইউরোপসহ অন্যান্য দেশ থেকে ইহুদিরা দলে দলে ফিলিস্তিনে আসতে শুরু করে।

১৯২০ সালে ইতালির সান রেমো বৈঠকে বেলফোর ঘোষণা কার্যকরের সিদ্ধান্ত হয়। আর তা কার্যকরের দায়িত্ব ব্রিটিশ সরকারকেই দেওয়া হয়। ফিলিস্তিনে আসা অভিবাসী ইহুদিরা নিজেদের অবস্থান শক্তপোক্ত করতে, দখলদারি জোরালো করতে, ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ-বাস্তুচ্যুত করতে একই বছর গঠন করে ‘হাগানাহ’ নামের একটি আধা সামরিক বাহিনী।

১৯২২ সালে লিগ অব নেশনসের কাছ থেকে অখণ্ড ফিলিস্তিনের ওপর ‘ম্যান্ডেট’ লাভ করে ব্রিটিশরাজ।

ফিলিস্তিনে ইহুদিদের ব্যাপক আগমনে স্থানীয় ফিলিস্তিনি-আরবদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। শুরু হয় সংঘাত। ত্রিশের দশকে বড় ধরনের প্রতিবাদ-বিক্ষোভ-বিদ্রোহ করেন ফিলিস্তিনিরা। অবশ্য ব্রিটিশ সরকার তা কঠোরভাবে দমন করে।

ফিলিস্তিনি আরব ও ইহুদিদের মধ্যকার সংঘাতের কারণ অনুসন্ধানে উদ্যোগ নেয় ব্রিটিশ সরকার। তারা লর্ড রবার্ট পিলের নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠন করে। এই কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় ১৯৩৭ সালে।

ফিলিস্তিনকে দুভাগে বিভক্ত করার এক অন্যায্য-অন্যায় সুপারিশ করে পিল কমিশন। সুপারিশ অনুযায়ী, বণ্টনটা হবে এভাবে—৭৫ শতাংশ আরবদের জন্য, বাকিটা ইহুদিদের। ফিলিস্তিনি আরবরা এই সুপারিশ প্রত্যাখ্যান করেন। তবে ভূমি বিভাজনের এই নীতি সমর্থন করে ইহুদিরা।

হলোকাস্টকে হাতিয়ার
১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধে জার্মান নাৎসি নেতা অ্যাডলফ হিটলারের নেতৃত্বে ইউরোপে ইহুদি নিধনযজ্ঞ চলে, যা ইতিহাসে ‘হলোকাস্ট’ নামে পরিচিত। বিভিন্ন ইতিহাসবিদ ও গবেষকের তথ্যমতে, নাৎসি বাহিনীর হাতে প্রায় ৬০ লাখ ইহুদি নিহত হন। এই ইহুদি নিধনযজ্ঞ পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। সে সময় অনেক ইহুদি পালিয়ে ফিলিস্তিনে যান।

১৯৪২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোরে অনুষ্ঠিত হয় জায়নবাদী সম্মেলন। এই সম্মেলনে ফিলিস্তিনে ইহুদি রাষ্ট্র গঠনের ঘোষণা গৃহীত হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয় ১৯৪৫ সালে। যুদ্ধে পরাজিত হয় জার্মানি-জাপান-ইতালি অক্ষশক্তি। যুদ্ধ শেষে বিশ্বজুড়ে ইহুদিদের প্রতি সহানুভূতি তুঙ্গে ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে হলোকাস্টকে সামনে আনেন জায়নবাদী নেতারা, তাঁদের আন্তর্জাতিক সমর্থকেরা। তাঁরা ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইহুদিদের নিজস্ব আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার জোর যুক্তি দেন।

ইসরায়েল রাষ্ট্রের পক্ষে জোরালো অবস্থান তুলে ধরেন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান। হিটলারের হাত থেকে বেঁচে যাওয়া এক লাখ ইহুদিকে অতিদ্রুত ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে স্থান দেওয়া হোক, এমনটা তিনি তখনই চেয়েছিলেন।

ইসরায়েল রাষ্ট্রের ঘোষণা
ব্রিটিশ সরকার একপর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তারা আর ফিলিস্তিন শাসন করবে না। বিষয়টি জাতিসংঘের হাতে তুলে দেয় তারা। জাতিসংঘ ১৯৪৭ সালের ২৯ নভেম্বর ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে দুটি রাষ্ট্র গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। একটি ইহুদিদের রাষ্ট্র (৫৫ শতাংশ)। অপরটি ফিলিস্তিনি আরবদের (৪৫ শতাংশ)। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত এই পরিকল্পনায় জেরুজালেমকে আন্তর্জাতিক নগরের মর্যাদা দেওয়া হয়। পরিকল্পনাটি মেনে নেন ইহুদিরা। তবে তা প্রত্যাখ্যান করেন আরবরা।

নিজভূমি থেকে ফিলিস্তিনিদের তাড়ানোর ছক তৈরি করেন জায়নবাদীরা। তাঁরা ‘প্ল্যান ডি’ নামের পরিকল্পনা নেন। এই পরিকল্পনার নেতৃত্বে ছিলেন জায়নবাদী নেতা ডেভিড বেন গুরিয়েন। তিনি পরে ইসরায়েলের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন।

পরিকল্পনাটির লক্ষ্য ছিল—হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি আরবদের নিজভূমি থেকে বিতাড়িত করা। ১৯৪৮ সালের ১০ মার্চ পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত হয়। তখন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ঝাঁপিয়ে পড়ে হাগানাহ, স্টার্ন গ্যাংসহ ইসরায়েলি সন্ত্রাসবাদী সশস্ত্র সংগঠনগুলো।

ইহুদিদের হামলা, নির্যাতন, নিপীড়ন ও হত্যার শিকার হতে থাকেন স্থানীয় ফিলিস্তিনিরা। তাঁরা প্রাণ বাঁচাতে নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।

১৯৪৮ সালের ১৪ মে মধ্যরাতে ফিলিস্তিনে ব্রিটিশ ম্যান্ডেট (শাসন) শেষ হওয়ার সময় নির্ধারিত ছিল। ঠিক তার কয়েক ঘণ্টা আগে সেদিন বিকেলে তেল আবিবে বেন গুরিয়ন আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন ইসরায়েল রাষ্ট্রের ঘোষণা দেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান সঙ্গে সঙ্গে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেন। এর মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর আনুষ্ঠানিকভাবে মহাবিপর্যয় নেমে আসে।

১৯৪৮ সালের মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে অন্তত সাত লাখ ফিলিস্তিনি শরণার্থী হন। তাঁরা আশপাশের আরব দেশে আশ্রয় নেন। জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুসারে, এই ফিলিস্তিনিদের নিজভূমিতে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তাঁরা আর কখনোই ফিরতে পারেননি। অন্যদিকে যাঁরা ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে রয়ে যান, তাঁরা হয়ে পড়েন ‘নিজভূমে পরবাসী’।

প্যালেস্টাইন সেন্ট্রাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্যমতে, বিশ্বজুড়ে এখন ফিলিস্তিনিদের মোট সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৮১ লাখ প্রবাসে বসবাস করছেন। আর প্রায় ৭৪ লাখ বসবাস করছেন ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনে।

ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে থাকা ফিলিস্তিনিরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ইসরায়েলি দখলদারি, উচ্ছেদ, জেল-জুলুম, হামলা-নির্যাতন, সন্ত্রাস, হত্যাযজ্ঞসহ মানবিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে এক ভয়াবহ জীবন পার করছেন।

বিগত ৭৮ বছরে চারটি আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ হয়। প্রতিটি যুদ্ধে আরবরা পরাজিত হন। আর ফলাফল হিসেবে ফিলিস্তিনিরা ক্রমেই নিজভূমিতে কোণঠাসা হয়ে পড়েন। অন্যদিকে এই সময়কালে ইসরায়েলের রাজনৈতিক-সামরিক শক্তি বহুগুণ বেড়েছে। সম্প্রসারিত হয়েছে দখলদারি ও সামরিক আগ্রাসন। সর্বোপরি ফিলিস্তিনি জাতি হত্যার পরিধি, কৌশল ও ভয়াবহতা আরও বিস্তৃত হয়েছে।

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর নির্বিচারে নৃশংস হামলা শুরু করে ইসরায়েল। গাজায় এই ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৭৩ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত ১ লাখ ৭২ হাজার ফিলিস্তিনি। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গাজার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সব ধরনের প্রায় ৮১ শতাংশ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাজার ৫০ শতাংশের বেশি হাসপাতাল অকার্যকর।

উপত্যকার প্রায় সব স্কুল ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত। সব মিলিয়ে গাজা পরিণত হয়েছে এক ধ্বংসস্তূপে। সেখানে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি এমনই যে এখন গাজাকে বলা হচ্ছে ‘মর্ত্যের নরক’।

গাজার অর্ধেকের বেশি ভূখণ্ড এখন ইসরায়েলি বাহিনীর দখলে। পুরো গাজা দখলের পাঁয়তারা করছে ইসরায়েল।

ইসরায়েলি আগ্রাসন শুধু ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ নয়। ইরান, লেবানন, সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইসরায়েল প্রকাশ্য বা গোপনে হামলা-আগ্রসন চালিয়ে যাচ্ছে। পাপ, অপরাধ, সন্ত্রাস, দখলদারি, রক্তখেলার মধ্য দিয়ে জন্ম নেওয়া ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যের এক ‘বিষফোড়া’। এই বিষফোড়ার ভুক্তভোগী পুরো মধ্যপ্রাচ্য, এমনকি সারা বিশ্ব।

তথ্যসূত্র:

*আল-জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান, বিবিসি, রয়টার্স, আনাদলু, প্রথম আলো।

*ইয়ান ক্যারল, ইসরায়েল অ্যান্ড প্যালেস্টাইন: দ্য কমপ্লিট স্টোরি (২০১৮ কিন্ডল ই-বুক সংস্করণ)।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকার মূল্যায়ন নেই : শামা ওবায়েদ

ভারতের নয়াদিল্লিতে বিরোধীদের চলমান আন্দোলন নিয়ে বাংলাদেশ কোনো মন্তব্য করতে রা‌জি নয় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।   তিনি বলেন, এ‌টি ভারতের আভ্যন্তরীণ বিষয়।   সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি : পরিবর্তনশীল বিশ্বে দিক নির্ণয়ের পথরেখা’ শীর্ষক সেমিনার শে‌ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবা‌বে তিনি এ কথা বলেন।   ভারতের চলমান প‌রি‌স্থি‌তি এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় পুশ-ইনের চেষ্টা চলমান রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদে‌শ সরকারের মূল্যায়ন জানতে চাওয়া হলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের এখানে মূল্যায়ন আপাতত নেই। এটি ভারতের আভ্যন্তরীণ বিষয়। এটি ভারত সরকারই দেখবে।   উল্লেখ্য, ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লিতে বড় আন্দোলনের ডাক দেয় বিরোধী দল ও তরুণদের রাজনৈতিক আন্দোলন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ১২, ২০২৬

এবার এয়ারলাইনসগুলোকে সৌদি আকাশসীমা এড়িয়ে চলার হুঁশিয়ারি হুতিদের

রাশিয়া-ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধে ট্রাম্পের আহ্বানে বার্নহামের সমর্থন

জাপানে ঘাঁটি স্থাপন করবে ফরাসি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা থ্যালেস

ফুসফুসের টিউমার অপসারণে অস্ত্রোপচার করাবেন পোপ চতুর্দশ লিও

ফুসফুসে ধরা পড়া একটি টিউমার অপসারণে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে অস্ত্রোপচার করাবেন পোপ চতুর্দশ লিও। তিনি জানান, রোগটি একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হয়েছে।   রোববার সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে সাপ্তাহিক ভাষণে ৭১ বছর বয়সী পোপ বলেন, ‘সম্প্রতি চিকিৎসা পরীক্ষার সময় আমার ফুসফুসে একটি নডিউল ধরা পড়েছে। এটি একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে এবং ফুসফুসের একটি নির্দিষ্ট স্থানে শনাক্ত হয়েছে।’   ভ্যাটিকান সিটি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।   তিনি বলেন, ‘চিকিৎসকদের মতে, অস্ত্রোপচার করানোই যথাযথ হবে। তাদের পরামর্শ মেনে আমি এটি অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই অস্ত্রোপচারের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।’   পোপের সাপ্তাহিক অ্যাঞ্জেলাস প্রার্থনার পর ভ্যাটিকানের প্রেস অফিস জানায়, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাঁর অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা রয়েছে।   অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হতে প্রায় এক সপ্তাহ লাগতে পারে।   রোমের জেমেলি হাসপাতালে তাঁর অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা। পোপ দ্বিতীয় জন পলের সময় থেকে হাসপাতালটি পোপদের চিকিৎসাসেবার জন্য পরিচিত।   অস্ত্রোপচার ও সুস্থ হওয়ার সময়ের কারণে পোপের আন্তর্জাতিক সফরসূচিতে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। আগামী ৬ থেকে   ১৭ নভেম্বর তাঁর উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও পেরু সফরের কথা রয়েছে।   ‘প্রশান্তি’-   ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আজকের অ্যাঞ্জেলাস প্রার্থনায় তিনি যে প্রশান্তির সঙ্গে কথা বলেছেন, তা আমাদের আশ্বস্ত করেছে।’   আগামী কয়েক দিনের এই কঠিন সময় মোকাবিলায় পোপের প্রতি ব্যক্তিগত সহমর্মিতা এবং ইতালি সরকারের পক্ষ থেকে সংহতি প্রকাশ করেন তিনি।   ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পোপের ‘সফল অস্ত্রোপচার এবং দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা’ কামনা করেন।   তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের চিন্তা ও প্রার্থনা তাঁর সঙ্গে রয়েছে। আমরা আশা করি, তিনি শিগগিরই সুস্থ হয়ে আগের মতো শক্তি ফিরে পাবেন।’   উরুগুয়ের মন্টেভিডিও’র আর্চবিশপ ড্যানিয়েল স্তুরলা পোপের দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করতে ধর্মবিশ্বাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পোপের আসন্ন উরুগুয়ে সফরের প্রস্তুতি আরও উৎসাহের সঙ্গে চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।   আর্জেন্টিনার বিশপ সম্মেলনও অস্ত্রোপচারের আগে পোপের জন্য বিশেষ প্রার্থনায় অংশ নিতে ক্যাথলিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এতে অস্ত্রোপচার সফল হওয়া এবং তাঁর দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করা হয়।   শিকাগোতে জন্ম নেওয়া পোপ চতুর্দশ লিও গত বছর পোপ হিসেবে নির্বাচিত হন। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে তিনিই হলেন প্রথম পোপ। এর আগে ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল তাঁর পূর্বসূরি আর্জেন্টাইন পোপ ফ্রান্সিস ৮৮ বছর বয়সে মারা যান।   ২০২৫ সালের ৮ মে বিশ্বের ১৪০ কোটি ক্যাথলিকের নেতা নির্বাচিত হন লিও।   সাবেক রবার্ট ফ্রান্সিস প্রেভোস্ট তাঁর পূর্বসূরির তুলনায় কম আবেগপ্রবণ হলেও ধীরে ধীরে ক্যাথলিক চার্চের নেতৃত্বে নিজস্ব ধরণ প্রতিষ্ঠা করেছেন। রক্তক্ষয়ী সংঘাত থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পর্যন্ত বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করছেন।   চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর এ সংঘাতের অন্যতম সোচ্চার সমালোচক হয়ে ওঠেন পোপ।   ইরানকে ধ্বংস করার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিকে তিনি ‘সত্যিই অগ্রহণযোগ্য’ বলে নিন্দা জানান। একই সঙ্গে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের শান্তির পক্ষে কাজ করার দাবি জানাতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান।   এর জবাবে ট্রাম্প পোপকে ‘অপরাধ দমনে দুর্বল এবং পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ভয়াবহ’ বলে আখ্যা দেন। জবাবে লিও বলেন, এ বিষয়ে মুখ খোলা তাঁর ‘নৈতিক দায়িত্ব’।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরব ভ্রমণে নাগরিকদের ‘চরম সতর্কতা’ যুক্তরাষ্ট্রের

ছবি: সংগৃহীত

পুনরায় যুদ্ধ শুরু হলে মার্কিন ডেটা সেন্টার ও এআই স্থাপনায় হামলার হুমকি ইরানের

সংগৃহীত ছবি

তুরস্কে বাস ও টো ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ১১, আহত ২৭

সংগৃহীত ছবি
২০৪৭ সালে উন্নত দেশ হতে ভারতের লক্ষ্য মাথাপিছু ১০ হাজার ডলার

ভারত ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হতে চায়। এ লক্ষ্য অর্জনের পথে দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক হতে পারে মাথাপিছু বার্ষিক জিডিপি ১০ হাজার ডলারে উন্নীত করা।     ভারতের অর্থনীতি, উন্নয়ননীতি ও সামাজিক বৈষম্যের মধ্যে সম্পর্ক তুলে ধরে এমনই বিশ্লেষণ করেছেন ব্লুমবার্গ নিউ ইকোনমির সম্পাদকীয় পরিচালক এরিক শাটজকার। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শিল্পায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে ভারত কীভাবে একদিকে আধুনিক অবকাঠামো ও প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে দারিদ্র্য, বৈষম্য ও নাগরিক সেবার ঘাটতির মতো সমস্যার মুখোমুখি থাকছে তা তিনি দেখিয়েছেন।     শাটজকার সম্প্রতি ১৮ মাসের মধ্যে সপ্তমবারের মতো ভারত সফর করেন। এর আগে দেশটি সম্পর্কে তাঁর প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ছিল সীমিত।     একের পর এক সফরে ভারতের অর্থনীতি ও সমাজের নানা দিক দেখার পর তাঁর মনে হয়েছে, এত জটিল একটি দেশকে কয়েকটি ব্যবসায়িক সফরের অভিজ্ঞতা দিয়ে পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়। তবে দেশটির উন্নয়নকে বোঝার একটি সূত্র তিনি পেয়েছেন ভারতের রেল, সম্প্রচার, ইলেকট্রনিকস ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে আলোচনায়। যুক্তরাষ্ট্রের বন্ডবাজারের অস্থিরতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার পর শাটজকার মন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন, নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় নিউ ইকোনমি ফোরামে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে গোলটেবিল আলোচনায় তিনি কোন বিষয়টি তুলে ধরতে চান। ভারতের সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন ও ইলেকট্রনিকস খাতের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হবে বলে ধারণা করেছিলেন শাটজকার।     কিন্তু বৈষ্ণবের উত্তর ছিল ভিন্ন। তিনি কথা বলতে চেয়েছিলেন ভারতের অর্থনীতির গতিপথ ও সংকট মোকাবেলার সক্ষমতা নিয়ে। আলোচনা শেষে বিদায়ের সময় শাটজকারের হাত ধরে বৈষ্ণব বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমরা যেন ১০ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারি।’     এখানে ১০ হাজার ডলার বলতে মাথাপিছু বার্ষিক মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি বোঝানো হয়েছে। এটি প্রত্যেক ভারতীয়ের ব্যক্তিগত আয় ১০ হাজার ডলার হওয়া নয়।     বরং একটি দেশের মোট বার্ষিক উৎপাদনের আর্থিক মূল্যকে জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে মাথাপিছু জিডিপি পাওয়া যায়। শাটজকার জানান, বর্তমানে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি প্রায় ৩ হাজার ডলার। এই অবস্থান থেকে ১০ হাজার ডলারে পৌঁছানো দেশটির অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চূড়ান্ত লক্ষ্য ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশকে ‘বিকশিত ভারত’ বা উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তর করা। ওই বছর ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারতের স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্ণ হবে।      শাটজকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতের নিজস্ব অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে ২০৪৭ সালের মধ্যে মাথাপিছু জিডিপি ১৮ হাজার ডলারের বেশি করার লক্ষ্য রয়েছে। এ জন্য পরবর্তী দুই দশক ধরে বছরে প্রায় ৭ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে হবে। দীর্ঘ সময় ধরে এমন প্রবৃদ্ধি অর্জন কঠিন হলেও চীনসহ অল্প কয়েকটি দেশ অতীতে এ ধরনের সাফল্য দেখিয়েছে।       উন্নয়ন ও বৈষম্যের পাশাপাশি অবস্থান ভারতের অর্থনীতির এই লক্ষ্য বোঝার জন্য দেশটির দৃশ্যমান বৈপরীত্যগুলো বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন শাটজকার। মুম্বাইয়ের উদাহরণ দিয়ে তিনি দেখিয়েছেন, একই শহরে বিপুল সম্পদ ও চরম দারিদ্র্য পাশাপাশি অবস্থান করছে। শহরটিতে এক ধনকুবের পরিবারের ব্যক্তিগত আবাস হিসেবে ২৭ তলা ও প্রায় চার লাখ বর্গফুটের একটি ভবন রয়েছে। অথচ কাছাকাছি এলাকার শিশুরা রাস্তার মাঝের মাটির জায়গায় খেলাধুলা করে। তাঁর লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে, মুম্বাইয়ের আনুমানিক ৪২ শতাংশ মানুষ বস্তিতে বসবাস করে।     শুধু সম্পদের বৈষম্য নয়, ভারতের অবকাঠামো ও নাগরিক সেবার মধ্যেও রয়েছে বড় ব্যবধান। দিল্লিতে রয়েছে আধুনিক মেট্রোরেল ব্যবস্থা, কিন্তু শহরটির বায়ুদূষণও গুরুতর। দেশটি ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস বা ইউপিআইয়ের মতো দ্রুত ও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত ডিজিটাল লেনদেনব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। অথচ অনেক শহরে এখনো বর্জ্য সংগ্রহ, বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ও পয়োনিষ্কাশনের মতো মৌলিক নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে আছে।     একইভাবে, ভারত দিল্লি ও মুম্বাইয়ের মধ্যে যাতায়াতের সময় কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বিশ্বমানের দ্রুতগতির এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করছে। কিন্তু দেশের অনেক স্থানীয় সড়কে এখনো বড় বড় গর্ত রয়েছে।     শাটজকারের মতে, এসব বৈপরীত্যের পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো সরকারের সীমিত সম্পদ, সময় ও প্রশাসনিক সক্ষমতা। একটি সরকার একই সঙ্গে সব সমস্যার সমাধান করতে পারে না। ফলে কিছু খাতে দ্রুত উন্নয়ন ঘটলেও অন্য খাতগুলো পিছিয়ে থাকতে পারে। ভারতের উন্নয়ননীতিকে বোঝার ক্ষেত্রে এই অগ্রাধিকারের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।     বড় শিল্পগোষ্ঠীর ভূমিকা কেন গুরুত্বপূর্ণ ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ব্যাখ্যায় বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর ভূমিকার কথাও তুলে ধরেছেন শাটজকার। তাঁর মতে, বন্দর, তেল শোধনাগার, টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও কারখানা নির্মাণে দেশটির বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। এসব অবকাঠামো বিনিয়োগ আকর্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং শিল্পায়নের জন্য প্রয়োজনীয়।     শাটজকারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই বাস্তবতা ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে কেন মোদি সরকার অল্প কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠীর হাতে বিপুল সম্পদ কেন্দ্রীভূত হওয়ার বিষয়টি মেনে নিয়েছে এবং কখনো কখনো সেই প্রক্রিয়াকে সহজ করেছে। ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে এই শিল্পগোষ্ঠীগুলোর স্বার্থ ও ভূমিকা জড়িয়ে রয়েছে।     তবে এখানে উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও রয়েছে। বড় শিল্পগোষ্ঠী যদি অবকাঠামো নির্মাণ, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে, তাহলে তা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারে। কিন্তু সেই প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে কতটা পৌঁছায়, সম্পদের বৈষম্য কতটা কমে এবং নাগরিক সেবার মান কতটা উন্নত হয়, সেগুলোও উন্নয়নের মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ।     অর্থাৎ, দেশের মোট উৎপাদন বাড়া এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হওয়া সম্পর্কিত হলেও দুটি বিষয় এক নয়। মাথাপিছু জিডিপি অর্থনীতির গড় উৎপাদনের একটি সূচক; এটি আয়বণ্টন বা সামাজিক বৈষম্যের পূর্ণ চিত্র দেয় না।     চীন থেকে বিনিয়োগ আনা ও প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা শাটজকার বলেছেন, ২০১৪ সালে মোদি প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে ভারতের মোট জিডিপি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এখন দেশটির সরকার ব্যাংকিং ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে, চীন থেকে আরো উৎপাদন কার্যক্রম ভারতে আনতে এবং বৈশ্বিক মহাকাশ প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে চায়।     সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিকস উৎপাদনে ভারতের অগ্রগতিও এই বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু নতুন শিল্প স্থাপন নয়; বরং বিনিয়োগ আকর্ষণ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ভিত্তি শক্তিশালী করা।     তবে ২০৪৭ সালের লক্ষ্য অর্জন করতে হলে শুধু প্রবৃদ্ধির উচ্চ হার বজায় রাখাই যথেষ্ট হবে না।      অর্থনীতির বিস্তারের সঙ্গে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, নাগরিক সেবা এবং সম্পদের বণ্টনের বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। প্রবৃদ্ধি দীর্ঘস্থায়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে এসব খাতের উন্নয়ন প্রয়োজন।     ১০ হাজার ডলারই কি উন্নয়নের চূড়ান্ত মাপকাঠি? শাটজকারের কাছে অশ্বিনী বৈষ্ণবের বক্তব্যের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, এটি ভারতের উন্নয়ননীতির অগ্রাধিকার সম্পর্কে একটি ধারণা দেয়। দেশটির সরকার জাতীয় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে সামনে রেখে শিল্পায়ন, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগে জোর দিচ্ছে। এই লক্ষ্য অর্জনের পথে কিছু সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান না-ও হতে পারে।     শাটজকার লিখেছেন, মন্ত্রীর কণ্ঠের দৃঢ়তা ও চোখের অভিব্যক্তি থেকে তিনি বুঝেছিলেন, লক্ষ্য অর্জনে ভারত যা যা প্রয়োজন, তা করতে প্রস্তুত। এই উপলব্ধির মধ্য দিয়ে ভারতের নানা বৈপরীত্য তাঁর কাছে কিছুটা বোধগম্য হয়ে ওঠে।     তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অর্থ এই নয় যে বৈষম্য বা নাগরিক সেবার ঘাটতি গুরুত্বহীন। বরং ভারতের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করবে দেশটি কীভাবে প্রবৃদ্ধির সঙ্গে এসব সমস্যার সমাধানের সমন্বয় ঘটাতে পারে, তার ওপরও।     ১০ হাজার ডলারের মাথাপিছু জিডিপি ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে। কিন্তু উন্নত রাষ্ট্র হওয়ার অর্থ শুধু উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধি নয়; সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান, সুযোগের সমতা, পরিবেশের সুরক্ষা এবং মৌলিক নাগরিক সেবার উন্নয়নও এর অংশ।     ভারতের সামনে তাই চ্যালেঞ্জটি দ্বিমুখী। একদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি বজায় রেখে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করা, অন্যদিকে সেই অগ্রগতির সুফল আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। ২০৪৭ সালের ‘বিকশিত ভারত’ লক্ষ্য কতটা সফল হবে, তা শেষ পর্যন্ত এই দুই দিকের মধ্যে ভারসাম্য তৈরির সক্ষমতার ওপরও নির্ভর করবে।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামাবাদে সর্বোচ্চ সতর্কতা: ১৪৪ ধারা অমান্যে গ্রেফতারের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

সৌদির রিয়াদ বিমানবন্দরের টার্মিনালে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আগুন, বাড়ছে আতঙ্ক

ছবি : রয়টার্স

রাশিয়া ও ইউক্রেন জ্বালানি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে: ট্রাম্প

0 Comments