জার্মানির কাছে দূরপাল্লার টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনা নিয়ে আগে বিভিন্ন মহলে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও সংশয় থাকলেও শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটন এতে সম্মতি দিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস।
জার্মান পার্লামেন্টে (বুন্দেসটাগ) দেওয়া এক বিবৃতিতে চ্যান্সেলর মার্জ আইনপ্রণেতাদের জানান, আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে আমরা মার্কিন সরকারের সঙ্গে একমত হয়েছি যে, জার্মানি আমেরিকার কাছ থেকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র কিনবে এবং সেগুলো জার্মানি ভূখণ্ডে মোতায়েন করা হবে।
এই পদক্ষেপ জার্মানির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত শূন্যতা পূরণ করবে উল্লেখ করে মের্ৎস বলেন, একই সঙ্গে আমরা নিজস্ব ইউরোপীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা তৈরি এবং সেগুলো ইউরোপে মোতায়েন করার লক্ষ্যে কাজ করে যাব।
তবে এই টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ঠিক কবে নাগাদ জার্মানির কাছে হস্তান্তর করা হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনও সময়সীমা উল্লেখ করেননি চ্যান্সেলর।
সাধারণত সাবমেরিন এবং যুদ্ধজাহাজ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য এই অত্যাধুনিক টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটারের বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম।
এর আগে বুধবার যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে একটি বড় ঘোষণা দেওয়া হয়। যুক্তরাজ্য জানায়, জার্মানিসহ ন্যাটোর ১২টি ইউরোপীয় মিত্রদেশ আগামী এক দশকে নতুন দূরপাল্লার সুনির্দিষ্ট নিশানায় আঘাত হানার অস্ত্র তৈরিতে যৌথভাবে প্রায় ৫ হাজার কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় করবে।
জার্মান সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, এই বিশাল উন্নয়ন প্রকল্পের মোট ব্যয়ের প্রায় অর্ধেক অর্থ বার্লিন একাই বহন করার পরিকল্পনা করছে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে থাকা রিপাবলিকানদের সমর্থন ধরে রাখতে ফ্রান্সের বিক্ষোভকে প্রচারের হাতিয়ার করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার নির্বাচনী সভা-সমাবেশে ফ্রান্সে চলমান আন্দোলনকে অভিবাসন এবং পশ্চিমা সভ্যতার ‘অবক্ষয়ের বিপদ’ হিসেবে তুলে ধরছেন তিনি। কয়েক সপ্তাহ আগেই ফ্রান্সে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। শিক্ষকসংকট, জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অস্বচ্ছ পদ্ধতির প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন ফ্রান্সের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে দেশটির অন্যতম বৃহৎ শ্রমিক সংগঠন সিজিটি আন্দোলনটির প্রতি সমর্থন জানিয়ে দ্রব্যমূল্য কমানো, পেনশন বাড়ানো ও মজুরি বৃদ্ধির দাবি তোলে। পরবর্তীত দেশজুড়ে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও অন্যান্য অর্থনৈতিক অসন্তোষও যুক্ত হয় আন্দোলনে। এতে ফ্রান্সজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র অগ্নুৎপাত। কিন্তু এই পরিস্থিতিকে অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির পক্ষে যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার দল রিপাবলিকান পার্টির নেতারা। ফ্রান্সের অগ্নিশিখায় মার্কিন নির্বাচন গত শনিবার ফ্রান্সজুড়ে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়। কয়েকটি শহরে তা লুটপাট ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে ঐতিহাসিক একটি নগর ভবনে আগুন দেওয়া হয় এবং প্রায় ১ হাজার ৮০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার ফ্রান্সের কয়েকটি শহরে, এমনকি প্যারিসের কিছু এলাকাতেও, রাতের কারফিউ জারি করা হয়। স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যে এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, একসময়ের মহান দেশ ফ্রান্সকে লুট করে এবং পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছে অভিবাসী, জিহাদি এবং কমিউনিস্টরা। তিনি বলেন, ‘এই (মধ্যবর্তী) নির্বাচনে কী ঝুঁকির মুখে রয়েছে, তা দেখতে চাইলে ফ্রান্সে কী ঘটছে, সেদিকে তাকান।’ সমাবেশে ট্রাম্প আরো বলেন, ‘ফ্রান্সে যা ঘটছে, তারা আমাদের দেশেও তা ঘটাতে চায়। এখানে তা কখনোই হতে দেওয়া হবে না।’ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সমালোচনা করেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মাখোঁকে তিনি বড় ভুল করার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। ট্রাম্পের ভাষ্য, ‘পুরো বিশ্ব সেখানে ঢুকে পড়ছিল। আপনারা জানেন, প্যারিস খুব শিগগিরই একটি মুসলিম শহরে পরিণত হবে, আর চুক্তিটা এমন ছিল না।’ তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সীমান্ত বন্ধ করেছে, কিন্তু মাখোঁ তা করেননি। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প দাবি করেন, অভিবাসীরা ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে। দেশটির নেতাদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, ‘দ্রুত সীমান্ত বন্ধ করুন।’ এদিকে ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় একটি ঐতিহাসিক ও শিল্পসমৃদ্ধ শহর লিমোজের ঐতিহাসিক নগর ভবনে আগুন লাগার একটি ভিডিও শেয়ার করে দেশটিতে সহিংসতার জন্য উদারপন্থীদের ব্যর্থতাকে দায়ী করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার দাবি, পশ্চিমা উদারপন্থীরা ফ্রান্সে তৃতীয় বিশ্বের মানুষকে নিয়ে এসেছে এবং অভিবাসীদের আত্মীকরণ ও সামাজিক সামঞ্জস্যের মৌলিক প্রশ্নগুলো উপেক্ষা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন বলেন, উন্মুক্ত সীমান্তের নীতি অনুসরণ করায় ফ্রান্স বিশৃঙ্খলার দিকে যাচ্ছে। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সমাজতান্ত্রিক ডেমোক্র্যাটরাও একই পথে এগোচ্ছেন। সিনেটর এরিক স্মিটও ফ্রান্সের পরিস্থিতির জন্য বামপন্থীদের দায়ী করেন। তবে ইউরোপের অন্যান্য দেশেও তরুণেরা একই ধরনের সংকটের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন। স্পেন, পর্তুগাল ও ইতালিতে শিক্ষায় অপর্যাপ্ত অর্থায়ন, আবাসন ব্যয় এবং জীবনযাত্রার মান কমে যাওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে। রিপাবলিকান নেতারা আপাতত ফ্রান্সের পরিস্থিতির ওপরই মনোযোগ ধরে রাখতে চান। জাতীয় পরিচয় হুমকির মুখে—এমন বক্তব্যের মাধ্যমে তারা ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ আন্দোলনের পক্ষে সমর্থন জোরদার করতে চাইছেন। ভ্যান্স মার্কিন ভোটারদের ফ্রান্সের পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা ভোট দেওয়ার সময় আশা করি বিষয়টি খেয়াল রাখবেন। এটাই সেই ভবিষ্যৎ, যা ডেমোক্র্যাটরা আপনাদের দেশের জন্য চান।’ ট্রাম্পের বক্তব্যে ফ্রান্সের উগ্র ডানপন্থী দল ন্যাশনাল র্যালির অবস্থানের প্রতিফলনও দেখা গেছে। দলটির সভাপতি জর্দান বারদেলা সহিংসতার জন্য উগ্র বামপন্থী চরমপন্থা ও শহরতলির অপরাধপ্রবণ জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত ভূমিকার কথা বলেছেন। এর আগে ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স প্রকাশ্যে মেরিন লে পেনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। মুসলিমবিদ্বেষ উসকে দিলেন ট্রাম্প কানসাসে নির্বাচনী সমাবেশে ডেমোক্র্যাটদের আক্রমণ করতে গিয়ে মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্যকে গুরুত্ব দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এ সময় তিনি মিশিগানের সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ, কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর ও রাশিদা তালাইবকে আক্রমণ করেন। শুধু তাই নয়, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মধ্যনামও অপ্রাসঙ্গিকভাবে টেনে আনেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘ডেমোক্র্যাটরা আবদুল মোহাম্মদ এল-সাইয়েদের দল।’ এরপর এল-সাইয়েদের নাম নিয়ে নিজের মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে ট্রাম্প বলেন, প্রার্থীর প্রথম নামের পরিবর্তে তাকে ‘মোহাম্মদ এল-সাইয়েদ’ বলে সম্বোধন করার সিদ্ধান্তটি ছিল তার জন্য দারুণ কৌশল। এল-সাইয়েদ তার নাম এভাবে বলায় অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি তাকে মোহাম্মদ বলেছি, কারণ আমার ইচ্ছা হয়েছে। কেউ একজন জিজ্ঞেস করেছিল, আমি এটা কীভাবে করলাম। আমি বলেছি, আমি প্রেসিডেন্ট, যাকে যা খুশি নামে ডাকতে পারি।’ এরপর ট্রাম্প বলেন, ‘এল-সাইয়েদের মধ্যনামও মোহাম্মদ। ওই অঞ্চলের কাউকে মোহাম্মদ বলে ডাকলে নাম ঠিক হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬৫ শতাংশ। তাই কারও নাম নিয়ে সমস্যা হলে তাকে মোহাম্মদ বলে ডাকুন।’ ট্রাম্পের বক্তব্যে মুসলিম পরিচয় ও নামকে বিদ্রূপের উপকরণ হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি সামনে এসেছে। কানসাসে রিপাবলিকানদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারের সময় ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে তার আক্রমণের অন্যতম অংশ ছিল এই বক্তব্য। স্বার্থসিদ্ধির অভিযোগে ট্রাম্পের সমর্থন তলানিতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে নিম্নস্তরে গিয়ে ঠেকেছে। মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে প্রকাশিত এক নতুন জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, প্রেসিডেন্টের পদ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সম্পদ বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প। ওয়াশিংটন পোস্ট ও এবিসি নিউজের যৌথ জরিপে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার পাওয়া গেছে ৩৩ শতাংশ। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৬ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের পদকে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার কাজে ব্যবহার করছেন। তাদের মধ্যে রিপাবলিকান সমর্থকও রয়েছেন ৩৪ শতাংশ। গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় এ ধরনের ধারণা পোষণকারীর হার বেড়েছে ১২ শতাংশ। যদিও ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় ফিরে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ‘নতুন স্বর্ণযুগ’ ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে জরিপে অংশ নেওয়া ৪৮ শতাংশ বলেছেন, ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর তাদের আর্থিক অবস্থা আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৮৬ সাল থেকে পরিচালিত এ ধারার জরিপে কোনো প্রেসিডেন্টের আমলে আর্থিক অবস্থার অবনতির কথা বলা মানুষের এটিই সর্বোচ্চ হার। এ ছাড়া ৬৭ শতাংশ মর্কিনি মনে করেন, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় ট্রাম্প আন্তরিক নন। হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোকে নিষিদ্ধ করার প্রচেষ্টা নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে দীর্ঘ বিরোধের পর এক ফেডারেল বিচারক নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে সাময়িক বাধা দিয়েছেন। জরিপে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি নিয়েও ব্যাপক হতাশার চিত্র উঠে এসেছে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘তেমন ভালো নয়’ অথবা ‘খারাপ’ বলে মূল্যায়ন করেছেন ৭৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক। অন্যদিকে অর্থনীতি পরিচালনায় ডেমোক্র্যাটদের ওপর আস্থা রয়েছে ৩৭ শতাংশের, যেখানে রিপাবলিকানদের ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন ২৮ শতাংশ। নির্বাচনে অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে ট্রাম্প আন্তরিক নন বলে মনে করেন ৬১ শতাংশ উত্তরদাতা। ২০২৫ সালের অক্টোবরের তুলনায় এ হার বেড়েছে পাঁচ শতাংশ পয়েন্ট। শক্ত ঘাঁটিতেও বিপর্যয়ের আশঙ্কা শুধু জরিপেই নয়, বস্তবেও রিপাবলিকান পার্টির সম্ভাব্য বিপর্যয়ের আশঙ্কা স্পষ্ট হয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে কানসাস সফর করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প । দীর্ঘ আট বছর পর গতকাল সোমবার অঙ্গরাজ্যটিতে প্রথম নির্বাচনী সমাবেশ করেন তিনি। সেখানে তার ৯৮ মিনিটের দীর্ঘ বক্তব্যের চেয়েও ট্রাম্পের উপস্থিতি রিপাবলিকানদের কঠিন পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিয়েছে। কানসাস অঙ্গরাজ্য রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ১৯৩২ সালের পর থেকে অঙ্গরাজ্যটি থেকে কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর নির্বাচিত হননি। তবে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় এবার অঙ্গরাজ্যটিতে রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের আধিপত্যে ভাঙন ধরার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অঙ্গরাজ্যটিতে রিপাবলিকানদের আসন ধরে রাখতে ট্রাম্পের প্রচারের কেন্দ্রে ছিলেন প্রথম মেয়াদে থাকা সিনেটর রজার মার্শাল। সেখারে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিলটনের কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছেন তিনি। হ্যামিলটন একজন মেথডিস্ট গির্জার জ্যেষ্ঠ যাজক। জনমত জরিপে দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারের তৃতীয় প্রান্তিকে হ্যামিলটন প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ডলার অনুদান সংগ্রহ করেছেন। বিপরীতে মার্শালের সংগ্রহ মাত্র আট লাখ ডলার। রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটিতে এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণও হারাতে পারে ট্রাম্পের দল নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের এক বা উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে বাধা বাড়তে পারে। তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালেও ভেটো ক্ষমতা ও নির্বাহী কর্তৃত্বের কারণে ট্রাম্পের হাতে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা থাকবে। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের আসন ২১৮টি, ডেমোক্র্যাটদের ২১৪টি। সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ৫৩টি, ডেমোক্র্যাটদের ৪৭টি। দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাল্টাতে ডেমোক্র্যাটদের নিট চারটি করে আসন বাড়াতে হবে। তবে জনমত জরিপে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ দলটি পেতে পারে বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হলেও সিনেটের লড়াই এখনো অনিশ্চিত।
ফিলিপাইনের জনপ্রিয় ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা জিক্যাশের মূল প্রতিষ্ঠান মাইন্ট মঙ্গলবার ম্যানিলার পুঁজিবাজারে যাত্রা শুরু করেছে। প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে প্রায় ৯৬ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে প্রতিষ্ঠানটি, যা দেশটির ইতিহাসে রেকর্ড গড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মাইন্টের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তি ফিলিপাইনের আর্থিক প্রযুক্তি (ফিনটেক) খাতের গুরুত্ব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বাড়াবে। দেশটির ৪০ শতাংশেরও বেশি মানুষের এখনো প্রচলিত ব্যাংক হিসাব নেই। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। জিক্যাশের বর্তমানে ফিলিপাইনে মাসে ৪ কোটিরও বেশি সক্রিয় ব্যবহারকারী রয়েছেন। মোবাইল ফোনের বহুল ব্যবহৃত এই অ্যাপের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ, ঋণ গ্রহণ, সঞ্চয় ও বিভিন্ন বিল পরিশোধসহ নানা আর্থিক সেবা পাওয়া যায়। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির প্রথম দিন মাইন্টের শেয়ারের দাম ৬ দশমিক ৬০ পেসোর প্রাথমিক মূল্য থেকে ০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৬ দশমিক ৬৪ পেসোতে দাঁড়ায়। প্রতি শেয়ারের এই দাম প্রায় ১১ মার্কিন সেন্টের সমান। ফার্স্ট মেট্রো ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশনের (এফএমআইসি) গবেষণা বিভাগের প্রধান ক্রিস্টিনা উলাং বলেন, মাইন্টের তালিকাভুক্তি ফিলিপাইনের অর্থনীতি ও পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘এটি একটি বড় আইপিও। আসিয়ানে কিংবা এশিয়ার সামগ্রিক আর্থিক প্রযুক্তি খাতে আমাদের অবস্থানের দিক থেকে এখন আমরা বিশ্বমানচিত্রে জায়গা করে নিতে যাচ্ছি। আগে আমরা যেন অদৃশ্যই ছিলাম।’ তিনি বলেন, ‘জিক্যাশ ও মাইন্ট ফিলিপাইনের ডিজিটাল অর্থনীতির অগ্রগতির মাপকাঠি হয়ে উঠবে। এর মাধ্যমে বোঝা যাবে, আমরা কতটা এগোচ্ছি, কতটা উন্নতি করছি ও আসিয়ানের অন্য দেশগুলোর সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারছি কি না।’ জিক্যাশ ব্যবহারকারীরা প্রতিষ্ঠানটির মোবাইল ওয়ালেট প্ল্যাটফর্মে এবি ক্যাপিটাল সিকিউরিটিজের পরিচালিত ‘জি-স্টকস পিএইচ’ সেবার মাধ্যমে শেয়ারবাজারেও বিনিয়োগ করতে পারেন। ফিলিপাইন স্টক এক্সচেঞ্জের প্রেসিডেন্ট রামন মনজন জানান, জিক্যাশের প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ৭২৫ জন গ্রাহক মাইন্টের আইপিওতে বিনিয়োগ করেছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই প্রথমবারের মতো শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছেন। সব মিলিয়ে তারা এ আইপিওতে প্রায় ১১০ কোটি পেসো বিনিয়োগ করেন। মঙ্গলবার পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরুর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি। একই সঙ্গে দেশে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করাকে দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন। মার্কোস বলেন, ‘এই তালিকাভুক্তির সময়টি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, আমাদের পুঁজিবাজারে নতুন করে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ও আরও ব্যাপক অংশগ্রহণ প্রয়োজন।’ টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান গ্লোব টেলিকম, আয়ালা গ্রুপ ও চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আলিবাবার সহযোগী অ্যান্ট গ্রুপের যৌথ উদ্যোগ মাইন্ট।
নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি ইউরোপের সমালোচনা বাড়ছে। তবে দখলদ্বার ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনে সরকার পরিবর্তন হলেও ফিলিস্তিনিদের পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতির সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। একসময় ইউরোপের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ককে বন্ধুত্ব ও মিত্রতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হতো। ২০২৩ সালের ২৩ এপ্রিল ইসরাইলের ৭৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ইউরোপীয় কমিশনের উরসুলা ফন ডার লেন বলেছিলেন, ইউরোপ ও ইসরাইল বন্ধুত্ব ও মিত্রতার বন্ধনে আবদ্ধ। কূটনৈতিক সম্পর্কের বাইরেও এই বন্ধুত্বের বিস্তার ছিল। ইউরোপ আন্তর্জাতিক ফুটবলে অংশ নিত ইসরাইল। এ ছাড়া ইউরোভিশন সংগীত প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করত এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করত। ইউরোপের অস্ত্রশিল্পের উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গেও যুক্ত ছিল ইসরাইল। তবে গাজায় ইসরাইলের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পর সেই সম্পর্ক এখন নানা বিরোধের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। এই যুদ্ধে অন্তত ৭৪ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইসরাইলের অংশগ্রহণের প্রতিবাদে ইউরোভিশন থেকে সরে দাঁড়িয়েছে ইউরোপের কয়েকটি দেশ। ইউরোপের কিছু ফুটবলার ইসরাইলের দলের বিপক্ষে খেলতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। একসময় যে দেশগুলো বন্ধুত্বের কথা বলত, তাদের কেউ কেউ এখন ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানাচ্ছে। ফিলিস্তিনিদের ওপর নিপীড়নের সমালোচনায় দীর্ঘদিন ধরেই সরব আয়ারল্যান্ড ও স্পেন। সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিন বলেন, গাজায ইসরাইলের কর্মকাণ্ড বিশ্বকে লজ্জিত করবে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও গাজায় নেতানিয়াহুর অব্যাহত গণহত্যার নিন্দা জানান। তিন বছর আগের পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করলে পরিবর্তনটি স্পষ্ট। দখলদ্বার ইসরাইলের প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরিতে ভূমিকা রাখা বেলফোর ঘোষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যুক্তরাজ্য সম্প্রতি অবৈধ বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনের অভিযোগও তুলেছেন। গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) পশ্চিম তীরে তাইবেহ গ্রামের কাছে ফিলিস্তিনি জলপাইচাষিদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া বেলজিয়াম, ফ্রান্স ও পোল্যান্ডের ইউরোপীয় কূটনৈতিক ও কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালান একদল ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী। এর আগের দিন রামাল্লার উত্তরে এক মার্কিন সাংবাদিকের ওপর হামলা হয়েছিল। এসব ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক নিন্দা জানানো হয়। আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলের নির্বাচন। তবে দেশটির সঙ্গে ইউরোপের ক্ষতিগ্রস্ত সম্পর্ক পুরোপুরি মেরামত করা সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বিশ্লেষকদের। তাদের মতে, নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, ফিলিস্তিনিদের পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। নির্বাচনের ফলে কি বদলাবে ইউরোপ-ইসরাইল সম্পর্ক লন্ডনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক ইয়োসি মেকেলবার্গ বলেন, নেতানিয়াহু যদি কট্টর ডানপন্থিদের নিয়ে আবারও সরকার গঠন করেন, তাহলে কিছু বিষয় অপরিবর্তনীয় হয়ে উঠতে পারে। এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক নিকোলা পেরুজিনিও সতর্ক করেছেন। তার মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত নেতা নেতানিয়াহু আবার ক্ষমতায় ফিরলে গাজার মানুষকে বসবাসের অযোগ্য পরিস্থিতির মধ্যেই থাকতে হতে পারে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহু যদি তুলনামূলক উদারপন্থি দলগুলোকে নিয়ে সরকার গঠন করেন, তাহলে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণের গতি কমতে পারে। কিন্তু আইসিসির গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত কোনো প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় থাকলে ইউরোপের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্কের আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর বিদায় মানেই ইউরোপের সমালোচনার কারণ হয়ে ওঠা নীতিগুলোর অবসান নয়। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত মধ্যপন্থি ইয়াশার পার্টির নেতা ও ইসরাইলের সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকটও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছেন। ইসরাইলের মিটভিম ইনস্টিটিউটের গত বছরের এক জনমত জরিপে দেখা যায়, দেশটির ৬৭ শতাংশ মানুষ ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) বন্ধু নয়, বরং প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখেন। বিপরীতে মাত্র ১৪ শতাংশ ইইউকে বন্ধু মনে করেন। তবে মেকেলবার্গ মনে করেন, তুলনামূলক উদারপন্থি সরকার ক্ষমতায় এলে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কের ধরনে পরিবর্তন আসতে পারে। তিনি বলেন, ‘ইউরোপের সঙ্গে আলোচনা আরও যুক্তিসংগত ও বাস্তবসম্মত হবে। ’ তবে রাতারাতি পরিস্থিতি বদলে যাবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকার গঠিত হলে ফিলিস্তিনিদের জন্য আরও বেশি মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের গতি কমতে পারে এবং ই১ নামের বিতর্কিত বসতি পরিকল্পনা বাতিলও হতে পারে। তবে চ্যাথাম হাউসের সহযোগী ফেলো জুলি এম নরম্যানের মতে, ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে এসব পদক্ষেপই যথেষ্ট হবে না। ইউরোপীয় সরকারগুলো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং দখলদারত্বের অবসানের দিকে ইসরাইলের বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চাইবে। জনমতের চাপে বদলাচ্ছে ইউরোপের অবস্থান গাজায় যুদ্ধের শুরুর দিকে পশ্চিমা নেতারা ইসরাইলের সামরিক অভিযানকে সমর্থন দিয়েছিলেন। কিন্তু গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে সহিংসতা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকায় বিভিন্ন দেশের সরকারকে অবস্থান পরিবর্তনের চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। নাগরিক অধিকার সংগঠন, আন্তর্জাতিক আদালত, শ্রমিক ইউনিয়ন, পেশাজীবী সংগঠন এবং বিশ্বজুড়ে লাখো মানুষের বিক্ষোভ—সব মিলিয়ে ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে চাপ বাড়তে থাকে। লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবাধিকার আইনের অধ্যাপক নেভে গর্ডন আল–জাজিরাকে বলেন, ‘এখন কয়েকটি দেশের শাসকগোষ্ঠী জনমতের সঙ্গে নিজেদের অবস্থান মেলানোর চেষ্টা করছে। ’ তার মতে, ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলন সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য ও প্রচলিত রাজনৈতিক অবস্থানের ধারণায় পরিবর্তন এনেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপেও ইউরোপের কয়েকটি দেশে ইসরাইল সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব বাড়ার চিত্র উঠে এসেছে। যুক্তরাজ্যে ২০২৫ সালের বসন্ত থেকে চলতি বছরের বসন্ত পর্যন্ত ইসরাইল সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব পোষণকারীর হার ৬১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৯ শতাংশ হয়েছে। ইতালিতে এই হার ৬৬ থেকে বেড়ে ৭৫ শতাংশ এবং জার্মানিতে ৬৪ থেকে ৭৩ শতাংশে পৌঁছেছে। জার্মানি ইসরাইলের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র। তবে ইউরোপে ইসরাইলের প্রতি সমর্থন পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জানিনা ডিল বলেন, জার্মানির পরপর দুটি সরকার ইসরায়েলকে কূটনৈতিক ও বস্তুগত সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে নিজেদের অবস্থানের যথার্থ সমালোচনা সত্ত্বেও পদক্ষেপ নিতে অনিচ্ছুক থেকেছে। মেকেলবার্গের মতে, ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করতে হলে শান্তিপ্রক্রিয়ার দিকে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে এবং ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে হবে। এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলেও এত দিনে সৃষ্ট ক্ষত সহজে মুছে যাবে না। সূত্র: আলজাজিরা