ব্যাবসা-বাণিজ্য

জাপানে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে অস্বস্তি: মূল্যস্ফীতি সত্ত্বেও পণ্যের দাম বাড়াতে হিমশিম খাচ্ছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জাপানের ‘সাশ্রয়ী মূল্যের প্রতীক’ হিসেবে পরিচিত পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ইউনিক্লো গত মাসে তাদের সাধারণ মোজার দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু এ সিদ্ধান্তের পর ক্রেতাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিলে দ্রুতই আগের অবস্থানে ফিরে যেতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি।

 

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

 

এর আগে ইতালীয় ধাঁচের পারিবারিক রেস্তোরাঁ চেইন সাইজেরিয়া তাদের জনপ্রিয় খাবার ‘মিলানিজ ডোরিয়া’র দাম ২০ ইয়েন (প্রায় ১৩ সেন্ট) বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রায় ক্ষমা চাওয়ার সুরে বিবৃতি দেয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি মূল্যবৃদ্ধির জন্য নিজেদের যথেষ্ট চেষ্টা না করার বিষয়টিও স্বীকার করে।

 

বিশ্বের অন্যতম পরিচিত পোশাক ব্র্যান্ডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এমন প্রকাশ্য অস্বস্তি থেকে বোঝা যায়, মূল্যস্ফীতির কারণে উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় জাপানের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো কতটা চাপে রয়েছে। কয়েক দশকের মূল্যহ্রাসের অভিজ্ঞতায় দেশটির ক্রেতাদের মধ্যে পণ্যের দাম বাড়ানোর বিষয়ে একধরনের অনীহা তৈরি হয়েছে।

 

গত মাসে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ব্যাংক অব জাপান) ঘোষণা দেয়, দেশটির মূল্যস্ফীতির হার নির্ধারিত ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছেছে। এর আগে টানা ১৩ বছর দেশটিতে অত্যন্ত শিথিল মুদ্রানীতি অনুসরণ করা হয়েছে।

 

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের ২০১৩ সালে ঘোষিত অর্থনৈতিক পদক্ষেপ এবং পরবর্তী সরকারগুলোর অব্যাহত প্রচেষ্টার উদ্দেশ্য ছিল ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে চলতে থাকা দীর্ঘমেয়াদি মূল্যহ্রাসের প্রবণতা কাটিয়ে ওঠা।

 

তবে ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানিসংকট তৈরি হওয়ার পরই জাপানে মূল্যস্ফীতি বাড়তে শুরু করে। প্রাকৃতিক সম্পদে সীমিত জাপান আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

 

পরবর্তী সময়ে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি কমে যায়। এর প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায়। ফলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয় আরও বেড়ে যায়।

 

- ক্রেতাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ-

 

বিশ্বের অধিকাংশ দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বাড়তি ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পণ্যের দাম বাড়াতে পারলেও জাপানের প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ ক্ষেত্রে ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। দেশটিতে পণ্যের দাম বাড়ানোকে অনেক ক্রেতা এখনো নেতিবাচকভাবে দেখেন।

 

ক্রেতাদের অসন্তুষ্টির আশঙ্কায় বড় ও ছোট—সব ধরনের প্রতিষ্ঠানই প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্যের দাম বাড়াতে দ্বিধায় রয়েছে।

 

বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া আরও কঠিন। কারণ, এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা অনেকাংশে দীর্ঘদিনের নিয়মিত ক্রেতাদের ওপর নির্ভরশীল।

 

জাপানের পশ্চিমাঞ্চলীয় ওকায়ামা এলাকার ৬৮ বছর বয়সী রামেন দোকানের মালিক সাচি উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয় ক্রমাগত বাড়লেও এখনো খাবারের দাম বাড়াননি।

 

সম্প্রতি টোকিও সফরকালে এএফপিকে তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করে যদি ২০০ ইয়েন দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিই, তাহলে বছরের পর বছর ধরে যাঁরা আমার দোকানকে সমর্থন দিয়ে আসছেন, তাদের কাছে নিজেকে অপরাধী মনে হবে। তাদের কাছে দুঃখিতও মনে হবে।’

 

তিনি বলেন, ‘তাই আমার চিন্তা হলো, আমি নিজেই কষ্ট করে পরিস্থিতি সামলে নেব। আমার ধারণা, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীই এভাবে চিন্তা করেন।’

 

স্থানীয় গণমাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যের ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেদের ভাবমূর্তি ধরে রাখতেই ইউনিক্লো মোজার দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।

 

অন্যদিকে, সাইজেরিয়া তাদের জনপ্রিয় ডোরিয়াসহ মেন্যুর প্রায় সব খাবারের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে এমন একটি বিবৃতি দেয়, যাকে অনেকেই নিজেদের প্রতি অতিরিক্ত কঠোর সমালোচনা হিসেবে দেখেছেন।

 

এমনকি প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট এক সংবাদ সম্মেলনে ভবিষ্যতে দাম আবার কমানোর সম্ভাব্য সব ওপায় খুঁজে দেখার অঙ্গীকার করেন। তার এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের বিস্মিত করে।

 

তবে প্রতিষ্ঠানটি অন্যান্য কিছু পণ্যের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে। এর মধ্যে প্রতি গ্লাস মাত্র ১০০ ইয়েনের ওয়াইনও রয়েছে। এ বিষয়ে সাইজেরিয়ার জনসংযোগ বিভাগ এএফপিকে জানায়, ‘আমরা চাই মানুষ যেন সহজেই এটি উপভোগ করতে পারেন।’

 

‘অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে’

 

নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় জাপানের পরিবারগুলোর হাতে অন্যান্য পণ্য কেনা কিংবা রেস্তোরাঁয় খাওয়ার জন্য আগের তুলনায় কম অর্থ থাকছে। অন্যদিকে, এসব খাতের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও শ্রমিকের মজুরি ও কাঁচামালের বাড়তি ব্যয়ের চাপে রয়েছে।

 

যদিও দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, জাপানে প্রকৃত মজুরি টানা আট মাস ধরে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে।

 

টোকিওর এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী কাজুহিকো সাতো বলেন, ‘খাদ্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। তাই এখন আমাকে বিদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর আগের চেয়ে বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে। কারণ, দেশে উৎপাদিত পণ্যের দাম আরও বেশি।’

 

তিনি বলেন, ‘এ কারণে বাইরে খাওয়াদাওয়াও কমিয়ে দিয়েছি।’

 

পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত। দেশটিতে ঋণের সুদের হার ৩০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ভবিষ্যতে তা আরও বাড়তে পারে।

 

টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সুতোমু ওয়াতানাবে বলেন, ‘মজুরি বৃদ্ধি এখনো প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। তাছাড়া এ সুবিধা সবাই পাচ্ছেন না।’

 

তিনি এএফপিকে বলেন, জি-৭-এর অন্যান্য দেশেও মূল্যস্ফীতির হার জাপানের সমান কিংবা তার চেয়ে বেশি। তবে সেসব দেশে মজুরি তুলনামূলকভাবে যথেষ্ট বেড়েছে। ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও ব্যয় করার প্রবণতা তেমন দুর্বল হয়নি।

 

অর্থনীতিবিদের মতে, জাপানের সঙ্গে অন্য দেশগুলোর মূল পার্থক্য এখানেই। কয়েক দশকের মূল্যহ্রাসের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে দেশটির অর্থনীতি।

 

তিনি বলেন, জাপানে পণ্যের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে এখনো ক্রেতাদের মনোভাবই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় বিবেচ্য বিষয়।

 

ওয়াতানাবে মনে করেন, মজুরি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ার ফলে দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতিকে স্বাভাবিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা হিসেবে মেনে নিতে জাপানের ক্রেতাদের মানসিকতা পরিবর্তনে আরও তিন থেকে চার বছর সময় লাগতে পারে।

 

তিনি বলেন, ‘টানা ৩০ বছর মূল্যহ্রাসের পরিস্থিতিতে থাকার পর সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অভ্যস্ত হতে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা সময় প্রয়োজন।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ব্যাবসা-বাণিজ্য

আরও দেখুন
বিলাসবহুল সেবা বাড়িয়ে মুনাফা বৃদ্ধির আশা বিমান সংস্থাগুলোর

বিলাসবহুল আসন সংযোজন, মিশেলিন তারকাখচিত রেস্তোরাঁর শেফদের দিয়ে বিশেষ খাবারের মেন্যু তৈরি এবং বিমানবন্দরে অভিজাত যাত্রীদের জন্য আধুনিক লাউঞ্জ নির্মাণ করছে বিভিন্ন বিমান সংস্থা। ভ্রমণকারীদের মধ্যে উন্নত ও বিলাসবহুল সেবার চাহিদা বাড়তে থাকায় এ খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে ভবিষ্যতে মুনাফা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে তারা।   খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।   এ কৌশলের ফলে বিভিন্ন ফ্লাইটে সাধারণ বা ইকোনমি শ্রেণির আসনের সংখ্যা আরও কমে আসতে পারে। বিমান সংস্থাগুলোর ধারণা, ভবিষ্যতে প্রায় ৭০ শতাংশ যাত্রীই বাড়তি সুবিধাসম্পন্ন আসন কিংবা বিজনেস ও ফার্স্ট ক্লাসের মতো উন্নত সেবা বেছে নেবেন।   ইরান যুদ্ধের কারণে উড়োজাহাজের জ্বালানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে বিমান সংস্থাগুলো মনে করছে, যাত্রীদের কাছে উন্নত সেবা বিক্রির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে ভালো মুনাফা অর্জন সম্ভব।   পারডিউ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং বিমান পরিবহন অর্থনীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ভলোদিমির বিলটকা বলেন, একটি বিজনেস ক্লাসের আসনের জন্য সাধারণ ইকোনমি ক্লাসের চারটি আসনের সমপরিমাণ জায়গা প্রয়োজন হতে পারে। অথচ বিজনেস ক্লাসের প্রতিটি আসনের ভাড়া সাধারণ আসনের তুলনায় পাঁচ থেকে ছয় গুণ বেশি নির্ধারণ করা যায়।   তিনি এএফপিকে বলেন, ‘বিমান সংস্থাগুলো ঐতিহ্যগতভাবেই উন্নত ও বিলাসবহুল সেবায় উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করে আসছে। কারণ, এসব সেবা থেকে মুনাফার হার অনেক বেশি।’   সাম্প্রতিক প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান এয়ারলাইনস জানিয়েছে, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় তাদের প্রিমিয়াম শ্রেণির টিকিট বিক্রি থেকে আয় বেড়েছে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ। এ প্রবৃদ্ধি সাধারণ কেবিনের আয়ের প্রবৃদ্ধির চেয়ে চার শতাংশ বেশি।   বিমান সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলেন, উড়োজাহাজের জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে ভ্রমণ খাতে নানা জটিলতা তৈরি হলেও প্রিমিয়াম সেবার আয় প্রতিষ্ঠানটির জন্য ইতিবাচক দিক হয়ে উঠেছে।   আমেরিকান এয়ারলাইনস জানায়, বর্তমানে তাদের মোট আসনের প্রায় ৩০ শতাংশ প্রিমিয়াম শ্রেণির হলেও এসব আসন থেকে টিকিট বিক্রির মোট আয়ের প্রায় অর্ধেক আসে।   সাধারণ কেবিন ও বিজনেস ক্লাসের প্রচলিত পার্থক্যের বাইরেও এখন যাত্রীরা বাড়তি পায়ের জায়গা কিংবা উড়োজাহাজের সামনের দিকে বসে সবার আগে নামার সুবিধার জন্য সর্বোচ্চ ২০০ ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করছেন।   গত জুলাইয়ে ইউনাইটেড এয়ারলাইনস ‘ইকোনমি প্লাস’ নামে নতুন একটি সেবা চালুর ঘোষণা দেয়। এ সুবিধার আওতায় যাত্রীরা পাশাপাশি তিনটি আসনের মাঝের আসনটি খালি রাখার সুযোগ পাবেন। ২০২৬ সালের শেষ দিকে কয়েকটি ফ্লাইটে পরীক্ষামূলকভাবে এ সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।   অন্যদিকে, গত সেপ্টেম্বরে জেটব্লু অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ‘ব্লুফার্স্ট’ নামে নতুন ফার্স্ট ক্লাস সেবা চালুর ঘোষণা দেয়।   জেটব্লুর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জোয়ানা গেরাঘটি বলেন, ‘যাত্রীরা এখন আগের তুলনায় উন্নত ও বিলাসবহুল ভ্রমণ অভিজ্ঞতার প্রতি বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছেন।’   প্রিমিয়াম আসনের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে   ভ্রমণবিষয়ক সংবাদমাধ্যম স্কিফটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটগুলোতে প্রিমিয়াম আসনের সংখ্যা ৩৩ শতাংশ বেড়েছে। এ প্রবৃদ্ধি সাধারণ আসনের বৃদ্ধির হারের দ্বিগুণেরও বেশি।   ইউনাইটেড এয়ারলাইনস এএফপিকে জানিয়েছে, ২০১৫ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে তাদের প্রিমিয়াম আসনের সক্ষমতা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। ভবিষ্যতে আরও বাড়তি সুবিধাসম্পন্ন আসন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। এর মধ্যে যাত্রীদের কনুই রাখার জন্য অতিরিক্ত জায়গাসম্পন্ন আসনও রয়েছে।   ডেল্টা এয়ারলাইনস তাদের ‘ডেল্টাওয়ান’ সেবায় নতুন করে বিনিয়োগ করেছে। এ সেবায় থাকছে উন্নতমানের ওয়াইন, ওয়াগিউ বার্গারের মতো বিশেষ খাবার এবং বিনোদনের জন্য বড় পর্দা।   খাবারের মেন্যু তৈরিতে ডেল্টা যুক্তরাজ্যের মিশেলিন তারকাখচিত রেস্তোরাঁর শেফ সাইমন হালস্টোন এবং পুরস্কারপ্রাপ্ত সোমেলিয়ার আন্দ্রেয়া রবিনসনের সঙ্গে অংশীদারত্ব করেছে।   প্রতিষ্ঠানটি তাদের নতুন এ সেবা এয়ারবাস এ৩৫০ মডেলের উড়োজাহাজে চালুর পরিকল্পনা করছে। এসব উড়োজাহাজে প্রায় ১৫০টি প্রিমিয়াম আসন এবং ১৬১টি ইকোনমি শ্রেণির আসন থাকবে।   ডেল্টার অনবোর্ড স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড এক্সপেরিয়েন্স বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একরেম দিমবিলোগলু বলেন, ‘২০ বছর আগে উড়োজাহাজের ৯০ শতাংশ আসনই ছিল সাধারণ কেবিনের।’   তিনি জানান, ডেল্টার কোনো কোনো ফ্লাইটে অদূর ভবিষ্যতে প্রিমিয়াম আসনের সংখ্যা মোট আসনের ৭০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।   তবে এখন পর্যন্ত কোনো বড় বিমান সংস্থা পুরোপুরি ইকোনমি শ্রেণির আসন বাদ দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেনি।   গত অক্টোবরে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ঘোষণা দেয়, তাদের দুই তলাবিশিষ্ট এ৩৮০ উড়োজাহাজের ওপরের তলায় শুধু প্রিমিয়াম শ্রেণির আসন রাখা হবে।   পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের তিনটি প্রধান বিমান সংস্থা জোট—স্কাইটিম, ওয়ানওয়ার্ল্ড ও স্টার অ্যালায়েন্স এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিমান সংস্থাগুলোর মোট আসনের মধ্যে বর্তমানে প্রিমিয়াম আসনের হার ১৯ শতাংশ। ২০১৯ সালে এ হার ছিল ১৭ দশমিক ১ শতাংশ।   প্রিমিয়াম সেবার আওতায় আরও যুক্ত হচ্ছে ফ্লাইটে ওঠার আগেই পছন্দমতো খাবার বেছে নেওয়া এবং বিনা মূল্যে ওয়াই-ফাই ব্যবহারের সুবিধা।   এ ছাড়া বিভিন্ন বিমান সংস্থা নতুন ও আধুনিক যাত্রী লাউঞ্জ নির্মাণ এবং পুরোনো লাউঞ্জের সৌন্দর্যবর্ধনে বিনিয়োগ করছে। একসময় স্বল্পমূল্যের সেবার জন্য পরিচিত সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইনসও এ ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে।   তবে বিমান সংস্থাগুলোর এভাবে উচ্চমূল্যের সেবা গ্রহণে সক্ষম যাত্রীদের প্রতি বেশি মনোযোগী হয়ে ওঠার ফলে স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থাগুলোর জন্য নতুন বাজারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। যদিও জ্বালানির বাড়তি দাম সব বিমান সংস্থার জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০৮, ২০২৬

জাপানে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে অস্বস্তি: মূল্যস্ফীতি সত্ত্বেও পণ্যের দাম বাড়াতে হিমশিম খাচ্ছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান

ছবি: সংগৃহীত

এনবিআরের ঢালাও ব্যাংক হিসাব জব্দ, উৎকণ্ঠায় ব্যবসায়ী মহল

ছবি: সংগৃহীত

সবজির পর এবার কমল ডিমের দাম, স্বস্তিতে ক্রেতারা

ন্যুনতম মজুরি বোর্ডের দ্বিতীয় সভার তারিখ নির্ধারণ

তৈরি পোশাক (গার্মেন্টস) শিল্পে কর্মরত সব শ্রেণির শ্রমিক ও কর্মচারীর নিম্নতম মজুরি নির্ধারণের সুপারিশ প্রণয়নে আগামী ৯ নভেম্বর দ্বিতীয় সভা করবে নিম্নতম মজুরি বোর্ড। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নিম্নতম মজুরি বোর্ডের শিল্প শাখা থেকে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জারি করা এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   নোটিশ অনুযায়ী, সোমবার (৯ নভেম্বর) সকাল ১১টায় রাজধানীর ৪০, সেগুনবাগিচার নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ আজাদ সুবহানী।   বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩৯ ধারা অনুযায়ী অনুষ্ঠিতব্য এ সভার প্রধান আলোচ্যসূচির মধ্যে রয়েছে গার্মেন্টস শিল্পের শ্রমিকপক্ষ ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের পৃথকভাবে নিম্নতম মজুরি হারের লিখিত প্রস্তাব দাখিল। পাশাপাশি এ শিল্পে নিযুক্ত সব শ্রেণির শ্রমিক ও কর্মচারীর নিম্নতম মজুরি হারের সুপারিশ প্রণয়ন নিয়ে আলোচনা হবে।   সভায় বোর্ডের নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলে উদ্দিন আহমদ, মালিকপক্ষের প্রতিনিধিত্বকারী সদস্য বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিত্বকারী সদস্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।   এ ছাড়া গার্মেন্টস শিল্পের মালিকপক্ষের প্রতিনিধিত্বকারী বোর্ড সদস্য ও বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিনকে সভায় মজুরি হারের প্রস্তাব দাখিলের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।   নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সচিব রাইসা আফরোজের সই করা নোটিশে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের নির্ধারিত সময়ে সভায় উপস্থিত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০৬, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে নতুন শর্ত

ছবি: সংগৃহীত

বড় দরপতনের পরদিনই বিশ্ববাজারে আবার বাড়ল তেলের দাম

খেলাপি হয়েও ৩ হাজার কোটি টাকার নতুন ঋণ পাচ্ছে সিটি গ্রুপ!

হংকংয়ে বাংলাদেশের পোশাক খাতের সক্ষমতা তুলে ধরল এইচএসবিসি ও বিজিএমইএ

আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের উৎপাদন সক্ষমতা, পণ্যের বৈচিত্র্য ও টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা তুলে ধরতে হংকংয়ে ‘বাংলাদেশ অ্যাপারেল রোডশো-২০২৬’ আয়োজন করেছে এইচএসবিসি বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।   ২৮ অক্টোবর হংকংয়ের আইল্যান্ড শাংরি-লা হোটেলে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে আন্তর্জাতিক ক্রেতা, পণ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, পোশাক প্রস্তুতকারক ও খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিসহ ১৩০ জনের বেশি প্রতিনিধি অংশ নেন।    হংকংয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের সহযোগিতায় এ আয়োজন করা হয়।    আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   রোডশোতে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা, নতুন বাজার ও পণ্য সংগ্রহের সম্ভাবনা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া পণ্যের বহুমুখীকরণ, উদ্ভাবনী প্রযুক্তির ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।   এইচএসবিসির গ্লোবাল নেটওয়ার্ক ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান অলিভার টি জোনসের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে বক্তব্য দেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং হংকংয়ে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ড. শাহ মোহাম্মদ তানভীর মনসুর।   অনুষ্ঠানে মোহাম্মদী গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. রুবানা হক ‘হোয়াই বাংলাদেশ: লেগ্যাসি অ্যান্ড দ্য ফিউচার’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ধারাবাহিক পরিবর্তন, অর্জন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।   রোডশোতে ‘কেন বাংলাদেশ থেকে পণ্য সংগ্রহ করবেন’ এবং ‘ক্রেতাদের দৃষ্টিকোণ থেকে’ শীর্ষক দু’টি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে এইচএসবিসি, বিজিএমইএ, আন্তর্জাতিক পণ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান ও শিল্প বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।   আলোচনায় বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা, ক্রেতাদের প্রত্যাশা, পরিবেশগত মানদণ্ড, পণ্য সংগ্রহের নতুন প্রবণতা এবং আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে দেশীয় প্রস্তুতকারকদের অংশীদারিত্ব জোরদারের বিষয় উঠে আসে।   এ ছাড়া ‘দ্য বাংলাদেশ কালেক্টিভ’ শীর্ষক বিশেষ প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের পোশাকের বৈচিত্র্য, উদ্ভাবন ও আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি তুলে ধরা হয়। পরে আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি করা হয়।   হংকংয়ে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ড. শাহ মোহাম্মদ তানভীর মনসুর বলেন, উৎপাদন সক্ষমতা, প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ, টেকসই উৎপাদনে অগ্রগতি এবং কৌশলগত বাণিজ্য সুবিধার কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বাংলাদেশের পোশাকশিল্প নিজেদের মানিয়ে নেওয়া, উদ্ভাবন ও অগ্রগতির সক্ষমতা প্রমাণ করেছে।   এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প এখন শুধু বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং উচ্চমূল্যের পণ্য, উদ্ভাবন, টেকসই উৎপাদন ও দক্ষতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। পণ্যের বহুমুখীকরণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বৈশ্বিক পোশাকশিল্পে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ।   বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা এখন আন্তর্জাতিক ক্রেতারা সরাসরি দেখতে ও যাচাই করতে পারছেন। মূল্য সংযোজন, পণ্যের বৈচিত্র্য ও টেকসই উৎপাদনের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে তিনি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।   এইচএসবিসি তার বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং পোশাকশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের সঙ্গে সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করতে কাজ করছে।   আন্তর্জাতিক ক্রেতা, পোশাক প্রস্তুতকারক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো, পণ্য সংগ্রহের উৎস বহুমুখী করা এবং বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির নতুন সুযোগ সৃষ্টিই এ যৌথ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০২, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র শর্ত মানলে দুই দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলতে প্রস্তুত ইরান

রাজধানীতে ৬-৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘৫ম আদিবাসী খাদ্য ও শস্য মেলা’

পার্সেলের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন শুল্ক কার্যকর

0 Comments