আন্তর্জাতিক

ইতিহাসে বিচারের মুখোমুখি হওয়া রাষ্ট্রপ্রধানরা

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ১৭, ২০২৫

গত বছর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে করা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ। তবে, ইতিহাসে তিনি একমাত্র ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী নন, রয়েছেন এমন অনেক ক্ষমতাচ্যুত সরকারপ্রধানরা। চলুন দেখে নেয়া যায় বিচারের মুখোমুখি হওয়া রাষ্ট্রপ্রধানদের পরিণতি। 

 

নিকোলাই চচেস্কু

ষাটের দশকে ঠাণ্ডা যুদ্ধ যখন তুঙ্গে, পূর্ব ইউরোপ তখন সোভিয়েত ইউনিয়নের হাতের মুঠোয়। তখন এক রাষ্ট্রনেতা রুখে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দিলেন, মস্কোর খবরদারি আর চলবে না। কমিউনিস্ট হয়েও, হাটলেন সংস্কারের পথে। দেশের মানুষ ভাবলো, এবার বুঝি মুক্তি আসছে। পশ্চিমারাও দারুণ খুশি, নতুন এক হিরো পেয়ে। কিন্তু সেই ‘হিরো’ সবার চমকে দিয়ে বনে যায় ভয়ঙ্কর এক ভিলেন। ইতিহাসের অন্যতম বিভীষিকাময় স্বৈরশাসক। সেই নেতার নাম নিকোলাই চচেস্কু।

চচেস্কু ১৯৬৫ সালে ক্ষমতায় আসেন। কয়েক বছরের মধ্যেই ক্ষমতা তাকে পরিবর্তন করতে শুরু করে। ১৯৭১ সালে উত্তর কোরিয়া এবং চীন সফরে গিয়ে কিম ইল সুং ও মাও সেতুং-এর শাসনধারা দেখে তিনি প্রভাবিত হন। এরপর রোমানিয়ায়ও একই ধরনের কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা ও কঠোর নিয়ন্ত্রণ চালু করেন। নিজের এবং স্ত্রী এলেনার পক্ষে ব্যক্তিপূজা শুরু হয়—স্কুলের বই থেকে শুরু করে শহরের বিশাল মূর্তি পর্যন্ত সব জায়গায়।

দেশের গোয়েন্দা সংস্থা ‘সিকিউরিটেট’ ছিল তার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। জনসংখ্যার প্রতি ৪৩ জনের একজন এজেন্ট বা ইনফর্মার ছিলেন। তারা শুধু ফোন, চিঠি বা কথোপকথনই নজরদারি করত না, পরিবারের সদস্যদের ওপরও নজর রাখত। ডাক্তাররা রোগীদের গোপনে রেকর্ড করতে বাধ্য হন, শিশুরা স্কুলে কী বলছে তা রিপোর্ট করা হতো। এর ফলে দেশজুড়ে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়।

অর্থনীতিও পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছিল। চচেস্কু ব্যয়বহুল উন্নয়ন প্রকল্পে বিপুল ঋণ নেন, কিন্তু প্রকল্পগুলো প্রায় কোন কাজের ফল দেয়নি। ঋণ শোধ করতে কৃষিপণ্য রপ্তানি বাড়ালে দেশের মানুষ খাদ্য ও জ্বালানি সংকটে পড়ে। সাধারণ মানুষ প্রতিদিন রুটির জন্য লম্বা লাইনে দাঁড়াত, কিন্তু চচেস্কু নির্বিকার থাকতেন।

১৯৮৯ সালের ডিসেম্বর, টিমিসোয়ারা শহরে এক পাদ্রী লাস্লো টোকেশ ধর্মীয় স্বাধীনতার দাবি তোলেন। তাকে গ্রেপ্তার করলে জনতা ক্ষুব্ধ হয়। ১৫ ডিসেম্বর তারা সড়কে নামলে পুলিশি নিপীড়ন শুরু হয়। তাতেই আন্দোলন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, সাধারণ মানুষ কমিউনিস্ট শাসনের বিরুদ্ধেই প্রতিবাদ শুরু করে। সেনারা গুলি চালাতে অস্বীকৃতি জানায়, বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে রাজধানী বুখারেস্টেও।

২১ ডিসেম্বর, চচেস্কু পরিস্থিতি সামলাতে বিশাল জনসভা ডাকেন। কিন্তু বক্তব্য শুরু হতেই জনতা স্লোগান দিতে শুরু করে। রাষ্ট্র টিভি হঠাৎ সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়। এরপর ২২ ডিসেম্বর, আরও বড় ঢলে বুখারেস্টের রাজপথ পূর্ণ হয়। সেনারা জনগণের পাশে দাঁড়ায়। চচেস্কু বাসভবনে অবস্থান করলে জনতা ইট-পাটকেল ছুঁড়ে প্রতিবাদ জানায়। অবশেষে তিনি এবং এলেনা হেলিকপ্টারে পালান, কিন্তু ধরা পড়েন।

২৫ ডিসেম্বর, উৎসবের দিন। চচেস্কু এবং এলেনাকে বুখারেস্টের এক সামরিক ঘাঁটিতে নেয়া হয়। সেখানে তড়িঘড়ি সামরিক আদালত বসানো হয়। তিনটি অভিযোগ আনা হয় তাদের বিরুদ্ধে: গণহত্যা, অর্থনীতি ধ্বংসের ষড়যন্ত্র, ও রাষ্ট্রের সম্পদ অপচয়। চচেস্কু-এলেনা বিচারকদের ভর্ৎসনা করে দাবি করেন, সব বিদেশি চক্রান্ত, তারা এখনও রোমানিয়ার বৈধ শাসক। তবে তাতে কেউ কান দেয়নি, কারণ এটা ছিল আনুষ্ঠানিকতা মাত্র, রায় তো আগে থেকেই নির্ধারিত; যার উদ্দেশ্য জনগণের প্রতিশোধের মনোভাবকে প্রশমিত করা। 

দুই ঘণ্টায় শেষ হয় বিচারকাজ। দুজনকেই মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই কয়েকজন সেনা সদস্য সেই রায় কার্যকরও করে ফেলেন। কথা ছিলো হত্যার দৃশ্য সরাসরি টিভিতে সম্প্রচার হবে। কিন্তু উত্তেজনায় ক্যামেরার জন্য অপেক্ষা না করেই গুলি চালিয়ে দেয় সেনারা। দুজনের শরীরে ১২০টি গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়। তাদের গুলিবিদ্ধ লাশের দৃশ্য ফলাও করে প্রচার হয় রাষ্ট্রীয়

এই বিচার ও মৃত্যুদণ্ডের পদ্ধতি নিয়ে সমালোচনা আছে, বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলিতে। তাদের মতে, চচেস্কুর বিচার আরও দীর্ঘ এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হওয়া উচিত ছিল। তবে রোমানিয়ার সাধারণ মানুষের কাছে এটি ছিল ন্যায়সঙ্গত প্রতিশোধ। দীর্ঘদিনের দমন-পীড়ন, দুর্নীতি, এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের প্রতিফল হিসেবে চচেস্কু এবং তার স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ডকে তারা যৌক্তিক ও জরুরি বলে মনে করেছিলেন।

সাদ্দাম হোসেন

২০০৬ সালের নভেম্বর মাসে ন'মাসব্যাপি বিচারের পর মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হয়েছিলেন ইরাকের ক্ষমতাচ্যুত শাসক সাদ্দাম হোসেন। ইরাকে ২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন অভিযানের সময় ক্ষমতাচুত হন সাদ্দাম হোসেন, আর তিনি মার্কিন সৈন্যদের হাতে ধরা পড়েছিলেন তারও প্রায় আট মাস পর।

বাগদাদের এক আদালতে অনুষ্ঠিত হয় তার বিচার । এই বিচারের সাদ্দাম হোসেনকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য যে আইনী দল দেয়া হয়েছিল - তার অংশ ছিলেন আমেরিকান র‍্যামজি ক্লার্ক।

সাদ্দাম হোসেনের বিচার হয় শিয়া-প্রধান শহর দুজাইলের এক হত্যাকান্ডের জন্য - যাতে নিহত হয়েছিলেন ১৪৮ জন লোক। ১৯৮২ সালে সাদ্দাম হোসেনকে হত্যার এক ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর এই ঘটনা ঘটেছিল।

অবশেষে, ২০০৬ সালের ৫ই নভেম্বর সাদ্দাম হোসেনকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়, এবং ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়। তাকে আপীলের অধিকার দেয়া হয়েছিল কিন্তু সে আপীল প্রত্যাখ্যাত হয়, মৃত্যুদন্ড বহাল থাকে। মৃত্যুদন্ড কার্যকর হয় ২০০৬ সালের ডিসেম্বরের ৩০ তারিখ।

হোসনি মোবারক

মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক, যিনি তিন দশকের শাসনামালে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ব্যাপক লুটপাটের অভিযোগে দীর্ঘ ‘নিষ্ফল’ বিচার প্রক্রিয়া শেষে মুক্তি পান। মোবারকের বিরুদ্ধে অনেক গুরুতর অভিযোগ আনা হলেও ছোটোখাটো একটি দুর্নীতি মামলাতেই শুধু তার সাজা হয়েছে। 

প্রথম আরব নেতা হিসেবে দেশের সাধারণ আদালতে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার সময় মোবারককে প্রাথমিকভাবে কুখ্যাত টোরা কমপ্লেক্সে বন্দি হিসেবে রাখা হয়েছিল। এরপর তাকে মাদি সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে তাহরির স্কয়ারে বিক্ষোভে পুলিশ দিয়ে ২৩৯জন আন্দোলনকারীকে হত্যা, রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে কয়েক মিলিয়ন ডলার লুট, ২০১১ সালের বিক্ষোভের সময় পুরো দেশের ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মতো গুরুতর অভিযোগ ছিল।  

হিসেন হাব্রে

আফ্রিকান রাষ্ট্র শাদ (চাদ)-এর স্বৈরাচারী শাসক হিসেন হাব্রে’র মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য ২০১২ সালে সেনেগাল ও আফ্রিকান ইউনিয়নের মধ্যকার চুক্তির মাধ্যমে সেনেগালে প্রতিষ্ঠিত হয় এক্সট্রাঅর্ডিনারী আফ্রিকান চেম্বারস। ২০১৫ সালে হিসেন হাব্রে’র বিচার শুরু হয় এবং ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত রায় দেন।

তবে, ইতিহাস সাক্ষী দেয় এমন বহু শাসক ছিলেন যারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়ে অন্যদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের বিচার হয়নি কিংবা নির্বাসনেই মারা গিয়েছেন। 

নেতাদের পালিয়ে যাওয়া বা নির্বাসন

ইউক্রেনের সাবেক প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ রাশিয়াপন্থি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। যদিও তিনি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

তার রাশিয়াপন্থি নীতির প্রতিবাদে ২০১৪ সালে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয় এবং এক পর্যায়ে বিরোধীরা রাজধানী কিয়েভ দখল করে নেয়।

তখন ইউক্রেনের পার্লামেন্ট ইয়ানুকোভিচকে বরখাস্ত করে এবং তিনি রাশিয়ায় পালিয়ে যান। তখন থেকে তিনি রাশিয়াতে অবস্থান করছেন।

এছাড়াও সিরিয়ায় দুই যুগ ধরে ক্ষমতায় ছিলেন বাশার আল-আসাদ। এর মধ্যে প্রায় এক দশক তাকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে বড় ভূমিকা পালন করে রাশিয়া।

তবে সিরিয়ায় গতবছরের ৯ ডিসেম্বর বিস্ময়কর এক ঘটনা ঘটে যায়। বিদ্রোহীদের অভিযানে বাশার আল-আসাদের পতন হয়েছে। তিনি রাশিয়ায় পালিয়ে গেছেন।

ক্রেমলিনের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে রুশ সংবাদ সংস্থা ও দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাশার আল-আসাদ ও তাঁর পরিবারকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছে মস্কো।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় মধ্যস্থতার সুযোগ, কী পাচ্ছে পাকিস্তান?

সুইজারল্যান্ডের বারগেনস্টক শহরের পাহাড়ি রিসোর্টে গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান বিন জাসিম আল থানি একসঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে কয়েক মিটার দূরে ছিলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির।   বক্তব্য দেওয়ার সময় ভ্যান্স মুনিরের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আসিম মুনির যখন এপ্রিলে ইসলামাবাদে আমাদের স্বাগত জানিয়েছিলেন, তখন আমি মজা করে বলেছিলাম-আমার জীবনে দু’জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মানুষ আছেন। একজন ভারতীয়, অন্যজন পাকিস্তানি। ভারতীয়জন আমার স্ত্রী, আর পাকিস্তানিজন ফিল্ড মার্শাল মুনির।”   ভ্যান্সের এই মন্তব্যে উপস্থিতদের মধ্যে হাসির সৃষ্টি হয়। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জানান, গত তিন মাসে তিনি অন্য যেকোনও ব্যক্তির তুলনায় মুনিরের সঙ্গে বেশি আলোচনা করেছেন। তার ভাষায়, “তার কূটনৈতিক দক্ষতা ও সামরিক নেতৃত্ব ছাড়া আমরা এখানে পৌঁছাতে পারতাম না।” মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এর আগে মুনিরের ভূমিকার প্রশংসা করেছিলেন।   তবে শুধু ওয়াশিংটন নয়, তেহরানও পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সোমবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে রাষ্ট্রীয় সফরে যান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর এটি ছিল তার প্রথম বিদেশ সফর। সফরে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে পাকিস্তানের সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান।   গত কয়েক মাসে পাকিস্তান নিজেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছে। দেশটি গোপন যোগাযোগ সহজ করেছে, ইসলামাবাদে আলোচনার আয়োজন করেছে এবং একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে কূটনৈতিক ঝুঁকি সামলেছে।   ১৮ জুন ঘোষিত শান্তি কাঠামো এবং বর্তমানে চলমান ৬০ দিনের আলোচনা প্রক্রিয়ার পেছনে পাকিস্তানের এই প্রচেষ্টার ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।   এখন ইসলামাবাদের সামনে বড় প্রশ্ন- এই কূটনৈতিক সাফল্য থেকে পাকিস্তান বাস্তবে কী লাভ করতে পারবে?   অর্থনৈতিক সুবিধার সম্ভাবনা দুর্বল অর্থনীতির জন্য পাকিস্তানের সামনে যেকোনও অর্থনৈতিক সুবিধাই গুরুত্বপূর্ণ। গত অর্থবছরে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ, যা চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে। বাজেট ঘাটতিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পরিসংখ্যানের আড়ালে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।   লাহোরভিত্তিক অর্থনীতিবিদ হিনা শেখ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতায় পাকিস্তানের অর্থনৈতিক লাভ সীমিত হতে পারে। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা হলো জ্বালানি আমদানি ব্যয় কমে যাওয়া এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে ইরান-পাকিস্তান গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প আবার আলোচনায় আসা।   তিনি বলেন, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক উন্নতির বড় অংশ এসেছে তেলের দাম ও আমদানি ব্যয় কমার কারণে, উৎপাদন খাতের বড় ধরনের সম্প্রসারণের কারণে নয়।   পাকিস্তান বর্তমানে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর ৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। ২০২৪ সালে অনুমোদিত এই কর্মসূচি দেশটির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।   বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে পাকিস্তানের উন্নত সম্পর্ক বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে, তবে কেবল কূটনৈতিক সুনাম দেশটির দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধান করবে না।   পাকিস্তানের প্রধান সমস্যা হিসেবে রয়েছে দুর্বল কর ব্যবস্থা, সীমিত রফতানি, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক কাঠামোগত দুর্বলতা।   হিনা শেখ বলেন, “কূটনৈতিক সম্পর্ক পাকিস্তানকে কিছুটা সময় ও সুযোগ দিতে পারে। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে অভ্যন্তরীণ সংস্কার দ্রুত করতে হবে।”   আঞ্চলিক সুবিধার হিসাব পাকিস্তানের নীতিনির্ধারকদের মতে, প্রকৃত লাভ সরাসরি অর্থনৈতিক সহায়তার চেয়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মাধ্যমে আসতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থায়ী সমঝোতা হলে পাকিস্তানের সঙ্গে ইরানের সীমান্ত বাণিজ্য বাড়তে পারে। বিশেষ করে বেলুচিস্তান সীমান্ত দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সীমিত থাকা বাণিজ্য কার্যক্রম পুনরায় সক্রিয় হতে পারে।   এছাড়া নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে বহু বছর ধরে স্থগিত থাকা ইরান-পাকিস্তান গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প আবার সামনে আসতে পারে।   তবে পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রভাবেরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   সৌদি আরবভিত্তিক কিং ফয়সাল সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজের গবেষক উমর করিম বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগের সংকটের সময় পাকিস্তান একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।   তার মতে, “পাকিস্তান এমন একটি অবস্থানে ছিল যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান- দুই পক্ষের কাছেই গ্রহণযোগ্য ছিল। পাশাপাশি মিসর, তুরস্ক ও সৌদি আরবের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশটি মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছে।”   তবে তিনি বলেন, পাকিস্তানের প্রভাব এখনও এতটা শক্তিশালী নয় যে, দেশটি ইরানকে বড় ছাড় দিতে বাধ্য করতে পারে বা যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের দাবি মেনে নিতে চাপ দিতে পারে।   সবচেয়ে বেশি লাভবান কে? এই কূটনৈতিক সাফল্যের আরেকটি দিক নিয়েও আলোচনা চলছে-কারা সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে? বারগেনস্টকে ভ্যান্সের বক্তব্যে বিশেষভাবে আসিম মুনিরের প্রশংসা করার বিষয়টি নজর কেড়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক মাসে পাকিস্তানের সবচেয়ে দৃশ্যমান সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠান হলো দেশটির সামরিক বাহিনী।   পাকিস্তানের স্বাধীনতার প্রায় ৮০ বছরের ইতিহাসে তিন দশকেরও বেশি সময় সরাসরি সামরিক শাসনের অধীনে ছিল। বর্তমানে দেশটির রাজনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে সেনাবাহিনীর প্রভাব অত্যন্ত শক্তিশালী।   সমালোচকদের মতে, মুনির কার্যত দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় ভূমিকা রাখছেন।   তবে দেশের অভ্যন্তরে প্রশ্ন রয়েছে- এই কূটনৈতিক সাফল্যের অর্থনৈতিক সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে কি না।   বিশেষ করে বেলুচিস্তান প্রদেশের দিকে নজর রয়েছে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্য, উন্নয়ন সংকট এবং সশস্ত্র বিদ্রোহের সমস্যা রয়েছে।   প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার তুঘরাল ইয়ামিন বলেন, বেলুচিস্তানের মানুষ যদি অর্থনৈতিক সুবিধা পায়, তাহলে সেখানকার সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা সহজ হবে।   তিনি বলেন, “আমরা বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। তবে অতীতে অনেক সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে।”   সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতায় পাকিস্তানের ভূমিকা দেশটির আন্তর্জাতিক অবস্থান শক্তিশালী করেছে। তবে এই কূটনৈতিক সাফল্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে কি না- সেটিই এখন বড় পরীক্ষা।  সূত্র: আল-জাজিরা

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সরকার পরিবর্তনের পর প্রথমবার ভারতীয় ট্রেন কোচ আসছে দেশে

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি: সংগৃহীত

ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি না থাকলে ইরানের অবস্থাও গাজার মতো হতো : পেজেশকিয়ান

ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বযুদ্ধ প্রতিরোধে পারমাণবিক অস্ত্রই প্রধান ভরসা : রাশিয়া

মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মূল কারণ ইসরাইল : গালিবাফ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট ও যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য সরাসরি ইসরাইলকে দায়ী করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও দেশটির শীর্ষ পরমাণু আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। একই সঙ্গে চলমান যুদ্ধের ফলে ওই অঞ্চলে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের একক আধিপত্য বা ‘হেজেমনি’ ভেঙে পড়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।   তুরস্কের সংসদীয় স্পিকারের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে গালিবাফ মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনীতি নিয়ে ইরানের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বাস্তবতায় মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক মেলবন্ধন ও ‘ঐক্য’ বজায় রাখা এখন কোনো সাধারণ পছন্দ নয়, বরং এটি একটি ‘অপরিহার্য প্রয়োজনীয়তায়’ পরিণত হয়েছে।   ইরানি এই শীর্ষ কর্মকর্তা আঞ্চলিক শক্তিগুলোর আত্মনির্ভরশীলতার ওপর জোর দিয়ে বলেন, পশ্চিমা শক্তির ওপর ভরসা না করে এই অঞ্চলের দেশগুলোকে এখন নিজেদের সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে একটি নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থা বা নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে হবে। চলমান সংঘাতের পর তৈরি হওয়া নতুন বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে মুসলিম দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ অবস্থানই মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সূত্র: আল-জাজিরা।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

এপস্টেইন তদন্তে নতুন তথ্য: তিন নারীর সঙ্গে সম্পর্কের কথা স্বীকার গেটসের

ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করতে প্রস্তুত রাশিয়া: পুতিন

ছবি: সংগৃহীত

ইরান ইস্যুতে কংগ্রেসের পদক্ষেপ অর্থহীন, বললেন ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত
উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার দ্রুত বাড়াচ্ছেন কিম জং-উন

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন বলেছেন, দেশের পারমাণবিক শক্তি দ্রুত বাড়ানো এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের হুমকি মোকাবিলায় এই নীতি প্রয়োজন। তিনি জানান, উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার “অস্বাভাবিক দ্রুত গতিতে” বাড়াবে। দেশটি যুদ্ধজাহাজেও পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। কিম জং-উন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক জোটের কারণে দেশটি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই প্রতিরক্ষা শক্তি আরও বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই। বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়া এখন এমন একটি বড় ও ছড়িয়ে থাকা পারমাণবিক ব্যবস্থা তৈরি করছে, যাতে একবার হামলা হলেও পুরো ক্ষমতা ধ্বংস করা না যায়। তারা বলছেন, দেশটি রেল, সড়ক, সাবমেরিন এবং ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা শক্তিশালী করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সাম্প্রতিক ইরান সংকট উত্তর কোরিয়াকে আরও সতর্ক করেছে। তাদের ধারণা, পারমাণবিক অস্ত্র না থাকলে কোনো দেশ বড় ধরনের হামলার ঝুঁকিতে পড়ে। উত্তর কোরিয়া দাবি করছে, তাদের অস্ত্রভাণ্ডার তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এটি আরও বাড়ানো হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের প্রতিরক্ষা নিয়ে আলোচনার সুযোগ নেই: পেজেশকিয়ান

ছবি: সংগৃহীত

ইরানে এখনই পরিদর্শক পাঠানোর কোনো তাড়া নেই: ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নয়, মার্কিন সিনেটে প্রস্তাব পাস

0 Comments