ইতালিতে ভালো ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হতো লাখ লাখ টাকা। কিন্তু তাদের নিয়ে যাওয়া হতো শ্রীলঙ্কা, মিশর বা অন্য কোনো দেশে। সেখানে আটকে রেখে করা হতো অকথ্য নির্যাতন, বাধ্য করা হতো দেহব্যবসায়। অবশেষে আন্তর্জাতিক এই মানবপাচার চক্রের অন্যতম মূলহোতা মোহাম্মদ আরজু রহমানকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-এসআরবি।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে এসআরবি-৪ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান এসব তথ্য জানান।
এর আগে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে রাজধানীর বনানীর সি ব্লক এলাকা থেকে এসআরবি-৪ ও এসআরবি-১ এর যৌথ অভিযানে আরজু গ্রেফতার করা হয়।
এসআরবি জানায়, ঘটনার সূত্রপাত ১৬ জুলাই। মিশর থেকে কামরুন নাহার ফাতেমা নামের এক ভুক্তভোগী এনএসআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি জানান, ইউরোপে নেওয়ার কথা বলে তাকে মিশরে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এসআরবি জানায়, ফাতেমা ও তার পরিবারের মোট পাঁচজন সদস্যকে ইতালি নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়ে ৮৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় আরজু। প্রথমে বলা হয় বাংলাদেশ থেকে সরাসরি ভিসা পাওয়া সম্ভব নয়, তাই তাদের শ্রীলঙ্কায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের ওপর নির্যাতন শুরু হলে কোনোমতে পালিয়ে দেশে ফেরত আসেন পরিবারের তিন পুরুষ সদস্য। কিন্তু আটকা পড়েন ফাতেমা ও আঞ্জুমান আরা নামের দুই নারী।
আঞ্জুমান আরা শ্রীলঙ্কাতেই পালিয়ে কোনোমতে আত্মগোপনে থাকেন, আর ফাতেমাকে ইতালির মিশরীয় দূতাবাস থেকে ভিসা করানোর মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে মিশরে নিয়ে যাওয়া হয়। মিশরে নিয়ে যাওয়ার পর ফাতেমার ওপর নেমে আসে চরম নির্যাতন। সেখানে তাকে বাধ্য করা হয় দেহব্যবসায়ে। তিনি এতে রাজি না হওয়ায় শরীরে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়াসহ চালানো হয় ভয়াবহ শারীরিক অত্যাচার।
১২ বছরে ২ হাজার মানুষকে পাচার
এসআরবি জানায়, গ্রেফতার আরজু গত ১২ বছর ধরে এই পাচারকাজের সঙ্গে যুক্ত এবং সে এ পর্যন্ত দুই হাজারেরও বেশি সরল-সহজ মানুষকে ইউরোপের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন দেশে পাচার ও বিক্রি করে দিয়েছে। সে ‘আরজু ইমিগ্রেশন লিমিটেড’ ও ‘নাফিস এয়ার ইমিগ্রেশন লিমিটেড’ নামের ভুয়া নাম ব্যবহার করত, যদিও তার নিজস্ব কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই। আরজুর ব্যবহৃত মোবাইলে পাওয়া ব্যাংক স্টেটমেন্টে গত এক বছরে প্রায় এক কোটি ৭০ লাখ টাকার বেশি আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
দীর্ঘদিন ধরে মিশরে অবস্থান করা আরজু ৩-৪ দিন আগে বাংলাদেশে আসে এবং অতি সম্প্রতি পুনরায় মিসরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিল। এনএসআই ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ট্র্যাকিং এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বনানী থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
শ্রীলঙ্কা থেকে পালিয়ে আসা তিন ভুক্তভোগী ইতিমধ্যে ভাটারা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। সেই মামলায় আরজুকে গ্রেফতার দেখিয়ে ভাটারা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া ভুক্তভোগীরা যোগাযোগের পর দেশের বিভিন্ন থানায় আরজুর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেও জানিয়েছে এসআরবি।
এসআরবি-৪ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান জানান, শ্রীলঙ্কায় আত্মগোপনে থাকা আঞ্জুমান আরা এবং মিসরে থাকা কামরুন নাহার ফাতেমাকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের ক্রমবর্ধমান ভ্রমণ চাহিদা পূরণ এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বাড়াতে চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে তুরস্কে সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়টি বিবেচনার জন্য দেশটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। আজ বুধবার মন্ত্রণালয়ে তার নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস শেনের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ প্রস্তাব দেন। মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তুরস্কের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। বৈঠকে রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে অধিকাংশের বাড়ি চট্টগ্রাম ও সিলেটে। তাদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের প্রয়োজন অনেক বেশি। এই দুই বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ আরও সহজ হবে এবং বাংলাদেশ ও তুরস্কের জনগণের মধ্যকার যোগাযোগ আরও জোরদার হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তুর্কী প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন তুরস্ক দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর বিলাল বেলইউর্ট এবং বাংলাদেশে টার্কিশ এয়ারলাইনসের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইসলাম গুরে। বৈঠকে দুই দেশের বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। ঢাকা-ইস্তাম্বুল রুটে টার্কিশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়াতে তুরস্কের আগ্রহকেও মন্ত্রী স্বাগত জানান। বর্তমানে টার্কিশ এয়ারলাইনস ঢাকা-ইস্তাম্বুল রুটে সপ্তাহে সাতটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। তুরস্কের পক্ষ থেকে এ রুটে আরও তিনটি সাপ্তাহিক ফ্লাইট চালুর আগ্রহের কথা জানানো হয়েছে। বিমান পরিবহন মন্ত্রী বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ আরও বাড়বে। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী বিমান যোগাযোগ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে সহায়তা করবে। প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী বাংলাদেশ ও তুরস্কের সম্পর্ককে ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, বিমান চলাচল, পর্যটন, সংস্কৃতি ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এম রশিদুজ্জামান বলেন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় সরকার দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটনকেন্দ্র উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যটনকেন্দ্রগুলোর ব্যবস্থাপনা এবং আতিথেয়তা সেবার মান বাড়ানোর ক্ষেত্রে সুযোগগুলো কাজে লাগাতে তুরস্কের বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানান। মন্ত্রী বলেন, পর্যটন উন্নয়ন ও আতিথেয়তা খাতে তুরস্কের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতামূলক পর্যটন শিল্প গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। বৈঠকে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়।\ ব্যবসায়িক ভ্রমণ, পর্যটন এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বাড়াতে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে মানুষের চলাচল বাড়লে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে। ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা এবং দুই দেশের মধ্যে মানুষের যোগাযোগ বাড়াতে উভয় দেশের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী। বৈঠকে উভয় পক্ষ বিমান চলাচল, পর্যটন, বিনিয়োগ এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে আগ্রহ প্রকাশ করে। তুরস্কের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব আরও জোরদারে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন মন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিমান চলাচল ও পর্যটন খাতে সহযোগিতা বাড়লে দুই দেশের জনগণই সুফল পাবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রধান ফটক থেকে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লেখা মুছে ফেলার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে হলটির নাম পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন ডাকসুর নেতারা। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলপাড়ায় ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলীর আহ্বানে প্রতিবাদ কর্মসূচি ও সংবাদ ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে বুধবার দুপুরে হলটির প্রধান ফটক থেকে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লেখাটি মুছে ফেলার কাজ শুরু হয়। সেখানে পুনরায় ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ নামটি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন জানিয়েছে, সিনেটে স্থাপনাগুলোর আগের নাম বহাল রাখার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এ কার্যক্রম চলছে। হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আল সাবা বলেন, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ওসমান হাদির মৃত্যুর পর শিক্ষার্থীদের একটি অংশ হলটির নাম তাঁর নামে রাখার দাবি জানিয়েছিলেন। তাঁদের মতে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরও হলটির নাম শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বহাল থাকা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আপত্তি রয়েছে। ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতেই তাঁরা এ বিষয়ে কথা বলছেন। তাঁর দাবি, হলটির নামের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয় জড়িয়ে যাওয়ায় কিছু শিক্ষার্থী অস্বস্তি ও হয়রানির মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি আরও বলেন, গণস্বাক্ষরের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ নাম পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে ডাকসু কোনো নির্দিষ্ট নাম চাপিয়ে দেওয়ার পক্ষে নয়; বরং শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে। মুসাদ্দিক আলীর ভাষ্য, হলটির নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট করা প্রয়োজন। এর আগে নাম পরিবর্তনের বিষয়ে সিন্ডিকেটে সুপারিশ এবং পরবর্তী সময়ে বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফোরামে আলোচনা হয়েছিল। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ করার সুপারিশ করেছিল। তবে নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। পরবর্তী সময়ে সিনেটে স্থাপনাগুলোর আগের নাম বহাল রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। হলের নাম পরিবর্তন নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভিন্নমত ও বিতর্কের প্রেক্ষাপটে ডাকসুর নেতারা বিষয়টি শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর ও রোবটিক্সসহ উদীয়মান প্রযুক্তিতে গবেষণা ও উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিতে তরুণ প্রযুক্তিবিদদের জন্য নীতিগত সহায়তার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান—এমন তথ্য জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশের নিজস্ব বাস্তব চাহিদা অনুযায়ী এআই প্ল্যাটফর্ম, ডেটাসেট ও প্রোগ্রামিং তৈরিতে তরুণদের গবেষণার গভীরতা ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে হবে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) মিলনায়তনে ‘নিপ্পন এআই দোজো ২০২৬’-এর চূড়ান্ত প্রকল্প উপস্থাপন ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এআই এখন কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ম্যানুফ্যাকচারিং ও ফ্রিল্যান্সিংসহ অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনছে। বাংলাদেশের জন্য উপযোগী এআই টুল, প্ল্যাটফর্ম ও ডেটাসেট তৈরির পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ, জিপিইউ ব্যবহারের সক্ষমতা এবং সমৃদ্ধ বাংলা ডেটাসেটের ঘাটতির মতো স্থানীয় চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে গবেষণা করতে হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে রোবটিক্স, সেমিকন্ডাক্টর ও এআই গবেষণার প্রসারে নীতিগত সহায়তার কথা জানিয়েছেন। সরকার নীতিগত সমর্থন দেবে; তবে এআই কোন কোন ক্ষেত্রে কীভাবে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যায়, তার সুনির্দিষ্ট পথনকশা প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদেরই তৈরি করতে হবে। তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় জাপানের উন্নয়ন অংশীদারিত্বের প্রশংসা করে নিপ্পন এআই দোজো ২০২৬-কে তরুণদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। ইউএপি, জাপানের CHOWA GIKEN Corporation এবং AI SAMURAI JAPAN-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিন-ইচি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউএপির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য জনাব কাইয়ুম রেজা চৌধুরী। সম্মানিত অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউএপির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ এম. আহমেদ। সমাপনী অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের প্রশিক্ষণার্থীরা প্রশিক্ষণকালীন সময়ে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তৈরি বিভিন্ন এআইভিত্তিক প্রকল্প উপস্থাপন করেন। প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে এআইয়ের ব্যবহারিক প্রয়োগ, উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর সমস্যা সমাধানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। পরে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদ বিতরণ এবং দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য নির্বাচিতদের বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। নিপ্পন এআই দোজো ২০২৬-এর প্রতিযোগিতায় ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের একটি দল বিজয়ী হয়। বক্তারা এআইসহ উদীয়মান প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নিপ্পন এআই দোজো ২০২৬ বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন ও জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্রে সহযোগিতার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তরুণদের এআই বিষয়ে ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরি করেছে। অনুষ্ঠানে ইউএপির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্যবৃন্দ, শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।