অন্যান্য

ইসলামে যেসব পরিস্থিতিতে বদলি হজ করানোর বিধান রয়েছে

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় জমায়েতের একটি হজ। ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মৌলিক ভিত্তির একটি, যা শারীরিক ও আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান প্রতিটি মুসলমানের জন্য ফরজ বা অবশ্য পালনীয় একটি কর্তব্য। যে কারণে হজ পালনে প্রতি বছর বাংলাদেশসহ সারাবিশ্ব থেকে লাখ লাখ মুসলমান হজ পালনে মক্কা নগরীতে সমবেত হন।

 

ইসলামের পরিভাষায় হজের আভিধানিক অর্থ ইচ্ছা করা ও সফর বা ভ্রমণ করা। অর্থাৎ হজ হলো নির্দিষ্ট সময়ে নির্ধারিত স্থানে বিশেষ কিছু কর্ম সম্পাদন করা।

ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, আর্থিক ও শারীরিকভাবে সামর্থ্যবান মুসলমানের জীবনে একবার হজ আদায় করা আবশ্যক।

তবে অনেক সময় কোন ব্যক্তির ওপর হজ ফরজ হওয়ার পরও অসুস্থতা, বার্ধক্য বা শারীরিক অক্ষমতার কারণে তিনি নিজে হজে যেতে সক্ষম হন না।

ইসলাম বিষয়ক লেখক ও বিশ্লেষক শরীফ মোহাম্মদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, "যে ব্যক্তির আর্থিকভাবে সক্ষমতা আছে, কিন্তু শারীরিক সক্ষমতা নাই বা মৃত্যু পর্যন্ত ছিল না কিংবা থাকার সম্ভাবনাও প্রায় রহিত হয়, তার জন্যই বদলি হজ।

তবে অনেক সময় প্রশ্ন থাকে কারো ওপর যদি হজ ফরজ হয়ে থাকে, তা পালন করার শারীরিক সক্ষমতাও থাকে তাহলে তার ক্ষেত্রে বদলি হজ প্রযোজ্য হবে না।

এক্ষেত্রে বদলি হজ পালনের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু বিধি বিধান রয়েছে ইসলামে। যেগুলো অবশ্যই পালন করা উচিত বলে বলছেন ইসলামিক চিন্তাবিদ ও গবেষকরা।

সেক্ষেত্রে, তার জন্যও হজ করার বিধান রাখা হয়েছে ইসলামে। ধর্মীয় পরিভাষায় যে হজকে বলা হয়ে থাকে বদলি হজ।

বদলি হজ কি এবং কেন?

ইসলাম ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম স্তম্ভ হজ। সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমানের জন্য হজ ফরজ করা হয়েছে ইসলামের বিধানে।

কিন্তু যদি কোনো ব্যক্তি ফরজ হজ্জ আদায় করতে অক্ষম হয় তাহলে তার পক্ষ থেকে দায়িত্ব নিয়ে অন্য কোনো ব্যক্তি হজ্জ পালন করে দিতে পারে। ইসলামের পরিভাষায় এটিকে বদলি হজ্জ বলে।

বদলি হজের মূল লক্ষ্য হলো ওই ব্যক্তির পক্ষ থেকে জিম্মাদারি আদায় করা, যিনি নিজে হজ করার সামর্থ্য হারিয়েছেন।

বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক মাওলানা আনিসুজ্জামান শিকদার বিবিসি বাংলাকে বলেন, "মৃত অবস্থায় ওসিয়ত করে গেলে বা জীবিত অবস্থায় যদি কেউ দেখেন তিনি হজ করতে যেতে পারবেন না তাহলে তার পক্ষ থেকে যে হজ পালন করা হবে সেটিকে ইসলামের পরিভাষায় বদলি হজ বলে"।

বদলি হজ কেন করাতে হয় তার বিভিন্ন ব্যাখ্যাও রয়েছে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী।

ইসলামি গবেষকরা শরীফ মুহাম্মদ বলছিলেন, "ধরুন একজন ব্যক্তির ওপর হজ ফরজ ছিল কিন্তু শারীরিকভাবে সমর্থ থাকতে হজ করেননি। এখন শারীরিক সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন, এখন আপনার পক্ষ থেকে অন্য কাউকে হজ করতে পাঠানো আপনার জন্য ফরজ"।

ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, কোন ব্যক্তির ওপর হজ ফরজ হয়েছিল কিন্তু তিনি হজে যাবার আগেই মারা গেছেন। তাহলে মৃত্যুর পর তার পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে তার ওয়ারিশগন বদলি হজ পালন করতে পারেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক মি. শিকদার বিবিসি বাংলাকে বলেন, "মারা যাওয়ার আগে যদি কোন ব্যক্তি তার পক্ষ থেকে তার ওয়ারিশগণের কাছে এমন বদলি ওয়াজের বিষয়ে ওসিয়ত করে যান তাহলে তার ক্ষেত্রে বদলি হজ পালন করানো ওয়াজিব"।

"আর যদি ওসিয়ত নাও করে থাকে যদি তার রেখে যাওয়া সেই পরিমাণ সম্পদ থাকে তার পক্ষে তার সন্তানরা মনে করেন তার পিতা/মাতার নামে বদলি হজ করাতে পারেন। সেটি ওয়াজিব না হলেও উত্তম", বলছিলেন মি. শিকদার।

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, যে ব্যক্তির সুস্থ হওয়ার আশা আছে বা যিনি নিজে যাওয়ার ক্ষমতা রাখেন, তিনি অন্যকে দিয়ে বদলি হজ করালে তাঁর ফরজ আদায় হবে না।

বদলি হজ পালনের নিয়ম কী?

হাদিস ও ইসলামের বিভিন্ন বিধান পর্যালোচনা করে বদলি হজ পালনের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানের কথা বলছেন ইসলামি লেখক ও গবেষকরা।

সেক্ষেত্রে, কেউ শারীরিকভাবে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে বা সক্ষমতা হারিয়ে ফেললে এবং তা থেকে মুক্তির কোনো সম্ভাবনা না থাকলে বদলি হজ করানো যায়। দ্বিতীয়ত, জোর করে কেউকে আটকে রাখা হলে, তৃতীয়ত যাওয়ার পথ কারো জন্য অনিরাপদ হলে, চতুর্থত-নারীর ক্ষেত্রে হজে যাওয়ার জন্য মাহরাম পুরুষ সঙ্গে না পেলে তার জন্য বদলি হজ করানো যায়।

শরীফ মুহাম্মদ বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, "অনেক সময় দেখা যায় কোনো কোনো ব্যক্তি শারীরিকভাবে এতটাই অক্ষম যে তার আর্থিক সামর্থ্য আছে কিন্তু শারীরিক সক্ষমতা নেই তার ক্ষেত্রে বদলি হজ করানো যায়"।

তবে, যদি কেউ উল্লিখিত ওজরগুলোর কারণে নিজে জীবিত থাকা অবস্থায় নিজের ফরজ হজ অন্যের মাধ্যমে বদলি হজ হিসেবে করিয়ে ফেলেন, এরপর যদি তিনি আবার শারীরিক সক্ষমতা বা ওইসব সংকট কেটে যায় তাহলে তার পূর্ববর্তী কৃত বদলি হজ বাতিল হয়ে যাবে। এবং পরে তাকে নিজের ফরজ হজ নিজেকেই আদায় করে নিতে হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক আনিসুজ্জামান শিকদার বলছিলেন, "যদি মনে করে এখন সুস্থ না আগামী বার সুস্থ হয়ে হজে যেতে পারবে, তাহলে নিজেই করার চেষ্টা করবে। আর যদি কোনভাবেই না হয় তাহলে জীবিত অবস্থায় অন্য কাউকে দিয়ে হজ করিয়ে নিতে হবে"।

বদলি হজ করানোর ক্ষেত্রে অনেকে আলেম ওলামা দিয়ে বদলি হজ করিয়ে থাকেন। তবে, এক্ষেত্রে নিজের নিকট আত্নীয় স্বজনের মধ্যে থেকে বদলি হজ করানো উত্তম মনে করেন ধর্মীয় গবেষকরা।

ইসলামের বিধান অনুযায়ী, যার পক্ষ থেকে বদলি হজ করানো হবে তাঁকেই খরচ বহন করতে হবে। ওই ব্যক্তি যদি মৃত্যুর আগে অসিয়ত করে যান তাহলে তাঁর রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে এই হজ করাতে হবে।

বদলি হজের ক্ষেত্রে একটি আলোচনা নিয়ে দুই ধরনের বক্তব্য আছে ইসলামি গবেষকদের মতে। একটি পক্ষ মনে করেন, যে ব্যক্তি আগে ফরজ হজ আদায় করেননি তাকে দিয়ে বদলি হজ করানো যাবে না।

তবে, ধর্মীয় বিধান পর্যালোচনা করে কেউ কেউ বলছেন, এই বিধানের পক্ষে জোরালো কোন যুক্তি নেই। যে কারণে যে কাউকে দিয়ে বদলি হজ করানো যাবে।

অনেকে প্রশ্ন করে থাকেন, কোনো নারীর পক্ষ থেকে বদলি হজ করাতে হলে অন্য নারী দিয়েই করাতে হবে কি না? তবে ধর্মীয় বিধান পর্যালোচনা করে ইসলামি গবেষকরা বলছেন, বদলি হজের ক্ষেত্রে এমন কোনো আবশ্যকতা নেই। বরং নারীর পক্ষ থেকে পুরুষও বদলি হজ করতে পারবে।

অন্যদিকে ধর্মীয় গবেষকদের মতে, যিনি বদলি হজ করবেন, তাকে সেই দেশের নাগরিক বা বাসিন্দা হতে হবে, যার পক্ষ থেকে তিনি বদলি হজ করছেন।

অবরুদ্ধ বা জেলবন্দির ক্ষেত্রে নিয়ম কী?

প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ মানুষ সৌদি আরবে যান হজ পালন করতে। এবছর অন্তত ১৫ লাখ মুসলমানে হজে যাওয়ার কথা রয়েছে।

এর মধ্যে এবার শুধুমাত্র বাংলাদেশ থেকেই হজে যাচ্ছেন ৭৮ লাখেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান।

অনেক সময় বিভিন্ন অপরাধ বা নানা কারণে জেলে আটকা থাকেন অনেকে। অনেকের আবার আমৃত্যু কারাদণ্ড বা আমৃত্যু জেলও দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে অনেকে প্রশ্ন করেন, জেলবন্দি মানুষের ক্ষেত্রে বদলি হজ করানো যাবে কী-না।

বদলি হজ পালনের ক্ষেত্রে যে সব নিয়মের কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে একটি হচ্ছে, জোর করে কেউকে আটকে রাখা হলে বদলি হজ করানো যায়।

লেখক ও গবেষক শরীফ মুহাম্মদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, "নিয়ম অনুযায়ী যদি কেউ জেলে থাকে, যদি আমৃত্যু সাজা হয়, উনি যদি বুঝতে পারেন উনি স্বাভাবিকভাবে বের হতে পারবেন না, আমলটা করতে পারবেন না। তখন দেখতে হবে তার ওপর হজ ফরজ হয়েছে কী-না"।

তিনি মনে করেন, এক্ষেত্রে যদি তার আর বের হওয়ার কোন সুযোগ না থাকে, তার পক্ষ থেকে পরিবার বদলি হজ করিয়ে নিতে পারেন যদি তার সেই সামর্থ্য থাকে।

প্রায় একই রকম বলছিলেন বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক আনিসুজ্জামান শিকদার। তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, "যদি কারো এমন কারাদণ্ড হয়, তার যদি আর্থিকভাবে সামর্থ্য থাকে তাহলে সে কাউকে দিয়ে হজ করিয়ে দিবে। এরকম অবস্থা হলে সে বদলি হজ করাতে পারবে"।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অন্যান্য

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
মুক্তিপণ নিতে এসে আটক এনসিপির দুই নেতা, ছাড়াতে গিয়ে গ্রেপ্তার আরও ৩

দিনাজপুরে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির দুই নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, অপহৃত ব্যক্তির পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণের টাকা নিতে এসে হাতেনাতে আটক হন দুই নেতা। পরে তাদের ছাড়িয়ে নিতে থানায় গিয়ে তদবির ও পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির অভিযোগে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।   মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে পাঁচজনকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরন্নবী। গ্রেপ্তাররা হলেন জাতীয় যুব শক্তির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ মুন, পুলিশের দাবি অনুযায়ী এনসিপির দিনাজপুর জেলা কমিটির সদস্য হাসীন ইসরাক মিম, মিনাজ, প্রেম ও হৃদয় ইসলাম।   পুলিশ জানায়, সদর উপজেলার খোসালপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সামাদকে রবিবার রাতে তার বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হয়। পরে পরিবারের কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে চার লাখ টাকার বিনিময়ে সামাদকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে তার ছেলে মো. মামুনকে সোমবার বিকেলে শহরের গোর-এ-শহীদ বড় মাঠের মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে ডেকে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে আব্দুস সামাদকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকেই আরিফ মুন ও হাসীন ইসরাক মিমকে আটক করা হয়।   পুলিশ জানায়, তাদের থানায় নেওয়ার পর এনসিপি ও জাতীয় যুব শক্তির কয়েকজন নেতা-কর্মী সেখানে গিয়ে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির অভিযোগে মিনাজ, প্রেম ও হৃদয় ইসলামকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় সোমবার রাতে আব্দুস সামাদের ছেলে মো. মামুন কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।   ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সোমবার রাতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কোতোয়ালি থানায় অবস্থান নিয়ে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানান। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে এনসিপি-সমর্থকদের থানা এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরন্নবী বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ঘটনাটির পেছনে অর্থ লেনদেন-সংক্রান্ত বিষয় রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।   তবে জেলা এনসিপির আহ্বায়ক শামসুল মুক্তাদির দাবি করেছেন, গ্রেপ্তার হওয়া হাসীন ইসরাক মিম জেলা কমিটির সদস্য নন। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। কেউ অপরাধ করে থাকলে তার শাস্তি হওয়া উচিত।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইংরেজি দ্বিতীয়পত্রে কুমিল্লা বোর্ডে বহিষ্কার ২০, অনুপস্থিত ২ হাজার ৪২৭

সংগৃহীত ছবি

ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের দায়িত্ব ছাড়লেন জাবের-জুমার

ছবি : সংগৃহীত

বন্যার কারণে চট্টগ্রাম ও রাঙামাটিতে বুধবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

ছবি: সংগৃহীত
চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতার বৈঠক

জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।   মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।   এসময় তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা, চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ ইকোনমিক করিডোর (বিসিএমইসি), বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।   বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও চীনের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক, কূটনৈতিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ও উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে একযোগে কাজ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করা হয়।   বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে দুই পক্ষ বলেন, জনগণের কল্যাণ, উন্নয়ন সহযোগিতা, পারস্পরিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ে এ সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরও গভীর ও বহুমাত্রিক হবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।   এছাড়াও বৈঠকে ডা. শফিকুর রহমান রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধান এবং মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনে চীন সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। আলোচনায় তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা, চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ ইকোনমিক করিডোর, বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ এবং প্রস্তাবিত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েও বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।   চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে দেশটির দূতাবাসের রাজনৈতিক সেকশনের পরিচালক ঝ্যাং জিং এবং পলিটিক্যাল অ্যাটাশে রু কি উপস্থিত ছিলেন।   অন্যদিকে ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ছিলেন তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর।

মারিয়া রহমান জুলাই ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কমিটি ঘোষণার মাস না পেরোতেই যুবদলে অস্বস্তি

ছবি : সংগৃহীত

মব নৈরাজ্য নিয়ে ফেসবুক পোস্টে সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজের হুঁশিয়ারি

ছবি : সংগৃহীত

কারা হেফাজতে ৬১ জনের মৃত্যু, শীর্ষে ঢাকা বিভাগ: আসক

সংগৃহীত ছবি
সাভারে এনসিপির সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণ, প্রশাসনকে দায়ী করলেন নাহিদ

সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণের জন্য প্রশাসনকে দায়ী করেছেন দলটির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, স্পষ্টভাবে আজকের এই বোমা বিস্ফোরণ প্রশাসনের সহায়তায় হয়েছে।   কেন বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল? স্পষ্টভাবে আমাদেরকে খুন করার পরিকল্পনায় এখানে বোমা বিস্ফোরণ করা হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) রাত সোয়া ১০টার দিকে সাভার থানা স্ট্যান্ড ঈদগাহ মাঠে এনসিপির সমাবেশ চলাকালে বোমা বিস্ফোরণের পর তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভার থানা স্ট্যান্ড ঈদগাহ মাঠে সমাবেশে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।   সমাবেশে ওই সময় ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ বক্তব্য দিচ্ছিলেন।   বিস্ফোরণের পর নেতাকর্মীদের আতঙ্কে ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। এ সময় নাবিলা তাসনিদ মাইকে নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। নাহিদ ইসলাম বলেন, এই সাভার থেকে আমরা আগস্টে কর্মসূচি সমাপ্ত করছিলাম। তারা বিদ্যুৎ বন্ধ করে এখানে বোমা ফুটিয়েছে।   আমরা মনে করি প্রশাসনের সহায়তায় আজকের এই পদযাত্রাকে বন্ধ করার জন্য এখানে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। এই সরকারকে, এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হুঁশিয়ার করে বলতে চাই- জবাব দিতে হবে। কেন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলেন না, তার জবাব দিতে হবে। এনসিপির কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা হুঁশিয়ার থাকুন। আমরা জুলাইয়ের আন্দোলন চালিয়ে যাব।   জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করবো, হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করব, সীমান্ত সুরক্ষা ও তরুণদের কর্মসংস্থানের দাবি সফলভাবে আদায় নিশ্চিত করব। পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, এই সভার দায়িত্বে যারা ছিল—পুলিশ প্রশাসন, ডিসি—কেন বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে গেল? কীভাবে এটা ঘটল? এই এলাকার এমপি কী করছে? সে কি নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে?   তিনি বলেন, আজকে এখান থেকে আমাদের কয়েকজন ভাই গুরুতর আহত হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই। যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচার নিশ্চিত না করা হয়, তাহলে এখানকার স্থানীয় প্রশাসন এবং এমপিকে আমরা জবাবদিহিতার আওতায় আনব।    ঘটনার বিচার দাবি করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিচার চাই। কোনো সন্ত্রাসীর ঠিকানা এই সাভারে হবে না। যারা গণহত্যাকারীদের প্রশ্রয় দেবে, যারা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও খুনিদের প্রশ্রয় দেবে, তাদের পরিণতি আওয়ামী লীগের মতো হবে।   এনসিপির কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এনসিপির পদযাত্রা চলমান থাকবে। ভয়ভীতি, বোমাবাজি—সবকিছুকে উপেক্ষা করে আমাদের পদযাত্রা চলমান থাকবে।

মারিয়া রহমান জুলাই ০৬, ২০২৬
ছবি - সংগৃহীত

চলতি সপ্তাহে ঘোষণা হতে পারে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি

ছবি - সংগৃহীত

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে প্রকৃত অংশীদারিত্বে উন্নীত করার আহ্বান

ছবি - সংগৃহীত

আওয়ামী লীগ আর রাজনীতি করতে পারবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

0 Comments