ইরানের প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ বিরতি চেয়েছেন বলে বুধবার দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তবে তিনি বলেন, এর আগে তেহরানকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে হবে।
জাতির উদ্দেশে ভাষণের আগে তিনি এ কথা বলেন।
তেহরান ট্রাম্পের এ দাবি সরাসরি নাকচ করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ওয়াশিংটনের কাছে যুদ্ধ বিরতি চাননি বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বুধবার সন্ধ্যায় ইরান ইসরাইল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘোষণা দেয়।
ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
বহুল প্রতীক্ষিত প্রাইম-টাইম ভাষণের আগে ট্রাম্প এ বক্তব্য দেন।
স্থানীয় সময় বুধবার রাত ৯টা এই ভাষণ হওয়ার কথা।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার পর শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের পর এটিই তার প্রথম ভাষণ।
ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লেখেন, ‘হরমুজ প্রণালি খোলা, মুক্ত ও নিরাপদ হলে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বিরতি বিবেচনা করবে। তার আগে আমরা ইরানকে ধ্বংস করে দেব অথবা যেমন বলা হয়, প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেব।’
তেহরান জানিয়েছে, যুদ্ধ শেষ করতে কোনো আলোচনা চলছে না। বুধবার ইরানের রাজধানীতে বড় বিস্ফোরণের খবর দিয়েছেন এএফপি সাংবাদিকরা।
যুদ্ধ শুরুর পর, ট্রাম্পের অবস্থান কখনও কঠোর, কখনও নমনীয় হতে দেখা গেছে।
মঙ্গলবার তিনি বলেন, এক মাসের এই যুদ্ধ ‘দুই সপ্তাহ, হয়তো তিন সপ্তাহের মধ্যে’ শেষ হতে পারে।
আলোচনা প্রসঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এটি ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।’
এর আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, যুদ্ধ বিরতির জন্য ইরানের ‘প্রয়োজনীয় সদিচ্ছা’ রয়েছে।
তবে শর্ত হলো, প্রতিপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে যে তারা আর সংঘাতে ফিরবে না।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বুধবার জানায়, দেশের ‘শত্রুদের’ জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকবে।
বৈশ্বিক তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় জ্বালানির দাম বেড়েছে।
গার্ড বাহিনী আরও জানায়, উপসাগরে একটি তেলবাহী জাহাজে তারা হামলা চালিয়েছে।
তাদের দাবি অনুযায়ী ওই তেলবাহী জাহাজ ইসরাইলের।
ব্রিটিশ এক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা জানায়, কাতারের উপকূলের কাছে জাহাজটিতে আঘাত হানা হয়েছে। এতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তবে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
-‘শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ’-
ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড জানায়, সর্বশেষ হামলায় তেল আবিব ও ইলাতসহ ইসরাইলের বিভিন্ন শহর এবং বাহরাইন ও কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করা হয়েছে।
তবে আঘাতের নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এএফপির একজন সাংবাদিক জানান, বুধবার বিকেলে তেহরানে বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এর আগে সাবেক মার্কিন দূতাবাসের কাছেও হামলার ঘটনা ঘটে।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি লিখিত বিবৃতিতে বলেন, ‘নিষ্ঠুর ও নির্মম মার্কিন ও জায়নবাদী শত্রু মানবিক, নৈতিক বা মৌলিক কোনো সীমা মানে না।’
সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি যুদ্ধের প্রথম দিনে বিমান হামলায় তার পিতা নিহত হওয়ার পর দায়িত্ব নেন। এরপর থেকে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।
বুধবার তেহরানে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ কমান্ডারের জানাজায় হাজারো মানুষ অংশ নেয়।
৫৭ বছর বয়সী শোকাহত মুসা নওরুজি বলেন, ‘আমরা শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ করব।’
ইরানি গণমাধ্যম জানায়, ইসফাহান প্রদেশের একটি যাত্রীবাহী বিমানবন্দর ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের ইস্পাত স্থাপনায় হামলায় ক্ষতি হয়েছে।
ইসরাইলি বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে তারা তেহরানে হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে, ইসরাইলের জরুরি সেবা বিভাগ জানায় যে বুধবার সকালে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১১ বছর বয়সী এক শিশুসহ ১৪ জন আহত হয়েছে।
ইসরাইল আরও জানায়, ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করা হয়েছে।
সপ্তাহের শেষে যুদ্ধে যোগ দেওয়ার পর এটি ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের তৃতীয় হামলা।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লেবাননে দক্ষিণ বৈরুতের আশপাশে হামলায় সাত জন নিহত হয়েছেন।
ইসরাইলি বাহিনী বলেছে, তারা হিজবুল্লাহর এক জ্যেষ্ঠ কমান্ডারকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
ঘটনাস্থলে এএফপি প্রতিনিধিরা পোড়া ও ধ্বংসস্তূপে ভরা একটি সড়ক দেখতে পান।
স্থানীয় বাসিন্দা হাসান জলওয়ান বলেন, ‘কি হচ্ছে কেউ জানে না।’
তিনি আরও জানান, বাস্তুচ্যুত মানুষ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ২ মার্চ ইসরাইল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটিতে ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
উপসাগরীয় অঞ্চলে কুয়েতে হামলায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বাণিজ্যিক স্থাপনায় আগুনের খবর দেয়।
সৌদি আরব জানায়, তারা কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রতিহত করা একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক বাংলাদেশী নাগরিক নিহত হয়েছেন।
এদিকে, ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তানে একটি ইঞ্জিন তেল কোম্পানির গুদামে ড্রোন হামলায় বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
ইরাকের ইরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ৩১ বছর বয়সী ট্রাকচালক ওয়াদ আবদুল রাজ্জাক বলেন, ‘প্রতিদিনই ড্রোনের শব্দ শুনি। সকালে শুনি, রাতে শুনি। এখন আর শান্তিতে ঘুমাতে বা থাকতে পারি না।’
-দামের অস্থিরতা-
যুদ্ধ দ্রুত শেষ হতে পারে— ট্রাম্পের এমন মন্তব্যে বুধবার তেলের দাম কমেছে এবং ইউরোপ ও এশিয়ার শেয়ারবাজারে উত্থান হয়েছে।
তবে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণের কারণে, যেখান দিয়ে উপসাগরীয় তেল ও গ্যাস বিশ্ববাজারে পৌঁছে, জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে পেট্রোলের দাম চার বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার ছাড়িয়েছে। ইউরোপে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সহায়তা কর্মসূচি ঘোষণা শুরু করেছে।
ফ্রান্সের তুলুজ শহরে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে অংশ নেওয়া ট্রাক চালক নিকোলা বার্তেস বলেন, ‘আমরা ছোট প্রতিষ্ঠান। এই মাসে অতিরিক্ত ডিজেল খরচ হয়েছে ১৫ হাজার ইউরো। এর পুরোটা গ্রাহকদের ওপর চাপাতে পারছি না।’
যুদ্ধে সহযোগিতা না করায় মিত্রদের সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বুধবার আবারও জানিয়েছেন, তার দেশ এই যুদ্ধে অংশ নেবে না।
যুক্তরাজ্য জানায়, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর উপায় নিয়ে এই সপ্তাহে প্রায় ৩৫টি দেশের বৈঠক আয়োজন করা হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব উপকূলে বৃহস্পতিবার শক্তিশালী ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। সুনামি সতর্কতা জারি করা হয় এবং সমুদ্রে সর্বোচ্চ ৭৫ সেন্টিমিটার উচ্চতার ঢেউ তৈরি হয়। তবে, পরে এ সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, ভোরে সুলাওয়েসি ও মালুকু দ্বীপপুঞ্জের মধ্যবর্তী মলুক্কা সাগরে ৩৫ কিলোমিটার গভীরে ভূকম্পনটি সৃষ্টি হয়। ইন্দোনেশিয়ার ম্যানাডো থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। স্থানীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার কর্মকর্তারা জানান, উত্তর সুলাওয়েসি প্রদেশের ম্যানাডো শহরে একটি ভবন ধসে একজন প্রাণ হারিয়েছেন। উদ্ধার কর্মকর্তা জর্জ লিও মার্সি এএফপিকে বলেন, ‘ভূমিকম্পটি তীব্রভাবে অনুভূত হয়, বিশেষ করে ম্যানাডো এলাকায়। একজন মারা গেছেন, আরেকজনের পায়ে আঘাত লেগেছে।’ তিনি জানান, ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। হাওয়াইভিত্তিক প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার (পিটিডব্লিউসি) প্রথমে সতর্ক করে জানায়, উপকেন্দ্রের এক হাজার কিলোমিটার এলাকার মধ্যে ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও মালয়েশিয়ার উপকূলে বিপজ্জনক সুনামি ঢেউ আঘাত হানতে পারে। ইন্দোনেশিয়ার ভূতাত্ত্বিক সংস্থা জানায় বিএমকেজি ভূমিকম্পের আধা ঘণ্টার মধ্যে উত্তর মিনাহাসায় ৭৫ সেন্টিমিটার এবং সুলাওয়েসির উত্তরের বিটুং এলাকায় ২০ সেন্টিমিটার উচ্চতার ঢেউ রেকর্ড করা হয়। উত্তর মালুকু প্রদেশেও ৩০ সেন্টিমিটার ঢেউয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। কম্পনের দুই ঘণ্টা পর পিটিডব্লিউসি সতর্কতা প্রত্যাহার করে জানায়, এখন আর সুনামির ঝুঁকি নেই। টারনেটের বাসিন্দা ৪২ বছর বয়সী বুদি নুরগিয়ানতো বলেন, ভূমিকম্পের সময় তিনি বাড়ির ভেতরে ছিলেন। কম্পনে মানুষ আতঙ্কে বাইরে ছুটে যায়। তিনি বলেন, ‘কম্পনটি খুব জোরে অনুভূত হয়। প্রথমে ঘরের দেয়াল কাঁপতে শুনি। বাইরে গিয়ে দেখি অনেক মানুষ। সবাই আতঙ্কিত। কম্পন এক মিনিটেরও বেশি সময় ধরে স্থায়ী ছিল।’ বিএমকেজি প্রধান তেউকু ফয়সাল ফাথানি জাকার্তায় সাংবাদিকদের জানান, এ পর্যন্ত ১১টি আফটারশক হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড়টির মাত্রা ছিল ৫.৫। সুলাওয়েসির ম্যানাডো শহরে অবস্থানরত এক এএফপি সাংবাদিক জানান, প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষের শহরটিতে কম্পনে তিনি ও অন্যরা ঘুম থেকে জেগে ওঠেন। তিনি বলেন, ‘আমি সঙ্গে সঙ্গে ঘুম থেকে উঠে বাড়ি থেকে বের হয়ে যাই। মানুষ দৌড়ে বাইরে চলে আসে। একটি স্কুলে শিক্ষার্থীরাও দ্রুত বাইরে চলে যায়।’ তিনি জানান, কম্পন বেশ কিছুক্ষণ স্থায়ী ছিল। তবে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি তিনি দেখেননি। পিটিডব্লিউসি শুরুতে সতর্ক করেছিল, ইন্দোনেশিয়ার কিছু এলাকায় এক মিটার পর্যন্ত সুনামি ঢেউ হতে পারে। ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, জাপান, তাইওয়ান, গুয়াম ও পালাউয়ে তুলনামূলক ছোট ঢেউ হতে পারে। সংস্থাটি জানায়, ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থাগুলোকে দ্রুত জনগণকে সতর্ক ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে হবে। জাপান আবহাওয়া সংস্থা জানায়, উত্তর হোক্কাইডো থেকে দক্ষিণ ওকিনাওয়া পর্যন্ত প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে সমুদ্রপৃষ্ঠে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। তবে তারা কোনো সতর্কতা জারি করেনি। ফিলিপাইন ও মালয়েশিয়ার ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থাও কোনো সুনামি সতর্কতা দেয়নি। প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থানের কারণে টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষে ইন্দোনেশিয়া ও আশপাশের দেশগুলোতে ঘন ঘন ভূমিকম্প হয়। ২০০৪ সালে আচেহ প্রদেশে ৯.১ মাত্রার ভূমিকম্পে সৃষ্ট সুনামিতে ইন্দোনেশিয়ায় ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে চাঁদের উদ্দেশে রওনা দিলেন চার নভোচারী। নাসার বিশালাকার রকেটে চেপে তারা চন্দ্রকক্ষে যাত্রা শুরু করেন। ৫০ বছরেরও বেশি সময়ের পরে এটিই প্রথম মনুষ্যবাহী চন্দ্র অভিযান। যুক্তরাষ্ট্রের কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা প্রায় ৬টা ৩৫ মিনিটে (জিএমটি রাত ১০টা ৩৫ মিনিট) ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে কমলা-সাদা রঙের রকেটটি বিকট গর্জন ছেড়ে আকাশে ওড়ে। এতে তিনজন মার্কিন ও একজন কানাডীয় নভোচারী রয়েছেন। রকেটটি যখন আগুনের ধারা ছুটিয়ে আকাশে উড়াল দেয়, তখন নাসার কর্মী ও উপস্থিত হাজার হাজার দর্শক উল্লাসে ফেটে পড়েন। অভিযান শুরুর সময় নভোচারীদের পরনে ছিল নীল পাড়ের উজ্জ্বল কমলা রঙের পোশাক। এই দলে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন। মিশন কমান্ডার ওয়াইজম্যান বলেন, ‘চাঁদ উঠছে, কী সুন্দর! আমরা সরাসরি সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছি।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নিয়ে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণের শুরুতেই ‘আমাদের সাহসী নভোচারীদের’ প্রশংসা করেন। এই সফল উৎক্ষেপণকে তিনি ‘অসাধারণ ব্যাপার’ বলে অভিহিত করেন। নভোচারীরা এখন পৃথিবীর কক্ষপথে আছেন। মহাকাশযানটি এর আগে কখনও মানুষ বহন করেনি, তাই এর নির্ভরযোগ্যতা ও নিরাপত্তা যাচাই করতে কিছুক্ষণ তারা সেখানেই থাকবেন। তারা সফলভাবে ‘প্রক্সিমিটি অপারেশন’ বা মহাকাশযানের অবস্থান পরিবর্তন সংক্রান্ত মহড়া শেষ করেছেন। এর মাধ্যমে চন্দ্রযানটি অন্য কোনো যানের সাথে কীভাবে যুক্ত হতে পারে বা নড়াচড়া করতে পারে, তার পরীক্ষা করা হয়। পাইলট ভিক্টর গ্লোভার বলেন, ‘হিউস্টন, আপনাদের সাথে উড়তে পেরে ভালো লাগছে। মহাকাশযানটি চমৎকার।’ উৎক্ষেপণের পর এক ব্রিফিংয়ে নাসার অ্যাসোসিয়েট অ্যাডমিনিস্ট্রেটর অমিত ক্ষত্রিয় জানান, শুরুতে কিছু ছোটখাটো সমস্যা দেখা দিয়েছিল। যেমন-টয়লেট কন্ট্রোলারের একটি যান্ত্রিক ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে। তবে তিনি বলেন, ‘আমরা তো কেবল শুরু করেছি।’ নাসা প্রধান জ্যারেড আইজ্যাকম্যান জানান, মহাকাশযানের সঙ্গে সাময়িক যোগাযোগ বিভ্রাট দেখা দিলেও পরে তার সমাধান হয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেন, নভোচারীরা নিরাপদে আছেন এবং তারা বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন। আইজ্যাকম্যান বলেন, ‘নাসা আবারও মানুষকে চাঁদে পাঠানোর কাজে ফিরেছে।’ ‘মানব জাতির জন্য বড় পদক্ষেপ’ সব ঠিক থাকলে ‘আর্টেমিস-২’ টিমের সদস্যরা বৃহস্পতিবার চাঁদের দিকে তিন দিনের যাত্রা শুরু করবেন। তারা চাঁদের চারপাশ ঘুরে নতুন ছবি তুলবেন এবং সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবেন। পুরো মিশনটি প্রায় ১০ দিন স্থায়ী হবে। এর মূল লক্ষ্য হলো ২০২৮ সালে চাঁদের বুকে মানুষ নামানোর পথ সুগম করা। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে ফ্লোরিডার স্পেস কোস্টে প্রায় ৪ লাখ মানুষ জড়ো হয়েছেন। বিজ্ঞানী সিয়ান প্রক্টর বলেন, ‘আমরা আবার চাঁদে ফিরে যাচ্ছি দেখে আমি খুব খুশি। এই ১০ দিন সবার উৎসাহিত হওয়া উচিত, কারণ এটি মানবতার জন্য একটি বড় পদক্ষেপ।’ এই মিশনের মাধ্যমে বেশ কিছু ইতিহাস সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। এটিই প্রথম চন্দ্রাভিযান যেখানে কোনো কৃষ্ণাঙ্গ, কোনো নারী এবং কোনো অ-মার্কিন নভোচারী অংশ নিচ্ছেন। পরিকল্পনামতো সব এগোলে নভোচারীরা এযাবৎকালের যেকোনো মানুষের চেয়ে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে যাওয়ার রেকর্ড গড়বেন। নাসার নতুন রকেট ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম’ (এসএলএস)-এর এটিই প্রথম নভোচারীসহ উড্ডয়ন। এসএলএস এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেন যুক্তরাষ্ট্র বারবার চাঁদে যেতে পারে। সেখানে একটি স্থায়ী ঘাঁটি তৈরির লক্ষ্য রয়েছে নাসার, যা ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহসহ গভীর মহাকাশ গবেষণার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। কয়েক বছরের বিলম্ব আর বিশাল খরচ নিয়ে আলোচনার পর অবশেষে এই রকেটটি উৎক্ষেপণ করা সম্ভব হলো। যান্ত্রিক সমস্যার কারণে এর আগে কয়েকবার রকেটটিকে হ্যাঙ্গারে ফিরিয়ে নিতে হয়েছিল। প্ল্যানেটারি সোসাইটির মহাকাশ নীতি বিষয়ক প্রধান ক্যাসি ড্রেয়ার এএফপি’কে বলেন, ‘নাসার জন্য এই মুহূর্তে একটি জয় খুব প্রয়োজন ছিল।’ বাজেট সংকট ও কর্মী চলে যাওয়ার কারণে সংস্থাটির মনোবল যে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল, এই সাফল্য তা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে বলে মনে করেন তিনি। ‘প্রতিযোগিতা’ যুক্তরাষ্ট্রের এই চন্দ্রাভিযানকে চীনের সাথে প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চীন ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ব্রিফিংয়ে আইজ্যাকম্যান বলেন, একটি জাতির সম্পদকে কাজে লাগানোর জন্য প্রতিযোগিতাই সেরা উপায়। তিনি বলেন, ‘প্রতিযোগিতা ভালো জিনিস হতে পারে এবং এখন আমরা অবশ্যই সেই প্রতিযোগিতার মধ্যে আছি।’ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই অভিযানের গতি বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন। তিনি চান ২০২৯ সালে তার দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যেন মার্কিন নভোচারীরা চাঁদের মাটি স্পর্শ করেন। তবে ২০২৮ সালের সময়সীমা নিয়ে অনেক বিশেষজ্ঞ সংশয় প্রকাশ করেছেন, কারণ এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে বেসরকারি খাতের প্রযুক্তির ওপর অনেকাংশে নির্ভর করতে হচ্ছে। দিনের শুরুতে ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে লিখেন, ‘আমেরিকা জিতছে। অর্থনৈতিকভাবে, সামরিকভাবে এবং এখন নক্ষত্র ছাড়িয়েও। কেউ আমাদের ধারের কাছেও নেই! পুরো বিশ্ব দেখছে, আমেরিকা শুধু প্রতিযোগিতাই করে না, আধিপত্যও বিস্তার করে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণের পরেই এশিয়ায় তেলের দাম বেড়ে গেছে। সকালের লেনদেনে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি শেয়ারের দরপতনও ঘটে। বিবিসির প্রতিবেদনে এই কথা বলা হয়েছে। এই ভাষণে যুদ্ধ শেষ হবে কি না এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌপরিবহন স্বাভাবিক হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো আশ্বাস বা নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। ফলে, ট্রাম্প বিশ্ব বাজারকে শান্ত বা আশ্বস্ত করতে পারেননি।ট্রাম্পের ভাষণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বব্যাপী ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৬ ডলারে পৌঁছে যায়। এশিয়ার শেয়ার বাজারও নিম্নমুখী হতে শুরু করে। যদিও ট্রাম্প তার দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার কথা জানিয়েছেন।এই যুদ্ধ ঠিক কীভাবে শেষ হবে করবেন, ওই সম্পর্কে তিনি বিনিয়োগকারীদের কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেননি। চুক্তিতে রাজি না হলে ইরানকে বোমা মেরে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে দেওয়ার তার হুমকি বাজারকে আশ্বস্ত করতে পারেনি। এমনকি এই মাসে সংঘাত শেষ হয়ে গেলেও, হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক নৌচলাচল পুনরায় শুরু হতে যথেষ্ট সময় লাগবে। হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র তার বেশির ভাগ সামরিক লক্ষ্য খুব শিগগিরই পূরণ করতে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা খুব শিগগিরই আমাদের সব সামরিক লক্ষ্য শেষ করার পথে রয়েছি। তবে আমরা তাদের (ইরান) ওপর খুব কঠিন আঘাত হানব। ট্রাম্প আরো জানান, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে। প্রশাসন এই সংঘাতের উদ্দেশ্য নিয়ে বারবার ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একদিকে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার কথা বলেছেন, আবার অন্যদিকে প্রয়োজনে সংঘাত আরো বাড়ানোর হুমকিও দিয়েছেন। এদিকে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে, ট্রাম্পের এমন দাবির সঙ্গে একমত নন ইরানের নেতারা। এক মাসের কিছু বেশি সময় আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালায়। এর আগে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার অভিযানের পর মাত্র দুই মাসের মধ্যে এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বড় সামরিক পদক্ষেপ। ট্রাম্পের ভাষায়, একটি ‘সুনির্দিষ্ট অভিযান’ চালিয়ে কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতাসহ আরো এক ডজনের বেশি শীর্ষ নেতাকে হত্যা করা হয়। তবে গত এক মাসে এই সংঘাতের ক্ষতি ক্রমেই বাড়ছে, অর্থনৈতিক অস্থিরতা বেড়েছে এবং প্রাণহানিও ঘটছে। ইরানের নেতারা হরমুজ প্রণালী অবরোধ করে দিয়েছে, যা বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ। ফলে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে এক গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম ৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বুধবার ট্রাম্প বলেন, গ্যাসের দামের এই বৃদ্ধি ‘স্বল্প সময়ের জন্য’ হবে। তার মতে, বাণিজ্যিক তেলবাহী ট্যাংকারের ওপর ইরানের হামলার কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।