ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় নতুন করে আরও একটি হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা (আইএইএ)। গত ১০ দিনের মধ্যে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এই স্পর্শকাতর পারমাণবিক স্থাপনার কাছে হামলার ঘটনা ঘটল।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা জানায়, তেহরান তাদের নিশ্চিত করেছে, হামলায় চলমান রিঅ্যাক্টরের কোনো ক্ষতি হয়নি এবং কোনো তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েনি। কেন্দ্রটি বর্তমানে সচল রয়েছে।
তবে এই ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রোসি। তিনি বলেছেন, ‘কোনো রিঅ্যাক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা বড় ধরনের তেজস্ক্রিয় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সামরিক সংযম প্রদর্শন করতে হবে।’
একই দিন তেহরানের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ইরানের আরাক পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। তবে আগে থেকে নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার করণে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে ইরান।
হামলা চালানোর আগে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ফারসি ভাষায় এক সতর্কবার্তা দিয়ে আরাক শহরের উত্তর পশ্চিমাঞ্চল এবং পারমাণবিক স্থাপনার কাছাকাছি খির আবাদ এলাকায় থাকা বেসামরিক লোকজনকে সরে যেতে বলে। তারা জানায়, ওই এলাকায় ইরানের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে। যদিও নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্যবস্তুর নাম উল্লেখ করা হয়নি।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর মধ্যে আরাক হেভি ওয়াটার প্ল্যান্টটি অন্যতম। তবে ওই হামলার পর থেকে পুনরায় চুল্লিটির নির্মাণকাজ চালিয়ে আসছিল তেহরান।
বিশ্লেষকদের মতে, আরাক পারমাণবিক স্থাপনার নির্মাণ পরিকল্পনা শুরু থেকেই ইসরায়েল ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছিল। কারণ, এই ধরনের ভারি পানি রিঅ্যাক্টর থেকে প্লুটোনিয়াম উৎপাদন করা সম্ভব, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার হতে পারে।
এ কারণে ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তি অনুযায়ী ইরান এই স্থাপনাটির নকশা পরিবর্তনে রাজি হয়, যাতে প্লুটোনিয়াম উৎপাদনের পথ বন্ধ করা যায়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
কুয়েত বিমানবন্দরে ব্যাপক হামলা হয়েছে। এতে বিমানবন্দরের রাডার সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একাধিক ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে করে বিমানবন্দরের রাডার সিস্টেমে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে। কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার চালানো এই হামলাগুলোতে বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশেষ করে রাডার সিস্টেমে ‘গুরুতর’ ক্ষতি হয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে অবশেষে ইরান যুদ্ধে যোগ দিল ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি। শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে দক্ষিণ ইসরাইলের দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের মাধ্যমে লড়াই শুরু করেছে গোষ্ঠীটি। খবর টাইমস অব ইসরাইলের। ইরান যুদ্ধ দ্বিতীয় মাসে পদার্পণ করার পর এই প্রথমবারের মতো ইয়েমেন থেকে ইসরায়েল অভিমুখে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটল। শনিবার (২৮ মার্চ) ভোরে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, তারা ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা শনাক্ত করেছে। হুমকি মোকাবিলায় এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলেও জানানো হয়।
পাল্টাপাল্টি হুমকি ও হামলার মধ্য দিয়ে ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ গতকাল বুধবার গড়িয়েছে ২৮ দিনে। চার সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধ এরই মধ্যে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক গভীর অনিশ্চয়তা ও মানবিক সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। প্রায় এক মাস পেরিয়ে যুদ্ধ এখন আর কেবল আকাশপথের পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলায় সীমাবদ্ধ নেই; বরং সম্ভাব্য এক স্থল যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে গোটা অঞ্চল। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি অনুযায়ী, হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন এখন ইরানের অভ্যন্তরে ‘চূড়ান্ত আঘাত’ হানার লক্ষ্যে ব্যাপক বিমান হামলার পাশাপাশি স্থলবাহিনী নামানোর রণকৌশল অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। অন্যদিকে, তেহরানও হাত গুটিয়ে বসে নেই। সম্ভাব্য মার্কিন স্থল অভিযান মোকাবিলায় এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ১০ লাখেরও বেশি প্রশিক্ষিত ও উদ্বুদ্ধ ইরানি যোদ্ধাকে সংগঠিত করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। দুই পক্ষের এই অনড় অবস্থান ও পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে এক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। সংঘাতের সর্বশেষ চিত্রে দেখা যাচ্ছে, একদিকে ওয়াশিংটন শান্তি আলোচনার কথা বলে সময়ক্ষেপণ করলেও সমান্তরালে তাদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, আলোচনা ‘খুব ভালো’ চলছে; কিন্তু সমরবিশারদরা মনে করছেন, এটি আসলে বড় কোনো হামলার পূর্বপ্রস্তুতি। পেন্টাগন এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত ১০ হাজার স্থলসেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে, যার মধ্যে পদাতিক বাহিনী ও অত্যাধুনিক সাঁজোয়া যান অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর আগে ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের ৫ হাজার মেরিন ও ২ হাজার প্যারাট্রুপারকে জরুরিভিত্তিতে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিপরীতে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) এক কঠোর বিবৃতিতে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন সেনাদের নিজ মাটিতে ‘ঐতিহাসিক জাহান্নাম’ উপহার দিতে তারা মুহূর্তের জন্য দ্বিধা করবে না। চারটি সামরিক বিকল্প বা ব্লু-প্রিন্ট যাচাই করছে পেন্টাগন: মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ইরানে ‘ফাইনাল ব্লো’ বা চূড়ান্ত আঘাত হানার জন্য চারটি প্রধান সামরিক বিকল্প বা ব্লু-প্রিন্ট যাচাই করছে। এই পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপে সরাসরি আক্রমণ বা অবরোধ করা, যা ইরানের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেবে। দ্বিতীয়ত, লারাক দ্বীপ দখল করার পরিকল্পনা রয়েছে ওয়াশিংটনের, যা মূলত হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণকে শিথিল করতে সহায়ক হবে। এই কৌশলগত লারাক দ্বীপে ইরানের শক্তিশালী বাঙ্কার এবং জাহাজ বিধ্বংসী ক্র্যাফট রয়েছে। তৃতীয় বিকল্প হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দাবিকৃত কিন্তু ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা আবু মুসা ও আরও দুটি ছোট দ্বীপ দখলের ছক আঁকা হচ্ছে। এ ছাড়া পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়ে উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিরাপদ করার এক ঝুঁকিপূর্ণ স্থল অভিযানের পরিকল্পনাও প্রস্তুত রয়েছে। এমনকি ইউক্রেনের জন্য ন্যাটোর অর্থায়নে কেনা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে আনার জন্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পুরোপুরি ‘আক্রমণাত্মক’ নীতিতে ইরান: অন্যদিকে, ইরান তার ৪৭ বছরের প্রতিরক্ষামূলক নীতিকে পুরোপুরি ‘আক্রমণাত্মক’ নীতিতে রূপান্তর করেছে। আইআরজিসি-র মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল শেখারচি দাবি করেছেন, তারা এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক ঘাঁটি সফলভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরবের সুলতান আমির ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার খবর আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। এ ছাড়া মার্কিন নৌবাহিনীকে মোকাবিলা করতে ইরান প্রথমবারের মতো পারস্য উপসাগরে ‘সি ড্রোন’ বা আত্মঘাতী নৌ-ড্রোন নামিয়েছে। ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যারা মার্কিন বাহিনীকে নিজেদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে, তাদেরও চরম মূল্য দিতে হবে। তেহরানের পক্ষ থেকে ১০ লাখ যোদ্ধার বাইরেও হাজার হাজার তরুণ বাসিজ বাহিনীতে যোগ দেওয়ার জন্য আবেদন করছে, যা ইরানের অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধের শক্তিকে আরও দৃঢ় করছে। যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছেই: চলমান এ যুদ্ধে প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েই চলেছে। ইরানের সরকারি তথ্য ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক মাসে ইরানে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৯৩৭ জনে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে সাধারণ বেসামরিক নাগরিকের সংখ্যাই বেশি। আহত হয়েছেন প্রায় ২৪ হাজার ৮০০ জন ইরানি। বিশেষ করে ইরানের পবিত্র নগরী কোম-এর আবাসিক এলাকায় গত রাতে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে পার্দিসান এলাকাটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, আবাসিক এলাকায় নির্বিচারে বোমা বর্ষণের ফলে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। এ ছাড়া ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডারের নিহতের খবর যুদ্ধের ভয়াবহতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। সংঘাতের আঁচ প্রতিবেশী লেবাননেও সমানভাবে আছড়ে পড়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর স্থল ও আকাশ অভিযানে লেবাননে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১১৬ জনে। এর মধ্যে হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ কমান্ডার হাসান মোহাম্মদ বশিরকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েল। লেবাননে আহত হয়েছেন ৩ হাজার ২২৯ জন এবং যুদ্ধের ভয়াবহতায় প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার ২৬২ জন মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইসরায়েলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম নয়। ইসরায়েলে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে এবং আহত হয়েছেন ৫ হাজার ২২৬ জন। মার্কিন সামরিক বাহিনীরও ১৩ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় ২০০ জন আহত হয়েছেন। কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষে বেশ কয়েকজনের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অর্থনৈতিকভাবে ইরাকের তেল রপ্তানি ৭০ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় বিমান পরিবহন ব্যবস্থা পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। কূটনৈতিক তৎপরতা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা: যুদ্ধ বন্ধে পর্দার আড়ালে ব্যাপক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছে, যেখানে এই যুদ্ধের বৈশ্বিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পাকিস্তান ও তুরস্ক বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। ওয়াশিংটন এরই মধ্যে একটি ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাব ইরানের কাছে পাঠিয়েছে, যেখানে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছে। তবে তেহরান এই প্রস্তাবকে ‘একপক্ষীয় ও অন্যায্য’ বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের দাবি হলো, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্ব কোনোভাবেই খর্ব করা চলবে না। এদিকে, জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাডিপুল এক বিস্ফোরক মন্তব্যে দাবি করেছেন যে, রাশিয়া এই যুদ্ধে ইরানকে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে সক্রিয়ভাবে গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে। তার মতে, রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ইউক্রেন থেকে বিশ্বের নজর সরাতেই মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করতে চাইছেন। অন্যদিকে, ফ্রান্সের সশস্ত্র বাহিনী প্রধান জেনারেল ফাবিয়ঁ মঁদঁ বিশ্বের ৩৫টি দেশের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি ফের সচল করার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। যদিও ফ্রান্স একে একটি ‘প্রতিরক্ষামূলক’ উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল। কূটনৈতিক এই টানাপোড়েনের মধ্যেই তেলের বাজারে অস্থিরতা কমাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা আরও ১০ দিন স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে সাময়িক স্বস্তি দিলেও চূড়ান্ত সমাধানের পথ এখনো সুদূরপারাস্ত। ইসরায়েলি বাহিনীর সেনা সংকট ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা: একই সঙ্গে ইরান ও লেবানন সীমান্তে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীতে নজিরবিহীন সেনা সংকট দেখা দিয়েছে। দেশটির সেনাপ্রধান ইয়াল জামির মন্ত্রিসভার এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সতর্ক করে বলেছেন, সেনাবাহিনী এখন ‘ভেঙে পড়ার’ উপক্রম হয়েছে। তিনি ১০টি ‘লাল পতাকা’ বা সতর্কসংকেত দেখিয়ে বলেছেন, জরুরি ভিত্তিতে নতুন আইন করে প্রাক্তন সেনাদের দায়িত্বের ফেরানো এবং বাধ্যতামূলক দায়িত্বের সময়সীমা না বাড়ালে ইসরায়েল তার সামরিক সক্ষমতা হারাবে। ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ বর্তমান সরকারকে ‘নিরাপত্তা বিপর্যয়ের’ জন্য দায়ী করেছেন এবং কোনো সুনির্দিষ্ট কৌশল ছাড়াই যুদ্ধে জড়ানোর কঠোর সমালোচনা করেছেন। এই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সেনাসংকট ইসরায়েলের সামরিক পরিকল্পনাকে কিছুটা বাধাগ্রস্ত করছে, যার ফলে তারা আরও বেশি মাত্রায় মার্কিন বিমান সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। কোনদিকে যাচ্ছে পরিস্থিতি: বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ঘটনাবলির প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট এক অত্যন্ত জটিল ও অনিশ্চিত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হামলার যে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন, তা মূলত আলটিমেটাম হিসেবে কাজ করছে। যদি এই সময়ের মধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হয়, তবে পেন্টাগনের তৈরি করা ‘ফাইনাল ব্লো’ বা চূড়ান্ত আঘাতের পরিকল্পনা কার্যকর হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, শক্তির এমন বিধ্বংসী প্রদর্শন ইরানকে আলোচনায় বাধ্য করবে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি বলছে ভিন্ন কথা। ইরান যেভাবে ১০ লাখের বেশি যোদ্ধাকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রাখার কথা জানিয়েছে এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে নিশানা বানিয়েছে, তাতে পরিস্থিতি একটি পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক মহাযুদ্ধের দিকে মোড় নিতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা এবং তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা ডেকে আনতে পারে। পাকিস্তান ও চীন যেভাবে সংলাপে জোর দিচ্ছে, তা সফল না হলে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে যাওয়ার মতো ভয়াবহ সামরিক সংঘাত এড়ানো কঠিন হবে।
নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে গত বছরের প্রাণঘাতী জেনজি বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ শপথ নেওয়ার পরদিনই তাকে গ্রেপ্তার করা হলো। শনিবার (২৮ মার্চ) কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, নেপাল পুলিশ ভক্তপুরের গুন্ডু এলাকার বাসা থেকে তাকে আটক করে। ওলির সঙ্গে তার সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে কাঠমান্ডু ভ্যালি পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী বলেন, শনিবার সকালে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনের বিধান অনুযায়ী পরবর্তী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে। ওলিকে গ্রেপ্তারের কিছুক্ষণ পরই নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং বলেন, প্রতিশ্রুতি মানেই প্রতিশ্রুতি এবং আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, আমরা সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি এবং বিদায়ী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে আটক করেছি। এটি কারও বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নয়; এটি ন্যায়বিচারের শুরু মাত্র। আমি বিশ্বাস করি, এখন দেশ একটি নতুন পথে এগোবে। তবে ওলি দাবি করেছেন, তাকে প্রতিহিংসামূলকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি আইনি লড়াই চালিয়ে যাব। প্রতিবেদনে বলা হয়, উচ্চপদে থাকা সত্ত্বেও বিক্ষোভ চলাকালে অবহেলার কারণে ওলি ও লেখকসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের সুপারিশ করা হয়েছে। কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুলির নির্দেশ দেয়া হয়েছিল এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে গুলি বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণে আনার কোনো চেষ্টা করা হয়নি এবং দায়িত্বহীন আচরণের কারণে অপ্রাপ্তবয়স্করাও প্রাণ হারিয়েছে। তদন্ত কমিশন আরও অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে নেপাল পুলিশের তৎকালীন মহাপরিদর্শক চন্দ্র কুবের খাপুংও রয়েছেন। গত বছরের ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর দুর্নীতিবিরোধী যুব আন্দোলনে ৭০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন। এর মধ্যে কমপক্ষে ১৯ জন তরুণ। এই বিক্ষোভ শুরু হয় সোশ্যাল মিডিয়ায় স্বল্প সময়ের এক নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে। কিন্তু এর পেছনে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অসন্তোষ কাজ করছিল। পরের দিন এই আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। সংসদ ও সরকারি ভবনগুলোতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ফলে কেপি শর্মা ওলির সরকারের পতন ঘটে। এরপর নেপালের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি সুশিলা কার্কি স্বল্প সময়ের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দেন। অবসর ভেঙে দায়িত্ব নেয়া তার এই সময়কালকে নেপালের নাজুক গণতন্ত্রে স্থিতিশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় হিসেবে দেখা হয়। পরবর্তীতে র্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ বালেন্দ্র শাহ নির্বাচনে জয়লাভ করার পর বিক্ষোভের সহিংসতা তদন্তে একটি প্যানেল গঠন করা হয়। শুক্রবার বালেন্দ্র শাহের সভাপতিত্বে নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে ওই উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন দ্রুত বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।