হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে বিভিন্ন সেবার বিনিময়ে ফি নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘাই জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এক সংবাদ সম্মেলনে ইসমাঈল বাঘাই বলেন, “হরমুজ প্রণালী আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা এবং স্বার্থ রক্ষায় আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে আমরা কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।”
তিনি বলেন, “এই জলপথে নিরাপদ চলাচলের পরিবেশ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে আমাদের কিছু সময় প্রয়োজন হবে।”
হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ফি আরোপের বিষয়ে তিনি বলেন, “ফি নেওয়া হবে।”
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, এটি শুধু কোনও ধরনের চার্জ নয়; বরং জাহাজ চলাচলের জন্য বিভিন্ন ধরনের পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়ার অংশ হিসেবে এই অর্থ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “পরিবেশ সুরক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন সেবা প্রদান করা হবে। ইরান ও ওমানের পক্ষ থেকে আরও অনেক ধরনের সেবা দেওয়া হবে, আর এসব সেবার জন্য অর্থ ব্যয় হবে। সেই অনুযায়ী ফি থাকবে এবং বিষয়টি পরিষ্কার।”
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহের জন্য এই নৌপথের কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
ইরান ও ওমানের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল, জ্বালানি পরিবহন ব্যয় এবং বৈশ্বিক তেল বাজারে এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তিন মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্তকরণ এবং ধুঁকতে থাকা বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বস্তি ফেরাতে একটি যুগান্তকারী চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এ সমঝোতায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে পাকিস্তানের বলিষ্ঠ মধ্যস্থতা সোমবার বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশ্বনেতারা এ ঐতিহাসিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর মধ্যপ্রাচ্যে এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়, যা বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট তৈরি করেছিল। উপসাগরীয় অঞ্চলের এ তিন মাসব্যাপী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে কাঙ্ক্ষিত শান্তি চুক্তির বিষয়টি সোমবার প্রথম প্রহরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) এক বার্তার মাধ্যমে নিশ্চিত করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি জানান, আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তার নিজস্ব সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ যুদ্ধের অবসানের ঘোষণা দেন। ট্রাম্প বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তিটি এখন সম্পন্ন হয়েছে। সবাইকে অভিনন্দন! আমি হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ শুল্কমুক্তভাবে খুলে দেওয়ার অনুমোদন দিচ্ছি এবং একই সঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিচ্ছি। বিশ্বের সমস্ত জাহাজ, তোমাদের ইঞ্জিন চালু করো। তেল সচল হতে দাও!’ মধ্যপ্রাচ্যের এ চরম সংঘাতের সময় পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার বারবার প্রশংসা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধরত দুই দেশকে কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে এনে শান্তি চুক্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের নেতৃত্বকে কুর্নিশ জানিয়েছেন বিশ্বনেতারাও। জাতিসংঘ, সৌদি আরব, কাতার, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, জাপান, নিউজিল্যান্ড এবং জার্মানির রাষ্ট্রপ্রধান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পাকিস্তানের এ কূটনৈতিক সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তারা মনে করছেন, এ চুক্তি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার পথ সুগম করবে। জাতিসংঘ মহাসচিব জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ওয়াশিংটন ও তেহরানকে একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এ চুক্তি অবিলম্বে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং পরবর্তী আলোচনার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করবে’। বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রভাব ফেলা এ সংঘাত নিরসনে সালিশকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জাতিসংঘ প্রধান। এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে গুতেরেস মন্তব্য করেন, ‘এটি সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’। সৌদি আরব সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সামরিক অভিযান বন্ধ এবং একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ৬০ দিনের বিস্তারিত আলোচনা শুরু করতে ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সমঝোতাকে রিয়াদ স্বাগত জানায়’। বিবৃতিতে শান্তির পথ সচল রাখতে অন্যান্য প্রধান দেশের পাশাপাশি পাকিস্তানের শান্তি বিনির্মাণ প্রচেষ্টার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। কাতার কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আল-খুলাইফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার এ দেশটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমর্থনের পাশাপাশি এ প্রক্রিয়াটিকে সহজতর করার ক্ষেত্রে ইসলামিক রিপাবলিক অব পাকিস্তানের গঠনমূলক প্রচেষ্টার আমরা উচ্চ প্রশংসা করি’। উপসাগরীয় এ দেশটি আশা প্রকাশ করে যে, এ শান্তি চুক্তি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে ত্বরান্বিত করবে এবং অমীমাংসিত বিষয়গুলোতে একটি ‘গঠনমূলক আলোচন’ এগিয়ে নেবে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অপর এক বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয়ে ‘ইউএস-ইরান সমঝোতা স্মারক’ তৈরিতে পাকিস্তানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়। তুরস্ক তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোগান এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ চুক্তিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে শান্তি ও প্রশান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কাঙ্ক্ষিত কূটনৈতিক ফলাফল আনার পেছনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকাকে স্বীকৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘ব্যতিক্রমী মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার জন্য আমি পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানাই’। একই সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে এমন যেকোনো উসকানিমূলক বক্তব্য ও নাশকতা সম্পর্কে সতর্ক করেন তিনি। যুক্তরাজ্য যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং পাকিস্তান, কাতার ও অন্যান্য দেশের মধ্যস্থতাকারীদের অভিনন্দন জানাই- যারা এ যুগান্তকারী সাফল্যে অবদান রেখেছেন’। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এ পদক্ষেপকে যুদ্ধ অবসান ও হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘একটি বিশাল গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’ হিসেবে অভিহিত করেন। অস্ট্রেলিয়া অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর এ পর্যন্ত নেওয়া প্রচেষ্টার আমরা প্রশংসা করি’। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অস্ট্রেলিয়া দীর্ঘদিন ধরেই উপসাগরীয় অঞ্চলের পাশাপাশি লেবাননেও উত্তেজনা হ্রাস ও সংঘাতের অবসানের আহ্বান জানিয়ে আসছিল। ফ্রান্স ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের ভূমিকার কথা স্বীকার করে বলেন, এ চুক্তিটি একটি সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফসল, যেখানে বেশ কয়েকটি অংশীদার অবদান রেখেছে। তিনি যুদ্ধরত সব পক্ষকে এটি দ্রুত এবং সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। জাপান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি শান্তি প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, ‘পরিস্থিতি সমাধানের দিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে আমরা এ সমঝোতা স্মারককে স্বাগত জানাই। এটি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কূটনৈতিক সমাধান এবং অবিরাম আলোচনার ফল’।তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এ সমঝোতা স্মারকটি বাস্তবায়িত হলে হরমুজ প্রণালিতে মুক্ত ও নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত হবে। জার্মানি জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে ট্রাম্প এবং ইরান পক্ষকে এ কূটনৈতিক সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এটি বিশ্ব অর্থনীতির পুনরুদ্ধার এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার পথ প্রশস্ত করতে পারে’। নিউজিল্যান্ড নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ চুক্তিকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চলে উত্তেজনা হ্রাস এবং স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় নিউজিল্যান্ডের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, এখন এটি খুলে দেওয়ার ফলে প্রধান সরবরাহ চেইনগুলোতে আস্থা ফিরে আসবে। সংঘাতের শুরু থেকেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির যুদ্ধরত দেশ দুটির মধ্যে শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনার জন্য সক্রিয় প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। উল্লেখ্য, এর আগে গত এপ্রিলেও পাকিস্তান সরকারের প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্ভব হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছানোর ঘোষণা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও বাজারে স্বস্তি ফিরিয়েছে। সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৫৮ ডলার বা ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৮৩ দশমিক ৭৫ ডলারে নেমে আসে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৪ দশমিক ৭২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮০ দশমিক ৮৭ ডলারে দাঁড়ায়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও জানিয়েছেন, চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি আবারও উন্মুক্ত করা হবে এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হবে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের কারণে তেলের বাজারে যে অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল, চুক্তির সম্ভাবনায় তা দ্রুত কমতে শুরু করেছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছেন। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। গত তিন মাসের বেশি সময় ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অচলাবস্থা থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছিল। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলের দাম আরও কতটা কমবে তা নির্ভর করবে মধ্যপ্রাচ্যের উৎপাদনকারী দেশগুলো কত দ্রুত উৎপাদন ও রপ্তানি স্বাভাবিক করতে পারে এবং আগামী ৬০ দিনের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা কতটা এগোয় তার ওপর। এদিকে ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি জানিয়েছে, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে তারা দেশটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে প্রস্তুত। সূত্র : রয়টার্স
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর উদ্যোগের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির শীর্ষ আইনপ্রণেতারা। তাদের মতে, এই প্রস্তাবিত চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক পরাজয় এবং কার্যত একটি ‘আত্মসমর্পণ দলিল’। ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর অ্যাডাম শিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্পের এই উদ্যোগের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ শেষ হওয়ার কথা বললেও অতীতের বহু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি এবং তার প্রশাসনের নীতিতে ধারাবাহিকতা নেই। শিফ আরও অভিযোগ করেন, নতুন যুদ্ধ শুরু হলেও এর আর্থিক বোঝা কমাতে ব্যর্থ হয়েছে প্রশাসন, যার প্রভাব সরাসরি মার্কিন জনগণের ওপর পড়ছে। অন্যদিকে ডেমোক্রেটিক কংগ্রেস সদস্য সেথ মল্টন এই সম্ভাব্য চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম ব্যর্থ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এটি একটি ‘ভয়াবহ চুক্তি’ এবং এটিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের কাছে জমা দেওয়া আত্মসমর্পণ দলিল ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না। তিনি দাবি করেন, এই সংঘাতে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে এবং মার্কিন সেনাদের প্রাণহানিও ঘটেছে। তার মতে, এত ক্ষয়ক্ষতির পর এমন একটি চুক্তি কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের বিজয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না। ডেমোক্র্যাট নেতাদের এই প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।