জাতীয়

হামের প্রাদুর্ভাব, আরও ৮ শিশুর মৃত্যু

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৬, ২০২৬
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

দেশে হাম ও উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১৭১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর ফলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত এ রোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৭৯ জনে।

 

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।

 

ব্রিফিংয়ে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত আটজনই হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সারা দেশে হাম ও উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে বলেও জানানো হয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক পারস্পরিক স্বার্থে আবদ্ধ: দীনেশ ত্রিবেদী

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারত পারস্পরিক স্বার্থের বন্ধনে আবদ্ধ। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপির কার্যালয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় এসব কথা বলেন দীনেশ ত্রিবেদী।   এসময় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, সংসদীয় কূটনীতি, তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারসহ সংসদীয় কার্যক্রমের আধুনিকায়ন এবং পারষ্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়।   বৈঠকের শুরুতে দীনেশ ত্রিবেদী লুই আই কানের চমৎকার স্থাপত্যশৈলী জাতীয় সংসদ ভবনের প্রশংসা করেন। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশ অভিন্ন ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পারস্পরিক স্বার্থের বন্ধনে আবদ্ধ। বিদ্যমান সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নিতে তিনি সংসদীয় যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।   তিনি বলেন, দুই দেশের সংসদ সদস্যদের মধ্যে পারষ্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, নিয়মিত মতবিনিময় ও দুই দেশের পার্লামেন্টের পারস্পরিক সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।   ভারতের পার্লামেন্টকে একটি আধুনিক পার্লামেন্ট আখ্যায়িত করে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই ই-পার্লামেন্ট ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং এর সফল বাস্তবায়নে তিনি ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। তিনি দীনেশ ত্রিবেদীর মত একজন অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ানকে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে পাওয়াকে এক্ষেত্রে একটি দারুণ সুযোগ বলে উল্লেখ করেন। দুই দেশের মধ্যকার সংসদীয় যোগাযোগে এবং বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থার আধুনিকায়নে দুই দেশের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করতে তিনি সহায়ক ভূমিকা পালন করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ডেপুটি স্পিকার।   ডেপুটি স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে সংসদীয় কূটনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হলে তা দুই দেশের জন্য চমৎকার অভিজ্ঞতা বিনিময়ের প্লাটফরম হতে পারে।   জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার, পারষ্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ এবং পারষ্পরিক আস্থা, স্থিতিশীলতা ও বিশ্বাসের জায়গাকে আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উভয়পক্ষ।   সাক্ষাৎকালে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া, বাংলাদেশে ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

মাদক ও নৈতিক অবক্ষয় ঠেকাতে প্রাথমিক থেকেই উদ্যোগ চান শিক্ষামন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বুদ্ধিমান মানুষ, সফরের সিদ্ধান্ত তার ওপর: ভারতীয় হাইকমিশনার

দুর্নীতির মামলায় স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য হয়নি

ছবি: সংগৃহীত
গৃহকর্মীর মৃত্যুর মামলায় সাংবাদিক আশফাক ও স্ত্রীর বিচার শুরু

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কিশোরী গৃহকর্মী প্রীতি ওড়ানের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় ডেইলি স্টারের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আশফাকুল হক ও তার স্ত্রী তানিয়া খন্দকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হলো।   বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আলমগীর হোসেনের আদালত দুই আসামির অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।   মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর জন্য আগামী ৪ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন।   অভিযোগ গঠনের শুনানিতে আশফাকুল হক ও তানিয়া খন্দকার দুজনই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাদের পক্ষে আইনজীবী চৈতন্য চন্দ্র হালদার ও ওমর ফারুক আসিফ অব্যাহতি চেয়ে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন।   দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত আসামিদের কাছে জানতে চান, তারা অভিযোগ স্বীকার করেন কি না। জবাবে দুজনই নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। পরে আদালত তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।   মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি আবাসিক ভবনের নবম তলা থেকে পড়ে ১৫ বছর বয়সী গৃহকর্মী প্রীতি ওড়ানের মৃত্যু হয়। তিনি ওই ভবনের একটি ফ্ল্যাটে সৈয়দ আশফাকুল হক ও তানিয়া খন্দকারের বাসায় কাজ করতেন।   নিহত প্রীতি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মিত্তিঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। ঘটনার পর তার বাবা লুকেশ ওড়ান বাদী হয়ে আশফাকুল হক ও তার স্ত্রী তানিয়া খন্দকারের বিরুদ্ধে মামলা করেন।   মামলায় অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ আনা হয়েছে এবং দণ্ডবিধির ৩০৪(ক) ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়।   তদন্ত শেষে গত ৩১ মার্চ ডিবি পুলিশের তেজগাঁও জোনাল টিমের উপপরিদর্শক এস এম মাহমুদ রেজা আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।   অভিযোগপত্রে আশফাকুল হক ও তানিয়া খন্দকারকে অভিযুক্ত করা হয়।   পরে মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় গত ১৬ জুন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়।   মামলায় গ্রেপ্তারের পর আশফাকুল হক ও তানিয়া খন্দকার প্রায় চার মাস কারাগারে ছিলেন। পরে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে তারা কারামুক্ত হন।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

এআই নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন আনছে সরকার

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-আশুলিয়া রুটে খুলল দুই টোলমুক্ত সার্ভিস সেতু

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা, বিলের খসড়ায় পাঁচ সংশোধন

ছবি: সংগৃহীত
এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সংকট সমাধান হবে: রিজভী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন আগামী এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে দেশে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় গাছের চারা রোপণ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।   রিজভী বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকট শুধু সরকারের কারণে সৃষ্টি হয়নি। এর পেছনে বৈশ্বিক নানা কারণও রয়েছে। তবে সংকট মোকাবিলায় সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে শিল্পকারখানাগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   তিনি বলেন, আগামী এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে মিল-কারখানাগুলোর জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এতে শিল্প উৎপাদন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে চলমান সংকট ধীরে ধীরে কমে আসবে।   এলএনজি আমদানির প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার জন্য সরকার ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের পাশাপাশি বিভিন্ন কার্যক্রমও নেওয়া হচ্ছে।   দেশের সামগ্রিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে রিজভী বলেন, বর্তমান সংকটকে দীর্ঘস্থায়ী হতে দেওয়া হবে না। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট এই সংকট মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।   রুহুল কবির রিজভী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানুষের জীবনের ঝুঁকি বাড়ছে। এই বিপদ মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিষয়টি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন। তাই দলের পক্ষ থেকে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।   তিনি আরও বলেন, বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি ও নির্বাচনি ইশতেহারে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি এবং তা মোকাবিলায় করণীয় তুলে ধরা হয়েছে। এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ঘোষিত ‘ভিশন-২০৩০’-এও পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।   বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি কমাতে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি দেশের জলাভূমি, নদী, নালা, খাল ও বিল পুনঃখনন এবং দূষণমুক্ত করতে হবে। বিভিন্ন শিল্পকারখানার রাসায়নিক ও বিষাক্ত পদার্থের কারণে দেশের জলাশয় ও নদ-নদী দূষিত হচ্ছে। এগুলো রক্ষায় সরকার কাজ করছে।   সরকার পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বলে জানিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, এরই অংশ হিসেবে গত ছয় মাসে নির্ধারিত আড়াই কোটি গাছের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় তিন কোটি বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। বৃক্ষ হচ্ছে পৃথিবীর প্রকৃতির ড্রয়িংরুম। মানুষ যেমন নিজের ঘর সাজায়, তেমনি বৃক্ষের মাধ্যমে পৃথিবীকে সাজানো যায়। বৃক্ষ যত সতেজ হয়ে বেড়ে উঠবে, পরিবেশ তত নির্মল হবে এবং মানুষ বিশুদ্ধ অক্সিজেন পাবে।   বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবেশ ও বৃক্ষরোপণ উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, সৌদি আরবের আরাফাত ময়দানে নিমগাছ লাগানোর উদ্যোগও পরিবেশ সচেতনতার একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। আজ ৩০০ ফিট এলাকায় নিম ও কৃষ্ণচূড়া গাছ লাগানো হয়েছে।   অনুষ্ঠানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তফা জামান, যুগ্ম আহ্বায়ক এ বি এম আব্দুর রাজ্জাকসহ বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে: রিজভী

সংগৃহীত ছবি

গ্যাস সংকট কাটবে কবে, জানালেন রিজভী

বাংলাদেশের এলএনজির জাহাজ হরমুজ পার হতে সমস্যা হবে না: ইরানের রাষ্ট্রদূত

0 Comments