বাংলা নতুন বছরকে বরণ করতে বর্ণিল আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলের সংস্কৃতি সেলের উদ্যোগে "নাগরিক বর্ষবরণ ১৪৩৩" আয়োজনে থাকবে বর্ণাঢ্য বৈশাখী র্যালি, বাউল গান, নৃত্য, আবৃত্তি, লোকজ পরিবেশনা এবং দেশীয় ঐতিহ্যের নানান ছোঁয়া।
এনসিপির সংস্কৃতি সেল সম্পাদক লুৎফর রহমান জানান, পহেলা বৈশাখের দিন মঙ্গলবার দুপুরের পরই মূল আয়োজন শুরু হবে। বেলা ৩টায় বর্ণিল এক শোভাযাত্রায় অংশ নেবেন এনসিপির নেতাকর্মীরা।
রাজধানীর বাংলামোটর থেকে শুরু করে শাহবাগ হয়ে এ শোভাযাত্রা বাংলামোটরে ফিরে এসে শেষ হবে। একই সময়ে বাংলামোটরের নেভি গলিতে বসবে বৈশাখী মেলা। এ আয়োজনে থাকবে গান, নৃত্য ও বায়োস্কোপসহ বাঙালিয়ানার নানা অনুষঙ্গ। মুড়ি-মুড়কি ও জিলাপির আয়োজনও থাকছে।
এনসিপির সংস্কৃতি সেল সম্পাদক ঢাকাবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, নতুন বছরের নতুন দিনে আমাদের সঙ্গে মিলিত হোন ঐতিহ্য আর উৎসবের রঙে রঙিন হতে। আপনার উপস্থিতি আমাদের আনন্দকে আরও পূর্ণ করবে।
নেভি গলির আয়োজনস্থলে সোমবার রাত ৮টার পর থেকেই শুরু হয় আল্পনা আঁকা। মঙ্গলবারের মেলায় বাহারি খাবার ও মাটির তৈজসপত্রের দোকানও বসবে বলে জানা গেছে।
সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার পূর্বেই মেলার কার্যক্রম শেষ হবে বলে জানিয়েছেন এনসিপির সংস্কৃতি সেল সম্পাদক লুৎফর রহমান।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সময়ের আবর্তন মানবসভ্যতার এক অনিবার্য বাস্তবতা, কিন্তু সেই সময়কে মানুষ কীভাবে ব্যাখ্যা করে সেখানেই গড়ে ওঠে তার বিশ্বাস, তার সংস্কৃতি এবং তার পরিচয়। পহেলা বৈশাখ আজ বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এক বিস্তৃত উপস্থিতি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তবে এর গভীরে প্রবেশ করলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে এটি কেবল একটি দিন নয়, এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং বিশ্বাসের সংযোগস্থল, যেখানে একজন মুসলমানের অবস্থান নির্ধারণ সহজ নয়, কিন্তু অস্পষ্টও নয়। বাংলা সনের সূচনা হয়েছিল কোনো ধর্মীয় অনুষঙ্গ থেকে নয়, বরং প্রশাসনিক প্রয়োজন থেকে। মুঘল সম্রাট আকবর তার সাম্রাজ্যের করব্যবস্থাকে কৃষি মৌসুমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার লক্ষ্যে একটি নতুন পঞ্জিকার প্রবর্তন করেন। হিজরি সনের সঙ্গে সৌরবর্ষের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই ফসলি সন ধীরে ধীরে বাংলা সনে রূপান্তরিত হয়। এর জন্ম ছিল অর্থনৈতিক বাস্তবতায়, কিন্তু এর পরিণতি হয়েছে সাংস্কৃতিক বিস্তারে। কালের প্রবাহে এই দিনটি শুধু হিসাবের খাতা খোলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা রূপ নিয়েছে এক সামষ্টিক উৎসবে। মেলা, শোভাযাত্রা, সংগীত, এবং নানান আয়োজনের মধ্য দিয়ে এটি আজ এমন এক পরিচয়ে পৌঁছেছে, যেখানে সংস্কৃতি ও উৎসব একাকার হয়ে গেছে। কিন্তু এখানেই একজন মুসলমানের জন্য প্রশ্নটি গভীর হয়ে ওঠে সংস্কৃতি কি বিশ্বাসের সীমারেখা অতিক্রম করতে পারে? ইসলাম এই প্রশ্নের উত্তর দেয় সুস্পষ্ট নীতির মাধ্যমে। সময়কে ইসলাম মর্যাদা দিয়েছে, কিন্তু তাকে উৎসবের রূপ দেয়নি। পবিত্র কুরআন সময়কে জবাবদিহিতার মানদণ্ড হিসেবে উপস্থাপন করে, আনন্দোৎসবের নয়। ইসলামে নির্ধারিত উৎসব কেবল দুটি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা যেগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত, মানুষের উদ্ভাবিত নয়। এই নীতিকে আরও স্পষ্ট করে দিয়েছেন রাসুলুল্লাহ মুহাম্মদ সা., যিনি মদিনায় এসে স্থানীয় উৎসবগুলোকে বাতিল করে মুসলমানদের জন্য নির্ধারিত দুই ঈদের দিকনির্দেশনা দেন। তার বাণীতে উচ্চারিত হয়েছে এক মৌলিক সত্য যে ব্যক্তি কোনো জাতির অনুকরণ করে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত। এই হাদিস কেবল বাহ্যিক অনুকরণের বিরুদ্ধে সতর্কতা নয়, এটি পরিচয় ও বিশ্বাসের সুরক্ষার এক মৌলিক নীতিও। ইসলামী ফিকহের ধারাবাহিকতায় ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালিক, ইমাম শাফেয়ী এবং ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল সকলেই দ্বীনের মধ্যে নতুন উৎসব সংযোজন এবং অমুসলিমদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের অনুসরণ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। পরবর্তীতে ইবনে তাইমিয়্যাহ তার বিশ্লেষণে দেখিয়েছেন, উৎসব কেবল আনন্দের বহিঃপ্রকাশ নয়, এটি একটি জাতির বিশ্বাস, দৃষ্টিভঙ্গি ও পরিচয়ের প্রতিফলন। তাই অন্যের উৎসব গ্রহণ করা মানে ধীরে ধীরে সেই পরিচয়ের প্রভাবকে নিজের ভেতরে প্রবেশ করানো। এই প্রেক্ষাপটে বাংলা নববর্ষের প্রশ্নটি আর কেবল সাংস্কৃতিক থাকে না, এটি আকিদার পরিসরে প্রবেশ করে। কারণ কোনো উৎসব যখন নিয়মিত আচার, প্রতীক, এবং সামষ্টিক উদযাপনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন তা নিছক সময়চিহ্ন থাকে না, এটি এক ধরনের পরিচয়ের বহিঃপ্রকাশে পরিণত হয়। ইসলামের অবস্থান এখানে দ্ব্যর্থহীন বিধর্মীদের ধর্মীয় উৎসব ও অনুকরণ মুসলমানের জন্য অনুমোদিত নয়। কারণ ইসলাম তার অনুসারীদের জন্য একটি স্বতন্ত্র জীবনব্যবস্থা নির্ধারণ করেছে, যেখানে বিশ্বাস, আচরণ ও উৎসব সবকিছুই আল্লাহর নির্দেশনার আলোকে পরিচালিত হয়। এই স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করা শুধু একটি বিধান নয়, এটি ঈমানেরই অংশ। তবু বাস্তবতার একটি স্তর রয়েছে, যেখানে মানুষ সংস্কৃতির অংশ হিসেবে অনেক কিছুতে যুক্ত থাকে। এই বাস্তবতার মাঝেও একজন সচেতন মুসলমানের দায়িত্ব হলো নিজেকে প্রশ্ন করা সে কি কেবল একটি ঐতিহাসিক ক্যালেন্ডারের পরিবর্তনকে স্বীকার করছে, নাকি এমন এক উৎসবের অংশ হয়ে যাচ্ছে, যার ভেতরে অন্য বিশ্বাসের ছাপ ও ইসলামের সীমালঙ্ঘন নিহিত? ইসলামের দৃষ্টিতে যেসব উৎসব-আয়োজন ও খেলাধুলার মাধ্যমে মানুষের জীবন-সম্ভ্রমের নিরাপত্তাঝুঁকি, নামাজ-ইবাদতের জন্য প্রতিবন্ধক, বিধর্মীদের অনুসরণ, সময় ও অর্থের অপচয়, জুয়া-লটারি, রং খেলা, উদ্দামনৃত্য-গীত, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, উল্কি আঁকা, অবৈধপণ্যের বিপণন ইত্যাদির বাহুল্য থাকে, তা একজন ঈমানদারের জন্য অশোভন। কেননা শরীর ও মনের বিকাশে যেসব কাজকর্মের ফলে ফরজ লঙ্ঘন অথবা হারামের অনুষঙ্গ তৈরি হয়, সে সব কিছুই ইসলামের দৃষ্টিতে কবিরা গুনাহ। একটি কবিরা গুনাহ জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হওয়ার যৌক্তিকতা হিসেবে যথেষ্ট। কবিরা গুনাহ তাওবা ছাড়া মাফ হয় না। বাংলা নববর্ষ তাই কেবল একটি দিন নয়, এটি একটি আয়না, যেখানে একজন মুসলমান তার অবস্থান, তার পরিচয় এবং তার দায়বদ্ধতাকে দেখতে পারে। এটি আনন্দের নয়, বরং সচেতনতার আহ্বান যেখানে সংস্কৃতিকে বুঝে গ্রহণ করতে হয়, কিন্তু বিশ্বাসকে কখনো আপস করা যায় না। পরিশেষে ইসলাম মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয়, সময় কোনো উৎসব নয়, এটি একটি আমানত। আর এই আমানতের প্রতি দায়িত্বশীল থাকাই একজন মুমিনের প্রকৃত পরিচয়। লেখক: শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, কায়রো, মিশর
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) দিনের শুরুতে লেনদেনে প্রবেশ করতেই মূল্যবান এ ধাতুর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৯টা ২৩ মিনিটে (ইস্টার্ন টাইম) এবং গ্রিনিচ মান সময় দুপুর ১টা ২৩ মিনিটে স্পট গোল্ডের মূল্য ০.৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭২৮ দশমিক ৫৯ ডলারে নেমে আসে। এটি গত ৭ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন স্তর হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এদিকে, জুন ডেলিভারির জন্য মার্কিন গোল্ড ফিউচার বাজারে দাম ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭৫২ দশমিক ২০ ডলারে লেনদেন হয়। বিশ্লেষকদের ধারণা অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী সংঘাতের পর স্বর্ণের দামে ১০ শতাংশেরও বেশি পতন ঘটেছে। সাধারণভাবে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বা মুদ্রাস্ফীতির সময় স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে উচ্চ সুদের হার এ বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে, কারণ স্বর্ণ কোনো ধরনের সুদ প্রদান করে না। এছাড়া মার্কিন ডলারের মানও প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। ফলে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারী বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণের বাজারে চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।
রাজধানীর গুলিস্তান এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ চোরাই মোবাইল ফোনসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর পল্টন মডেল থানা। এর আগে শনিবার রাত ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মো. জহুরুল ইসলাম (৩৮)-কে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির কাছ থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ১১৭টি স্মার্টফোন ও বাটন ফোন এবং ২০টি পুরোনো চার্জার উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মোবাইলগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১২ লাখ ১২ হাজার ৩০০ টাকা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি ও ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন কম দামে সংগ্রহ করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করতেন। পুলিশ আরও জানায়, এ ধরনের অপরাধচক্র চিহ্নিত ও নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। এ বিষয়ে এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, চুরি ও ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশের অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।