বিশ্ব

এবার নতুন কৌশলে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘায়েল করবে ইরান

মারিয়া রহমান এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ইরানের নিরাপত্তা কমিশনের মুখপাত্র এব্রাহিম রেজায়ই। ছবি : সংগৃহীত
ইরানের নিরাপত্তা কমিশনের মুখপাত্র এব্রাহিম রেজায়ই। ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবারও সামরিক সংঘাত শুরু হলে ইরান উপযুক্ত জবাব দেবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের মুখপাত্র এব্রাহিম রেজায়ই। এসময় ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি অবরোধের ঘোষণাকে ‘ফাঁকা বুলি’ বলে দাবি করেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রেজায়ই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে এবং বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বাড়াবে। তিনি বলেন, ইরান এবার এমন কিছু কৌশল প্রয়োগ করবে, যা আগে কখনও ব্যবহার করা হয়নি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার (১৩ এপ্রিল) থেকে ইরানের বন্দরগুলো থেকে প্রবেশ ও বহির্গামী সব জাহাজের ওপর অবরোধ কার্যকর করা হবে। মার্কিন এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনী এ নৌ-অবরোধে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজন হলে দীর্ঘ সময় ধরে এই অবরোধ চালু থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপকে ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ইরান। দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালির দিকে কোনো যুদ্ধজাহাজ এগোলে তা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের এ উদ্যোগে খুব বেশি আন্তর্জাতিক সমর্থন পাচ্ছে না বলে জানা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মিত্র হিসেবে পরিচিত যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য এ ধরনের অবরোধকে সমর্থন করে না। একই সঙ্গে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের আরেক মিত্র ফ্রান্সও ইরানের বিরুদ্ধে এ সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ছয় সপ্তাহ ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, তা এখন ঝুঁকির মুখে। ইসলামাবাদে সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ব্যর্থ হওয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

ইরান জানিয়েছে, তারা প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ স্বীকৃতি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি থেকে সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান তাদের ইউরেনিয়াম মজুত ত্যাগ করুক এবং ভবিষ্যতে সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ করুক।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ইরানের নিরাপত্তা কমিশনের মুখপাত্র এব্রাহিম রেজায়ই। ছবি : সংগৃহীত
এবার নতুন কৌশলে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘায়েল করবে ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবারও সামরিক সংঘাত শুরু হলে ইরান উপযুক্ত জবাব দেবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের মুখপাত্র এব্রাহিম রেজায়ই। এসময় ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি অবরোধের ঘোষণাকে ‘ফাঁকা বুলি’ বলে দাবি করেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রেজায়ই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে এবং বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বাড়াবে। তিনি বলেন, ইরান এবার এমন কিছু কৌশল প্রয়োগ করবে, যা আগে কখনও ব্যবহার করা হয়নি। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার (১৩ এপ্রিল) থেকে ইরানের বন্দরগুলো থেকে প্রবেশ ও বহির্গামী সব জাহাজের ওপর অবরোধ কার্যকর করা হবে। মার্কিন এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনী এ নৌ-অবরোধে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজন হলে দীর্ঘ সময় ধরে এই অবরোধ চালু থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপকে ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ইরান। দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালির দিকে কোনো যুদ্ধজাহাজ এগোলে তা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের এ উদ্যোগে খুব বেশি আন্তর্জাতিক সমর্থন পাচ্ছে না বলে জানা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মিত্র হিসেবে পরিচিত যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য এ ধরনের অবরোধকে সমর্থন করে না। একই সঙ্গে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের আরেক মিত্র ফ্রান্সও ইরানের বিরুদ্ধে এ সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ছয় সপ্তাহ ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, তা এখন ঝুঁকির মুখে। ইসলামাবাদে সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ব্যর্থ হওয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরান জানিয়েছে, তারা প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ স্বীকৃতি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি থেকে সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান তাদের ইউরেনিয়াম মজুত ত্যাগ করুক এবং ভবিষ্যতে সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ করুক।

মারিয়া রহমান এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি

অবরোধ ভাঙলে ইরানি ‘ফাস্ট অ্যাটাক শিপ’ ধ্বংসের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ছবি: সংগৃহীত

ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারে কাজ চলছে: লেবাননের প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

প্রথম দফার ভোটে ‘বামপন্থী শত্রুর’ বিরুদ্ধে জয়ের দাবি ফুজিমোরির

ছবি: সংগৃহীত
বুলগেরিয়ার আগাম নির্বাচনে জনমত জরিপে এগিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট রাদেভ

 দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে উঠার প্রত্যাশায় আগামী সপ্তাহে সাধারণ নির্বাচনে যাচ্ছে বুলগেরিয়া। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এটি দেশটির অষ্টম নির্বাচন। এই নির্বাচনে জয়ী হতে পারেন সাবেক প্রেসিডেন্ট রুমেন রাদেভের নতুন জোট— জনমত জরিপে এমনই আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সোফিয়া থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান রাদেভ চলতি বছরের শুরুতে নয় বছর দায়িত্ব পালন শেষে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করেন।  গত বছরের শেষ দিকে দুর্নীতিবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে রক্ষণশীল সরকার পদত্যাগ করলে এই আগাম নির্বাচনের পথ তৈরি হয়। ৬৫ লাখ মানুষ বসবাসকারী ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোভুক্ত দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। ২০২১ সালে দীর্ঘদিনের রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী বয়কো বোরিসভ দুর্নীতিবিরোধী ব্যাপক আন্দোলনে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে বুলগেরিয়া অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এরপর থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে দরিদ্র সদস্য রাষ্ট্রটিতে কোনো সরকারই এক বছরের বেশি স্থায়ী হয়নি। ইইউ’র কিছু নীতির কড়া সমালোচক রাদেভ মধ্যপন্থী বাম প্রগ্রেসিভ বুলগেরিয়া জোটের নেতা হিসেবে নির্বাচনে লড়তে প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়েন। জনমত জরিপ অনুযায়ী, তার পক্ষে প্রায় ৩০ শতাংশ ভোটারের সমর্থন রয়েছে। দেশকে ‘অলিগার্কি শাসনব্যবস্থা’ থেকে মুক্ত করতে ২০২৫ সালের শেষের দিকে তিনি দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে প্রকাশ্যে সমর্থন দেন। রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের আহ্বানও জানিয়েছেন রাদেভ। যদিও ২০২২ সাল থেকে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় হামলা চালিয়ে আসছে রাশিয়া।  ইউক্রেনে অস্ত্র পাঠানো নিয়ে আগের নীতিরও কড়া সমালোচক রাদেভ। তিনি ফেব্রুয়ারি থেকে দায়িত্বে থাকা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে কিয়েভের স্বাক্ষরিত ১০ বছরের প্রতিরক্ষা চুক্তিরও সমালোচনা করেছেন। এতে তার বিরোধীরা তাকে রাশিয়ার প্রতি অতিরিক্ত সহনশীল হওয়ার  অভিযোগ তুলেন।  গত বছর ইউরোজোনে বুলগেরিয়ার যোগদানের বিষয়ে গণভোটের আহ্বান জানান রাদেভ। তার দাবি ছিল, দেশটি ইউরোপীয় একক মুদ্রায় যোগদানের জন্য প্রস্তুত নয়। ইইউর গ্রিন ডিল নীতিকেও তিনি ‘নিয়মহীন বিশ্বের জন্য সরল চিন্তা’ বলে সমালোচনা করেছেন। আলফা রিসার্চ নামে জনমত জরিপ প্রতিষ্ঠানের বোরিয়ানা দিমিত্রোভা এএফপিকে বলেন, প্রগ্রেসিভ বুলগেরিয়া ইউরোপ-বিরোধী ও রাশিয়াপন্থী ভোটারদের পাশাপাশি ছোট শহর ও গ্রামে বসবাসরত তরুণদের আকর্ষণ করছে। প্রগ্রেসিভ বুলগেরিয়ার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হলো রক্ষণশীল জিইআরবি, যা জনমত জরিপে মাত্র ২০ শতাংশের কিছু বেশি সমর্থন পাচ্ছে। ব্রাসেলস-সমর্থিত জিইআরবি প্রকাশ্যে ইউক্রেনকে সমর্থন করে। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্যোগে বুলগেরিয়ার অংশগ্রহণের পক্ষে। এদিকে বুলগেরিয়ার পুলিশ ভোট কেনাবেচার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে। তারা জানায়, অভিযানে ৫ লাখ ইউরোর বেশি (৫ লাখ ৮৩ হাজার ডলার) নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে ও দুই শতাধিক মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভোট কেনার কৌশলের মধ্যে ছিল ‘মুদির দোকান ও সেলুনের বকেয়া পরিশোধ করে দেওয়া’ অথবা দলীয় কার্যালয়ে নগদ অর্থ বিতরণ। বিশ্লেষক দিমিত্রোভা বলেন, আগের নির্বাচনে কম ভোটার উপস্থিতির পর এবার বেশি ভোট পড়লে রাদেভ লাভবান হতে পারেন। ২৪০ আসনের পার্লামেন্টে তিনি যদি শতাধিক আসন পান, তাহলে ‘স্বল্পসংখ্যক আসন নিয়েও সরকার গঠন’ বা কম সমঝোতায় জোট সরকার গঠন সম্ভব হবে। এতে কিছু সময়ের জন্য স্থিতিশীল সরকার গড়া যেতে পারে বলে মনে করেন দিমিত্রোভা। নতুন পার্লামেন্টকে দুর্বল বিচার ব্যবস্থাসহ বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক সংকটের কারণে প্রধান প্রসিকিউটরসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে এখনো ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের ২০২৫ সালের দুর্নীতি ধারণা সূচকে বুলগেরিয়ার অবস্থান ৮৪তম। ইউরোপীয় ইউনিয়নে এটি সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে থাকা দেশ। 

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ‘আন্তরিক’: তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে শত্রুদের 'প্রাণঘাতী ঘূর্ণিতে' আটকে ফেলার হুমকি আইআরজিসির

দায়িত্বের ১০০ দিনে ‘সমাজতান্ত্রিক’ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরলেন নিউইয়র্কের নতুন মেয়র

ছবি: সংগৃহীত
হামলা হলে ওমান সাগরের কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না : ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, তাদের বন্দর লক্ষ্য করে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে উপসাগরীয় অঞ্চল ও ওমান সাগরের কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না।   ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি বলেন, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে হুমকি অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে শত্রু দেশের জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞাকে অবৈধ ও সমুদ্র দস্যুতা হিসেবে উল্লেখ করেন।   তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চল ও ওমান সাগরে বন্দর নিরাপত্তা সবার জন্য নিশ্চিত থাকবে, অথবা কারও জন্যই থাকবে না। অর্থাৎ, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে পুরো অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।   এর আগে একই দিন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টকম ঘোষণা দেয়, ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগামী ও সেখান থেকে আসা সব ধরনের জাহাজ চলাচলে অবরোধ কার্যকর করা হবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এই পাল্টাপাল্টি হুমকি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, বিশ্বে মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদে নেতৃত্ব পরিবর্তনের ইঙ্গিত

ছবি : সংগৃহীত

এশীয় শেয়ারবাজারে বড় পতন, ১০০ ডলার ছাড়ালো তেলের দাম

ছবি: সংগৃহীত

নৌ অবরোধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতা নিশ্চিত: ইরানি সামরিক উপদেষ্টা

0 Comments