অন্যান্য

এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহারে আপনার পরিবারের সুরক্ষায় জরুরি কিছু পরামর্শ

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬

লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি এখন প্রায় প্রতিটি রান্নাঘরের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দ্রুত রান্না, ঝামেলাহীন ব্যবহার আর সহজলভ্যতার কারণে এলপিজির জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছেই। তবে সুবিধার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের রান্নাঘর মানেই সারাক্ষণ ব্যস্ততা; কেউ রান্না করছেন, কেউ চা বানাচ্ছেন, আবার শিশুরা ফাঁকে ফাঁকে কিছু খেতে ঢুঁ মারছে। এমন পরিবেশে সামান্য অসতর্কতা থেকেও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চললেই আপনি নিজের পরিবারকে রাখতে পারেন নিরাপদ।


এলপিজি কেনার সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন

অনুমোদিত ডিলার বা পরিবেশকের কাছ থেকেই এলপিজি সিলিন্ডার কিনুন।

অননুমোদিত দোকান থেকে নেওয়া সিলিন্ডার ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

ডেলিভারির সময় সিলিন্ডারের সিল ও সেফটি ক্যাপ ঠিক আছে কি না দেখুন।

সিল ভাঙা থাকলে সিলিন্ডার নেবেন না।

সিলিন্ডারের গায়ে লেখা পরীক্ষার মেয়াদ (ডিএফটি) দেখে নিন। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে সেই সিলিন্ডার ব্যবহার করা নিরাপদ নয়।

নতুন সিলিন্ডার লাগানোর সময় জয়েন্টে সাবানের ফেনা লাগিয়ে গ্যাস লিক হচ্ছে কি না পরীক্ষা করুন।

কখনোই আগুন দিয়ে গ্যাস লিক পরীক্ষা করবেন না।


রান্নার সময় যেসব সতর্কতা জরুরি

রান্নাঘরের জানালা-দরজা খোলা রাখুন, যেন বাতাস চলাচল করতে পারে।

চুলার কাছে প্লাস্টিক, কাগজ, কাপড় বা দাহ্য বস্তু রাখবেন না।

রান্না করার সময় চুলা জ্বালিয়ে রেখে বাইরে চলে যাবেন না।

সহজে আগুন ধরে, এমন ঢিলেঢালা পোশাক পরা এড়িয়ে চলুন।

রান্না শেষে রেগুলেটরের নবটি অবশ্যই অফ করুন।

চুলার কাছে প্লাস্টিক, কাগজ, কাপড় বা দাহ্য বস্তু রাখবেন না


এলপিজি রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণ

দীর্ঘদিন চুলা ব্যবহার না করলে রেগুলেটর খুলে সেফটি ক্যাপ লাগিয়ে রাখুন।

সিলিন্ডার সব সময় সোজা অবস্থায় ও খোলা জায়গায় রাখুন।

চুলার পাইপ বা সুরক্ষা টিউব প্রতিবছর বদলানো ভালো অভ্যাস।

সব সময় আইএসআই বা মানসম্পন্ন পাইপ, রেগুলেটর ও চুলা ব্যবহার করুন।

সিলিন্ডার বা যন্ত্রাংশে নিজে কোনো ধরনের কাটাছেঁড়া বা মেরামতের চেষ্টা করবেন না।


যদি গ্যাসের গন্ধ পান বা লিক সন্দেহ হয়—

দ্রুত রেগুলেটর ও চুলার নব বন্ধ করুন।

ভয় না পেয়ে সব দরজা-জানালা খুলে দিন, যেন বাতাস ঢোকে।

ঘরের সব আগুন, মোমবাতি, কয়েল, আগরবাতি, ধূপ, চুলা নিভিয়ে ফেলুন।

বিদ্যুতের সুইচ, ফ্যান, লাইট বা কোনো যন্ত্র স্পর্শ করবেন না।

সম্ভব হলে বাইরে থেকে মেইন সুইচ বন্ধ করুন।

ডিস্ট্রিবিউটর বা জরুরি সেবায় দ্রুত যোগাযোগ করুন।

মনে রাখবেন, এলপিজি বাতাসের চেয়ে ভারী, তাই এটি নিচে জমে থাকে। ভালোভাবে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করলে ঝুঁকি অনেকটাই কমে।

অনুমোদিত ডিলার বা পরিবেশকের কাছ থেকেই এলপিজি সিলিন্ডার কিনুন

শেষ কথা

এলপিজি আমাদের জীবন সহজ করেছে, রান্নাবান্না করেছে দ্রুত। তবে নিরাপত্তার বিষয়টি অবহেলা করলে সেই সুবিধাই বিপদ ডেকে আনতে পারে। সামান্য সচেতনতা, কয়েকটি সহজ অভ্যাস আর নিয়মিত তদারকিই পারে আপনার পরিবারকে বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করতে।

সূত্র: সুপার গ্যাস

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
স্থানীয় সরকার নির্বাচন: প্রার্থী ঘোষণায় এগিয়ে জামায়াত ও এনসিপি, তফসিলের অপেক্ষায় বিএনপি

সম্ভাব্য রোডম্যাপ অনুযায়ী আগামী দুই-তিন মাস পর অনুষ্ঠিত হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। নির্দলীয় হলেও এ নির্বাচনে এক ধরনের রাজনৈতিক মেরুকরণ আছে। কারণ এতে জয়-পরাজয়ের ওপর সরকার ও বিরোধী দলের প্রেস্টিজ ইস্যু জড়িত। তাই নিজ দলের প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে ওঠে সব পক্ষই। স্থানীয় সরকারের চারটি স্তর—সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউপি নির্বাচন। এসব স্তরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এরই মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের অঘোষিত প্রচারণা শুরু হয়েছে। ক্ষমতাসীন দল বিএনপির একাধিক প্রার্থী সরব। যদিও তাদের প্রার্থিতা এখনও ঘোষণা করা হয়নি। তবে দলের অভ্যন্তর থেকে যোগ্য প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র।   অপরদিকে জাতীয় নির্বাচনের পরপরই স্থানীয় নির্বাচনে দল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীদের নাম প্রকাশ করেছে প্রধান বিরোধী দল জামায়াত। উন্নয়ন ফোরামের নামে ইতোমধ্যে তারা প্রচারণাও শুরু করেছে। নির্দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতারাও অংশগ্রহণ করতে পারেন বলে জানা গেছে। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যেও এমন আভাস মিলেছে। অপরদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) বসে নেই। তারাও পুরোদমে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য দলও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছে।   রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, আওয়ামী লীগের যেসব নেতার নামে মামলা আছে, তারা কীভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেবেন। আবার যাদের নামে মামলা নেই, কিন্তু নির্বাচনে দাঁড়ালে তাদের মামলায় জড়ানো হয় কিনা? দেশের নির্বাচনের অতীত ইতিহাস সামনে রেখে এমন আলোচনাও সামনে এসেছে। নির্বাচনকে ঘিরে অতীতের মতো মামলা-হয়রানি যুক্ত হলে— সেই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে, নাকি আইওয়াশে পরিণত হবে? তফসিলের আগে প্রার্থী চূড়ান্ত করবে না বিএনপি   বিএনপির সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে প্রার্থী ঘোষণা করবে না দলটি। তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করবে দলের হাইকমান্ড। এক্ষেত্রে অতীতে দলের জন্য ত্যাগ ও গণমুখী নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে দলীয় অবস্থান থাকবে জিরো টলারেন্স। এ বিষয়ে দলের মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বিভিন্ন সময়ে মন্তব্য করেছেন।   প্রার্থী ঘোষণার দৌড়ে এগিয়ে জামায়াত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যেখানে অন্যান্য রাজনৈতিক দল প্রার্থিতা নিয়ে ধীরে চলো নীতি অবলম্বন করেছে, সেখানে আগাম প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে প্রধান বিরোধী দল জামায়াত। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এরই মধ্যে বেশিরভাগ সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে দলটি।   অনেকে ইতোমধ্যে নিজের ছবি সংবলিত ব্যানার-পোস্টার সাঁটিয়ে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন। উন্নয়ন ফোরামের নামে ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগ ও সামাজিক কর্মকাণ্ড করছেন। অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে দলটি থেকে আলোচনায় আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র-ছাত্রী সংসদের ভিপি সাদিক কায়েম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়েও ব্যাপক প্রচারণা হচ্ছে।   এছাড়া চট্টগ্রাম সিটিতে মেয়র পদে চূড়ান্ত প্রার্থী দলটির মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর শামসুজ্জামান হেলালী।   আর সিলেট সিটিতে তিন জনের নাম কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠিয়েছে স্থানীয় সংগঠন। তারা হলেন—সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, সিলেট মহানগর আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম এবং জেলা নায়েবে আমির মাওলানা লোকমান আহমদ।   দলীয় সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে তাদের বেশিরভাগ এলাকাতেই প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।   জানতে চাইলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমাদের অধিকাংশ প্রার্থীই চূড়ান্ত। দল যাকে যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করছে, তাদের সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। তারা ইতোমধ্যে প্রচারণাও শুরু করেছেন।   এনসিপিও বসে নেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তারাও বিভিন্ন জায়গায় আগাম প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, উত্তরে যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলামের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন জায়গায় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র।   নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নিয়ে ইসির ব্যাখ্যা এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। এ বিধিমালা কার্যকর হলে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ যেকোনও দলের কর্মী সমর্থকরা অংশ নিতে পারবেন বলে জানা গেছে।   গত ১০ জুন এই বিধিমালা প্রণয়ন কমিটির সভাপতি ও নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘কোনও দল বাদ দেওয়ার মতো কোনও বিধান আচরণবিধিতে রাখা হয়নি। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্য যে কেউ অংশ নিতে পারবেন।’’   এ বিষয়ে গত ১৫ জুন জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর কাছে বিএনপি বা সরকারের মনোভাব জানতে চান স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তবে এর কোনও সুস্পষ্ট বক্তব্য দেননি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ প্রশ্নের উত্তর তিনি পাশ কাটিয়ে যান।   কী হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন আওয়ামী লীগ নেতারা? পাঁচই আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থেকেই নিষিদ্ধ রয়েছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তারা অংশগ্রহণ করতে পারেনি। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় যে কেউ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এমন বক্তব্যের পর আলোচনা হচ্ছে, তাহলে কি আওয়ামী লীগের পদবিধারী নেতারাও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন? সে ক্ষেত্রে তো নারায়ণগঞ্জের সেলিমা হায়াত আইভীর মতো বহু প্রার্থী সামনে আসতে পারেন। তখন সরকার বিষয়টিকে কীভাবে দেখবে? তাদের স্বাভাবিকভাবে নির্বাচন করতে দেওয়া হবে নাকি, মামলার আসামি হিসেবে হয়রানির মুখে রাখা হবে? এ নিয়েও সুনির্দিষ্ট কোনও ব্যাখ্যা নেই।   জানতে চাইলে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় যে কেউ অংশগ্রহণের সুযোগ আছে। এক্ষেত্রে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নিরপরাধ কেউ প্রার্থী হতে চাইলে তো না করা যাবে না। আর কারও বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধ প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা থাকার কথা নয়। কেউ যদি জনগণের কাছে ঘৃণিত হয়, সেটা ভোটের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যাত হবে। কিন্তু প্রার্থী হিসেবে তার নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্ব ইসিকেই নিতে হবে। স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নির্বাচন করতে হলে সব প্রার্থীকেই সমান নজরে দেখতে হবে।’’   এ বিষয়ে গত ৯ জুন সাংবাদিকদের ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, আওয়ামী লীগের নির্দোষ নেতাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে রকম কোনও সমস্যা নেই। মানে কেউ যদি নির্বাচনে অংশ নিতে চান, তিনি যদি আওয়ামী লীগেরও হন, কারণ এটা নির্দলীয়। তার মতে, সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায়, প্রচারণার সময় আওয়ামী লীগের দলীয় বক্তব্য সামনে আনলেই শুধু সমস্যা হতে পারে।   ভালো নির্বাচন নাকি আইওয়াশ? অতীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে ক্ষমতাসীন দলগুলোর বিরুদ্ধে। তবে এবার নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুলও ইতিবাচক বক্তব্য দিয়েছেন। বলেছেন, নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ। দলের কাউকেই অন্যায় করার সুযোগ দেওয়া হবে না। ভোটের মাঠে আসলে সরকারের এমন অবস্থান ঠিক থাকে কিনা, এ নিয়েও এক ধরনের অনিশ্চয়তার কথা বলছেন কেউ কেউ। আবার ক্ষমতাসীন দলের নেতারা মনে করেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হবে।   এ বিষয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘একটি ভালো নির্বাচন হোক, সেটা আমরা চাই। আওয়ামী লীগের কেউ প্রার্থী হতে চাইলে সরকার কীভাবে দেখবে, সেটাতো বলতে পারবো না। তবে আমরা মনে করি, গুরুতর  অপরাধী না হলে যে কেউ অংশগ্রহণ করতে পারে। প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।’’   জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবশ্যই ভালো হবে। দলগতভাবে ইতোমধ্যে যোগ্য প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি।’’ তিনি বলেন, ‘‘নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতাদের অবস্থান কী হবে, সেটি ইসিই ভালো বলতে পারবে।’’

মারিয়া রহমান জুন ২০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ড. ইউনূস আমাকে কখনোই ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলেননি: মাহফুজ আলম

ছবি : সংগৃহীত

রাজশাহীতে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, সড়ক অবরোধ

ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সরকারকে জামায়াত নেতার সতর্কবার্তা

সংগৃহীত ছবি
দলীয়করণের মাধ্যমে একদলীয় শাসনের চেষ্টা করছে সরকার: জামায়াত আমির

সরকার ইতোমধ্যে অনেক অঘটন ঘটিয়ে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিভিন্ন ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ পদে অনুগত ব্যক্তিদের বসানো হচ্ছে এবং এভাবে দেশে একদলীয় শাসন কায়েমের চেষ্টা করা হচ্ছে। শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে মহানগর জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। একই অনুষ্ঠানে তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল জব্বারকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। বক্তব্যের শুরুতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি ৪৭, ৫২, ৭১ এবং ২৪-এ যারা বুক চিতিয়ে লড়াই করে বিভিন্ন সময় আমাদেরকে স্বাধীনতা, মুক্তি এবং শান্তির সুবাতাস দিয়েছেন। বিশেষ করে ২৪-এ যারা লড়াই করে শহীদ হয়েছেন, আমি সেই শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আল্লাহর দরবারে তাদের শহীদ হিসেবে গ্রহণ করার জন্য আরজি করছি। ২০২৪-এর আন্দোলন ও নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, এখন আমরা যারা সরকারে আছি এবং বিরোধী দলে যারা আছি, আমাদের মনে রাখতে হবে ২৪ হয়েছিল বলেই ২৬ সালে বাংলাদেশে একটা নির্বাচন হয়েছে। ২৪ যদি না হতো, ২৬ সালে বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না। তাদের রক্ত এবং ত্যাগের কারণে আজকের এই সংসদ, সরকার, বিরোধী দল। তারা যদি এই সমস্ত শহীদ পরিবার ও আহত পঙ্গু ভাই-বোনদের প্রতি অবজ্ঞা বা উপহাস করেন, তবে এটি নিজের সাথেই গাদ্দারি করার শামিল হবে। ‘এই নারায়ণগঞ্জবাসীকে আমরা আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। বিগত নির্বাচনে হাজার জালিয়াতি, সন্ত্রাস, কালো টাকার ছড়াছড়ি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হাজার জাতের মেকানিজম-ইঞ্জিনিয়ারিং, সবকিছুকে উপেক্ষা করে আপনারা ১১ দলীয় ঐক্যকে অন্তত একটি আসন উপহার দিতে পেরেছেন, এজন্য আপনাদের অভিনন্দন।’ তিনি আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, নির্বাচন যেভাবে হয়েছিল, ভোট গণনা এবং ফলাফলও যদি সেভাবে সুষ্ঠু হতো, তবে অন্য আসনগুলোতেও অবশ্যই আমাদের বিজয় হতো। সেই বিজয় মূলত ছিনতাই করে নেওয়া হয়েছে। অনেকে আমাদের ওপর অভিমান করে বলেন যে, কেন আমরা এই রায় মেনে নিলাম? আমরা তাদের বলেছি, সাড়ে ১৫ বছর দেশ স্বৈরশাসনের কবলে ছিল, এরপরে একটি নির্বাচন হয়েছে যেখানে জনগণ ভোট দিয়েছে। নির্বাচনের আগে সারাদেশে একই আওয়াজ উঠেছিল ‘দাঁড়িপাল্লা, দাঁড়িপাল্লা’। একদিনে দুটো ভোট হয়েছে- একটি সংসদ সদস্য নির্বাচনের ভোট, আরেকটি সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে গণভোট। আমাদের অবস্থান সুদৃঢ় ছিল, আমাদের মার্কা এবং গণভোটে 'হ্যাঁ'-এর পক্ষে। ‘বর্তমান সরকার প্রথমে চুপ ছিল। নীরবে নীরবে তারা না এর পক্ষে ছিল। এরপর জনরোষের মুখে পড়ে তাদের নেতাও শহীদ আবু সাঈদের এলাকায় গিয়ে বলতে বাধ্য হয়েছিলেন, ১২ তারিখ দুটি ভোট- একটি গণভোট আর অন্যটি জাতীয় সংসদের ভোট, আপনারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন। আল্লাহর কসম, একবারই তিনি বলেছেন।’ গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সেই গণভোটে যে ৬৬.৮ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দিল তাদের ভোটের মূল্যটা তিনি কী দিলেন? বর্তমান সরকার সেই জনরায়কে এখন অস্বীকার করছে। কিন্তু নির্বাচনের পর বর্তমান সরকার এবং তাদের তথাকথিত ‘সর্বমন্ত্রী’ সংসদে দাঁড়িয়ে বলছেন যে, নির্বাচন যাতে হয়ে যায় সেজন্য তারা ওসব কথা বলেছিলে। যা জনগণের সাথে সরাসরি প্রতারণা। একটা সংগঠনের শীর্ষ জায়গা থেকে যদি জনগণকে এভাবে ধোকা দেওয়া হয় তাহলে রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের আস্থা থাকবে কেন? তিনি বলেন, আমরা সংসদে নোটিশ দিয়েও আলোচনা করেছিলাম যাতে গণভোটকে সম্মান দেখানো হয়। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, যারা জনগণের রায়কে সম্মান করে না, তারা কখনো গণতন্ত্রকামী হতে পারে না। গণতন্ত্রের দাবিই হলো, সংখ্যাগরিষ্ঠের রায়কে সম্মান করা। যেহেতু দেশের প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ সংস্কারের পক্ষে ভোট দিয়েছেন, তাই সরকারকে সেই সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। তারা ভোটের আগে বলেছিলেন, যেই সরকার গঠন করুক আমরা জনগণের রায় মেনে নেব। আমি এখনো সরকারকে আহ্বান জানাই, সময় আছে ফিরে আসুন। মেনে নিন এবং মানুষের রায়ের প্রতি সম্মান দেখান। জোর করে যদি শাসন ব্যবস্থা চালাতে চান, জনগণ আপনাদের সামনে হিমালয় দাঁড় করিয়ে দেবে। ‘ইতোমধ্যে সরকার অনেক অঘটন ঘটিয়ে ফেলেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ, ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের দিকে কালো হাত বাড়ানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ্য ভিসিদেরকে সরিয়ে দিয়ে দলের একান্ত অনুগত কর্মীদেরকে ভিসি হিসেবে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ অন্য জায়গায় নিজেদের দলীয় ক্যাডার এবং নেতাদেরকে প্রশাসক হিসেবে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এভাবে একদলীয় শাসন বাংলাদেশে কায়েম করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতিহাস ভুলে গেলে হবে না, শেখ মুজিবুর রহমান সাহেবও একদলীয় শাসন কায়েম করেছিলেন, কিন্তু তিনিও সাড়ে তিন বছরের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারেননি। সুতরাং একদলীয় শাসন এ দেশের মানুষ মেনে নেবে না। সংসদে দাঁড়িয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার সংস্কৃতি চালু করেছিল আওয়ামী লীগ। সব চেয়ে বেশি গালি দিত বিএনপিকে, সাথে আমাদেরও ছাড়ত না। জনগণ  এসব আর খায় না।’ তিনি আরও বলেন, একটা বড় বাজেট দেওয়া হয়েছে, অসুবিধা নাই। বাজেট দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের, বাস্তবায়ন করার দায়িত্বও সরকারের। শুধু এতটুকু, বিগত সাড়ে ১৫ বছরে এই বাজেট থেকে যেভাবে আওয়ামী লীগ আর তার দোসররা ২৯ লাখ কোটি টাকা চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল, সেই পথ কি আপনারা আটকাবেন না? আমরা কীভাবে আস্থা রাখব? কারণ, সরকার গঠন করার আগে এবং পরে আপনারা তো চাঁদাবাজদের হাত আটকাইতে পারেন নাই। একটা চাঁদাবাজকেও আপনারা শাস্তির আওতায় আনেন নাই, দুর্নীতি বন্ধ করেন নাই। বরং দুর্নীতির মিটার আগের থেকে আরও বেড়ে গেছে। যদি এই অবস্থা জারি থাকে, তাহলে জনগণ জনগণের জায়গায় থাকবে, তাদের ভাগ্যে কিছুই জুটবে না। শুধু কিছু দলকানা মানুষ এবং কিছু গোষ্ঠীর হয়তো ভাগ্যের পরিবর্তন হবে, বাংলাদেশে আমরা আর এটা দেখতে চাই না। নারায়ণগঞ্জের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ, এক সময় এটাকে প্রাচ্যের ডান্ডি বলা হতো। এটা ছিল শিল্পের রাজধানী। ঢাকা ছিল প্রশাসনিক রাজধানী, নারায়ণগঞ্জ ছিল শিল্পের রাজধানী, চট্টগ্রাম ছিল রাজধানী। নারায়ণগঞ্জ তার গৌরব হারিয়ে ফেলেছে। বরঞ্চ মাঝখানে এটা সন্ত্রাসের রাজধানী হিসেবে পরিচিত হয়েছে। ত্বকী আপনাদেরই ছেলে, তার হত্যার বিচার কি এই নারায়ণগঞ্জের মানুষ আজ পর্যন্ত পেয়েছে? না পাননি। শুধু কি ত্বকী? এরকম দফায় দফায় দফায় রক্ত আর লাশ এই নারায়ণগঞ্জে উপহার দেওয়া হয়েছে। সরকারি দলের বিভিন্ন সময়ের দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, আপনারা কেউ কি জান্নাতের কোনো টিকেট বিক্রি করেছেন? আপনাদের কাছে কি কেউ কোন জান্নাতের টিকেট বিক্রি করেছে? না। আপনারাও বিক্রি করেন নাই আপনাদের কাছেও বিক্রি করে নাই। জান্নাতের টিকেট কারা বিক্রি করেছে? যারা ইলেকশন করতে গিয়ে বলেছে, এই মার্কায় ভোট দিলে আপনারা জান্নাত পাবেন। সেই ভিডিওগুলো কি হারিয়ে গেছে? না। কারা বিক্রি করেছে বলেছে অমুক নেতার নাম ডেইলি ১০০ বার নিলে আপনি জান্নাতে যাবেন। কারা বলেছে আমাদের অমুক নেতার নাম নেওয়ার আগে ওযু করা লাগে। ঠিক। এই কথাগুলো কি আমাদের নেতারা কেউ বলেছেন?  কর্মীরা কেউ বলেছেন? আপনারা কেউ বলেছেন? কেউ বলেনি। তাইলে বিষয়টা কি? বিষয় হলো চোরের মার বড় হওয়া। তিনি আরও বলেন, জনগণ সময় মতো জবাব দেবে ইনশাআল্লাহ। আমরা চাই না আমাদের প্রিয় নারায়ণগঞ্জ এ অশান্তি এবং চাঁদাবাজদের কবলে পড়ে থাকুক। আমরা এই নারায়ণগঞ্জকে একটা স্বচ্ছ পরিচ্ছন্ন, একটি মর্যাদাশীল নগরী হিসেবে দেখতে চাই। আপনারা চান কিনা? ড্রেনের পানি দিয়ে ওজু হবে? ভালো মানুষ ছাড়া এই নগরী গড়া যাবে না। এমন মানুষের প্রয়োজন হবে যে আল্লাহকে ভয় করে, যে মানুষের হকের দিকে তাকায়ও না হাতও দেয় না। বরঞ্চ যার হক চৌকিদারি করে তার হক তার হাতে পৌঁছে দেবে। শত বাধা উপেক্ষা করে আমরা অসৎ নেতৃত্ব পরিবর্তন করব। ইনশাআল্লাহ, সৎ নেতৃত্ব কায়েম করব। নেতাদের কপাল বড় করার জন্য নয় ঘর গড়ার জন্য নয় বরঞ্চ জনগণকে তার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। আমরা দাবি করি অনতিবিলম্বে অনির্বাচিত প্রশাসক সরিয়ে দিয়ে এখানে নির্বাচন দেওয়া হবে। মাওলানা আব্দুল জব্বারকে আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে ইনশাল্লাহ জামায়াত ইসলাম বিজয়ী হয়ে দায়িত্ব নেবে। আমরা আজকে আপনাদের কাছে সেরকম একটা মানুষ উপহার দিয়ে যাচ্ছি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য নারায়ণগঞ্জ মহানগরের আমির, কিশোর জীবন থেকে তিলে তিলে যিনি সৎ চরিত্র ধারণ করেছেন। যার চোখে স্বপ্ন মানুষের কল্যাণ, আমরা সেই  প্রিয় জননেতা মাওলানা আব্দুল জব্বারকে এখানে আমাদের পক্ষ থেকে আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করছি। তিনি আরও বলেন, অনেক দল প্রার্থী ঘোষণা করেছে। আরো অনেকে করবে, আমরা সবাইকে সাধুবাদ জানাই। রাজনীতির সুস্থ ময়দানে গণতান্ত্রিক পরিবেশে এই নির্বাচন যেন হয়। আগামীতে যেন কোনো চুরি ডাকাতি না হয়, ভোট জালিয়াতি না হয়, হুমকি-ধমকি দেওয়া না হয় কালো টাকার ছড়াছড়ি না হয় নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিং না হয়। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমরা বিশ্বাস করি নারায়ণগঞ্জবাসী একজন সৎ, দক্ষ, যোগ্য, দেশপ্রেমিক মানুষকে ইনশাল্লাহ তাদের নেতা হিসেবে নির্বাচিত করবে। সেই সঙ্গে আমরা ঘোষণা দিচ্ছি ২৭টি ওয়ার্ডের প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে ইনশাআল্লাহ আমরা জনগণের সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করব। মাওলানা আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও এমপি সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির ও এমপি নুরুল ইসলাম বুলবুল ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

মারিয়া রহমান জুন ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দেশে ফিরলেন ৬০ হাজারের বেশি হাজি, মৃত্যু ৫৪

ছবি: সংগৃহীত

মাধ্যমিকে ফিরছে ভর্তি পরীক্ষা, বাতিল কেন্দ্রীয় ভর্তি ব্যবস্থা

ছবি: সংগৃহীত

চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে দুটি নতুন বিষয় : মাহদী আমিন

ছবি: সংগৃহীত
কিউএস র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ ছয়ে ৪টিই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা সংস্থা কোয়াককোয়ারেলি সায়মন্ডস (কিউএস) বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে। এতে দেশের আটটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ মোট ১৩টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থান পেয়েছে। শীর্ষ ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৪টিই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।    আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাঙ্কিং–২০২৭ প্রকাশিত হয়।   বিশ্বসেরা ৬০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় স্থান পেয়ে এবারও দেশসেরা তালিকায় অবস্থান করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। আর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়- বুয়েট (৭১১-৭২০)। তালিকায় সেরা এক হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিরও (৯০১-৯৫০) স্থান হয়েছে। দেশে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান তৃতীয়। ২০২৬ সালের র‌্যাঙ্কিংয়েও এই তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় সেরা এক হাজারের তালিকায় ছিল।   তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, পঞ্চম স্থানে আরেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও ৬ষ্ঠ স্থানেও আরেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি)।   প্রতিবছর জুন মাসে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাঙ্কিং প্রকাশ করে আসছে কিউএস। এবার র‌্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১ হাজার ৫০৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ম্যাথ ল্যাব গড়তে সরকারের উদ্যোগ : ববি হাজ্জাজ

ছবি : সংগৃহীত

এইচএসসি পরীক্ষায় ক্যালকুলেটর ব্যবহার নিয়ে জরুরি নির্দেশনা

0 Comments