অর্থনীতি

এক বছরে ৬৭৩ কোটি টাকা মুনাফা কমেছে জিপির

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৬ 0
গ্রামীণফোন|ফাইল ছবি
গ্রামীণফোন|ফাইল ছবি

দেশের বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন গত বছর ১৫ হাজার ৮০৬ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। তার আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে কোম্পানিটি ব্যবসা করেছিল ১৫ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে গ্রামীণফোনের ব্যবসা কমেছে ৩৯ কোটি টাকার।

ব্যবসা যতটা কমেছে, তার চেয়ে বেশি কমেছে মুনাফা। গত বছর শেষে গ্রামীণফোন (জিপি) মুনাফা করেছে ২ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকা। তার আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে কোম্পানিটি মুনাফা করেছিল ৩ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা কমেছে ৬৭৩ কোটি টাকা বা প্রায় সাড়ে ১৮ শতাংশ।


এদিকে গত বছর জিপি যে মুনাফা করেছে, তার সিংহভাগই নগদ লভ্যাংশ হিসেবে শেয়ারধারীদের মধ্যে বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত বছরের জন্য কোম্পানিটি সব মিলিয়ে ২১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ১১০ শতাংশ বা শেয়ারপ্রতি ১১ টাকা করে অন্তর্বর্তী লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে। বাকি ১০৫ শতাংশ বা ১০ টাকা ৫০ পয়সা বছর শেষের চূড়ান্ত লভ্যাংশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। গত সোমবার অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় লভ্যাংশের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে গত মঙ্গলবার তা দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে শেয়ারধারীদের জানানো হয়েছে।

ঘোষিত লভ্যাংশ অনুযায়ী, গত বছরের জন্য কোম্পানিটি সব মিলিয়ে ২১৫ শতাংশ যে নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, সেই বাবদ বিতরণ করবে প্রায় ২ হাজার ৯০৩ কোটি টাকা। কোম্পানিটি জানিয়েছে, জিপি গত বছর যে মুনাফা করেছে, তার ৯৮ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ হিসেবে শেয়ারধারীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। যার অর্ধেকের বেশি এরই মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণও করা হয়েছে।

আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত বছর ব্যবসার চেয়ে কোম্পানিটির মুনাফা বেশি কমেছে মূলত ঋণের সুদসহ আর্থিক খরচ ও ডলারের বিনিময় মূল্যজনিত ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়ে যাওয়ায়। গত বছর ঋণের সুদসহ আর্থিক খাতে কোম্পানিটির খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪১ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে এই খাতে কোম্পানিটির খরচ ছিল ৪৯৯ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে গ্রামীণফোনের আর্থিক খরচ বেড়েছে ১৪২ কোটি টাকা। একইভাবে ডলারের বিনিময় মূল্যের কারণে এক বছরের ব্যবধানে জিপির খরচ বেড়েছে ১৭ কোটি টাকা। গত বছর শেষে ডলারের বিনিময় মূল্যের কারণে কোম্পানিটির খরচ বেড়ে দাঁড়ায় ৭৭ কোটি টাকায়। ২০২৪ সালে যার পরিমাণ ছিল ৬০ কোটি টাকা।

ব্যবসা কমলেও ২০২৪ সালের চেয়ে গত বছর গ্রামীণফোন কর বাবদ প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব দিয়েছে সরকারকে। গত বছর পরিচালন মুনাফা থেকে কর বাবদ কোম্পানিটি সরকারের কোষাগারে জমা দেয় ১ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে যার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে, দেশে বিক্রি হচ্ছে যে দামে

আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতন এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য কমে যাওয়ায় বাংলাদেশে স্বর্ণের দামে বড় পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) গত ১৯ মার্চ এক দিনেই দুই দফায় স্বর্ণের দাম কমানোর যে ঘোষণা দিয়েছিল, সোমবারও (২৩ মার্চ) সেই নির্ধারিত দামেই বাজারে কেনাবেচা চলছে।   দুই দফায় ভরিতে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৩৩৮ টাকা কমানোর ফলে এখন ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার টাকার নিচে নেমে এসেছে। সবশেষ নির্ধারিত মূল্য তালিকা অনুযায়ী বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা ছিল। একইভাবে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকায় নেমে এসেছে। এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ এখন ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকায় কেনা যাচ্ছে। স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে যেখানে ২২ ক্যারেট রুপার ভরি ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা এবং ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ১৩২ টাকায় দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৯ মার্চ এক দিনে দুই দফায় এবং ২০ মার্চ থেকে কার্যকর হওয়া নতুন সিদ্ধান্তে স্বর্ণের দাম ভরিতে প্রায় ১৫ হাজার ৩৩৮ টাকা কমানো হয়েছে। বিশ্ববাজার বিশ্লেষণকারী সংস্থা গোল্ডপ্রাইস ডট ওআরজি অনুযায়ী প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ডলারের ঘর থেকে বড় পতনের মাধ্যমে ৪ হাজার ৩৬৪ ডলারে নেমে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধের উত্তেজনায় মাসের শুরুতে দাম বাড়লেও বর্তমানে তা স্থিতিশীল হতে শুরু করেছে। এই বৈশ্বিক প্রভাবের কারণেই দেশের বাজারে ১৯ মার্চ এক দিনেই দুইবার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাজুস যেখানে প্রথম দফায় সকালে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় বিকেলে আরও ৭ হাজার ৬৯৮ টাকা কমানো হয়। চলতি ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ৪৫ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে যার মধ্যে ১৯ বার দাম কমানোর ঘটনা ঘটেছে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের ঠিক আগ মুহূর্তে স্বর্ণের এই বড় দরপতন সাধারণ ক্রেতাদের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা কিছুটা কমায় স্থানীয় বাজারেও এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ২৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানি খালাস স্বাভাবিক

নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে কথা বলেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

যুদ্ধাবস্থাতেও দেশে তেলের দাম বাড়েনি : অর্থমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন, দেশেও কমার সম্ভাবনা?

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে অর্থনীতিতে চাপের কথা জানালেন অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়বে। এটা কঠিন সময়, আমাদের স্বীকারই করতে হবে। একে তো অর্থনীতির ভঙ্গুর অবস্থায় আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। সঙ্গে সঙ্গে এই যে যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে, সেটার কারণে অর্থনীতির উপর বড় চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং এই যুদ্ধ যদি চলতে থাকে চাপটা আরও বাড়তে থাকবে।   রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর মেহেদীবাগে নিজ বাসভবনে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কারে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয়, বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তায় খুব সজাগ আছি। ইতোমধ্যে আমাদের জ্বালানি যে প্রকিউরমেন্ট—ভালো ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এখনো অব্যাহত আছে। যাতে জ্বালানির অভাবে মিল-কারখানা, পাওয়ার সেক্টর বাধাগ্রস্ত না হয়। সেটা এখনো মোটামুটি স্থিতিশীল আছে। সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এখনো পর্যন্ত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের চাপ সামাল দিতে চেষ্টা করছে সরকার। তবে ভবিষ্যতের চাপ সামলাতে জনগণকেও সংযমী হতে হবে। তিনি বলেন, আমরা এ ধারা অব্যাহত রাখার জন্য চেষ্টা করছি। যুদ্ধ যদি বেশিদিন অব্যাহত থাকে, চাপটা বাড়তে থাকবে। সেই চাপটা আলটিমেটলি জনগণের উপর আসবে। যেভাবে বিশ্বব্যাপী আসছে, সেটা বাংলাদেশেও আসবে। এটার জন্য জনগণের সমর্থন, সহযোগিতা, সহানুভূতি লাগবে, সংযম লাগবে।  আমির খসরু বলেন, সবাই মিলে তো সমাধান করতে হবে। সরকার সরকারের পক্ষ থেকে সবকিছু করছে। আমরা জনগণের সহযোগিতা ও সহানুভূতি চাই এবং সংযমও আমাদের মধ্যে থাকতে হবে। সংযমের মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে। যুদ্ধ তো আমাদের হাতে নাই উল্লেখ করে তিনি বলেন, যু্দ্ধ হচ্ছে অন্য জায়গায়। এটার প্রতিফলন ঘটছে বাংলাদেশে। সবদেশে কম-বেশি। বাংলাদেশে বেশি কারণ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমাদের জ্বালানির মূল সোর্সটা। আমাদের উপর চাপটা অনেক বেশি। মন্ত্রী বলেন, আমরা জ্বালানিতেও চেষ্টা করছি। অলটারনেটিভ অনেকগুলো ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। বিভিন্ন দেশ থেকে আমরা জ্বালানি আনার চেষ্টা করেছি। কিছু কিছু শুরুও হয়েছে। এই পর্যন্ত একটা ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে আমরা মোটামুটি ভালো জায়গায় আছি। এ সময় চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার জিয়াউদ্দীন এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ২২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

পদ্মা ও যমুনা সেতুতে রেকর্ড পরিমাণ টোল আদায় এবং যানবাহন পারাপার

ছবি : সংগৃহীত

৬ ঘণ্টার ব্যবধানে দ্বিতীয়বার কমলো স্বর্ণের দাম

খোলা থাকবে কিছু নির্দিষ্ট ব্যাংক শাখা। ছবি: সংগৃহীত

আজ খোলা থাকছে যেসব ব্যাংক শাখা

ছবি : সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত, চাপ বাড়ছে গ্যাস মজুদে

ইরান যুদ্ধ ভীতি জাগালেও এখনও বড় ধরনের জ্বালানি সংকটে পড়েনি বাংলাদেশ; তবে শুরুতেই ধাক্কা লেগেছে আমদানিনির্ভর এ খাতে, বিশেষ করে চাপে পড়েছে গ্যাসের মজুদ।   যুদ্ধের দামামা বাড়তে থাকলে বিশ্বের তেল ও গ্যাস বাণিজ্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বাংলাদেশের গ্যাস ও তেল আমদানির প্রধান উৎস মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে আসা সরবরাহ ব্যবস্থায় ছেদ পড়েছে। শুরুতেই কাতার থেকে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির আওতায় যে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কার্গো আসার কথা ছিল, তা মিলছে না। এতে মার্চ মাসের চাহিদা মেটাতে সরকারকে উচ্চ দামে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে হচ্ছে। প্রথম ধাক্কাতেই এ গ্যাস কেনার খরচ বেড়ে গেছে প্রায় তিনগুণ। অপরদিকে প্রায় পুরোপুরি বেসরকারি আমদানিনির্ভর এলপিজি সরবরাহের ব্যবস্থার কী হবে তা ভাবিয়ে তুলছে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সরকারি নীতিনির্ধারকদেরও। তবে ইরান যুদ্ধের কারণে এখন পর্যন্ত জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে খুব বেশি অনিশ্চয়তা তৈরি হয়নি। কেননা মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আনা বন্ধ হলেও ভারতসহ অন্য দেশ থেকে পরিশোধিত তেল আনার পথ খোলা থাকছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকার যুদ্ধের শুরুতে রেশনিংয়ের ঘোষণা দিলে পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেল নিতে শুরু হয় হুড়োহুড়ি। এতে তেলের সংকট না থাকলেও দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে গিয়ে সেখানে লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হয় গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালকদের। পরে রেশনিং তুলে নেওয়া হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে।   যুদ্ধ দীর্ঘ হচ্ছে, দুশ্চিন্তা বাড়ছে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হতে শুরু করেছে। পাল্টা হামলায় ইরান দীর্ঘ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানির নিশ্চিত সরবরাহ নিয়ে বিশ্বের অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দুশ্চিন্তা বাড়ছে। জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দেশের জ্বালানি ঝুঁকি এখন তিন খাতে স্পষ্ট। গ্যাস মজুদ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে। কারণ বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প ও সার খাত সরাসরি এর ওপর নির্ভরশীল। কিছুদিনের জন্য প্রয়োজনীয় তেল মজুদ থাকলেও আতঙ্কের প্রভাব দেখা গেছে বাজারে। এলএনজির মতো এলপিজি আমদানির মূল উৎস মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিকল্প উৎস থেকে আনতে উচ্চ ব্যয় নিয়ে ভাবনায় পড়েছেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা। এর সঙ্গে আরও কিছু জটিলতা মিলিয়ে সামনের দিনে চাহিদা কীভাবে পূরণ হবে তা নিয়ে নতুন অস্থিরতার ভিত্তি তৈরির কথা বলছেন তারা। তারা বলছেন, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে এলপিজির কয়েকটি বড় চালান বাংলাদেশের পথে ছিল। চট্টগ্রাম, মোংলা ও সীতাকুণ্ডমুখী আরও কয়েকটি ট্যাংকারে প্রায় ১০ হাজার টন এলপিজি ছিল। অর্থাৎ মার্চে বড় ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা কিছুটা কমলেও এপ্রিলের পরিস্থিতি নির্ভর করছে যুদ্ধ, জাহাজ চলাচল, বিকল্প উৎস থেকে সংগ্রহ এবং ব্যাংকিং সহায়তার ওপর।   করণীয় কী বর্তমান পরিস্থিতি সামলাতে সরকারের প্রথম দায়িত্ব হবে কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে না দেওয়া এবং সীমিত জ্বালানি সম্পদের ব্যবহারে স্পষ্ট অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা। একই সঙ্গে সীমিত জ্বালানিকে সর্বোচ্চ দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করতে খাতভিত্তিক অগ্রাধিকার আগে ঠিক করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। গত দুই দশকে জ্বালানি খাতকে আমদানিনির্ভর করে তোলার ফলে আন্তর্জাতিক অস্থিরতায় ঝুঁকি বাড়ছে বলেও মত দেওয়া হয়েছে।   শুরুতেই ধাক্কা গ্যাস আমদানিতে ইরান যুদ্ধের সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে এলএনজিতে। মার্চে সরবরাহ সচল রাখতে অতিরিক্ত চারটি স্পট কার্গো কিনতে হয়েছে। মার্চে নেওয়া স্পট কার্গোগুলোর মধ্যে একটি প্রতি এমএমবিটিইউ ২৮.২৮ ডলার, আরেকটি ২৩.০৮ ডলার, অন্যগুলো ২০.৭৬ ও ২১.৫৮ ডলারে কেনা হয়েছে। অথচ জানুয়ারিতে একই ধরনের গ্যাস প্রায় ১০ ডলারের আশপাশে পাওয়া গিয়েছিল। কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে আমদানি ব্যয়ের এই উল্লম্ফনই এখন সবচেয়ে বড় চাপ। দেশে এখন দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। সরবরাহ হয় প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যার মধ্যে প্রায় ৯০০–৯৮০ মিলিয়ন ঘনফুট আসে এলএনজি থেকে। ফলে আমদানিনির্ভরতা এখন স্থায়ী বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্যাসের ঘাটতি সামাল দিতে সার খাতে সরবরাহ কমিয়ে বিদ্যুৎ ও জরুরি খাতে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।   ভাবাচ্ছে এলপিজিও যুদ্ধের মধ্যে এলপিজি সরবরাহ নিয়ে বেশি জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ খাত প্রায় পুরোপুরি বেসরকারি আমদানিনির্ভর। দেশে প্রতিদিন এলপিজির চাহিদা প্রায় ৫ হাজার টন। ডিলার পর্যায়ে চাহিদার তুলনায় কম সিলিন্ডার সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে সামনে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আমদানিকারকদের মতে, মার্চে কিছুটা সরবরাহ থাকলেও এপ্রিলের পরিস্থিতি পুরোপুরি নির্ভর করছে যুদ্ধ পরিস্থিতি, জাহাজ চলাচল ও আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর। পাশাপাশি পরিবহন ও বীমা ব্যয় বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিকল্প উৎস থেকে এলপিজি আমদানির উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হলেও এতে সময় ও খরচ দুটোই বেশি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ফিনালিসিমার বাতিল হওয়ায় গুয়াতেমালার সাথে প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা

ছবি : সংগৃহীত

পোশাক শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করেছে উদ্যোক্তারা : বিজিএমইএ সভাপতি

ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন তদন্তে রপ্তানি ঝুঁকি তৈরি হবে?

0 Comments