আন্তর্জাতিক

ধর্মঘটে নামছেন এবিসি টিভি-রেডিওর কর্মীরা

মারিয়া রহমান মার্চ ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের (এবিসি) কর্মীরা বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। প্রায় দুই দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো কর্মীরা ধর্মঘটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টা থেকে ২৪ ঘণ্টার এই ধর্মঘট শুরু হবে। এতে সংস্থাটির সরাসরি টেলিভিশন ও রেডিও সম্প্রচার ব্যাপকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিন বছরে মোট ১০ শতাংশ বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় কর্তৃপক্ষ। তবে প্রায় ৬০ শতাংশ কর্মী এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম বছরে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পরবর্তী দুই বছরে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ হারে বেতন বাড়ানোর কথা ছিল।

অন্যদিকে, গত জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ার বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৩ দশমিক ৮ শতাংশ, যা প্রস্তাবিত বেতন বৃদ্ধির হারকে ছাড়িয়ে গেছে।

এবিসির প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কর্মীর মধ্যে ৭৫ শতাংশ এ প্রস্তাবের ওপর ভোট দেন। কর্মীদের ইউনিয়নের দাবি, প্রস্তাবটি অপর্যাপ্ত এবং এতে প্রজনন স্বাস্থ্য ছুটি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সমাধান নেই।

সাংবাদিকদের ইউনিয়ন মিডিয়া, এন্টারটেইনমেন্ট অ্যান্ড আর্টস অ্যালায়েন্সের প্রতিনিধি মাইকেল স্লেজাক বলেন, আমরা এমন কোনো চুক্তি মেনে নিতে পারি না যা মুদ্রাস্ফীতির তুলনায় কম বেতন দেয় এবং সাংবাদিকদের পরিবর্তে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায়।

এছাড়া কমিউনিটি অ্যান্ড পাবলিক সেক্টর ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ন্যায্য প্রস্তাব না এলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

এদিকে এবিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিউ মার্কস জানিয়েছেন, তারা বেতন বাড়ানোর যে প্রস্তাব দিয়েছেন, সেটি সর্বোচ্চ মাত্রার। সবকিছু বিবেচনা করেই ভারসাম্যপূর্ণ প্রস্তাবই দেওয়া হয়েছে।

বিরোধ মেটাতে সংস্থাটি অস্ট্রেলিয়ার কর্মক্ষেত্র বিষয়ক ট্রাইব্যুনাল ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশনের সহায়তা চাইবে। এর আগে সর্বশেষ ২০০৬ সালে এবিসি কর্মীরা ধর্মঘটে গিয়েছিলেন।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ধর্মঘটে নামছেন এবিসি টিভি-রেডিওর কর্মীরা

অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের (এবিসি) কর্মীরা বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। প্রায় দুই দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো কর্মীরা ধর্মঘটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টা থেকে ২৪ ঘণ্টার এই ধর্মঘট শুরু হবে। এতে সংস্থাটির সরাসরি টেলিভিশন ও রেডিও সম্প্রচার ব্যাপকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিন বছরে মোট ১০ শতাংশ বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় কর্তৃপক্ষ। তবে প্রায় ৬০ শতাংশ কর্মী এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম বছরে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পরবর্তী দুই বছরে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ হারে বেতন বাড়ানোর কথা ছিল। অন্যদিকে, গত জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ার বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৩ দশমিক ৮ শতাংশ, যা প্রস্তাবিত বেতন বৃদ্ধির হারকে ছাড়িয়ে গেছে। এবিসির প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কর্মীর মধ্যে ৭৫ শতাংশ এ প্রস্তাবের ওপর ভোট দেন। কর্মীদের ইউনিয়নের দাবি, প্রস্তাবটি অপর্যাপ্ত এবং এতে প্রজনন স্বাস্থ্য ছুটি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সমাধান নেই। সাংবাদিকদের ইউনিয়ন মিডিয়া, এন্টারটেইনমেন্ট অ্যান্ড আর্টস অ্যালায়েন্সের প্রতিনিধি মাইকেল স্লেজাক বলেন, আমরা এমন কোনো চুক্তি মেনে নিতে পারি না যা মুদ্রাস্ফীতির তুলনায় কম বেতন দেয় এবং সাংবাদিকদের পরিবর্তে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায়। এছাড়া কমিউনিটি অ্যান্ড পাবলিক সেক্টর ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ন্যায্য প্রস্তাব না এলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। এদিকে এবিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিউ মার্কস জানিয়েছেন, তারা বেতন বাড়ানোর যে প্রস্তাব দিয়েছেন, সেটি সর্বোচ্চ মাত্রার। সবকিছু বিবেচনা করেই ভারসাম্যপূর্ণ প্রস্তাবই দেওয়া হয়েছে। বিরোধ মেটাতে সংস্থাটি অস্ট্রেলিয়ার কর্মক্ষেত্র বিষয়ক ট্রাইব্যুনাল ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশনের সহায়তা চাইবে। এর আগে সর্বশেষ ২০০৬ সালে এবিসি কর্মীরা ধর্মঘটে গিয়েছিলেন। তথ্যসূত্র: বিবিসি

মারিয়া রহমান মার্চ ২৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনের দেড় হাজার সেনা নিহত: রাশিয়া

ঘনিয়ে আসছে হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

ভারতের বিমানবাহিনীর যেসব তথ্য হাতিয়ে নিল পাকিস্তান

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান সেতু উড়িয়ে দিয়েছে ইসরাইল

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে লিটানি নদীর একটি প্রধান সেতু ধ্বংস করেছে ইসরাইলি বিমানবাহিনী। হিজবুল্লাহ লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে যোদ্ধা ও অস্ত্র নিয়ে যেতে সেতুটি ব্যবহার করতো বলে অভিযোগ ইসরাইলের। রোববার স্থানীয় সময় সকালে ও সন্ধ্যায় দুইবার সেতুটিতে হামলা চালানোর পর ইসরাইল সতর্ক করে বলেছে, ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে 'তাদের লড়াই মাত্র শুরু হলো'। টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, লিটানি নদীর কাসমিয়া সেতুতে এই হামলার ঘটনায় বৈরুত ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে বলেছে, 'এই পদক্ষেপ উত্তেজনার তীব্রতার বিপজ্জনক বৃদ্ধি।' লেবাননে ইসরাইলকে তার সামরিক অভিযানের বিস্তৃতি ঘটানো থেকে বিরত রাখতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে বৈরুত।   রয়টার্স জানিয়েছে, লিটানি নদীর সবগুলো পারাপারের পথ ধ্বংস করার জন্য ইসরাইল তাদের সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে। নদীটির সবগুলো সেতু ধ্বংস হলে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল দেশের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। ইসরাইল লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তের কাছে থাকা ঘরবাড়ি ধ্বংস করারও নির্দেশ দিয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন সাধারণত সামরিক বাহিনীগুলোকে বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালাতে নিষেধ করে। লেবাননে ইসরাইলি সামরিক অভিযানের সমালোচনা করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান, বিশেষ করে লেবাননিদের তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। কাসমিয়া সেতুতে হামলা চালানোর পর ইসরাইল লেবাননের হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের স্থল অভিযান বিস্তৃত করার ঘোষণা দিয়েছে।   রোববার সন্ধ্যায় ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জমির বলেছেন, 'সন্ত্রাসী সংগঠন হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান মাত্র শুরু হলো। এটি একটি দীর্ঘ অভিযান। আমরা এখন নির্দিষ্ট স্থল অভিযান নিয়ে অগ্রসর হওয়ার ও সংগঠিত পরিকল্পনা অনুযায়ী আঘাত হানার প্রস্তুতি নিচ্ছি।' ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ জানিয়েছেন, তাদের সামরিক বাহিনীকে 'সন্ত্রাসী তৎপরতায়' ব্যবহার হওয়া লিটানি নদীর ওপরের সব সেতু ধ্বংস করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হিজবুল্লাহ যেন তাদের যোদ্ধা ও অস্ত্র দক্ষিণাঞ্চলে না নিতে পারে তার জন্য এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যেই গত ১০ দিনে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে তিনটি সেতু ধ্বংস করেছে ইসরাইল। কাটজ আরও জানিয়েছেন, সীমান্ত সংলগ্ন ইসরাইলি বসতিগুলোর প্রতি হুমকি দূর করতে সামরিক বাহিনীকে লেবাননের সীমান্ত গ্রামগুলোর ঘরবাড়ি ধ্বংস করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গাজার বেইত হানুন ও রাফায়ও একই কাজ করেছিল ইসরাইলি বাহিনী। সেখানে সীমান্তের কাছে ঘরবাড়ি ও ভবন ধ্বংস করে বাফার জোন গড়ে তুলেছিল তারা। এখন লেবাননেও একই কাজ করতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   লেবাননের প্রেসিডেন্ট যোসেফ আউন কাসমিয়া সেতুসহ লেবাননজুড়ে বেসামরিক অবকাঠামোগুলোতে ইসরাইলি হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ২ মার্চ ইসরাইলে আক্রমণ চালানোর মধ্য দিয়ে এতে জড়িয়ে পড়ে লেবাননের ইরানি মিত্র হিজবুল্লাহ।

আবরার আল মামুন সাহাফ মার্চ ২৩, ২০২৬ 0

ভারতের বিমানবাহিনীতে পাকিস্তানের গুপ্তচর

ইরানের ভয়ে বিশ্বজুড়ে আমেরিকানদের সতর্ক থাকতে বলল যুক্তরাষ্ট্র

সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ইরানের হামলার দাবি

ভিডিও বার্তায় ট্রাম্পকে ইরানি সামরিক মুখপাত্রের নজিরবিহীন উপহাস

ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে এক নজিরবিহীন বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেছেন। হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার জন্য ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে তিনি এই বিশেষ বিবৃতিটি প্রদান করেন।   জোলফাগারি ইংরেজিতে রেকর্ড করা একটি ভিডিও বার্তায় সরাসরি ট্রাম্পের উদ্দেশে বলেন, 'হে ট্রাম্প, ইউ আর ফায়ার্ড! (তোমাকে বরখাস্ত করা হলো)। এই বাক্যটির সঙ্গে তুমি আগে থেকেই বেশ পরিচিত। এই বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।' উল্লেখ্য, 'ইউ আর ফায়ার্ড' বাক্যটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক রিয়েলিটি শো 'দ্য অ্যাপ্রেন্টিস'-এর একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় উক্তি, যা ব্যবহার করে জোলফাগারি তাকে বিদ্রূপ করেছেন। এই বাগযুদ্ধের নেপথ্যে রয়েছে এক চরম উত্তেজনা। যুক্তরাষ্ট্র হুমকি দিয়েছিল, হরমুজ প্রণালি যদি অবরোধমুক্ত করা না হয় তবে তারা ইরানের জ্বালানি গ্রিডে হামলা চালাবে। এর জবাবে ইরানও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে যে মার্কিন বাহিনী এমন কোনো পদক্ষেপ নিলে তারা অত্যন্ত কঠোর ও শাস্তিমূলক প্রতিশোধমূলক হামলা চালাবে।   এই পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি ও ব্যক্তিগত আক্রমণের ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন নাটকীয় মাত্রা যোগ করেছে।

আবরার আল মামুন সাহাফ মার্চ ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

হামলার তীব্রতা কমাচ্ছে ইরান, সৌদি আরবে সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি বিবেচনায় সিদ্ধান্ত

ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে রানওয়েতে বিমান ও গাড়ির সংঘর্ষ, আহত কয়েকজন

ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন বিমানবন্দরে আইসিই এজেন্ট মোতায়েনের ঘোষণা

0 Comments