অর্থনীতি

ডিএসইতে লেনদেন ৪২৯ কোটি টাকা, দর কমেছে বেশি সংখ্যক শেয়ারের

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ০৮, ২০২৬ 0

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হয়েছে ৪২৯ কোটি ১১ লাখ টাকার বেশি। এদিন মোট ৩৯১টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিট লেনদেন হয়। 
ডিএসই সূত্র জানায়, আজ বাজারে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১২৬টির, কমেছে ১৮৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৮২টির শেয়ারের দর। 

বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই)  প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৫ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৯৯৮ দশমিক ৫৫ পয়েন্টে। ডিএসই-৩০ সূচক ১ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৯১৪ দশমিক ৯৪ পয়েন্টে এবং শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ১ দশমিক ৪২ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১০ দশমিক ৮০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

ডিএসই সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বাজারে  ১ লাখ ২৭ হাজার ৯২১ টি ট্রেডের মাধ্যমে ৩৯১টি কোম্পানির মোট ১৩ কোটি ২৯ লাখ ৯৬ হাজার ৫৭৪টি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিট লেনদেন হয়েছে। মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪২৯ কোটি ১১ লাখ ৫৫ হাজার ৯০৩ টাকা। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১২৫টির, কমেছে ১৮৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৮৩টির শেয়ারের দর।

বৃহস্পতিবার ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে ছিল সিটি ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মা, ওরিয়ন ইনফিউশন, তৌফিকা ফুড, উত্তরা ব্যাংক, ফাইন ফুডস, যমুনা ব্যাংক, রবি এক্সিয়াটা, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং ও ডমিনোজ স্টিল।

দর বৃদ্ধির শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ফাইন ফুডস, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ওয়াটা কেমিক্যাল, কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজ, জিকেডব্লিউ ইলেক্ট্রোড, মুন্নু ফেব্রিক্স, আইএসএমজিএল, এক্সিম ব্যাংক প্রথম মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও আইবিএল প্রথম মিউচ্যুয়াল ফান্ড।

অন্যদিকে দর কমার শীর্ষে ছিল পিপলস লিজিং, এফএএস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ফাস্ট ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স, ফ্যামিলি টেক্সটাইল, বিআইএফসি ও জিএসপি ফাইন্যান্স।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
বিদ্যুৎ চুক্তি নিয়ে দ্বিমত: একাংশ বাতিল, অন্যাংশ দরকষাকষি

ভারতের শিল্পগোষ্ঠী আদানির সঙ্গে করা বিদ্যুৎ চুক্তি নিয়ে পর্যালোচনা কমিটি দুই ধরনের সুপারিশ করেছে। কমিটির একটি অংশ এই চুক্তি বাতিলের পক্ষে থাকলেও অন্যপক্ষ নতুন করে দরকষাকষি করার পক্ষে মতামত দিয়েছে। প্রতিবেদনে বিতর্কিত এ আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ চুক্তিতে অনিয়ম খুঁজে পাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।   গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর রেল ভবনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টার কাছে জাতীয় পর্যালোচনা কমিটির প্রধান, হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, আদানির চুক্তি নিয়ে প্রতিবেদন জমা দেন। তবে কমিটির অন্যান্য সদস্য সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। বিদ্যুৎ উপদেষ্টাও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতিবেদনটি বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে পাঠানো হবে এবং পর্যালোচনার পর সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। জাতীয় পর্যালোচনা কমিটি ২০১৭ সালের আদানির চুক্তিটি পরীক্ষা করে দেখেছে। পর্যালোচনার পর তারা দুটি রিপোর্ট তৈরি করেছে—একটিতে চুক্তি বাতিলের প্রভাব এবং অন্যটিতে নতুন নেগোসিয়েশনের সম্ভাবনা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার বিষয় উল্লেখ রয়েছে। কমিটি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি) আদানির পাওনা পরিশোধ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। তবে আদানি দাবি করছে, তাদের বকেয়া প্রায় ৬০৯ মিলিয়ন ডলার, পিডিবির হিসাব অনুযায়ী এটি ৩৩৯ মিলিয়ন ডলার। গত নভেম্বরে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী জানিয়েছিলেন, বিদ্যুৎ খাতে সুশাসনের অভাব এবং দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে কমিটি। আদানি চুক্তিসহ কিছু বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে যোগসাজশ ও অনিয়মও খুঁজে পাওয়া গেছে। পিডিবির হিসাব অনুযায়ী, আদানির বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে মোট লোকসান ২১ হাজার ১১৪ কোটি টাকা, যার মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার লোকসান শুধু আদানির কারণে। প্রতি মাসে সাড়ে চারশ কোটি টাকার বেশি ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে। আইনবিদ ড. শাহদীন মালিক সতর্ক করেছেন, বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি বাতিল আইনি জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে ৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত জরিমানা বা দাবির মুখে পড়তে হতে পারে। পিডিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আসন্ন গ্রীষ্মে আদানির বিদ্যুৎ নেওয়া অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং দেশীয় কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ পাওয়ার বিকল্প ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ১৭ জানুয়ারি আদানির পক্ষ থেকে পিডিবিকে পাঠানো এক চিঠিতে জরুরি ভিত্তিতে ১৫১.৯১ মিলিয়ন ডলার পরিশোধের অনুরোধ করা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ, মোট বকেয়া ৬০৯ মিলিয়ন ডলার, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ না পেলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে।   ২০১৭ সালের চুক্তি অনুযায়ী, আদানির ১,৪০০ মেগাওয়াটের গোড্ডা প্লান্ট ২৫ বছর ধরে তাদের উৎপাদিত বিদ্যুতের ১০০ শতাংশ বাংলাদেশে সরবরাহ করবে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ না নিলেও পিডিবিকে মোটা অঙ্কের ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

আজকের স্বর্ণের দাম

ছবি: সংগৃহীত

১৯ দিনেই রেমিট্যান্স ২১২ কোটি ডলার, বেড়েছে ৫৬ শতাংশ

ছবি : সংগৃহীত

সরকারি ঋণের চাহিদা পূরণে পুঁজিবাজারকে গুরুত্ব দিতে হবে : আমির খসরু

বিদেশে চাহিদা বাড়ছে বাংলাদেশি ফলের

বাংলাদেশে উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের ফলের চাহিদা বাড়ছে বিদেশে। এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে রপ্তানি আয়ে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো’র (ইপিবি) তথ্য বিশ্লেষণে এমন চিত্রই উঠে এসেছে। ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ফল রপ্তানি করে বাংলাদেশ যেখানে মাত্র শূন্য দশমিক ৫৮ মিলিয়ন ডলার আয় করেছিল, সেখানে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে সেই আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭ দশমিক ৫১ মিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ, মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশের ফল রপ্তানি আয় প্রায় ১১৬ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।  কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইং উপ-পরিচালক (রপ্তানি) মফিদুল ইসলাম বলেন, কাঁঠাল, আনারসসহ নানা জাতের ফল বাংলাদেশ থেকে নিতে চায় অনেক দেশ। বিদেশে ক্রমেই বাংলাদেশের উৎপাদিত ফলের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।  রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো’র নীতি ও পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক আবু মোখলেস আলমগীর হোসাইন কৃষি পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ বিষয়ে বাসস’কে বলেন, কৃষি পণ্যের রপ্তানির ক্ষেত্রে আমাদের ডেডিকেটেড কোন কার্গো বিমান নেই। যাত্রীদের বিমানে করে কৃষি পণ্য বহির্বিশ্বে রপ্তানি হয়ে থাকে। শাকসবজি সহ পচনশীল কৃষি পণ্য রপ্তানি করতে যে ফ্যাসিলিটেজ প্রয়োজন, সেই ফ্যাসিলিটি নেই।  তিনি আরও বলেন, উন্নত দেশগুলো কৃষি পণ্যে যে ধরণের স্যানিটাইজেশন মেইন্টেন করে থাকে। আমাদের দেশে এর প্রচুর ঘাটতি আছে। গুড অ্যাগ্রিকালচার প্র্যাকটিস খুবই প্রয়োজন। কৃষকদের যদি স্যানিটাইজেশন বিষয়ে আরও বেশি বেশি প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হয় তবে আমাদের কৃষি পণ্যের চাহিদা বাড়বে। ইপিবি রপ্তানিকারকদের অ্যাডভোকেসি করে থাকে। কৃষি পণ্য রপ্তানিতে রপ্তানিকারকদের যে প্রতিবন্ধকতাগুলো আছে সে বিষয়ে আমরা নিয়মিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে থাকি।  এছাড়াও গত দুই বছর কৃষি পণ্যে রপ্তানি আয়ের সূচক নিম্নমুখী থাকলেও এবার তা বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কৃষি পণ্যে রপ্তানি আয় হয়েছে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার। ইপিবি’র তথ্যমতে, ২০২০-২০২১ ও ২০২১-২০২২ অর্থবছরে কৃষিতে রপ্তানি আয় ছিল যথাক্রমে ১ দশমিক শূন্য ২ ও ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। এরপর ২০২২-২০২৩ ও ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে কৃষিতে রপ্তানি আয় কমে হয় যথাক্রমে ৮২৭ ও ৯৬৪ মিলিয়ন ডলার। সর্বশেষ গত অর্থবছরে এই আয় বেড়ে হয় ৯৮৮ দশমিক ৬২ মিলিয়ন ডলারে। ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে চা থেকে রপ্তানি আয় হয় ৪ দশমিক ১০ মিলিয়ন ডলার। একই অর্থবছরে সবজি থেকে রপ্তানি আয় হয় ৮১ দশমিক ১২ মিলিয়ন ডলার। তামাকজাত পণ্যে রপ্তানি আয় ২৫১ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন ডলার। মসলা জাতীয় পণ্যে রপ্তানি আয় ৫৬ দশমিক ৩১ মিলিয়ন ডলার। ড্রাই ফুডে রপ্তানি আয় ১৮৬ দশমিক ৬০ মিলিয়ন ডলার। তেল বীজ থেকে রপ্তানি হয় ২৪ দশমিক শূন্য ৬ মিলিয়ন ডলার।   এসব তথ্য বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, পান পাতার চাহিদাও বহির্বিশ্বে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ৮ দশমিক শূন্য ৯ মিলিয়ন ডলারের পান পাতা রপ্তানি হয়। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে এ রপ্তানি আয় বেড়ে হয় ২১ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন ডলার। এছাড়াও, গত অর্থবছরে উদ্ভিজ্জ চর্বি এবং তেল রপ্তানিতে আয় হয় ১১৮ দশমিক শূন্য ৪ মিলিয়ন ডলার। চিনি রপ্তানিতে ২০ দশমিক ৮২, পানীয় রপ্তানিতে ৩৫ দশমিক ৪৭, খৈল রপ্তানিতে শূন্য দশমিক ১৩ ও অন্যান্য কৃষিজাত পণ্য রপ্তানিতে আয় হয় ১২১ দশমিক শূন্য ৮ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশের কৃষি পণ্য রপ্তানির বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশের কৃষি পণ্য ১৩০ এর বেশি দেশি রপ্তানি হয়। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি কৃষি পণ্য রপ্তানি হয় ভারতে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ২১১ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন ডলারের কৃষি পণ্য রপ্তানি হয়েছে ভারতে। সৌদি আরবে একই অর্থবছরে রপ্তানি হয় ১১৪ দশমিক শূন্য ৩ মিলিয়ন ডলার। এছাড়াও, আরব আমিরাত, বেলজিয়াম, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের কৃষি পণ্যের বেশি। এসব দেশে গত অর্থবছরে যথাক্রমে রপ্তানি হয়েছে, ৭৪, ৭০, ৫১, ৪১ ও ৪৮ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। রপ্তানি বাজার বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, ওমান, ফিলিপাইন, কাতার, চায়না ও কানাডাতেও বাংলাদেশে উৎপাদিত কৃষি পণ্যের চাহিদা বাড়ছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ২০, ২০২৬ 0

পদ্মা সেতুতে টোল আদায়ে মাইলফলক: ৩ হাজার কোটি টাকা অতিক্রম

সুতা আমদানি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপনের অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

সব রেকর্ড ছাপিয়ে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

এলপিজি আমদানির অনুমতি পেল বিপিসি

দেশে চলমান সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানির অনুমতি পেয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত এই সংস্থাকে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এদিকে রাতে গণমাধ্যমকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, এলপিজি আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে বিপিসিকে। ইতোমধ্যে প্রক্রিয়া শুরুর জন্য বিপিসির চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসানকে মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হচ্ছে। এখন সরকার থেকে সরকার পর্যায়ে এলপিজি আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। আমদানি করা গেলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং ভারসাম্য আসবে। তিনি আরো বলেন, আপাতত সরকার শুধু এলপিজি আমদানির পর্যায়েই যুক্ত থাকবে। সংরক্ষণ, বোতলজাতকরণ ও বিতরণ কার্যক্রমে সরাসরি জড়িত হওয়ার আপাতত পরিকল্পনা নেই। এসব কাজ বেসরকারি অপারেটরদের মাধ্যমেই করা হবে। বিপিসি গত ১০ জানুয়ারি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়ে জিটুজি ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির অনুমতি চায়। বিপিসি চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসানের পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, সম্প্রতি দেশে এলপিজির সরবরাহ ঘাটতি ও দামের অস্বাভাবিক ওঠানামা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর ফলে ভোক্তাদের অতিরিক্ত দামে এলপিজি কিনতে হচ্ছে। বর্তমানে এলপিজির আমদানি ও সরবরাহ পুরোপুরি বেসরকারি খাতনির্ভর হওয়ায় বাজারে সংকট তৈরি হলে তা সামাল দেওয়ার মতো কোনো কার্যকর সরকারি হাতিয়ার নেই। চিঠিতে আরো বলা হয়, নীতিগত অনুমোদন পেলে বিপিসি জিটুজি ভিত্তিতে এলপিজি আমদানি করে বেসরকারি অপারেটরদের মাধ্যমে দ্রুত বাজারে সরবরাহ করবে। এতে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করছে সংস্থাটি।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

সয়াবিন ও চিনির দাম ঊর্ধ্বমুখী, কমেছে ডিমের দাম

ছবি : সংগৃহীত

বৈশ্বিক ঝুঁকি ও অভ্যন্তরীণ চাপে নড়বড়ে দেশের অর্থনীতি

বাংলাদেশ-নেপাল ৮ম বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত

0 Comments