ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১১ আসনের ফলাফলের কিছু অসংগতি রয়েছে বলে দাবি করে ভোটের ঘোষিত ফলাফল স্থগিত বা বাতিল ঘোষণা করার জন্য আবেদন করেছেন বিএনপি প্রার্থী এম এ কাইয়ুম।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে লিখিত আবেদন জমা দেন।
আবেদনে কাইয়ুম বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১১ আসনে ভোটগ্রহণ ও গণনা সম্পন্ন হওয়ার পর ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু ঘোষিত ফলাফল গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (RPO, 1972) এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী বিধিমালার পরিপন্থী গুরুতর অনিয়ম ও অসঙ্গতির মাধ্যমে প্রভাবিত হয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।’
আইনগত ভিত্তি
১. গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর ধারা ৩১ ও ৩৭ অনুসারে নির্বাচন পরিচালনা হতে হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পদ্ধতিতে।
২. ধারা ৪২ ও ৪৩ অনুযায়ী ভোট গণনার সময় প্রার্থী ও তাদের এজেন্টদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক এবং গণনার স্বচ্ছতা রক্ষা করা আবশ্যক।
৩. ধারা ৪৪এ ও ৪৪ই অনুযায়ী ফলাফল ঘোষণার পূর্বে সঠিকভাবে ব্যালট গণনা ও আপত্তিকৃক্ত ভোটে নিষ্পত্তি করা আবশ্যক।
৪. ধারা ১১ ও ১৪ অনুসারে, গুরুতর অনিয়ম বা বেআইনি কার্যকলাপের মাধ্যমে ফলাফল প্রভাবিত হলে তা আইনগতভাবে চ্যালেঞ্জযোগ্য এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনযোগ্য।
৫. নির্বাচন কমিশন সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮ ও ১১৯ অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনা ও তদারকির পূর্ণ ক্ষমতা ভোগ করে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার সাংবিধানিক দায়িত্ব বহন করে।
বাস্তবিক অনিয়মগুলো
১. প্রায় প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে প্রদত্ত ১৫ থেকে ৫০টি করে বৈধ ভোট অযৌক্তিকভাবে বাতিল (rejected) করা হয়েছে। সকল কেন্দ্রের সম্মিলিত হিসাব অনুযায়ী ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে সর্বনিম্ন ৩,৫০০ (তিন হাজার পাঁচশত) ভোট পদ্ধতিগতভাবে বাতিল করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।
২. নির্দিষ্ট কেন্দ্রে অস্বাভাবিক ভোট বৃদ্ধি: বেরাইদ এ কে এম রহমতউল্লাহ ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে গভীর রাতে রায় ১,২০০ এবং রামপুরা আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে প্রায় ১,৫০০ ভোট অস্বাভাবিকভাবে বেশি দেখানো হয়েছে। উল্লেখ্য, বেরাইদ এলাকার অন্যান্য সব কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীক বিজয়ী হয়েছে।
একটি মাত্র কেন্দ্রে এই বিপুল ব্যবধান সুস্পষ্টভাবে অসঙ্গতিপূর্ণ ও কারচুপির ইঙ্গিতবাহী। এই দুই কেন্দ্রে মিলিতভাবে প্রায় ২ হাজার ৭০০ ভোটের কারসাজি হয়েছে।
৩. বাড্ডা হাই স্কুল ভোটকেন্দ্রে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার অবস্থানের কারণে প্রায় ২ (দুই) ঘণ্টা ভোটগ্রহণ কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থগিত রাখা হয়। এই দীর্ঘ বিরতির ফলে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিতে আসা বিপুল সংখ্যক ভোটার দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও ভোট প্রদান করতে না পেরে ফিরে যেতে বাধ্য হন। এটি ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগে সুস্পষ্ট বাধা এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ধারা ৩১-এর পরিপন্থী।
৪. বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে গণনার সময় এজেন্টদের বাধা প্রদান/ বহিষ্কার করা হয়েছে।
৫. ফলাফল বিবরণী (Statement of the Result) ও কেন্দ্রভিত্তিক ভোটের হিসাবের মধ্যে অসামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয়েছে।
৬. আপত্তিকৃত ভোট যথাযথভাবে নিষ্পত্তি না করে ফলাফল চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং ব্যালট পেপার পুনর্গণনার আবেদন সমেও তা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
উপরোক্ত অনিয়মগুলো নির্বাচনের স্বচ্ছতা, বৈধতা ও গণতান্ত্রিক মানদণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আইনের দৃষ্টিতে এমন পরিস্থিতিতে ফলাফল পুনর্বিবেচনা ও ভোট পুনর্গণনা করা ন্যায়সঙ্গত ও প্রয়োজনীয়।
ইসির প্রতি কাইয়ুমের আবেদন—
১. ঢাকা-১১ আসনের ঘোষিত ফলাফল স্থগিত/বাতিল ঘোষণা করা হোক;
২. সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রসমূহে অবিলম্বে পুনরায় ভোট গণনার নির্দেশ প্রদান করা হোক;
৩. প্রয়োজনে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে অনিয়মসমূহ যাচাই করা হোক;
৪. ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকল্পে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
এ এম কাইয়ুম বলেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা রক্ষার্থে বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে বিবেচনা করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ অভিযোগ করেছেন, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া) আসনে বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ চলাকালে বিকেল ৪টার পর বিভিন্ন কেন্দ্রে অনিয়ম ও কারচুপি হয়েছে। নির্বাচনের পরদিন শুক্রবার এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ অভিযোগ তোলেন। এ আসনে তার ছেলে ওমর ফারুক এলডিপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। চট্টগ্রাম-১৪ আসনে মোট আটজন প্রার্থী অংশ নেন। বেসরকারি ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী জসীম উদ্দিন আহমেদ ৭৬ হাজার ৪৯৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ওমর ফারুক পান ৭৫ হাজার ৪৬৭ ভোট। অলি আহমদের দাবি, বিশেষ করে তিনটি কেন্দ্রে—হাসিমপুর তরুণ সংঘ স্কুল, হাসিমপুর বড়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং দোহাজারী আবদুর রহমান হাই স্কুলে—বিকেল সাড়ে ৪টার পর অপরিচিত কয়েকশ ব্যক্তি জোর করে প্রবেশ করেন। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ কাজ করা হয়েছে এবং বহু ব্যালট পেপার বাক্সে ঢোকানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা আড়াইটা-তিনটার পর আমাদের কেন্দ্রের বাইরে দায়িত্বরত নেতাকর্মীদের মারধর করে বের করে দিয়েছেন। অলি আহমদ অভিযোগ করেন, জসীম উদ্দিন ৬-৭টি মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরেছেন এবং সন্ধ্যার আগে-পরে প্রায় ৩০-৪০টি মাইক্রোবাস ও ট্রাক নিয়ে মিছিল করেছেন, অথচ পুলিশ বা প্রশাসন কোনো বাধা দেয়নি। এলডিপি সভাপতি বলেন, নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী একতরফাভাবে কাজ করেছে, এবং বিভিন্ন কেন্দ্রে তাদের এজেন্টদের বিকেল সাড়ে ৪টার পর বের করে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ওমর ফারুক- এর প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ভোট বাতিল করা হয়েছে, যেগুলোর বাতিলের কারণ জানানো হয়নি। অলি আহমদ বলেন, এটি সুপরিকল্পিত ও অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে করা হয়েছে। আমরা পরাজিত হইনি; পরাজিত হয়েছে আমার নির্বাচনী এলাকার জনগণ। তিনি ভিডিও বার্তায় প্রশাসনকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে উচ্ছৃঙ্খল যুবকদের হামলা বন্ধ করা যায় এবং এলাকায় টহল জোরদার করা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি ১৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেন। সাদিক কায়েম জানান, ফেনীতে ছাত্রশিবিরের এক নেতার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং তিনি দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনের সময় সক্রিয় থাকা ছাত্রনেতা সিয়ামের ওপর সম্প্রতি আক্রমণ চালানো হয়েছে। সিয়াম সম্পর্কে তিনি বলেন, জুলাই যোদ্ধা ছাত্রশিবিরের ফেনী শাখার সিয়াম একাই সেদিন সন্ত্রাসী আওয়ামী, ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে নিজের জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন। অথচ আজ তার ওপর হামলা করেছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা। এছাড়া, সাদিক আরও অভিযোগ করেন যে, বিএনপির সন্ত্রাসীরা ঢাকার বাইরে বিভিন্ন এলাকায় জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি এবং ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির সন্ত্রাসীরা যে নৃশংস হামলা চালিয়ে তাদের বিজয় উৎসব উদযাপন করছে, তার বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সাথে নিয়ে এখনই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এদিকে, সাদিক কায়েমের অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সন্তোষজনক হলেও গণনার সময় ১০ শতাংশ ভোট কারচুপি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। আজ শুক্রবার রাতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় জোটের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ অভিযোগ করেন। নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘নির্বাচনে সুষ্পষ্টভাবে কারচুপি হয়েছে। অনেকগুলো আসনকে টার্গেট করে ফল পরিবর্তন করা হয়েছে। কেন্দ্র দখল ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে এটা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আওয়ামী আমলে যেভাবে নির্বাচন হতো, আমরা এখন সেই প্রচেষ্টা দেখতে পাচ্ছি। নির্বাচনের পরদিন সারা দেশে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা করা হচ্ছে, অনেককে এলাকাছাড়া করা হচ্ছে। যারা প্রতিপক্ষকে এভাবে আক্রমণ করছে তাদের কাছে এ দেশের জনগণ কতটা নিরাপদ থাকবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এ দেশের মানুষের অধিকার রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। আমরা তাদের সঙ্গে থেকে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। ১১ দলীয় জোটকে সমর্থন দেওয়ার জন্য আমরা জনগণকে ধন্যবাদ জানাই।’ তিনি বলেন, “এই নির্বাচনে দুটি পক্ষ ছিল। একটি পক্ষ সংস্কার ও বিচারের পক্ষে ছিল। আরেকটি পক্ষ ছিল যারা পুরনো বন্দোবস্ত টিকিয়ে রাখতে চায়। আমরা দেখেছি, গণভোটে ‘হ্যা’ বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছে। যারা ‘হ্যা’ ভোট দিয়েছেন, তারা ১১ দলকেও ভোট দিয়েছেন। সে হিসেবে ১১ দলের বিজয়ী হওয়ার কথা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ১০ শতাংশ ভোট কারচুপি করা হয়েছে।”