আন্তর্জাতিক

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ

চীনে গোপনে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে রুশ সেনারা

মারিয়া রহমান মে ২০, ২০২৬
প্রতীকী ছবি।
প্রতীকী ছবি।

ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে আন্তর্জাতিক উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে চীন–রাশিয়া সামরিক সহযোগিতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইউরোপীয় গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের বরাতে জানা গেছে, গত বছরের শেষ দিকে চীনের সেনাবাহিনী গোপনে প্রায় ২০০ রুশ সেনাকে চীনে প্রশিক্ষণ দিয়েছে, যাদের একটি অংশ পরে ইউক্রেন যুদ্ধে ফিরে গেছে।

গোপন এই প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য ছিল আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন ব্যবহার এবং কৌশলগত যুদ্ধ পরিচালনা। বিষয়টি সংক্রান্ত নথি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। 


গোয়েন্দা সূত্রগুলোর দাবি, প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় বেইজিংসহ চীনের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় এবং পূর্বাঞ্চলীয় শহর নানজিংয়ে। ২০২৫ সালের ২ জুলাই স্বাক্ষরিত একটি রুশ–চীনা দ্বিভাষিক চুক্তিতে এই কর্মসূচির উল্লেখ ছিল বলেও জানা গেছে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রায় একই সংখ্যক চীনা সেনাকেও রাশিয়ার সামরিক স্থাপনায় প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

ইউরোপীয় এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, এই ধরনের প্রশিক্ষণ ইউক্রেন যুদ্ধকে পরোক্ষভাবে হলেও আরও গভীরভাবে প্রভাবিত করছে, বিশেষ করে ড্রোন যুদ্ধকৌশল উন্নয়নের মাধ্যমে।


তবে চীন বরাবরের মতোই তাদের অবস্থানকে নিরপেক্ষ বলে দাবি করেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইউক্রেন সংকটে তারা শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে এবং কোনো পক্ষের সংঘাতে সরাসরি জড়িত নয়।

ইউরোপীয় দেশগুলো এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা ইউরোপীয় নিরাপত্তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণের পর থেকেই বেইজিং ও মস্কোর মধ্যে সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই বছর যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিন আগে দুই দেশ নিজেদের সম্পর্ককে সীমাহীন কৌশলগত অংশীদারি হিসেবে ঘোষণা করেছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন প্রযুক্তি এখন মূল ভূমিকা পালন করছে। ইউক্রেন যুদ্ধে এই প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার যুদ্ধের ধরণই বদলে দিয়েছে, যেখানে দূর থেকে নিয়ন্ত্রিত ড্রোন হামলা এখন প্রচলিত ট্যাংক ও স্থল যুদ্ধের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে চীনা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে রাশিয়ার ড্রোন প্রযুক্তি উন্নয়নে সহায়তার অভিযোগও উঠে এসেছে, যদিও চীন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক শক্তিগুলোর ভূমিকা নিয়ে যখন নতুন করে বিতর্ক চলছে, তখন চীন–রাশিয়ার এই সামরিক সহযোগিতার তথ্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন চাপ তৈরি করেছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
স্কুল খোলার পরই ফ্রান্সে ফের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

দুই সপ্তাহের ছুটি শেষে সোমবার স্কুল খোলার পর ফ্রান্সে আবারও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। তবে আগের কয়েক সপ্তাহের তুলনায় এবার বিক্ষোভ ও স্কুল অবরোধের ঘটনা অনেক কম।   ফরাসি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, প্যারিস, মার্সেই ও রেন শহরের কয়েকটি স্কুলে শিক্ষার্থীরা অবরোধের চেষ্টা করেছে। দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত প্রায় ৪১টি স্কুল অবরোধের মুখে পড়ে। দেশটির মোট উচ্চবিদ্যালয়ের মাত্র ১ শতাংশ এটি।   এর আগে ছুটির আগের কয়েক সপ্তাহে ফ্রান্সের কয়েকশ স্কুল অবরোধ করেছিলেন শিক্ষার্থীরা। গত সেপ্টেম্বরে প্যারিসের উপকণ্ঠে শুরু হওয়া এই আন্দোলন পরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। স্কুলের দুরবস্থার পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনে শ্রমিক সংগঠন ও বিভিন্ন কর্মী সংগঠনের সদস্যরাও যোগ দেন। কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়।   শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে সোমবার ফ্রান্স ইন্টার রেডিওকে বলেন, স্কুল অবরোধের চেষ্টা এখন খুবই সীমিত পর্যায়ে রয়েছে। বিক্ষোভ করার অধিকার শিক্ষার্থীদের আছে, তবে স্কুলে প্রবেশে বাধা দেওয়া বেআইনি।   শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে পুরোনো স্কুল ভবন সংস্কার, শিক্ষকের সংখ্যা বাড়ানো, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ বৃদ্ধি এবং বর্তমান ভর্তি পদ্ধতি বাতিল। তাদের অভিযোগ, প্রচলিত পদ্ধতিতে সামাজিক বৈষম্য তৈরি হয়।   গত সপ্তাহে শিক্ষামন্ত্রী প্রতি শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৮ জনে সীমিত করা, স্কুল সংস্কারে ৪০০ কোটি ইউরো বরাদ্দ, উচ্চশিক্ষায় ১৫ হাজার নতুন আসন তৈরি এবং ২০২৮ সালের মধ্যে নতুন ভর্তি পদ্ধতি চালুর প্রস্তাব দেন।   তবে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা এসব প্রস্তাবকে যথেষ্ট মনে করছেন না। তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।   সূত্র: রয়টার্স

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইরানে ফের যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, কেঁপে উঠল কেশম দ্বীপ

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের শর্ত মেনে নিলেই দুদিনের মধ্যে খুলতে পারে হরমুজ প্রণালি

ছবি: সংগৃহীত

অন্ধ্র প্রদেশে তেল শোধনাগারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, আকাশজুড়ে কালো ধোঁয়া

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যে স্থায়ী হওয়ার স্বপ্নে দীর্ঘ অপেক্ষা, বেশির ভাগের লাগবে ১০ বছর

ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ পার্লামেন্টে অভিবাসন নিয়ে নতুন নীতি ঘোষণা করেছেন। এই নতুন নীতিতে স্থায়ী বসবাসের নিয়ম থেকে শুরু করে শরণার্থী আইন পর্যন্ত বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে।   বৈধ অভিবাসীদের জন্য স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা 'ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন' (আইএলআর) পাওয়া বা অপেক্ষার সময়সীমা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়েছে।   সোমবার ওয়েস্টমিনস্টারের হাউস অব কমন্সে শাবানার এই চূড়ান্ত নীতিমালা উপস্থাপন করেন।   আইএলআর পাওয়ার মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকরা যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বাস করা, কাজ, পড়াশোনা এবং সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা (বেনিফিট) পাওয়ার আইনি অধিকার অর্জন করে।   ২০২৫ সালের নভেম্বরে ঘোষিত প্রাথমিক প্রস্তাবে আইএলআর পাওয়ার বর্তমান ৫ বছরের অপেক্ষার সময়সীমা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছিল।   বিশেষ করে বিদেশি কেয়ার কর্মী বা সেবা কর্মীদের ক্ষেত্রে স্থায়ী বসবাসের আবেদনের মেয়াদ ১৫ বছর পর্যন্ত করার পরিকল্পনা ছিল সরকারের। তবে চূড়ান্ত নীতিমালায় যুক্তরাজ্যে ইতিমধ্যে অবস্থান করা সোশাল কেয়ার কর্মীদের এই দীর্ঘ অপেক্ষার আওতামুক্ত রেখে ছাড় দেওয়া হয়েছে।   তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিরোধিতার মুখে চূড়ান্ত নীতিমালায় শাবানা ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন। কেয়ার কর্মীদের জন্য ১৫ বছর অপেক্ষার নিয়ম রাখা হয়নি। এমনকি কম আয়ের অন্য কোনও বৈধ কর্মীকেও ১৫ বছর অপেক্ষা করতে হবে না।   যারা ২০২৫ সালের মে মাসের আগে কেয়ার বা সোশাল কেয়ার ভিসায় যুক্তরাজ্যে গেছেন তারা আগের নিয়মেই মাত্র ৫ বছর পূর্ণ হলে স্থায়ী বসবাসের আইএলআর আবেদন করতে পারবেন।   তবে এই ছাড় পাওয়ার জন্য দুটি শর্ত দেওয়া হয়েছে— কেয়ার কর্মীকে তার ভিসার শর্ত মেনে চলতে হবে এবং আবেদন করার আগের ১২ মাসে তার বার্ষিক আয় অন্তত ২৫,০০০ পাউন্ড হতে হবে।   মহামারীর সময়ে ও পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য খাতে বিদেশি কেয়ার কর্মীদের অবদানের কথা বিবেচনা করেই চূড়ান্ত নীতিমালায় তাদেরকে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে।   আগে যে কোনও বৈধ অভিবাসী নির্দিষ্ট ভিসায় টানা ৫ বছর যুক্তরাজ্যে থাকলে প্রায় স্বয়ংক্রিয়ভাবেই স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে পারতেন। এখন বলা হয়েছে, স্থায়ী বসবাস বা আইএলআর কোনো সাধারণ অধিকার নয়, এটি তার যোগ্যতা ও অবদান দিয়ে 'অর্জন' করতে হবে।   সাধারণ স্কিলড ওয়ার্কার বা অন্যান্য বৈধ ভিসাধারীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর, স্থায়ী বসবাসের যোগ্য হতে হলে আগের ৫ বছরের জায়গায় এখন ১০ বছর বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে থাকা এবং কাজ করতে হবে।   নতুন নিয়মে বৈধ অভিবাসীদের আয়ের ওপর ভিত্তি করে সময় ঠিক হবে। যেমন: বছরে ১,২৫,০০০ পাউন্ডের বেশি আয় করা উচ্চ দক্ষ অভিবাসীরা ৩ বছরেই স্থায়ী হতে পারবেন।   বছরে ৫০,২৭১ পাউন্ডের বেশি আয় করা কর্মী এবং ডাক্তার, নার্স ও শিক্ষকরা ৫ বছরে স্থায়ী হতে পারবেন। কিন্তু এর চেয়ে কম আয় করা বাকি সব সাধারণ বৈধ অভিবাসীদের ১০ বছর অপেক্ষা করতে হবে।   কোনও বৈধ অভিবাসী ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে কিংবা নির্দিষ্ট কিছু সরকারি ভাতা দাবি করলে তার জন্য এই অপেক্ষার সময়সীমা বেড়ে ২০ বছর হবে।   আর ছোট নৌকায় করে অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে যাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই অপেক্ষার সময় ২০ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত হতে পারে।   ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নাম গত সপ্তাহে বলেছিলেন, আইএলআর হল ‘যোগ্যতা দিয়ে অর্জন করার মতো অধিকার’।   যুক্তরাজ্যে সাবেক কনজারভেটিভ সরকারের আমলে ব্রেক্সিট-পরবর্তী রেকর্ড অভিবাসনের পর বিপুলসংখ্যক বৈধ অভিবাসী আইএলআরের যোগ্যতার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় এই কড়াকড়ির উদ্যোগ নেওয়া হল।   মাইগ্রেশন অ্যাডভাইজরি কমিটির তথ্য উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ জানান, এসব অভিবাসীদের আজীবন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্যের করদাতাদের প্রায় ১ হাজার কোটি (১০ বিলিয়ন) পাউন্ড খরচ হতে পারে।   গত মার্চে এক বক্তৃতায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত চার দশকে দেশটিতে মোট যে পরিমাণ অভিবাসন হয়েছে, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে একই মাত্রার জনস্রোত এসেছে।   তিনি সতর্ক করে বলেন, আগামী পাঁচ বছরে হেলথ অ্যান্ড সোশাল কেয়ার ভিসায় ঢোকা প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার নিম্ন-দক্ষ কর্মী ও তাদের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিরা স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জন করবেন এবং বিভিন্ন সরকারি সুবিধার আওতায় আসবেন।   প্রস্তাবিত সংস্কারের ওপর সরকারের বছরব্যাপী গণপরামর্শে ২ লাখেরও বেশি মতামত জমা পড়ে। নীতি ঘোষণার আগেই লেবার পার্টির পাশাপাশি তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।   রিফর্ম ইউকে দলের নেতা নাইজেল ফারাজ বলেন, যারা নেট অভিবাসন ঋণাত্মক দেখতে চান, তাদের ক্ষুব্ধ হওয়াটাই স্বাভাবিক। তিনি আইএলআর ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বাতিল এবং অতীতে দেওয়া স্থায়ী মর্যাদাও প্রত্যাহারের দাবি জানান।   কনজারভেটিভ দলের ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিলপ অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার এবং লেবার দলের উন্মুক্ত সীমান্তপন্থি বাম অংশের কাছে নতি স্বীকার করেছেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, এর মাধ্যমে লাখ লাখ স্বল্প আয়ের ও উপার্জনহীন অভিবাসীকে যুক্তরাজ্যে আজীবন থাকা এবং সরকারি ভাতা ভোগের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রুশ তেল স্থাপনায় হামলা বন্ধে ট্রাম্পের আহ্বান, জেলেনস্কি বললেন ‘ক্ষেপণাস্ত্র দিন’

ছবি: সংগৃহীত

২০ হাজার ভোট আটকে দিতে আদালতে ট্রাম্প

গাদি আইজেনকোট। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের অনুরোধেও নেতানিয়াহুর সরকারে যোগ দিচ্ছেন না আইজেনকোট

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা। ছবি: রয়টার্স
ইরানে সামরিক অভিযান চালিয়ে সার্বভৌমত্ব ভাঙা যাবে না: মস্কো

ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে রাশিয়া। একই সঙ্গে নতুন হামলার সম্ভাবনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়েছে মস্কো।   সোমবার (২ নভেম্বর) রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে দ্রুত স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসবে বলে আশা করছে মস্কো।     জাখারোভা বলেন, ‘সাম্প্রতিক মাসগুলোর মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে, ইরানে মৃত্যু ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো সামরিক অভিযান দেশটির জনগণের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষার সংকল্প ভাঙতে ব্যর্থ। যারা আজ নতুন করে হামলার হুমকি দিচ্ছেন, তাদের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া উচিত।’     তিনি আরও বলেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা এবং শান্তি প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারীদের সহযোগিতা করা অত্যন্ত জরুরি।     জাখারোভা বলেন, পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করা এবং পরবর্তী সময়ে তা বাস্তবায়নে অবদান রাখতে প্রস্তুত রয়েছে মস্কো।     তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করি, হরমুজ প্রণালিতে দ্রুত স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসবে। এ ক্ষেত্রে প্রণালিসংলগ্ন দেশগুলোর বৈধ স্বার্থ এবং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি নির্বিঘ্ন ও নিরাপদে ব্যবহারে আগ্রহী দেশগুলোর স্বার্থ বিবেচনায় নিতে হবে।’     জাখারোভা বলেন, ‘এ বিষয়টি ইরানের ক্ষেত্রেও পুরোপুরি প্রযোজ্য। কারণ, দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ নৌ অবরোধের মুখে রয়েছে।’ সূত্র: আল জাজিরা

মারিয়া রহমান নভেম্বর ০৩, ২০২৬
অভিনেতা ইমরান খানকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছে বোম্বে হাইকোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

অভিনেতা ইমরান খানকে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার নির্দেশ বোম্বে হাইকোর্টের

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ছবি: সংগৃহীত

কূটনীতি বা যুদ্ধ, সব পরিস্থিতির জন্যই ইরান প্রস্তুত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারে জান্তা সরকারের বিমান হামলায় শিশুসহ নিহত ১৫

0 Comments