জাতীয়

চট্টগ্রাম বন্দরে গণমাধ্যমের ওপর নির্দেশনা নিয়ে সিইউজের আপত্তি

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে অনুমতি ছাড়া ছবি, ভিডিও, স্কেচ ও বিভিন্ন অপারেশনাল তথ্য প্রকাশে গণমাধ্যমের ওপর দেওয়া নির্দেশনার প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে)। সংগঠনটি এ নির্দেশনাকে নজিরবিহীন ও বেআইনি দাবি করে তা দ্রুত প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।

 

বুধবার (৭ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে সিইউজের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরি ও সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভ এ দাবি জানান।

 

বিবৃতিতে তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সংবেদনশীল তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তবে নিরাপত্তার বিষয়কে ব্যবহার করে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহ, অনুসন্ধান ও সংবাদ প্রকাশের সুযোগ সীমিত করা গ্রহণযোগ্য নয়।

 

সিইউজে নেতারা উল্লেখ করেন, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা রয়েছে। একই সঙ্গে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর ৪ ধারায় নাগরিকের তথ্য পাওয়ার অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। আইনের ৬ ধারায় সরকারি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের তথ্য জনগণের কাছে সহজলভ্য করার নীতিও রয়েছে।

 

তাদের ভাষ্য, সাংবাদিকরা দেশের আইন, পেশাগত নীতিমালা এবং জনস্বার্থের বিষয় বিবেচনা করেই সংবাদ প্রকাশ করেন। কোন তথ্য প্রকাশ করা যাবে আর কোনটি যাবে না—এভাবে আগাম নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক।

 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে বর্তমানে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও প্রশ্ন রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নতুন নির্দেশনা জনমনে আরও প্রশ্ন তৈরি করতে পারে বলে মনে করছে সিইউজে।

 

সংগঠনটির মতে, বন্দর পরিচালনা, বিভিন্ন চুক্তি, ইজারা, বিনিয়োগ, নিরাপত্তা, শ্রমিকস্বার্থ ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার সুযোগ থাকা প্রয়োজন। গণমাধ্যমকে তথ্য দেওয়া সীমিত করে কোনো প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

 

সিইউজে নেতারা বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষের উচিত গণমাধ্যমকে প্রতিপক্ষ হিসেবে না দেখে সাংবাদিকদের সঙ্গে স্বচ্ছ ও কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে—এমন অস্পষ্ট নির্দেশনা প্রত্যাহারের পাশাপাশি সহযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

 

নেতারা আরও বলেন, নিরাপত্তার অজুহাতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত করার কোনো উদ্যোগ চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজ মেনে নেবে না। জনস্বার্থ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকরা তাদের দায়িত্ব পালন করে যাবেন।

 

এর আগে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে অনুমতি ছাড়া বন্দরের নিরাপত্তা, যোগাযোগব্যবস্থা, জাহাজ ও কার্গো ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষিত এলাকা, অপারেশনাল তথ্য, স্কেচ এবং অবকাঠামোর ছবি ও ভিডিও প্রকাশ বা প্রচার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও গণমাধ্যমে এসব তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও সতর্ক করা হয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সংগৃহীত ছবি
প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ দ্রুত পূরণের সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের সব শূন্য পদ দ্রুত পূরণের সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। পাশাপাশি প্রাথমিকে নৈতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক এবং স্কুল ফিডিং কার্যক্রমে খাবারের গুণগত মান ও পুষ্টি নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।   বুধবার (৭ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মাহমুদা হাবিবা। বৈঠকে স্কুল ফিডিং বা মিড-ডে মিল কর্মসূচির খাবারের মান নিয়েও আলোচনা হয়। খাবারে নিম্নমানের কোনো উপাদান পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।শিশুদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের পুষ্টিমান ও গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট, প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি এবং বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ইউনিটের ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সম্ভাব্য অর্থবছরের খাতভিত্তিক বাজেট, ব্যয় পরিকল্পনা ও ব্যয় বিভাজন পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। বাজেট ও সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনায় সংসদীয় কমিটির সদস্যরা দেশের প্রতিটি শিশুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করতে নতুন বিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ানোর সুপারিশ করেন। পাশাপাশি উন্নয়ন ও পরিচালন খাতে বরাদ্দ করা অর্থ শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে যথাযথভাবে ব্যয় ও বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়। বৈঠকে কমিটির সদস্য ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান খান আজাদ, মো. আব্দুস সালাম, মো. সাদিক রিয়াজ, মো. ইলিয়াস মোল্লা, মো. মোক্তার আলী ও মাহফুজা হান্নান অংশ নেন। এ ছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, অধীন বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চার বছরে পথশিশু-ভিক্ষুকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য সরকারের: ডা. জাহিদ

ছবি: সংগৃহীত

নারী ক্রীড়াবিদদের হয়রানি বন্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির সুপারিশ

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ায় ৬ হত্যা: হানিফসহ ৪ জনের মামলার যুক্তিতর্ক শেষ, রায় যেকোনো দিন

ছবি: সংগৃহীত
রামেকে ডেঙ্গুতে নারীর মৃত্যু, একদিনে ভর্তি ৬৫ রোগী

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে জোস্না আরা (৫০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালটিতে নতুন করে ৬৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।   বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে রামেক হাসপাতালের মিডিয়া মুখপাত্র ডা. শামীম আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।   হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নামোশংকরবাটী এলাকার বাসিন্দা জোস্না আরাকে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন রাত ২টা ১৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের নথিতে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘এক্সপান্ডেড ডেঙ্গু সিন্ড্রোম’ উল্লেখ করা হয়েছে।   এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গু নিয়ে ৬৫ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ৪৫ জন রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।   হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে রামেক হাসপাতালে ১৭৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অর্থাৎ গত এক দিনে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়া রোগীর চেয়ে নতুন ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ২০ জন বেশি। ফলে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চাপও বেড়েছে।   রামেক হাসপাতালের মিডিয়া মুখপাত্র ডা. শামীম আহমেদ বলেন, জোস্না আরা চাঁপাইনবাবগঞ্জের নামোশংকরবাটী এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ১৭৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

১৭ অক্টোবরের ছুটি বাতিল, শনিবার খোলা থাকবে অফিস

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরে গণমাধ্যমের ওপর নির্দেশনা নিয়ে সিইউজের আপত্তি

ছবি : সংগৃহীত

অ-মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দিতে চলছে চুলচেরা যাচাই-বাছাই: মন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশি অভিবাসীদের সুরক্ষায় আইওএমের সঙ্গে কাজ করবে হাইকমিশন

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি অভিবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নিয়মিত ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মধ্যে আলোচনা হয়েছে।   মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল এবং আইওএমের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।   বৈঠকে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও অভিবাসীবান্ধব করতে সহযোগিতার আশ্বাস দেয় আইওএম। মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের সুরক্ষা ও কল্যাণে দুই সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।   মালয়েশিয়ার বিভিন্ন কারাগার ও ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশিদের প্রয়োজনীয় আইনি ও কল্যাণমূলক সহায়তা দেওয়ার জন্য আইওএমের সহযোগিতা চাওয়া হয়। একই সঙ্গে আটক ব্যক্তিদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সহায়তার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।   বৈঠকে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের, বিশেষ করে নারী ভুক্তভোগীদের উদ্ধার, নিরাপদ আশ্রয়, প্রত্যাবাসন ও প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়েও মতবিনিময় হয়।   এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বৈঠকে উঠে আসে।   এ ছাড়া নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনের বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও আইওএমের যৌথ উদ্যোগে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।   সচেতনতামূলক এসব কার্যক্রমে নিয়োগকর্তা, কর্মী এবং মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় ও সচেতনতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   বৈঠকে বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি হাইকমিশনার শাহানারা মনিকা।   বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করা, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অনিয়মিত বাংলাদেশি কর্মীদের সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আইওএমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে হাইকমিশন।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রংপুর বিভাগে ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু, একদিনে আক্রান্ত ৬৪

ছবি: সংগৃহীত

চুয়েটে বেতন-ভাতা নিয়ে জটিলতার অবসান, ব্যাংকের সামনে কর্মসূচি প্রত্যাহার

ছবি: সংগৃহীত

প্রশিক্ষণ-বিপণন বাড়ালে কুটির শিল্পে গার্মেন্টসের চেয়েও বেশি আয় সম্ভব: গয়েশ্বর

0 Comments