আর তিন দিন পরই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে টাকার অপব্যবহার রোধে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা সাময়িকভাবে সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
রোববার রাত ১২টা থেকে শুরু হয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিনগত রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত মোট চার দিন এসব সেবা সীমিত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো এমএফএস সেবায় ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেনে প্রতিবার সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পাঠানো যাবে। দৈনিক লেনদেন করা যাবে সর্বোচ্চ ১০ বার, যার মোট পরিমাণ ১০ হাজার টাকার বেশি হবে না।
এ ছাড়া ইন্টারনেট ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন ব্যাংকের অ্যাপ ব্যবহার করে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি টাকা পাঠানোর সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমএফএস ও ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের আওতাধীন আইবিএফটির মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেনের অপব্যবহার রোধ করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সময় এমএফএসে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রতিটি লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা এক হাজার টাকা এবং দৈনিক লেনদেনের সংখ্যা সর্বোচ্চ ১০টিতে সীমাবদ্ধ থাকবে।
তবে মার্চেন্ট পেমেন্ট ও বিভিন্ন সেবা বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী স্বাভাবিক লেনদেন চালু থাকবে। লেনদেন ছাড়া এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যান্য সেবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।
এ ছাড়া এমএফএসের মাধ্যমে কোনো আর্থিক অপরাধ সংঘটিত হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানায় জানাতে বলা হয়েছে। নির্বাচন উপলক্ষে এমএফএস–সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির জন্য প্রতিটি এমএফএস প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব জরুরি রেসপন্স সেল গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, এ সময় সব ধরনের লেনদেন এমএফএস প্রোভাইডারদের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক নিবিড় পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখতে হবে এবং সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক লেনদেন দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানায় রিপোর্ট করতে হবে।
এমএফএস প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকগুলোকে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে যে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে, তা কোন ষড়যন্ত্রে রুখে দেওয়া সম্ভব নয়। পতিত স্বৈরাচার ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী ‘সন্ত্রাসী’দের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ধলই কাটিরহাট বাজারে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ ও গণমিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল গতকাল এ কথা বলেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেইজে এ খবর প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, ফ্যাসিস্টরা পরিবার-পরিজন নিয়ে বিদেশে পালিয়ে গিয়ে এখন এ দেশের দরিদ্র ও অসহায় যুবকদের ভুল বুঝিয়ে জীবন বিপন্ন করছে। আওয়ামী দোসর ও ‘৭১-এর পরাজিত শক্তির কঠোর সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, যারা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশ থেকে পালিয়ে গেছে, তাদের বক্তব্যের সঙ্গে ৭১-এর পরাজিত শক্তির বক্তব্যের হুবহু মিল রয়েছে। তাদের স্বপ্ন যে অলীক, তা তারা বুঝতে পারছে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁর সরকারের দুই-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্য জনগণের সরাসরি সমর্থনে রাজপথের লড়াই-সংগ্রামের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন—কোনো ‘আমি-ডামি’ বা রাতের ভোটের মাধ্যমে নয়। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বিগত সরকারের ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা ও বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে টেনে তুলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছেন এবং নতুন করে বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করছেন। ঠিক এমন মুহূর্তে একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও ২০২৪-এর পলাতক গোষ্ঠী এক হয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে। তারা ভোররাতে হতদরিদ্র যুবকদের সামান্য অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে ঝটিকা মিছিল ও ভিডিও বানিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা করছে। জনগণকে সাথে নিয়ে রাজপথেই এ ধরনের অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে। মীর হেলাল দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রতিটি এলাকাকে সুপ্ত, গুপ্ত ও পলাতক অপরাধীদের প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে ঐক্যবদ্ধভাবে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি কিংবা অসৎ উপায়ের মাধ্যমে ভিডিও বানিয়ে বিদেশ থেকে বাংলাদেশে সরকার পতনের দিবাস্বপ্ন কোনোদিন পূরণ হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। ধলই ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আজম মাস্টারের সভাপতিত্বে এবং জাসাস চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সভাপতি ও ফরহাদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব কাজী সাইফুল ইসলাম টুটুল এবং ধলই ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব নাসিম মেম্বারের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য প্রদান করেন। সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব গিয়াস উদ্দিন চেয়ারম্যান, যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম চেয়ারম্যান, ডা. রফিকুল আলম, উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আকবর আলী, আলহাজ্ব রহমত উল্লাহ, উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শিমুল, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুল আলম জনি, উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি তকিবুল ইসলাম তকি এবং উত্তর জেলা কৃষক দলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলসহ স্থানীয় অন্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী এবং দুবাইয়ের শাসক মহামহিম শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের ছোট ভাই শেখ আহমদ বিন রশিদ আল মাকতুম ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার সকালে ৭৬ বছর বয়সে রাজপরিবারের এই জ্যেষ্ঠ সদস্য ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুতে সংযুক্ত আরব আমিরাতজুড়ে ১০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। শোক পালনকালীন পুরো আমিরাতের সমস্ত সরকারি প্রতিষ্ঠান, মন্ত্রণালয় ও গুরুত্বপূর্ণ ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টায় দুবাইয়ের ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড জাবিল মসজিদে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমসহ আল মাকতুম রাজপরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্য, শীর্ষস্থানীয় সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে তাঁকে রাজপরিবারের ঐতিহ্যবাহী উম্মে হুরাইর কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। দাফন পরবর্তী তিন দিন জাবিল মজলিসে বিকেল ৪টা থেকে মাগরিব পর্যন্ত শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর শোক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শেখ আহমদ বিন রশিদ আল মাকতুমের ইন্তেকালে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক শোকবার্তায় তিনি বাংলাদেশ সরকার ও দেশের জনগণের পক্ষ থেকে দুবাইয়ের রাজপরিবার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের জনগণের প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতা ও সমবেদনা জানান। শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহামহিম শেখ আহমেদ বিন রশিদ আল মাকতুমের ইন্তেকালের সংবাদে আমি গভীরভাবে শোকাহত। বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে আমি আন্তরিক শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছি।’ মরহুমের রহের মাগফিরাত কামনা করে তারেক রহমান বলেন, ‘মহান আল্লাহ তাঁর বিদেহী রুহের ওপর অসীম রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন। একই সঙ্গে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই শোক কাটিয়ে ওঠার শক্তি ও ধৈর্য দান করুন।’ দুবাই শাসকের আবেগঘন শ্রদ্ধা প্রিয় ছোট ভাইয়ের বিদায়ে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি আবেগঘন বার্তা পোস্ট করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আহমদ, তুমি আমাদের চোখের আড়ালে চলে গেছ, কিন্তু আমাদের দোয়া ও হৃদয় থেকে কখনো হারিয়ে যাবে না। আল্লাহ তোমাকে জান্নাতের সুবিস্তৃত স্থানে স্থান দিন এবং আমাদের ধৈর্য ধারণের শক্তি দিন।’ এছাড়া দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ হামদান বিন মোহাম্মদও তার চাচার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে প্রার্থনা করেছেন। মরহুম শেখ আহমদ ছিলেন আধুনিক দুবাইয়ের রূপকার ও প্রাক্তন শাসক শেখ রাশিদ বিন সাঈদ আল মাকতুমের কনিষ্ঠ সন্তান। ১৯৫৮ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত শেখ রাশিদের শাসন আমলে দুবাইয়ের যে আধুনিক অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল, তার অগ্রযাত্রায় শেখ আহমদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত রয়্যাল একাডেমি স্যান্ডহার্স্ট থেকে উচ্চতর সামরিক শিক্ষা সম্পন্ন করে তিনি দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজান। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি দুবাই পুলিশ ও জননিরাপত্তা বিভাগের ডেপুটি চেয়ারম্যান হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা খাতের বাইরেও দুবাইয়ের আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক হাবে রূপান্তরের পেছনে তাঁর অবদান ছিল অপরিসীম। তিনি দুবাইয়ের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ‘এআরএম হোল্ডিং’ এবং দুবাই রিয়েল এস্টেট সেন্টারের গ্রুপ চেয়ারম্যান ছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে আবাসন, আতিথেয়তা (হসপিটালিটি), হেলথ টেক, টেলিকম ও ব্যাংকিং খাতে দুবাইয়ের অর্থনীতি বিশাল গতি লাভ করে। ক্রীড়াক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যতম শীর্ষ পৃষ্ঠপোষক। তিনি দুবাইয়ের অন্যতম প্রধান ও জনপ্রিয় ফুটবল ক্লাব ‘আল ওয়াসল স্পোর্টস ক্লাব’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তার দিকনির্দেশনাতেই ক্লাবটি আমিরাতের ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে একের পর এক সাফল্য লাভ করে। ঘোড়দৌড় ও অশ্বারোহণ অঙ্গনেও শেখ আহমদের বিশ্বজোড়া খ্যাতি ছিল। তিনি জেবেল আলি রেসকোর্স এবং জেবেল আলি স্টেবলস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আন্তর্জাতিক রেসিং কমিউনিটিতে সম্মানীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে তাঁর মালিকানাধীন ঘোড়াগুলো আইরিশ ২০০০ গিনির মতো মর্যাদাপূর্ণ বৈশ্বিক রেসিং প্রতিযোগিতায় বহুবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানসহ বিভিন্ন দেশের বিশ্বনেতারা এই প্রবীণ ও প্রভাবশালী নেতার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। আমিরাতের গণমাধ্যমগুলো একে দেশটির জাতীয় ও ক্রীড়া ইতিহাসের একটি যুগের অবসান বলে অভিহিত করেছে।
বিডিআর বিদ্রোহ, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ বিভিন্ন আভিযানিক ও অনাভিযানিক দায়িত্ব পালনকালে নিহত ও গুরুতর আহত সামরিক সদস্যদের পরিবারের মধ্যে ৭০টি ফ্ল্যাটের বরাদ্দপত্র হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের হাতে এসব ফ্ল্যাটের বরাদ্দপত্র তুলে দেওয়া হয়। আইএসপিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বিডিআর বিদ্রোহ ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন এবং বিভিন্ন সময়ে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত/নিহত শহীদ পরিবারের মধ্যে মিরপুর ডিওএইচএস এ নির্মিত ‘অপরাজিতা’ বহুতল ভবনে ফ্ল্যাটের বরাদ্দপত্র হস্তান্তর করা হয়। এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন, ফ্ল্যাটের বরাদ্দপত্র শহীদ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেন। অনুষ্ঠানে বিডিআর বিদ্রোহ ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ বিভিন্ন আভিযানিক ও অনাভিযানিক কারণে শহীদ ও গুরুতর আহত মোট ৭০টি পরিবারের অনুকূলে বরাদ্দপত্র হস্তান্তর করা হয়।