২০২৬ বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে সব গ্রুপ চূড়ান্ত হয়ে গেছে। আগামীকাল অর্থাৎ শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সব ম্যাচের সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবে ফিফা। ড্র'তে হট ফেভারুট জার্মানি, ব্রাজিল, ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন গ্রুপে। তবে, এবার ডেথ গ্রুপ হিসেবে কুখ্যাত 'ডি' গ্রুপে রয়েছে তুলনামূলকভাবে সহজ দল।
তবে, প্রতীকী হিসেবে 'ডি' গ্রুপের আরেকটি অর্থ রয়েছে। 'টাইটেল কন্টেন্ডার' হিসেবে 'হট ফেভারুট' সেসব দল রয়েছে, তাদের বেশিরভাগই পড়েছে ভিন্ন ভিন্ন দলে। এবারের ড্র'তে এমন কোন গ্রুপ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি, যেটিকে 'ডেথ' গ্রুপ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। প্রিয় পাঠক, চলুন দেখা নেয়া কোন দল কোন গ্রুপে রয়েছে:
গ্রুপ এ : মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, প্লে-অফ ডি
গ্রুপ বি : কানাডা, কাতার, সুইজারল্যান্ড, প্লে-অফ এ
গ্রুপ সি : ব্রাজিল, মরক্কো, স্কটল্যান্ড, হায়তি
গ্রুপ ডি : যুক্তরাষ্ট্র, প্যারাগুয়ে, অস্ট্রেলিয়া, প্লে-অফ সি
গ্রুপ ই : জার্মানি, আইভরি কোস্ট, ইকুয়েডর
গ্রুপ এফ : নেদারল্যান্ডস, জাপান, তিউনিশিয়া, প্লে-অফ বি
গ্রুপ জি : বেলজিয়াম, মিশর, ইরান, নিউজিল্যান্ড
গ্রুপ এইচ : স্পেন, সৌদি আরব, উরুগুয়ে, ক্যাবো ভারদে
গ্রুপ আই : ফ্রান্স, সেনেগাল, নরওয়ে, প্লে-অফ ২
গ্রুপ জে : আর্জেন্টিনা, আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, জর্ডান
গ্রুপ কে : পর্তুগাল, উজবেকিস্তান, কলম্বিয়া, প্লে-অফ ১
গ্রুপ এল : ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, পানামা, ঘানা
উল্লেখ্য, অনুষ্ঠান শুরুর সময় ফিফার চালু করা নতুন ‘ফিফা পিস প্রাইজ’ বা ফিফা শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পে। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে প্রথমবার এই পুরস্কার প্রদান করে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ট্রাম্পের হাতে পুরস্কারটি তুলে দেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
জেএফএ অনূর্ধ্ব-১৪ ওমেন্স ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম ২০২৬-এ ষষ্ঠবারের মতো চ্যাম্পিয়ন রংপুরের প্রিমলা দলকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাতে রংপুরের শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামের অডিটোরিয়ামে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু প্রধান অতিথি ছিলেন। সম্মানিত অতিথি ছিলেন রংপুর জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (ডিএফএ) সভাপতি মনজুর আহমেদ আজাদ, সহসভাপতি ও দলের ম্যানেজার শামীম খান মিশিকন এবং ডিএফএর কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ শামসুজ্জামান। গত ১৭ আগস্ট জেএফএ অনূর্ধ্ব-১৪ ওমেন্স ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম ২০২৬-এর ফাইনালে স্বাগতিক টাঙ্গাইলকে টাইব্রেকারে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় রংপুরের প্রিমলা দল। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলায় গোলশূন্য সমতা থাকায় টাইব্রেকারে গড়ায় শিরোপার লড়াই। সেখানেই গোলরক্ষক সুমাইয়ার দুর্দান্ত নৈপুণ্যে হেক্সামিশনের স্বপ্ন পূরণ করে রংপুর। এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সামসুজ্জামান সামু বলেন, একজন খেলোয়াড় ভালো খেলার মাধ্যমে শুধু নিজের গ্রামের পরিচিতি করে তোলে না। বড় ভালো খেলোয়াড়দের মাধ্যমে জেলা ও দেশের পরিচিতি বাড়ে। বিশ্বে অনেক দেশ আছে, যাদের মানুষ শুধু খেলার কারণেই চেনে। আমরা চাই রংপুরের মেয়েরা ক্রীড়াঙ্গনে একের পর এক যে গৌরবময় অর্জন এনেছে, তা যেন অব্যাহত থাকে। সরকার তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলোয়াড় তৈরির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আমরা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে চাই, যাতে আমাদের রংপুরের সুনাম ও অর্জন দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে। অনুষ্ঠানের আয়োজক ও ডিএফএ রংপুরের সভাপতি মনজুর আহমেদ আজাদ বলেন, জেএফএ অনূর্ধ্ব-১৪ ওমেন্স ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামে আমাদের মেয়েরা হেক্সামিশন নিয়ে টাঙ্গাইলে খেলতে গিয়েছিল। আমি তাদের উৎসাহিত ও অনুপ্রেরণা যোগাতে পুরস্কার দিতে চেয়েছিলাম। মেয়েরা বিজয়ের শিরোপা নিয়ে ফিরে এসেছে, এটা আমাদের জন্য বড় অর্জন। অনুষ্ঠানের শুরুতে ষষ্ঠবারের মতো জেএফএ অনূর্ধ্ব-১৪ ওমেন্স ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করায় প্রিমলা দলের কোচ ও ম্যানেজারসহ খেলোয়াড়দের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরে ডিএফএ সভাপতির পূর্বপ্রতিশ্রুত ঘোষণা অনুযায়ী উপহার হিসেবে প্রত্যেককে নতুন ব্লেজার প্রদান করা হয়। সংবর্ধনা প্রদান শেষে অতিথিদের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেন প্রিমলা দলের খেলোয়াড়সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেই ম্যাচের আগে ফোলারিন বালোগানের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্ত ঘিরে তৈরি হয়েছিল আলাদা আলোচনা। এবার পুরো ঘটনায় নিজের আরও সক্রিয় থাকা উচিত ছিল বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মরিসিও পচেত্তিনো। বসনিয়ার বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচে লাল কার্ড দেখেছিলেন বালোগান। ওই ঘটনায় প্রথমে তাকে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। পরে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি সেই শাস্তি এক বছরের জন্য স্থগিত করে। ফলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে খেলতে পারেন যুক্তরাষ্ট্রের এই ফরোয়ার্ড। শাস্তি স্থগিতের পর বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথা বলে বালোগানের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছিলেন। এই পরিস্থিতিতে নিজের আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকা প্রয়োজন ছিল বলে মনে করছেন পচেত্তিনো। বৃহস্পতিবার ‘ফুটবল দে প্রিমেরা’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বসনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পর তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে তার আরও সরাসরি ভূমিকা রাখা উচিত ছিল। পচেত্তিনোর মতে, বালোগানকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক দলের পরিবেশেও প্রভাব ফেলেছিল। ওই ঘটনার পর দলের চারপাশের সামগ্রিক আবহে পরিবর্তন এসেছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে মাঠের খেলায় বেলজিয়ামের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। ৪-১ গোলের পরাজয়ে শেষ ষোলো থেকেই বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয় তাদের। ম্যাচ শেষে পচেত্তিনো দলের পারফরম্যান্স নিয়ে বলেন, তারা প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারেনি। পরাজয়ের জন্য অন্য কোনো অজুহাত খোঁজার প্রয়োজন নেই বলেও জানান তিনি।
ঘরের মাঠে ৪০ বছরের খরা কাটানোর সুযোগ ছিল সামনে। কিন্তু দক্ষিণ আমেরিকান গেমসের ফাইনালে টাইব্রেকারের রোমাঞ্চে ভাগ্য সঙ্গ দিল না আর্জেন্টিনার অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে। নির্ধারিত সময়ের খেলা গোলশূন্য থাকার পর টাইব্রেকারে ৫-৪ ব্যবধানে হেরে রূপা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে দিয়েগো প্লাসেন্তের শিষ্যদের। অন্যদিকে আলবিসেলেস্তেদের হারিয়ে ঐতিহাসিক স্বর্ণপদক নিশ্চিত করেছে প্যারাগুয়ে। রোসারিওর মার্সেলো বিয়েলসা স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে প্রাধান্য বজায় রাখার চেষ্টা করে আর্জেন্টিনা। তবে পুরো ৯০ মিনিট প্যারাগুয়ের জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা। উল্টো প্যারাগুয়েও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি। ফলে অচলবস্থা না ভাঙায় খেলা সরাসরি গড়ায় টাইব্রেকারে। পেনাল্টি শুটআউটে নিজেদের স্নায়ু ধরে রেখে পাঁচটি শটের পাঁচটিতেই গোল আদায় করে নেয় প্যারাগুয়ে। বিপরীতে আর্জেন্টিনার এক ফুটবলার শট মিস করলে ৫-৪ ব্যবধানের জয় নিয়ে উৎসবে মেতে ওঠে প্যারাগুয়ে। পুরো টুর্নামেন্টেই প্যারাগুয়ের কাছে রীতিমতো নাকাল হতে হলো আর্জেন্টিনাকে। এর আগে গ্রুপ পর্বের উদ্বোধনী ম্যাচেও এই প্যারাগুয়ের কাছেই ২-১ গোলে হেরেছিল আলবিসেলেস্তেরা। পরবর্তীতে উরুগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে এবং ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ১-১ ড্র করে শেষ চারে পৌঁছায় তারা। সেমিফাইনালে পেরুকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কাটলেও শেষ রক্ষা হলো না। উল্লেখ্য, দক্ষিণ আমেরিকান গেমসের ফুটবলে আর্জেন্টিনা সর্বশেষ সোনার পদক জিতেছিল ১৯৮৬ সালে। ঘরের মাঠে এবার চার দশকের সেই অপেক্ষা অবসানের দারুণ সুযোগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারের চরম হতাশাতেই পথচলা থামল প্লাসেন্তের দলের।