জাতীয়

বিমানের এমডি সাফিকুরসহ ৪ জনের কারাদণ্ড

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৬

১১ বছরের এক শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের ঘটনায় করা মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।


সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদের আদালত এ আদেশ দেন।
মামলার অপর দুই আসামি হলেন—ড. সাফিকুর রহমানের বাসার দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও মোছা. সুফিয়া বেগম।
এদিন আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তর পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক রোবেল মিয়া। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন।
এর আগে রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৩টার দিকে উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের একটি বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।


১১ বছরের ওই গৃহকর্মীকে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগে শিশুটির বাবা মোস্তফা থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি : সংগৃহীত
সরকার-বিরোধী দলের বাকযুদ্ধে উত্তপ্ত জাতীয় সংসদ

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দল ও সরকারি দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা এবং উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে। নোয়াখালী-৬ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের বাজেট সমালোচনা এবং প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতাকে নিয়ে করা কিছু মন্তব্যের পরিপ্রক্ষিতে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রোববার (২১ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ১১তম দিনে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বাজেট, সীমান্ত হত্যা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সংসদীয় রীতিনীতি নিয়ে সদস্যরা পর্যায়ক্রমে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। সংসদ অধিবেশনে বাজেটের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এই বাজেট বর্তমান নতুন বিএনপি দলীয় সরকারের একটি আকাঙ্ক্ষার দলিল হলেও বাংলাদেশের বাস্তব পরিকল্পনার কোনো দলিল নয়। বাজেটে যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, তা পূরণ করা সরকারের পক্ষে সম্ভব হবে না। সরকার রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ৭.৯ শতাংশ ধরলেও গত বছর তা ছিল ৪.৪ শতাংশ। রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ঘাটতি থাকবে এবং প্রায় ৪ লাখ কোটি টাকার বাজেট ঘাটতি পূরণে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে, অথচ ব্যাংকিং খাতে এখন সর্বোচ্চ নিট ঘাটতি চলছে।  তিনি বলেন, করমুক্ত আয়সীমা মাত্র ২৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করা হয়েছে, যা ঢাকা বা এর আশপাশে বসবাসকারী মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর এক ধরনের মানসিক চাপ সৃষ্টি করবে।  খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে এডিপি বরাদ্দ হ্রাস পাওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে ১০ টাকার পণ্য ৭০ টাকায় রূপান্তরিত হচ্ছে, যা নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই। বক্তব্যের এক পর্যায়ে আব্দুল হান্নান মাসউদ বিগত সরকারের আমলের নামকরণের রাজনীতির সমালোচনা করে বলেন, ২০২৪ পরবর্তী সংসদে এসে আমরা একটা খ্যাতির বিড়ম্বনা দেখতে পাচ্ছি। অতীতে শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষেত্রে এমনটি দেখা গিয়েছিল, যার নামে সবকিছু নামকরণ করা হতো। বর্তমানে আমাদের এই সংসদের একজন প্রতিমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও একই বিড়ম্বনা দেখা যাচ্ছে, যেখানে উনার অজান্তেই ১০-১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ইউনিয়নের নাম উনার পরিবারের নামে হয়ে যাচ্ছে। সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের মতো বর্তমান সংসদের কোনো কোনো মন্ত্রীও একই ভাষায় কথা বলছেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন সব সীমান্ত হত্যাকে সীমান্ত হত্যা বলা যাবে না। তিনি একে সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবে অভিহিত করেন।  এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে মব কালচার, শিশু হত্যা, ধর্ষণ ও ডাকাতির ঘটনার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমালোচনা করেন এবং অভিযোগ করেন যে, বাজেট ঘোষণার পরদিনই বাজারে চাল ও তেলের দাম বেড়ে গেছে। সংসদ নেতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন ভাষণে অসত্য তথ্য দিয়ে বিরোধী দলের আন্দোলনের সমালোচনা করেন এবং ব্যাংক ঋণ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ঋণ নেওয়াকে উৎসাহিত করেন। যা অত্যন্ত আশাহত করার মতো। আব্দুল হান্নান মাসউদের এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদিন ফারুক পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বলেন, আমরা এই সংসদকে কার্যকর করার জন্য একটি সম্মতিতে এসেছি, সংসদে কোনো অসত্য বাক্য উত্থাপন করা হবে না বা এমন কোনো কথা বলা হবে না যাতে মান-সম্মান হানি হয়। জুলাই আন্দোলনের নেতা এবং নোয়াখালীর এই সংসদ সদস্য, সংসদ নেতাকে নিয়ে যে বক্তব্য রেখেছেন, তাতে আমরা খুবই ক্ষুব্ধ। আমাদের সরকার কোনো লুটের ভোটে বা হুন্ডা-গুন্ডার ভোটে গঠিত হয়নি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান আমাদের নেতা। দীর্ঘ ১৬ বছর দেশের মানুষের গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের জন্য সংগ্রাম করে সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছেন। তাই সংসদ নেতাকে নিয়ে যে অসত্য কথা বলা হয়েছে, তা সংসদীয় কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ বা প্রত্যাহার করার জন্য স্পিকারের কাছে বিনীত অনুরোধ। জয়নাল আবেদিন ফারুকের বক্তব্যেও পর বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্য ঢালাওভাবে অসত্য বলেছেন এমন দাবি না করে সুনির্দিষ্টভাবে বলতে হবে কোন তথ্যটি ভুল ছিল। তিনি মূলত সংসদ নেতার বক্তব্যের প্রেক্ষিতেই নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন। সংসদ নেতার সমালোচনা করার অধিকার বিরোধী দলের রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীও মানুষ এবং বক্তব্য দেওয়ার সময় উনারও ভুল বা ‘স্লিপ অব টাং’ হতে পারে। আমরা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছি এবং কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদের দিকে ফিরে যেতে চাই না।  তাই স্পিকারকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এই বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি। এরপর স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন ফারুক যে কথাটি বলেছেন তা সম্পূর্ণ সত্য ও সঠিক। নোয়াখালীর সংসদ সদস্য তার বক্তব্যে সুনির্দিষ্টভাবেই সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অসত্য বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি বিরোধী দলের সদস্যদের আচরণের সমালোচনা করে বলেন, আপনারা ফ্যাসিবাদের কথা বলেন, অথচ ফ্যাসিস্টসুলভ আচরণ আপনাদের মাঝেই দেখা যাচ্ছে।  মন্ত্রী স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ যে অংশটুকু অসত্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, সংসদ নেতার সম্মান রক্ষার্থে সেই বক্তব্যটুকু যেন দয়া করে কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করা হয়। এসময় অধিবেশন কক্ষে হট্টগোল শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে স্পিকার সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদকে তার আসন গ্রহণ করার অনুরোধ জানান এবং বলেন, এটি শাহবাগ চত্বর নয়, এটি জাতীয় সংসদ। তাই সংসদের ভেতরে সংসদীয় নিয়ম ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। স্পিকারের এমন মন্তব্যেও পর বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমাদের এই হাউজের একজন সদস্য বক্তব্য রাখতে গিয়ে সংসদ নেতার ব্যাপারে কিছু মন্তব্য করেছেন। সংসদের ভেতরে একটি সংসদীয় রীতি বা ‘নর্মস’ রয়েছে এবং বাইরেরও একটা ব্যাকরণ আছে। বাইরের জবাব বাইরে দেওয়া হোক এবং সংসদের জবাব সংসদের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। তিনি স্পিকারকে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, সংসদের ভেতরে কোনটি সত্য আর কোনটি অসত্য, এই ঝগড়ায় মেতে উঠলে তা সবার জন্যই লজ্জাজনক হতে পারে। তাই কারো সম্মানের হানি না করে এই পুরো বিতর্কিত বিষয়টিকে এড়িয়ে যাওয়াই সবার জন্য কল্যাণকর হবে।  বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের পর স্পিকার জানান, সংসদীয় রীতিনীতি অনুযায়ী সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ করে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মারিয়া রহমান জুন ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শাহজালালের মাজারের দানবাক্স সিলগালার পরই সিলেটে ডিসি প্রত্যাহার, ওএসডি করে মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত

সংগৃহীত ছবি

মালয়েশিয়ায় পৌঁছেই রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় প্রধানমন্ত্রী

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের ৮০ মামলা, ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড: সংসদে আইনমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী কেন মালয়েশিয়া ?

বাংলাদেশে নতুন কোনো প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত তাকে নিতে হয়; প্রথম বিদেশ সফরে কোথায় যাবেন তিনি?   প্রতিবেশী ভারতে? আঞ্চলিক পরাশক্তি চীনে? নাকি নিরপেক্ষ নগরী নিউ ইয়র্কে, যেখানে রয়েছে জাতিসংঘ সদর দপ্তর।   কখনও কখনও সরকারপ্রধানরা সৌদি আরবকেও প্রথম সফরের জন্য বেছে নিয়েছেন।   রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি ওমরাহ পালনের সুযোগ থাকায় দেশটি বরাবরই একটি বিশেষ গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে।   যেমন প্রতি নির্বাচনেই দেখা যায় দলীয় প্রধানরা তাদের ভোটের প্রচার শুরু করেন সিলেট থেকে। হজরত শাহজালালের (র.) মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে নির্বাচনি প্রচারের সূচনা করা এক ধরনের প্রতীকী অর্থ বহন করে।   কিন্তু তারেক রহমান কেন মালয়েশিয়া বেছে নিলেন?   সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি সুমন মাহমুদ। প্রধানমন্ত্রীর সফরের খবর সংগ্রহে তিনি এখন আছেন কুয়ালালামপুরে।   ভারসাম্যের খেলা একজন সরকারপ্রধানের প্রথম বিদেশ সফর কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, এর মাধ্যমে তার সরকারের পররাষ্ট্রনীতিরও একটি বার্তা যায়।   বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন নির্বাচিত সরকারপ্রধানের বিদেশ সফর তাদের ভূ-রাজনৈতিক অগ্রাধিকার প্রকাশ করে, অংশীদার দেশগুলোকে আশ্বস্ত করে এবং কৌশলগত সমীকরণ জোরদার করে।   বাংলাদেশের কূটনীতিতে ভারত ও চীন বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এ দিক দিয়ে প্রাধান্য পেয়েছে ভারত। তবে শেখ হাসিনা তার শেষ সময়ে চীনের সঙ্গেও ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করে গেছেন।   ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক তলানিতে নামে। অন্যদিকে চীন তখন অন্তর্বর্তী সরকারের পাশাপাশি বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে মনোযোগী হয়।   অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে বিএনপির নির্বাচনে জেতার সম্ভাবনা যখন জোরালো হয়ে উঠছিল, ভারত তখন বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে।   ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় আসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানকে শোকবার্তা পাঠিয়ে পাশে থাকার বার্তা দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।   নির্বাচনে জিতে ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠন করলে তারেক রহমানের অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসেন ভারতের স্পিকার ওম বিড়লা।   ফলে তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রথম বিদেশ সফরে তিনি কোথায় যাবেন, তা নিয়ে আলোচনায় ছিল। ভারত ও চীনের পাশাপাশি ভুটান ও নেপালের কথাও শোনা যাচ্ছিল।   নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে ওম বিড়লা 'সুবিধাজনক সময়ে ভারত সফরের' জন্য নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দিয়েছিলেন তারেক রহমানের হাতে।   কয়েকদিন পর ২৪ ফেব্রুয়ারিতে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে আনুষ্ঠানিকভাবে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান।   ফলে প্রধানমন্ত্রী প্রথম সফরে চীনে যেতে পারেন-এমন একটি আলোচনা তখন থেকেই ছিল। মে মাসে চীনের প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে তাকে বেইজিং সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়।   এদিকে তারেক রহমান সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম টেলিফোনে তাকে অভিনন্দন জানান। ওই ফোনালাপেই তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে মালয়েশিয়া সফরের প্রাথমিক আমন্ত্রণ জানান।   এরপর ৯ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করতে গেলে আনোয়ার ইব্রাহিম আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে একটি সুবিধাজনক সময়ে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ পুনর্ব্যক্ত করেন।   এরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের জন্য মালয়েশিয়াকে চূড়ান্ত করা হয়।   বিশ্লেষকরা বলছেন, আঞ্চলিক রাজনীতির বড় দুই খেলোয়াড় ভারত ও চীনের প্রতিযোগিতার চাপ এড়িয়ে ভারসাম্য রাখতে হলে তারেক রহমানকে তার প্রথম বিদেশ সফরের জন্য তৃতীয় কোনো দেশই বেছে নিতে হত।   বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে সমাজের একটি অংশের মধ্যে ভারতবিরোধী মনোভাব প্রবল। এ অবস্থায় তারেক রহমান প্রথম সফরের জন্য ভারতকে বেছে নিলে সমালোচকরা সেটাকে ‘দিল্লিমুখী পররাষ্ট্রনীতি’ হিসেবে দেখানোর সুযোগ পেত।   আবার তিনি প্রথম সফর চীনকে বেছে নিলে বেইজিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখাতে পারত কেউ কেউ। ভারতও বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করতে পারত।   জটিল এই পরিস্থিতিতে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়াতেই মালয়েশিয়াকে প্রথম সফরের গন্তব্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন তারেক রহমান, যাতে কোনো একটি বড় শক্তির প্রতি পক্ষপাতের ধারণা তৈরি না হয় এবং সবার সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার কূটনৈতিক প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটে।   আরো যা যা কারণ ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা ছাড়াও আরো কয়েকটি বিষয় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।   এর মধ্যে একটি হল মুসলিম বিশ্বের অগ্রসর দেশগুলোর সঙ্গে, বিশেষ করে মধ্যপন্থি নেতৃত্বের সঙ্গে বন্ধুত্ব দৃঢ় করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা।   এক্ষেত্রে তারেক রহমানের জন্য উদাহরণ হিসেবে থাকছেন তার বাবা, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, যার সময়ে বাংলাদেশ ও অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) মধ্যে গভীর ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তার বিভিন্ন পদক্ষেপ বেশ প্রশংসিত হয়।   অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বড় ভূমিকা রেখে চলেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। কিন্তু বাংলাদেশের অন্যতম বড় শ্রমবাজার মালয়েশিয়ার দুয়ার বেশ কয়েক বছর ধরেই বন্ধ।   শ্রমবাজারটি পুনরায় চালুর পাশাপাশি অনিয়মিত হয়ে পড়া বাংলাদেশিদের বৈধভাবে থাকার সুযোগ তৈরি করতে দরকার দুই দেশের নতুন চুক্তি। নতুন শ্রমিক নিয়োগ, ভিসা সহজীকরণ, কর্মীদের অধিকার সুরক্ষা এবং নতুন খাতে কর্মসংস্থান তৈরির বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর সফরে গুরুত্ব পাবে।   বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়া গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে মালয়েশিয়া এগিয়ে আছে অনেক দূর। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়ানো গেলে বাংলাদেশ উপকৃত হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।   মালয়েশিয়ার সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে বেশ কয়েক বছর ধরেই। মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, শিল্প, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানো এবং নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে তারেক রহমানের এই সফরে।   মালয়েশিয়া আবার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের প্রভাবশালী সদস্য। আর বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই আসিয়ানের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক বাড়ানোর চেষ্টা করছে। আসিয়ানের সদস্য বা ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ হওয়ার আগ্রহ রয়েছে বাংলাদেশের।   সরকারের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, বাংলাদেশ আসিয়ানে যুক্ত হতে পারলে অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ, ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করা সম্ভব। আর এক্ষেত্রে মালয়েশিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম ইতোমধ্যে বলেছেন, দুই দেশের সরকারপ্রধানের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এবং কৃষি, শিক্ষা ও জনযোগাযোগ প্রভৃতি বিষয় স্থান পাবে। এসব ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে অধিকতর সহযোগিতা স্থাপন নিয়ে আলোচনা হবে। তবে মূল আলোচনার বিষয় হবে মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের সুযোগ বাড়ানো।   রোববার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টায় স্ত্রী জুবাইদা রহমানকে নিয়ে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে পৌঁছাবেন তারেক রহমান। তার এই সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং দুটি ‘নোট অব এক্সচেঞ্জ’ সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   বিতর্ক এড়াতে প্রধানমন্ত্রী প্রথম সফরের জন্য মালয়েশিয়াকে বেছে নিলেও সেখান থেকে তিনি চীনেই যাবেন। সেখানে তার উপস্থিতিতে ১৫ থেকে ১৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে।   চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের তিস্তা প্রকল্প, সামরিক সহযোগিতা এবং চীনের বিভিন্ন বৈশ্বিক উদ্যোগে যোগ দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় থাকবে।   ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে প্রধানমন্ত্রীর এ সফর গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।   ব্যক্তিগত আবেগ? প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেও মালয়েশিয়ার বিষয়ে আগ্রহী, বিশেষ করে দেশটির অর্থনৈতিক অগ্রগতির ইতিহাস নিয়ে।   আর তার এই আগ্রহের বিষয়টি বেশ পুরনো। দুই যুগ আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই তা প্রকাশ করেছিলেন।   মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী ২০০৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর চ্যানেল আইয়ের হয়ে যখন তারেক রহমানের প্রথম টেলিভিশন সাক্ষাৎকারটি নেন, তখন বিএনপি ক্ষমতায়। ২০০৪ সালের ১ জানুয়ারি সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচার করে চ্যানেল আই।   মতিউর রহমান চৌধুরী জানতে চেয়েছিলেন, তারেক রহমান কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান।   জবাবে তারেক রহমান বলেন, “আমার কাছে যদি বলেন, বাংলাদেশের পরে, মানে অনেক সময় অনেকে বলে না যে একটা দেশ খুব পছন্দ হয়, অনেকের থাকে বিভিন্ন জনের বিভিন্ন দেশ পছন্দ হয়। আমার কাছে একটা দেশ খুব পছন্দ হয়, সেটা হচ্ছে মালয়েশিয়া।   “আমি সুযোগ পেলে মালয়েশিয়াতে যাই, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন জায়গা আমি ঘুরে দেখি। কারণ, যেটা আমি শুনেছি, পড়েছি, অনেক জনের কাছে শুনেছি, যে এক সময় আজকে থেকে প্রায় ২০ বছর আগে, ওই দেশটা আমাদের মতনই ছিল। কিন্তু গত ১৫-২০ বছরে ওই দেশটা অনেক ডেভেলপ করে গেছে। তাদের অনেক কিছু কিন্তু আমাদের সাথে মিল আছে, সামাজিকতা বলেন, ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলেন, বিভিন্ন জিনিস কমবেশি বাংলাদেশের সাথে মিল আছে।   “সেজন্য ওই দেশটা দেখতে ভালো লাগে আমার কাছে যে, কীভাবে তারা চেইঞ্জ করল, কোথায় কোথায় তারা চেইঞ্জ করল, কী চেইঞ্জ করল। তো আমি ওইরকম একটা দেশ দেখতে আগ্রহী বা ইচ্ছা করে, যে হ্যাঁ, আমার দেশে চেইঞ্জ হচ্ছে, মুভ হচ্ছে, দেশ এগোচ্ছে।   আরো একটি কারণে তারেক রহমানের আবেগের সঙ্গে মিশে আছে মালয়েশিয়া। তার ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকো ২০১৫ সালে মালয়েশিয়ায় মারা যান। তারেক রহমান তখন লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন। শেষবার ছোটভাইকে দেখতে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার বা দেশে আসার সুযোগ তার হয়নি।   কার কোথায় প্রথম সফর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ভারত সফরে যান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এটি ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফর।   মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সহযোগিতা এবং তখনকার বাস্তবতা বিবেচনা করলে সেটি অবধারিতই ছিল। সেই সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়। পরে ১ মার্চ ভারত সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় এবং ১৫ মার্চের মধ্যে তা সম্পন্ন হয়।   ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের গতিপথ বদলে যায়।   তারেক রহমানের বাবা, জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালের ২৯ নভেম্বর প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৯৭৭ সালের ২ থেকে ৫ জানুয়ারি চীন সফর করেন। এটাই তার প্রথম পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় সফর হিসেবে স্বীকৃত।   ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ নেন জিয়া। ওই বছরের ৮ থেকে ১৫ জুন কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি যুক্তরাজ্য সফর করেন। বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক ফোরামে রাষ্ট্রপতি হিসেবে এটিই ছিল তার প্রথম বিদেশ সফর।   পরের মাসে, অর্থাৎ জুলাই মাসের ২০ তারিখ তিনি যান মিয়ানমারে। আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর সেটাই ছিল তার প্রথম দ্বিপক্ষীয় রাষ্ট্রীয় সফর।   সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা নেওয়ার পর হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রথম বিদেশ সফর ছিল সৌদি আরবে। তখন তিনি দেশের প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক।   ১৯৮২ সালের ২ মে সৌদি আরবে ওই সফরের পর অক্টোবরে তিনি ভারত সফর করেন।   আর ১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এরশাদের প্রথম বিদেশ সফর ছিল মরক্কোতে। ১৯৮৪ সালের ১৬ জানুয়ারি কাসাব্লাঙ্কায় ওআইসির চতুর্থ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন তিনি।   নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের মার্চে ক্ষমতায় আসেন জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খালেদা জিয়া। ২১ মে ভারতের তৎকালীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী নিহত হলে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে সংক্ষিপ্ত সফরে নয়া দিল্লি যান খালেদা জিয়া।   সরকারপ্রধান হিসেবে সেটাই খালেদা জিয়ার প্রথম বিদেশ সফর। এর পরপরই, ২৫ মে আনুষ্ঠানিক ও পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় সফরে তিনি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে পৌঁছান।   সৌদি আরব থেকে তিনি যান কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে। ওই সফরের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ২৯ এপ্রিলের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের পর বিদেশি সাহায্য সংগ্রহ করা।   ১৯৯৬ সালের জুনে ক্ষমতায় আসেন বঙ্গবন্ধুর মেয়ে শেখ হাসিনা। পরের মাসে ওমরাহ করতে তিনি সৌদি আরবে যান। সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর সেটাই তার প্রথম বিদেশ সফর।   ওই বছরের ১২ সেপ্টেম্বর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে তিনি চীনে যান। পরে ডিসেম্বরে তিনি ভারত সফর করেন।   ২০০১ সালের অক্টোবরে ক্ষমতায় ফেরার পর খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বিদেশ সফর ছিল সৌদি আরবে। সেখানে ওমরাহ পালনের পাশাপাশি তৎকালীন সৌদি বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আজিজের সঙ্গে তিনি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।   শেখ হাসিনা ক্ষমতায় ফেরেন ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে। ওই বছরের এপ্রিলে প্রথম বিদেশ সফরে তিনিও সৌদি আরবে যান এবং ওমরাহ করার পাশাপাশি বাদশাহ আবদুল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।   ২০১৪ সালে তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ২৫-২৮ মে জাপান সফর করেন শেখ হাসিনা। পরের মেয়াদে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে তার প্রথম সফর ছিল জার্মানি ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে। ২০২৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পঞ্চম মেয়াদেও শেখ হাসিনার প্রথম সফর ছিল জার্মানিতে।   ওই বছর অগাস্টে অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার সরকারের পতন হলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছায়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মুহাম্মদ ইউনূস সেপ্টেম্বরের শেষে নিউ ইয়র্কে যান জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে। সেটাই তার প্রথম সরকারি সফর।   ক্ষমতায় থাকার দেড় বছরে তিনি অন্তত ১৪ বার বিদেশ সফরে যান। এর মধ্যে ২০২৫ সালের মার্চে যান চীনে। তবে ভারতে তার যাওয়া হয়নি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

রাজস্ব আহরণ ও ঋণ ব্যবস্থাপনাই এখন অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন

ছবি : পিআইডি

প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া ও চীনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জামিন পেলেন ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক

ছবি: সংগৃহীত
'লক্করঝক্কর’ বাসের শহরে চলবে ২৫০০ কোটির ইলেকট্রিক বাস

  রাজধানীবাসীর ভোগান্তি কমাতে এবং বায়ুদূষণ রোধে এবার ঢাকায় ইলেকট্রিক (বিদ্যুৎ-চালিত) বাস নামানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বায়ুর গুণগত মান ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন এবং পরিবহন খাত থেকে কার্বন নিঃসরণ কমানোর মাধ্যমে ঢাকা শহরের বায়ুদূষণ সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।   নগরবাসী বলেছেন, উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজধানীতে ইলেকট্রিক বাস চালু করার উদ্যোগ ইতিবাচক। পরিবেশ রক্ষায় এটি নিঃসন্দেহে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। তবে পুরোনো ও ফিটনেসবিহীন লক্করঝক্কর বাসের সঙ্গে ইলেকট্রিক বাসের পাল্লা দিয়ে চলা বড্ড বেমানান। তাই ইলেকট্রিক বাস চলাচলের প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে রাজধানীর গণপরিবহনের বেহাল দশা সংশোধন করা জরুরি। একইসঙ্গে ঢাকায় গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনতেও জোর দেওয়ার দাবি তাদের।     পুরোনো বাসের জায়গায় ইলেকট্রিক বাস প্রতিস্থাপন     রাজধানীতে যত পুরোনো বা লক্করঝক্কর বাস রয়েছে, তা পর্যায়ক্রমে প্রতিস্থাপন করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ ক্ষেত্রে পুরোনো বাসগুলোকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ফিটনেসবিহীন বাস চলাচলে কড়াকড়ি নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কথাও ভাবছে সরকার।   পুরোনো বাস প্রতিস্থাপন কীভাবে হবে, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে— রাজধানী থেকে পুরোনো বাস সরিয়ে দেওয়ার। কিন্তু ধরেই তো তা সম্ভব নয়। এ নিয়ে আবার বাস মালিকদের তোপের মুখে পড়তে হবে। তাই ধীরে ধীরে এ কাজ করা হবে। মানুষ যখন আধুনিক যাতায়াত ব্যবস্থার সুযোগ-সুবিধা পাবে, তখন এমনিতেই পুরোনো জিনিস বাদ দেবে। সরকারের পক্ষ থেকে লক্করঝক্কর বাস চলাচল কড়াকড়ি সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়েও চিন্তাভাবনা করছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।   রাজধানীতে ইলেকট্রিক বাস চলাচলের বিষয়ে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, নগর পরিবহন ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। প্রযুক্তি নির্ভর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীর পুরোনো সব বাসকে পর্যায়ক্রমে ইলেকট্রিক বাস দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হবে।   যা আছে ইলেকট্রিক বাস প্রকল্পে   ইলেকট্রিক বাস প্রকল্প বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৪০০ ইলেকট্রিক বাস কেনা হবে। এসব বাস চলবে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে। অপারেটর দিয়ে পরিচালনা করা এসব বাস। এসব বাসের জন্য মোট তিনটি চার্জিং ডিপো নির্মাণ করা হবে।   জানা গেছে, পূর্বাচলে ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) ১ দশমিক ৩ একর জায়গায় চার্জিং স্টেশনসহ ডিপো হবে। এই ডিপোতে বাসগুলো থাকবে। আরেকটি ডিপো হবে রাজউকের ঝিলমিল এলাকায়। আরেকটি ডিপো কাঁচপুরে করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এছাড়া বিআরটিএ তাদের অংশে ভেহিকেল ইন্সপেকশন সেন্টার (ভিআইসি) করাসহ আরও বেশ কিছু পরিকল্পনা করেছে।   প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে নীতিমালা প্রণয়ন, বৈদ্যুতিক বাসের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন, ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কারিগরি সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকল্পটি পরিবেশদূষণ রোধে জাতীয় অগ্রাধিকার বিবেচনায় নিয়ে পরিবহন খাত থেকে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং বৈশ্বিক জলবায়ুসংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিগুলোর সঙ্গে সংগতি রেখে জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন, গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানো এবং টেকসই নগর পরিবহনকে উৎসাহিত করতে কাজ করবে।   সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিবেশদূষণ রোধ ও বায়ুমান উন্নয়ন, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনা, সবার জন্য উপযোগী গণপরিবহন সম্প্রসারণ, যানজট হ্রাস, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমে সহায়তা করবে।   কারা আনবে, কেমন হবে ইলেকট্রিক বাস?   সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই বাস অনুমোদন দেওয়ার পদ্ধতি, বাসের ধরন ও ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে। তা থেকেই ইলেকট্রিক বাস নামানোর এই পরিকল্পনা।   সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সূত্র জানা গেছে, ইলেকট্রিক বাস নামানোর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ঋণ হিসেবে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে নেওয়া হবে ২১৩৫ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ সরকার দেবে বাকি ৩৬৫ কোটি টাকা। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ডিটিসিএ।   এই প্রকল্পের আওতায় কোম্পানিভিত্তিক ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলের অধীনে ইলেকট্রিক বাস (ই-বাস) চালু করা হবে। ঢাকা শহরের যানজট কমানো, গণপরিবহনের সেবার মান উন্নয়নের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক পরিবহনব্যবস্থা কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য ডিটিসিএসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি, বেসরকারি সংস্থার সক্ষমতা বাড়ানো হবে।   জানা গেছে, ইলেকট্রিক বাসে স্বয়ংক্রিয় দরজা খোলা-বন্ধের (অটো-ডোর) এবং ই-টিকেটিং ব্যবস্থা থাকবে। বাস থাকবে একেবারে চকচকে। সুশৃঙ্খল বাস ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে কাউন্টারভিত্তিক সেবা চালু হবে। বাসের গায়ে রুট নম্বর ও কোম্পানির নাম লেখা থাকবে। একই কোম্পানির সব বাসের রং অভিন্ন হবে। বাসগুলো চলবে বড় কোম্পানির অধীন ফ্রাঞ্চাইজির ভিত্তিতে।   রাজধানীর রাস্তা থেকে পুরোনো বাস তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল বিভিন্ন সরকার। কিন্তু কোনও সরকারই তা করতে পারেনি। এর কারণ হিসেবে অনেকে সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের যোগসাজশকে দায়ী করলেও মূলত সরকারের সদিচ্ছার অভাবে যুগ যুগ ধরে চলছে পুরোনো ও লক্করঝক্কর বাস।   বিআরটিএর হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকায় চলাচলকারী বাস-মিনিবাসের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে ১৬ হাজার ১৯৮টি। ঢাকায় নিবন্ধিত বাস-মিনিবাসের সংখ্যা ৫৪ হাজারের মতো। অর্থাৎ ৩০ শতাংশ বাস-মিনিবাস মেয়াদোত্তীর্ণ (২০ বছরের বেশি বয়সী)।   তবে বিআরটিএ কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকৃতপক্ষে রাজধানীতে চলাচলকারী মেয়াদোত্তীর্ণ বাস-মিনিবাসের হার আরও বেশি। কারণ মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহনের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ে। প্রতিদিনই কোনও না কোনও যানবাহনের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়। সে হিসাবে সংখ্যাটা আরও বেশি হবে। এছাড়া ফিটনেস সনদ হালনাগাদ নেই, এমন যানবাহন এই মেয়াদোত্তীর্ণ যানের মধ্যে পড়ে না।   রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আলমগীর হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, পুরোনো ও লক্করঝক্কর বাস রাজধানীর সৌন্দর্য নষ্ট করছে। একইসঙ্গে এসব বাসের বেপোরোয়া চলাচল যানজট যেমন বৃদ্ধি করছে তেমনই মানুষের জীবনকে হুমকির সম্মুখীন করছে। রাজধানীতে ইলেকট্রিক বাস নামানোর যে উদ্যোগ সরকার নিয়েছে তাকে সাধুবাদ জানাই। তবে তার আগে পুরোনো বাসে একটা হিল্লে করা দরকার।   সরকারের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তবে কিছু বিষয় নিয়ে অসন্তোষও রয়েছে তার। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘‘বিগত সময়েও আমরা দেখেছি, সরকার কোনও উদ্যোগ নিলে কেবল বাস মালিক সমিতি এবং শ্রমিক ফেডারেশনের সঙ্গে আলোচনা করে। যাত্রীদের অংশীজন হিসেবেই মনে করে না সরকার। যার কারণে আমাদের কোনও পরামর্শ নেয় না।’’   তিনি আরও বলেন, ‘‘সব প্রকল্প বাস্তবায়নে অনেক বাধা প্রতিকূলতা থাকে। সেসব বিষয় মাথায় নিয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। এক্ষেত্রে বিদেশি এক্সপার্টদের মতামত নেওয়া দরকার। কারণ দেশের অভ্যন্তরে যাদের মতামত নিয়ে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়, দিনশেষে তার ফলাফল ব্যর্থতার রূপ নেয়। বিগত সময়েও সরকার হকার উচ্ছেদ বাস টার্মিনাল এসব স্থানান্তরের পরিকল্পনা নিয়েছে। কিন্তু সঠিকভাবে তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এর কারণ সরকারের অভ্যন্তরে সুবিধাবাদী লোকরা এসব কিছু হতে দেয় না, ফলে বদনাম হয় সরকারের।’’   মোজ্জাম্মেল হক বলেন, ‘‘প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারকে বুঝে-শুনে লোকজন নিয়োগ দেওয়া দরকার।’’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ২১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

তিন মাসে যে উন্নয়ন হয়েছে, আ.লীগের ১৫ বছরেও তা হয়নি: মির্জা ফখরুল

ছবি : সংগৃহীত

প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে সরকার

ছবি : সংগৃহীত

হাসিনা-সংশ্লিষ্ট সম্পদ জব্দ হলেও ৮০ শতাংশে নেই দুদকের নিয়ন্ত্রণ

0 Comments