রাজধানীর বিজয়নগরের একটি বহুতল ভবনে আগুন লেগেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেছে।
শনিবার (২২ নভেম্বর) দুপুর ৩টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, আগুন নেভানোর চেষ্টা চলছে; তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বটতলা বাজার এলাকায় কর্মজীবী এক নারীকে প্রাইভেট কারে তুলে অপহরণের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন মৌলভীবাজার-৪ (কমলগঞ্জ–শ্রীমঙ্গল) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজি মুজিব)। এ ঘটনায় জড়িত আসামিকে দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সোমবার (৯ মার্চ) ইফতারের পর তিনি দক্ষিণ বালিগাঁও এলাকার ভুক্তভোগী ফাতেমা পারভেজ নিশির বাড়িতে যান। এসময় স্থানীয় নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং বটতলা বাজারের সিসিটিভি ক্যামেরা-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করেন। ঘটনাস্থল থেকে তিনি মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপারকে (এসপি) ফোন করে অপহরণের চেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি স্থানীয়দের এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমপি হাজি মুজিব বলেন, ‘ভুক্তভোগী মেয়েটি আমার এলাকার, আমার বোনের মতো। আমি পুলিশ সুপারকে বলেছি, দ্রুত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এ ধরনের অপরাধের বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স।’
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় নতুন ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জেলা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার (৭ মার্চ) উপজেলার এক সৌদি আরব প্রবাসীর কাছে এ চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মামলার বাদী শাহাদাত পাটোয়ারী (৪৬) লক্ষ্মীপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, আমলী অঞ্চল রামগঞ্জে একটি সি.আর মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক এবং ইছাপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী সাগর হোসেন শুক্কুর (৩৬)। তিনি উপজেলার সোন্দড়া এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলীর ছেলে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রামগঞ্জ উপজেলার উত্তর শ্রীরামপুর এলাকার বাসিন্দা শাহাদাত পাটোয়ারী তার পৈতৃক ভিটায় একটি নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করলে অভিযুক্ত সাগর হোসেন শুক্কুর তার এবং তার স্ত্রীর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে খুন করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এজাহারে আরও বলা হয়, শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যায় অভিযুক্ত ব্যক্তি তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে বাদীর নম্বরে কল করে আবারও ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ সময় উপস্থিত কয়েকজন সাক্ষীর সামনে ফোনের লাউডস্পিকার চালু করে কথোপকথন শোনানো হয়। বাদীর দাবি, ওই কথোপকথনের আংশিক রেকর্ডও সংরক্ষণ করা হয়েছে। সৌদি আরব প্রবাসী শাহাদাত পাটোয়ারী জানান, তিনি প্রায় ২২ বছর ধরে সৌদি আরবের মদিনায় বসবাস করছেন এবং মাঝে মধ্যে দেশে আসেন। সম্প্রতি দেশে অবস্থানকালে অভিযুক্ত সাগর হোসেন তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন এবং তার বাড়ির গেটেও এসে ছেলের কাছে তার অবস্থান সম্পর্কে জানতে চান। তিনি অভিযোগ করেন, শনিবার (৭ মার্চ) ইফতারের পর সাগর হোসেন তাকে মোবাইল ফোনে কল দিয়ে খারাপ আচরণ করেন এবং ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। এ সময় তাকে আওয়ামী লীগের লোক বলে চাপ প্রয়োগ করা হয় বলেও তিনি দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সাগর হোসেন শুক্কুর। তিনি বলেন, ২০০৯ সালে কারী বাজার এলাকায় তার একটি সাইকেল ও যন্ত্রাংশের দোকান ছিল। সে সময় শাহাদাত পাটোয়ারী প্রভাব খাটিয়ে তার দোকান ভাঙচুর করেন এবং তার ওপর হামলা চালান। এতে তিনি রামগঞ্জ বায়োপ্যাথ হাসপাতালে ২২ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। তিনি দাবি করেন, তিনি কখনোই শাহাদাত পাটোয়ারীর কাছে চাঁদা দাবি করেননি। তাকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা অভিযোগ এনে এই মামলা করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলার আইনজীবী জানান, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, যেহেতু বিষয়টি আদালতে মামলা আকারে দায়ের করা হয়েছে, তাই আদালত থেকে তদন্তের নির্দেশনা থানায় এলে তা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মানিকগঞ্জের শিবালয়ে এয়ার কম্প্রেসর মেশিনের সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত মোহাম্মদ মল্লিকের পরিবারকে নগদ অর্ধ লক্ষ টাকা দিয়েছেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এসএ জিন্নাহ কবিরের সহধর্মিণী শায়লা কবির। রবিবার (৮ মার্চ) বিকালে উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের সমেজ ঘর গ্রামে নিহত মোহাম্মদের মা মালেকা বেগমের হাতে এ অর্থ তুলে দেন তিনি। পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের খোঁজ নিয়ে তাদের বসতবাড়ি না থাকায় আবাসনের ব্যবস্থা করারও আশ্বাস দেন তিনি। এ ছাড়া এ ঘটনায় আহত সাব্বির হোসেনকেও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে আরিচা তিন নম্বর ফেরি ঘাটের কাছে এয়ার কম্প্রেসর মেশিনের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়। এসময় পাশেই চায়ের দোকানের সামনে চা পান করছিল মোহাম্মদ মল্লিক। কিছু বুঝে উঠার আগেই বিস্ফোরিত সিলিন্ডারের টুকরা এসে তার এক পায়ে আঘাত লেগে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি শোনার পরে স্থানীয় সাংসদ এসএ জিন্নাহ কবির মানিকগঞ্জ জেলা যুবদলের আহবায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দীপুকে খোঁজ খবর নেওয়ার জন্য ঘটনাস্থলে পাঠান। শায়লা কবির কালের কণ্ঠকে বলেন, আরিচা ফেরিঘাটে এয়ার কম্প্রেশার সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একজন নিহত হয়েছে এমন সংবাদ শুনে এমপি মহোদয় তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে তার প্রতিনিধি পাঠান। পরে আমরা খোঁজ-খবর নিয়ে জানতে পারি নিহতের পরিবার খুবই দরিদ্র্য। তাদের থাকার মতো বাড়িঘরও নেই। আরিচা ঘাট এলাকার পাশে ছোট একটি বাসায় ভাড়া থাকত তারা। পরে এমপি জিন্নাহ কবির সাহেবের নির্দেশে নিহতের পরিবারের খোঁজ-খবর নিয়ে আপাতত ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৫০ হাজার টাকা তার মায়ের হাতে তুলে দিয়েছি। পরবর্তীতে তাদের বসবাস করার জন্য সরকারিভাবে কোনো জায়গায় আবাসনের ব্যবস্থা করা যায় কি না সে বিষয়ে আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। এদিকে এ ঘটনায় আহতদের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়েছে। নিহতের মা মালেকা বেগম বলেন, আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। ছোট একটা বাসায় ভাড়া থাকতাম। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলে আমার গতকাল হাওয়ার মেশিন বিস্ফোরণে মারা গেছে। আমাদের এই চরম খারাপ সময়ে এমপি সাহেব ৫০ হাজার টাকা দিয়ে সহায়তা করল। ওনার মতো এত ভালো মানুষ আর দেখি নাই। আল্লাহ উনারে আরো ভালো করুক। ওনার বউ আরো ভালো মানুষ। মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এসএ জিন্নাহ কবির কালের কণ্ঠকে বলেন, আমার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় জরুরি কাজ থাকার কারণে আমি যেতে পারিনি অসহায় পরিবারের পাশে। এ জন্য আমার সহধর্মিণীকে পাঠিয়েছি অসহায় পরিবারটির খোঁজ-খবর নিতে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে আমি দীর্ঘদিন যাবৎ সাধারণ লোকজনের বিপদ-আপদে সক্ষমতানুয়ী তাদের পাশে থেকেছি। তারই ধারাবাহিকতায় এ ছোট প্রচেষ্টা। আমি সাধারণ জনগণের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য রাজনীতি করি। আমার চিন্তা-চেতনা সাধারণ জনগণদের নিয়ে। আমার আসনের প্রত্যেকটি লোকের দায়িত্ব আমার মনে করেই চলছি। আর্থিক সহায়তা প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ জেলা যুবদলের আহবায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দীপু, এমপি জিন্নাহ কবিরের জামাতা, ব্যারিস্টার জাওয়াদুল করিম নয়ন, শিবালয় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান লিটন, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দীন, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মো. হোসেন আলী, জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক অয়ন খান, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা তানভীর সম্রাট অংকুর প্রমুখ।