জাতীয়

বিগত সরকার বিদ্যুৎ খাতে দেশীয় সম্পদ ধ্বংস করেছে : জ্বালানি মন্ত্রী

মারিয়া রহমান মে ১২, ২০২৬
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। ছবি : সংগৃহীত
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। ছবি : সংগৃহীত

বিগত সরকার দেশের নিজস্ব সম্পদ অবেহালেয় ফেলে রেখে লুটপাট ও বিদেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থা করে দেশীয় সম্পদ ধংস করেছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি পরিদর্শন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, গত ১৭ বছরে 'ফ্যাসিস্ট সরকার' দেশীয় সম্পদকে অবহেলা করে বিদেশি জ্বালানি আমদানিনির্ভর ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। এতে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এবং মধ্যপাড়া পাথরখনি জনকল্যাণে যথাযথ গুরুত্ব পায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি খাত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাত হলেও বিগত সরকার এ খাতকে ধ্বংস করেছে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নির্দেশনায় দেশীয় সম্পদ কাজে লাগিয়ে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।

বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই দেশের সম্পদ দেশের মানুষের উপকারে আসুক। দেশ এগিয়ে যাক। বিএনপি জনগণের সরকার হিসেবে দেশীয় সম্পদ আহরণ করে উন্নয়নে কাজে লাগাতে চায়।

এর আগে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি, তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও মধ্যপাড়া পাথর খনির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপি, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এমপি, জাতীয় সংসদের হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সাদিক রিয়াজ, দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ানুল হকসহ পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সভা শেষে মন্ত্রী ও অতিথিবৃন্দ বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি, বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং মধ্যপাড়া পাথর খনি পরিদর্শন করেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
মেট্রোরেল এমআরটি-৬-এ ৯টি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি চিহ্নিত, ৭৩০ বেয়ারিং প্যাডে বিকৃতি

দেশের প্রথম বৈদ্যুতিক মেট্রোরেল এমআরটি লাইন-৬-এ ৯টি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছে উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পর গঠিত কারিগরি নিরাপত্তা নিরীক্ষা কমিটি। এর মধ্যে অন্যতম ৭৩০টি বেয়ারিং প্যাড অনুমোদিত সীমার চেয়ে বেশি বিকৃত করা। এছাড়া পিয়ার ও বক্স গার্ডারে ফাটল, ট্র্যাক ও ভূমি বসে যাওয়া, অতিরিক্ত কম্পন, ট্রেনের অস্বাভাবিক ঝাঁকুনি এবং পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার বিভিন্ন ঘাটতিও পাওয়া গেছে।   কমিটির মূল্যায়নে এগুলো বিচ্ছিন্ন বা সাধারণ রক্ষণাবেক্ষণজনিত ত্রুটি নয়। বরং নকশার নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, তৃতীয় পক্ষের যাচাই, নির্মাণের মান নিয়ন্ত্রণ, গতিশীল কার্যক্ষমতা পরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণের প্রস্তুতি এবং পরিচালন নির্ভরযোগ্যতায় বিস্তৃত দুর্বলতার ইঙ্গিত। কয়েকটি বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা বা আন্তর্জাতিক তৃতীয় পক্ষের যাচাই শেষ হওয়ার অপেক্ষা না করে জরুরি ব্যবস্থা নিতে বলেছে কমিটি।   যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক এবং কারিগরি কমিটির সদস্য ড. সামছুল হক বলেন, এমআরটি-৬ প্রকল্পে ৯টি ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়েছে। সেগুলো সমাধানে করণীয়ও বলা হয়েছে। মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ তা বাস্তবায়ন শুরু করেছে। দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে মেট্রোরেলের গতি কমানো হয়েছে। এতে মেট্রোরেলের কর্মক্ষমতা কমেছে। তিনি আরও বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত জাপানি প্রতিনিধিরা কমিটিকে জানিয়েছেন, তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত উদ্বোধনের তাগিদের কারণে কিছু পরীক্ষামূলক কার্যক্রম বাদ দেওয়া হয়েছিল। তার মতে, সরকারের চাহিদার কারণে গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি বিষয় বাদ দেওয়া পেশাদার সিদ্ধান্ত ছিল না।   যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন হাসান বলেন, জাপানিজ প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিয়ে সরকার দেশীয়ভাবে কোনো কারিগরি তদারকি করেনি। তার খেসারত দিতে হচ্ছে এখন। অত্যন্ত জরুরি কারিগরি ইস্যু বাদ দিয়ে জাপানিজ প্রতিষ্ঠান মেট্রোরেল উদ্বোধন করেছে। কারিগরি তদন্তের ফলে আমরা তা জানতে পারলাম, সরকারকে এখান থেকে শিক্ষা নিতে হবে।   মেট্রোর যত ঝুঁকি : কমিটির চিহ্নিত ৯টি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে-বেয়ারিং প্যাডের বিকৃতি ও স্থানচ্যুতি, পিয়ার, কংক্রিট বেস ও বক্স গার্ডারে ফাটল, সাময়িক গতিসীমা ও নিম্নমানের যাত্রার স্বাচ্ছন্দ্য, ডিপো ও ট্র্যাকের ভিত্তি বসে যাওয়া, ট্রেটজনিত কম্পন ও গতিশীল কার্যক্ষমতার ঘাটতি, নির্ধারিত স্থানের আগে ট্রেন থেমে যাওয়া, অস্বাভাবিক ঝাঁকুনি ও চাকার ক্ষয়, তৃতীয় পক্ষের অসম্পূর্ণ যাচাই, স্থায়ী কাঠামোগত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা না থাকা, এবং রক্ষণাবেক্ষণ সরঞ্জাম, খুচরা যন্ত্রাংশ, পরীক্ষার যন্ত্রপাতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ঘাটতি।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেট্রোরেল পরিচালনা প্রতিষ্ঠান ডিএমটিসিএলের সপ্তম সভার রেকর্ড অনুযায়ী, ২৩ দশমিক ২৮ শতাংশ বেয়ারিং প্যাড ত্রুটিপূর্ণ পাওয়া গেছে এবং সেগুলো দ্রুত প্রতিস্থাপন প্রয়োজন।   বিস্তারিত কাঠামোগত নকশা, মডেল সিমুলেশন, ডিজাইন ক্যালকুলেশন ও ওভারহেড ক্যাটেনারি সিস্টেমের স্বাধীন তৃতীয় পক্ষীয় যাচাই বা প্রত্যয়নের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ট্রেনের কম্পন, অনুরণন, কাঠামোগত ক্লান্তি এবং চলমান ভারের প্রভাবের পূর্ণাঙ্গ গতিশীল বিশ্লেষণেও ঘাটতি পাওয়া গেছে।   বৈদ্যুতিক নিরাপত্তায়ও একাধিক সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে ট্রান্সফরমারের ত্রুটি, গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক কক্ষের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার সমস্যা, স্পার্কিং এবং ১৬ স্টেশনের বৈদ্যুতিক ও সিগন্যালিং কক্ষে পানি প্রবেশের বিষয় রয়েছে। কমিটির মতে, এগুলো শর্টসার্কিট, আগুন, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা ও সিগন্যালিং ব্যর্থতার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নির্ধারিত স্থানের আগে ট্রেন থেমে যাওয়াকে কমিটি নিরাপত্তার জন্য গুরুতর রোলিং-স্টক ত্রুটি হিসাবে চিহ্নিত করেছে। এ সমস্যা ও চাকার ক্ষয়ের কারণে পাঁচটি ট্রেন সেট যাত্রী পরিবহণ থেকে প্রত্যাহার করতে হয়েছিল।   কারিগরি কমিটি জানিয়েছে, তাদের পক্ষে যন্ত্রনির্ভর পূর্ণাঙ্গ গতিশীল পরীক্ষা, পুরো রুটের ট্র্যাক-জ্যামিতি জরিপ, স্বাধীন ভূ-প্রকৌশলগত অনুসন্ধান ও পুরো ভায়াডাক্টের পূর্ণাঙ্গ কাঠামোগত মডেলিং করা সম্ভব হয়নি। এজন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের পরামর্শক বা প্রত্যয়নকারী দিয়ে পূর্ণাঙ্গ যাচাইয়ের সুপারিশ করা হয়েছে।   কমিটির চূড়ান্ত মূল্যায়ন হলো, এমআরটি লাইন-৬ দেশের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরিবহণ সম্পদ। তবে বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে জরুরি সংশোধনমূলক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। সমস্যাগুলোকে সাধারণ ত্রুটি নয়, বরং সামগ্রিক ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চয়তাসংক্রান্ত সমস্যা হিসাবে বিবেচনা করে কাঠামোগত মেরামত, ত্রুটিপূর্ণ বেয়ারিং প্যাড প্রতিস্থাপন, পরিচালনগত ঝুঁকি দূর করা এবং স্বাধীন নিরাপত্তা যাচাইকে অগ্রাধিকার দিতে বলেছে কমিটি।   গতি কমিয়েও চলছে মেট্রোরেল : ২০২৬ সালের ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত মূল লাইনের ১০টি স্থানে সাময়িক গতিসীমা কার্যকর ছিল। নকশাগত সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার হলেও এসব অংশে তা ৬০ থেকে ৯০ কিলোমিটারে নামানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাস্তবে ট্রেন ওই সীমারও ঘণ্টায় ১৩ থেকে ১৬ কিলোমিটার কম গতিতে চলছে। কম্পন ও অস্বাভাবিক ঝাঁকুনি এসব গতিসীমার অন্যতম কারণ। কমিটির মতে, সাময়িক গতিসীমা তাৎক্ষণিক ঝুঁকি কমাতে পারে, তবে সমস্যার মূল কারণের সমাধান নয়।   কেন এই নিরীক্ষা : ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনের কাছে ৪৩৩ নম্বর পিয়ার থেকে একটি বেয়ারিং প্যাড পড়ে ৩৫ বছর বয়সি আবুল কালাম আজাদ নিহত এবং আরও দুজন আহত হন। এর প্রায় ১৩ মাস আগেও কাছাকাছি এলাকায় আরেকটি বেয়ারিং প্যাড পড়ে স্থানচ্যুত হয়েছিল। পরবর্তী তিনটি রিটের পর উচ্চ আদালতের নির্দেশনার ভিত্তিতে পুরো এমআরটি লাইন-৬-এর নিরাপত্তা নিরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় ২১ দশমিক ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এ লাইনের ১৬টি উড়াল স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন প্রায় চার লাখ যাত্রী চলাচল করেন।   ডিএমটিসিএল যা বলল : ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাওগাতুল আলমকে ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাকে খুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠালেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। পরে ডিএমটিসিএলের জনসংযোগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (উপ-সচিব) এবং উপ-প্রকল্প পরিচালক মো. আহসান উল্লাহ শরিফীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, স্যার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অল্প কিছুদিন হলো, তিনি প্রকল্প সম্পর্কে জানা-বোঝার চেষ্টা করছেন; এই মুহূর্তে তিনি কোনো কথা বলবেন না। আহসান উল্লাহ আরও বলেন, মেট্রোরেলে ঝুঁকি, নির্মাণ ত্রুটি, কারিগরি কমিটির সুপারিশ এবং হাইকোর্টের নির্দেশনার বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রস্তুত রয়েছে। এরপর তিনি লিখিত একটি টেক্সট পাঠান। সেখানে বলা হয়েছে, কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ৪২৩, ৪৪২, ৪৪৬ ও ৪৪৮ নম্বর পিয়ারে ১০টি স্টিল ব্র্যাকেট বসানো হয়েছে। বেয়ারিং প্যাড পরিবর্তন এবং পিয়ার হেডে সেটেলমেন্ট মার্কার ও ক্র্যাক গেজ বসানোর কাজ চলছে। পুরো কাঠামোর বিভিন্ন স্থানে ১০২টি ক্র্যাক গেজ বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পিয়ার ও বক্স গার্ডারের ফাটলের স্থায়ী সমাধানে বুয়েটকে যুক্ত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। স্পার্কিং ও স্টেশনে পানি প্রবেশের সমস্যা সমাধানেও কাজ চলছে।   ২০২২ সালে একনেকে অনুমোদিত দ্বিতীয় সংশোধিত প্রকল্প ব্যয় ছিল ৩৩ হাজার ৪৭১ দশমিক ৯৯ কোটি টাকা এবং কমলাপুর সম্প্রসারণসহ দৈর্ঘ্য ২১ দশমিক ২৬ কিলোমিটার। অর্থাৎ, কিলোমিটার প্রতি খরচ হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা।   ২০১৬ সালের ২৬ জুন মেট্রোরেলের কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। আর উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশে মেট্রো চলাচল শুরু হয় ২৯ ডিসেম্বর ২০২২ এবং আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশের চলাচল শুরু হয় ৫ নভেম্বর ২০২৩। এর আগের দিন দুই অংশের কাজের উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌর প্রকল্প করতে চায় সরকার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত

সেপ্টেম্বরে দিল্লি যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

তেজগাঁও ও পল্টন মডেল থানার ওসি প্রত্যাহার

ছবি: সংগৃহীত
বিনামূল্যে চক্ষুসেবা পেলেন ভাসানটেক-কড়াইল-সাততলার প্রায় ১ হাজার মানুষ

রাজধানীর ভাসানটেক, কড়াইল ও সাততলা বস্তি এলাকার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা, ছানি শনাক্তকরণ ও অপারেশন-সংক্রান্ত সেবা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।   শনিবার (২২ আগস্ট) জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ চিকিৎসা ক্যাম্প উদ্বোধন করেন ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।   এদিন তিনি চিকিৎসা ক্যাম্পটি পরিদর্শন করেন।   অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার; ফাউন্ডেশনের পরিচালক (প্রোগ্রাম) ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা এবং অর্থোপেডিক সার্জন অধ্যাপক শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ; পরিচালক (প্রোগ্রাম) প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম; পরিচালক (প্রোগ্রাম) কৃষিবিদ ড. খন্দকার মাহফুজুল হক বাচ্চু; পরিচালক প্রকৌশলী একেএম জহিরুল ইসলাম; আজীবন সদস্য রেজাউর রহমান চৌধুরী সুমন; ডা. সাঈদ মেহেবুব কাদির ও সোহেল আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবকেরা।   কর্মসূচিতে ভাসানটেক, কড়াইল ও সাততলা বস্তি এলাকার প্রায় এক হাজার সুবিধাবঞ্চিত নারী, পুরুষ ও শিশুকে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা, চিকিৎসা পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চশমা সরবরাহের পাশাপাশি ছানি রোগীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হয়। ডা. জুবাইদা রহমানের উদ্বোধন ও উপস্থিতি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী রোগী, চিকিৎসক, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উৎসাহ ও প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।   আয়োজকেরা জানান, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে নিম্নআয়ের মানুষের একটি বড় অংশ সময়মতো প্রয়োজনীয় চক্ষু চিকিৎসা নিতে পারেন না। বিশেষ করে ছানি ও দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের কাছে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো মানুষ যেন প্রয়োজনীয় চক্ষু চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন—এই মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই কর্মসূচিটির আয়োজন করা হয়েছে। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতেও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।   চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারী রোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা এ উদ্যোগের জন্য আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আকস্মিক তেজগাঁও থানা পরিদর্শনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

অবশেষে এক্সিলারেটের এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু

গ্যাস সংকটে ৩০০ কারখানা বন্ধ, রপ্তানি ক্ষতির আশঙ্কা: বিকেএমইএর ৬ দাবি

মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হলেন জহির উদ্দিন স্বপন

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন জহির উদ্দিন স্বপন। একই সঙ্গে তাকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।   শনিবার (২২ আগস্ট) এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।   মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সই করা পদত্যাগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি কর্তৃক গৃহীত হয়েছে। এই পদত্যাগ অবিলম্বে কার্যকর হবে।’   অন্যদিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পৃথক আরেকটি প্রজ্ঞাপনে জহির উদ্দিন স্বপনকে ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর রুল ৩বি(১) ও ৩বি(২) অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।   প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, উপদেষ্টা পদে অধিষ্ঠিত থাকাকালে তিনি মন্ত্রীর পদমর্যাদা, বেতন-ভাতাদি ও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা পাবেন।   এর আগে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় প্রথম রদবদলের অংশ হিসেবে জহির উদ্দিন স্বপনের স্থলে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থকে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তাকে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিএনপির জোটসঙ্গী এই নেতা ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য।   মন্ত্রিসভায় প্রথম রদবদলের অংশ হিসেবে শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে নতুন করে দায়িত্ব বণ্টন ও পুনর্বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।   একই রদবদলে প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণমন্ত্রী হওয়া রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে। এতদিন তিনি একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।   এ ছাড়া শুক্রবার শপথ নেওয়া আরও দুই পূর্ণমন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও বণ্টন করা হয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পদ ছাড়ায় এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব শূন্য হয়েছিল।   বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।   শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চার পূর্ণমন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রীকে শপথ পড়ান। তাদের শপথের পরই মন্ত্রিসভায় প্রথম বড় রদবদলের অংশ হিসেবে দফতর বণ্টনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২২, ২০২৬

কাজের পরিধি ও গতি বাড়াতেই পররাষ্ট্রে দুই প্রতিমন্ত্রী : শামা ওবায়েদ

শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়া সন্ত্রাসী: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চাইলে ভারতকে সীমান্তহত্যা ও পুশইন বন্ধ করতে হবে: রাশেদ খান

0 Comments