ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই রাজনৈতিক মাঠে জোট পুনর্গঠন ও মেরুকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীকে কেন্দ্র করে নতুন নতুন জোটের সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। এনসিপি, এবি পার্টিসহ সাতটি দল নতুন জোটের আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছে। সব মিলিয়ে তফসিলের আগেই অন্তত তিন ধরনের জোটের আকার ফুটে উঠছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বৃহত্তর জোট, জামায়াতের সমন্বয়ে ইসলামি ধ্যানধারার জোট এবং বাম ঘরানার আলাদা উদ্যোগ।
ভোট যত ঘনিয়ে আসছে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পৃথক পৃথক নির্বাচনি জোট গঠনের তৎপরতাও তত বেশি দৃশ্যমান হচ্ছে।
সরকার পরিবর্তনের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় ছিল, বিএনপি হয়তো জামায়াতকে আসন ছাড় দিতে পারে। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে জামায়াতই বিএনপির অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে। তবুও বৃহত্তর জোট গঠনের লক্ষ্যে বিএনপি যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের পাশাপাশি অন্যান্য বাম-ডান, মধ্যমপন্থি ও ইসলামপন্থি অনেক দলের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। অন্যদিকে জামায়াতও সাতটি ইসলামি দলকে নিয়ে নির্বাচনি সমঝোতার পথে এগোচ্ছে। পাশাপাশি বামঘরানার কয়েকটি দলের সমন্বয়ে নতুন একটি জোট গঠনের কথাও শোনা যাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে জোটই হতে পারে ফল নির্ধারণের প্রধান উপাদান। ছোট দলগুলোর কিছু ভোটই অনেক আসনে জয়–পরাজয়ের হিসাব পাল্টে দিতে পারে। তাই কারা কার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে, কত আসনে ছাড় পাওয়া যাবে এসব প্রশ্ন এখন রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।
বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে একটি বৃহৎ জোট গঠনের চেষ্টা চলছে। যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দলগুলো ছাড়াও সরকারবিরোধী অন্যান্য দলকে অন্তর্ভুক্ত করতে আলোচনা চলছে। তরুণদের দল এনসিপির সঙ্গেও আসন সমঝোতা নিয়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে। তবে বিষয়টি কতদূর অগ্রসর হবে, তা এখনই নিশ্চিত নয়। এনসিপির অংশ কিছু নেতা জোটে আসার প্রতি আগ্রহ দেখালেও দলগতভাবে তারা সংস্কারভিত্তিক অ্যালায়েন্সের কথাই বলছে।
অন্যদিকে জামায়াতের সঙ্গে প্রথমে এনসিপির নানান কর্মসূচিতে মিল দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত এনসিপি তাদের সঙ্গে জোটে যাচ্ছে না। বরং জামায়াত এখন ইসলামি সাতটি দলকে নিয়ে একটি আটদলীয় সমন্বয় গড়ে তুলেছে। তারা ‘এক আসনে এক প্রার্থী’ নীতির ওপর ভিত্তি করে জরিপ চালিয়ে প্রার্থী মনোনয়নের পরিকল্পনা করছে।
জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়েছে, তারা আনুষ্ঠানিক জোট গঠন করবে না; বরং নির্বাচনি সমঝোতার মধ্য দিয়েই এগোবে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে বিভিন্ন ইসলামপন্থি ও দেশপ্রেমিক দল। বর্তমানের আটদলীয় সমন্বয় ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।
এদিকে এবি পার্টি, এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদ, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, আপ বাংলাদেশসহ আরও কয়েকটি দলকে নিয়ে নতুন একটি জোট ঘোষণার প্রস্তুতি চলছে। সবদল সম্মত হলে তফসিল ঘোষণার আগেই এই জোট আত্মপ্রকাশ করতে পারে।
বিএনপিও তাদের বৃহৎ জোটে অন্তর্ভুক্ত করতে চায় বিভিন্ন ইসলামপন্থি দল, বাম শক্তি, উদার গণতান্ত্রিক দল, পেশাজীবী সংগঠন এবং আলেম সমাজের প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানগুলোকে। এজন্য দলটির নেতারা ইতোমধ্যে বিভিন্ন মাদ্রাসা ও ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
বাম ঘরানার দলগুলোর মধ্যেও জোট পুনর্গঠনের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। ছয়টি বাম দল বাম গণতান্ত্রিক জোটের বিস্তৃতি বাড়ানোর চেষ্টা করছে। পাশাপাশি নতুন করে বাম শক্তির আরেকটি জোট গঠনেরও উদ্যোগ রয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার জোটের প্রকৃতি কিছুটা ভিন্ন হবে, কারণ সব দলকেই নিজস্ব প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে হবে। ফলে বড় দলগুলোকে শরিকদের আসন ছাড় এবং জোট গঠনের ব্যাপারে আরও সতর্ক ও সময়সাপেক্ষ সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়া সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে (৫২) আবারও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ জানান, চেম্বার জজ আদালতের আদেশ প্রতিপালন না করায় এবং একই আদেশে পুলিশের প্রতি গ্রেপ্তারের নির্দেশ থাকায় তাকে আবারও গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে কুমিল্লা আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। চলতি বছরের ২২ এপ্রিল তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। ২ আগস্ট হাফিজুর রহমানকে ৬ মাসের অন্তর্বর্তী জামিন দেন হাইকোর্ট। পরে ৪ আগস্ট তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। ওই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ চেম্বার আদালতে আবেদন করে। ৬ আগস্ট হাইকোর্টের জামিন স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয় পুলিশকে। ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসসংলগ্ন ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। পরদিন তনুর বাবা (ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক, বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। চলতি বছরের ২২ এপ্রিল রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার হাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। ২০১৬ সালে তনু হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। ২০২৩ সালে সেনাবাহিনী থেকে তাকে অবসরে পাঠানো হয়।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, জনপ্রতিনিধিদের কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের স্বার্থে সংসদ সদস্যদের জন্য সরকারি গাড়ির ব্যবস্থা করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি মন্ত্রীদের মাসিক বেতন ন্যূনতম ১০ লাখ টাকা এবং সংসদ সদস্যদের ৫ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন। শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নুরুল হক নুর বলেন, সংসদ সদস্যদের নিয়মিত নির্বাচনী এলাকায় যেতে হয়। অনেক অঞ্চলের সড়কব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সরকারি গাড়ির সুবিধা থাকা প্রয়োজন। তিনি প্রস্তাব দেন, দায়িত্ব পালনকালীন এমপিরা সরকারের দেওয়া একটি গাড়ি ব্যবহার করবেন এবং মেয়াদ শেষে সেটি পরিবহন পুলে ফেরত দেবেন। সচিবসহ অন্য উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের মতো এমপিদেরও এ ধরনের সুবিধা দেওয়া উচিত।
দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন সবারই কাম্য। স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ কমানোর পরামর্শ আমরা প্রায়ই শুনি। তবে মনোবিজ্ঞানভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা বলছে, ব্যক্তিত্বের কিছু বৈশিষ্ট্যও দীর্ঘায়ুর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি ইন সেন্ট লুইসের মনোবিজ্ঞানী জোশুয়া জে. জ্যাকসন ও তাঁর সহকর্মীরা পরিচালিত ৭৫ বছরব্যাপী এক গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের কিছু আচরণগত বৈশিষ্ট্য দীর্ঘ ও তুলনামূলক সুস্থ জীবনযাপনের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয় আন্তর্জাতিক সাময়িকী Psychological Science-এ। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে মূল্যায়ন করেছিলেন তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা। গবেষকদের মতে, অনেক সময় অন্যরা আমাদের আচরণকে আমরা নিজেরা যতটা বুঝতে পারি, তার চেয়েও নির্ভুলভাবে মূল্যায়ন করতে পারেন। ১. দায়িত্বশীলতা গবেষণায় দীর্ঘায়ুর সঙ্গে সবচেয়ে শক্তিশালী সম্পর্ক পাওয়া গেছে দায়িত্বশীলতার। যাদের নিয়মানুবর্তী, সতর্ক, পরিকল্পিত ও কাজের ক্ষেত্রে যত্নবান হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে, তারা তুলনামূলক বেশি দিন বেঁচেছেন। দায়িত্বশীল মানুষ সাধারণত— অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি কম নেন, স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকেন, নিয়ম মেনে চলেন, ভবিষ্যৎ ভেবে সিদ্ধান্ত নেন। এসব অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। ২. নতুনকে গ্রহণ করার মানসিকতা মুক্ত মানসিকতা বা নতুন অভিজ্ঞতা গ্রহণের আগ্রহও দীর্ঘ জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে গবেষণায় দেখা গেছে। যারা নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করেন, ভিন্ন মতামত শুনতে আগ্রহী এবং পরিবর্তনকে সহজভাবে গ্রহণ করেন, তাদের মানসিক সক্রিয়তা তুলনামূলক বেশি থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস— মস্তিষ্ককে সচল রাখে, সৃজনশীলতা বাড়ায়, মানসিক স্থবিরতা কমায়, বার্ধক্যেও চিন্তাশক্তি সক্রিয় রাখতে সাহায্য করতে পারে। ৩. মানসিক স্থিতিশীলতা বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে মানসিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে দীর্ঘ জীবনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক পাওয়া গেছে। যারা কঠিন পরিস্থিতিতেও আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন, অযথা উদ্বেগে ভেঙে পড়েন না এবং বাস্তবতাকে শান্তভাবে মোকাবিলা করেন, তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য তুলনামূলক ভালো থাকে। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, অনিদ্রা ও অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ৪. বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ মানুষের সঙ্গে সহজে সম্পর্ক গড়ে তোলা, অন্যকে সাহায্য করা এবং হাসিখুশি থাকা—এসব বৈশিষ্ট্যের সঙ্গেও দীর্ঘ জীবনের সম্পর্ক থাকতে পারে। ৯৫ থেকে ১০০ বছর বয়সী প্রবীণদের ওপর পরিচালিত আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, তাদের অনেকেই ছিলেন— সামাজিক, সহজ-সরল, সহযোগিতাপূর্ণ, বহির্মুখী, ইতিবাচক মনোভাবসম্পন্ন। সামাজিক সম্পর্ক মানসিক সমর্থন দেয়, একাকীত্ব কমায় এবং মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ৫. আবেগ প্রকাশের অভ্যাস নিজের অনুভূতি সবসময় চেপে রাখার বদলে খোলামেলা আবেগ প্রকাশ করাও উপকারী হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘজীবী অনেক মানুষ— নিয়মিত হাসতেন, আনন্দ ও দুঃখ অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিতেন, আবেগ প্রকাশে সংকোচ বোধ করতেন না। আবেগ চেপে রাখলে মানসিক চাপ বাড়তে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ব্যক্তিত্ব কি বদলানো যায়? গবেষকদের মতে, ব্যক্তিত্বের কিছু অংশ জিনগত হলেও এর অনেকটাই অভ্যাস, শিক্ষা, পরিবার ও সামাজিক পরিবেশের মাধ্যমে গড়ে ওঠে। নিচের অভ্যাসগুলো ধীরে ধীরে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সাহায্য করতে পারে— নিয়মিত ও পরিকল্পিত জীবনযাপন, নতুন কিছু শেখা, ইতিবাচক সামাজিক সম্পর্ক তৈরি করা, অনুভূতি প্রকাশ করা, দায়িত্বশীল আচরণ চর্চা করা। গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা গবেষকেরা স্পষ্টভাবে বলেছেন, এটি সম্পর্কভিত্তিক গবেষণা। অর্থাৎ এই বৈশিষ্ট্যগুলো দীর্ঘ জীবন নিশ্চিত করে—এমন সিদ্ধান্ত গবেষণা থেকে সরাসরি দেওয়া যায় না। তবে এসব বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনযাপনের ইতিবাচক সম্পর্ক পাওয়া গেছে। অর্থাৎ দীর্ঘায়ুর জন্য শুধু খাবার, ব্যায়াম বা চিকিৎসাই নয়, আমাদের চিন্তাভাবনা, আচরণ, সম্পর্ক এবং দৈনন্দিন ছোট ছোট সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।