জাতীয়

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ নয়, নিষেধাজ্ঞা ইসির

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬

আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশনা পাঠান।

নির্দেশনায় বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে সাধারণভাবে কেউ মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। তবে ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অফিসার, ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ইনচার্জ এবং ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারকারী অঙ্গীভূত আনসার, সাধারণ আনসার ও ভিডিপির দুজন সদস্য এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবেন।

নির্দেশনায় আরো বলা হয়, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিষয়টি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান অনুষ্ঠান বয়কট করে অডিটোরিয়াম ত্যাগ করলেন এনসিপি নেতারা

  জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত একটি ডকুমেন্টারি ঘিরে আপত্তির জেরে অনুষ্ঠান বয়কট করে অডিটোরিয়াম ত্যাগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। ডকুমেন্টারিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও শহীদদের আত্মত্যাগ যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।   বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা এবং জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি উপস্থিত ছিলেন।   প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ডকুমেন্টারি প্রদর্শনের পরপরই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের একটি অংশ প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। তাদের অভিযোগ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রকৃত ইতিহাস, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ এবং শহীদদের আত্মত্যাগ ডকুমেন্টারিতে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। একপর্যায়ে মিলনায়তনে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী উপস্থিতদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের আহ্বানে আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও এনসিপির নেতা আক্তার হোসেন বক্তব্য দেন। তিনি বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দিলেও ডকুমেন্টারি নিয়ে নিজের আপত্তিও তুলে ধরেন।   পরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী ডকুমেন্টারিতে থাকা অসম্পূর্ণতার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং জানান, শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের প্রতিনিধিদের নিয়ে এটি পুনরায় পর্যালোচনা ও সংশোধন করা হবে। তাদের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংযোজন ও সংশোধনের মাধ্যমে ডকুমেন্টারিকে আরও পূর্ণাঙ্গ করা হবে।   তবে পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়ার সময় এনসিপির নেতা আক্তার হোসেন একই অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করেন। এরপর রাষ্ট্রপতির অনুমতি নিয়ে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে অনুষ্ঠান বয়কট করে অডিটোরিয়াম ত্যাগ করেন।   এনসিপি নেতাদের বেরিয়ে যাওয়ার পরও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের বাকি কর্মসূচি নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয়।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ০৬, ২০২৬

জনগণের দাবি পৌঁছে দিতেই সচিবালয়ের সামনে এসেছি: জামায়াত আমির

ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা

সংগৃহীত ছবি

আজ উন্মুক্ত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান জাদুঘর, টিকিট যেভাবে কাটবেন

ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মনিরুজ্জামান মিঞা
ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনায় গাফিলতি সহ্য করা হবে না: বিভাগীয় কমিশনার

ভূমি প্রশাসনকে সম্পূর্ণরূপে প্রযুক্তিনির্ভর, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব সেবায় রূপান্তর করতে সরকার নিরলস কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মনিরুজ্জামান মিঞা।       তিনি বলেন, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনার প্রতিটি ধাপে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে এবং কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর অবহেলা, গাফিলতি কিংবা দুর্নীতি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।     সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।     ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ভূমি-সংক্রান্ত সেবাকে দ্রুত, সহজ ও হয়রানিমুক্ত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ করছে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমছে, একই সঙ্গে প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও বাড়ছে।     তিনি বলেন, অতীতে একটি নামজারি, খতিয়ান সংগ্রহ বা ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের মতো সাধারণ সেবা নিতে মানুষকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো।     অনেক ক্ষেত্রে দালাল চক্রের খপ্পরেও পড়তে হতো। বর্তমানে অনলাইনে আবেদন, আবেদন যাচাই, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, আবেদন ট্র্যাকিংসহ বিভিন্ন সেবা চালু হওয়ায় জনগণ ঘরে বসেই অনেক কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন।     মনিরুজ্জামান মিঞা বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু ডিজিটাল সেবা চালু করা নয়, বরং সেবার গুণগত মান নিশ্চিত করা। এজন্য মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং সেবার মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।     তিনি বলেন, ‘আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করা হবে না। জনগণের সেবা প্রদানে অবহেলা, অযথা বিলম্ব কিংবা অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’     বিভাগীয় কমিশনার বলেন, প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক, তা পরিচালনার জন্য দক্ষ ও দায়িত্বশীল জনবল প্রয়োজন। তাই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সেবার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।     কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরকারি সেবা আরো স্বচ্ছ ও কার্যকর করার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার তৈরি হলে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।   কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করে কৃষি প্রণোদনা, ভর্তুকি, কৃষিঋণসহ বিভিন্ন সহায়তা আরো সহজে প্রদান করা সম্ভব হবে। তিনি আরো বলেন, ‘কৃষকরা দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। তাদের সঠিক তথ্য সংরক্ষণ ও সরকারি সুবিধা দ্রুত পৌঁছে দিতে কৃষক কার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকরা উপকৃত হবেন এবং সরকারি সহায়তার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।’     ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা প্রকৃত মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে সরকারি সহায়তা আরো সুনির্দিষ্টভাবে দেওয়া সম্ভব হবে।     মনিরুজ্জামান মিঞা বলেন, ভূমি তথ্য, কৃষক তথ্য ও পারিবারিক তথ্যের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা গেলে সরকারের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে। প্রযুক্তিনির্ভর তথ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একই সঙ্গে কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা ও ভূমি সেবার মান উন্নত করা সম্ভব হবে।       ভূমি অফিসে দালালনির্ভরতা কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, অনলাইন সেবা চালুর ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের সুযোগ অনেক কমে এসেছে। পাশাপাশি প্রতিটি ভূমি অফিসে অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা, নির্ধারিত সময়ে আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশনা এবং নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।     তিনি বলেন, ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জাল দলিল, ভুয়া রেকর্ড ও একই জমি নিয়ে একাধিক দাবির মতো অনিয়ম কমানো সম্ভব হবে। কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারের মাধ্যমে জমির তথ্য সহজে যাচাই করা যাবে, যা ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।     সাধারণ মানুষের উদ্দেশে মনিরুজ্জামান মিঞা বলেন, ‘দালালের মাধ্যমে নয়, সরাসরি সরকারি পদ্ধতিতে কিংবা অনলাইনে ভূমিসেবা গ্রহণ করুন। কোনো ধরনের হয়রানি বা অনিয়মের শিকার হলে প্রশাসনকে জানান। আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব।’     তিনি বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনই প্রশাসনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। এজন্য মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের আরো আন্তরিক, সেবামুখী ও জবাবদিহিমূলক হতে হবে। যারা ভালো কাজ করবেন, তারা পুরস্কৃত হবেন। অন্যদিকে অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।     ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ভূমি রেকর্ড, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর, ডিজিটাল মানচিত্র এবং অন্যান্য সেবাকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার কাজ এগিয়ে চলছে। এতে নাগরিকরা এক জায়গা থেকেই অধিকাংশ ভূমি-সংক্রান্ত সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।       তিনি বলেন, আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে আধুনিক ভূমি প্রশাসনের বিকল্প নেই। ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরো গতিশীল হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে এবং সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা আরো বৃদ্ধি পাবে।       মনিরুজ্জামান মিঞা বলেন, ‘জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আমরা বদ্ধপরিকর। ভূমি প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সেবার মান নিশ্চিত করা হবে। ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের গাফিলতি বা দুর্নীতির সুযোগ নেই। জনগণের স্বার্থে আমরা প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

উদ্বোধনের পর সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হলো জুলাই জাদুঘর

সংগৃহীত

সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় শান্তা-মেহেদীসহ ৬ জন কারাগারে

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ফাইল ছবি

'জুলাইয়ের আন্দোলন ছিল স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে'—পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

সংগৃহীত
ইন্তেকাল করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. এ. আর. খান

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. এ. আর. খান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।   বুধবার (৫ আগস্ট) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০০ বছর।   দেশের শিক্ষা, চিকিৎসা ও জনসেবায় দীর্ঘদিনের অবদানের জন্য তিনি ব্যাপকভাবে পরিচিত ও শ্রদ্ধেয় ছিলেন। তার মৃত্যুর খবরে দোহারে শোকের ছায়া নেমে আসে।   তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও তার শুভানুধ্যায়ীরা। মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের হত্যাকাণ্ডে স্বচ্ছ বিচারের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

মাগুরায় সাকিব আল হাসানের বাড়িতে আগুন

ভারতে পাচারের সময় সোনার বারসহ আটক ১

0 Comments