ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে দেশ পরিচালনা নিয়ে সরাসরি আলোচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন তথ্য জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের প্রধান ক্রিস্টি নোয়েম। খবর বিবিসির।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নোয়েম বলেন, ট্রাম্প ও ডেলসি রদ্রিগেজের মধ্যে চলমান আলোচনা খুবই বাস্তবভিত্তিক এবং পরিষ্কার। তিনি জানান, এসব কথোপকথনে যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।
নোয়েম বলেন, আপনি নেতৃত্ব দেবেন, না হলে সরে দাঁড়াবেন। আমরা আর কাউকে আমাদের আমেরিকান প্রভাব ক্ষুণ্ন করতে দেব না। তার এই মন্তব্য ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থান ও রাজনৈতিক চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সাক্ষাৎকারে নিকোলাস মাদুরোর ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন করা হয় নোয়েমকে। মাদুরোর বিচার শেষে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের বিষয়টি দেখতে হবে এবং আইনি প্রক্রিয়াকে তার মতো করে এগোতে দিতে হবে।
ভেনেজুয়েলা পরিচালনা নিয়ে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ট্রাম্পের আলাপ
ভেনেজুয়েলায় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা এখনই নয় : মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
এই মন্তব্যের মাধ্যমে মাদুরোর সম্ভাব্য প্রত্যর্পণ নিয়ে সরাসরি কোনো নিশ্চয়তা না দিলেও যুক্তরাষ্ট্র যে বিষয়টি খোলা রাখছে, তা স্পষ্ট হয়েছে।
ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক সামরিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার পর যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান দেশটির ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ভারত ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হতে চায়। এ লক্ষ্য অর্জনের পথে দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক হতে পারে মাথাপিছু বার্ষিক জিডিপি ১০ হাজার ডলারে উন্নীত করা। ভারতের অর্থনীতি, উন্নয়ননীতি ও সামাজিক বৈষম্যের মধ্যে সম্পর্ক তুলে ধরে এমনই বিশ্লেষণ করেছেন ব্লুমবার্গ নিউ ইকোনমির সম্পাদকীয় পরিচালক এরিক শাটজকার। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শিল্পায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে ভারত কীভাবে একদিকে আধুনিক অবকাঠামো ও প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে দারিদ্র্য, বৈষম্য ও নাগরিক সেবার ঘাটতির মতো সমস্যার মুখোমুখি থাকছে তা তিনি দেখিয়েছেন। শাটজকার সম্প্রতি ১৮ মাসের মধ্যে সপ্তমবারের মতো ভারত সফর করেন। এর আগে দেশটি সম্পর্কে তাঁর প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ছিল সীমিত। একের পর এক সফরে ভারতের অর্থনীতি ও সমাজের নানা দিক দেখার পর তাঁর মনে হয়েছে, এত জটিল একটি দেশকে কয়েকটি ব্যবসায়িক সফরের অভিজ্ঞতা দিয়ে পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়। তবে দেশটির উন্নয়নকে বোঝার একটি সূত্র তিনি পেয়েছেন ভারতের রেল, সম্প্রচার, ইলেকট্রনিকস ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে আলোচনায়। যুক্তরাষ্ট্রের বন্ডবাজারের অস্থিরতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার পর শাটজকার মন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন, নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় নিউ ইকোনমি ফোরামে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে গোলটেবিল আলোচনায় তিনি কোন বিষয়টি তুলে ধরতে চান। ভারতের সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন ও ইলেকট্রনিকস খাতের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হবে বলে ধারণা করেছিলেন শাটজকার। কিন্তু বৈষ্ণবের উত্তর ছিল ভিন্ন। তিনি কথা বলতে চেয়েছিলেন ভারতের অর্থনীতির গতিপথ ও সংকট মোকাবেলার সক্ষমতা নিয়ে। আলোচনা শেষে বিদায়ের সময় শাটজকারের হাত ধরে বৈষ্ণব বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমরা যেন ১০ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারি।’ এখানে ১০ হাজার ডলার বলতে মাথাপিছু বার্ষিক মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি বোঝানো হয়েছে। এটি প্রত্যেক ভারতীয়ের ব্যক্তিগত আয় ১০ হাজার ডলার হওয়া নয়। বরং একটি দেশের মোট বার্ষিক উৎপাদনের আর্থিক মূল্যকে জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে মাথাপিছু জিডিপি পাওয়া যায়। শাটজকার জানান, বর্তমানে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি প্রায় ৩ হাজার ডলার। এই অবস্থান থেকে ১০ হাজার ডলারে পৌঁছানো দেশটির অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চূড়ান্ত লক্ষ্য ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশকে ‘বিকশিত ভারত’ বা উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তর করা। ওই বছর ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারতের স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্ণ হবে। শাটজকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতের নিজস্ব অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে ২০৪৭ সালের মধ্যে মাথাপিছু জিডিপি ১৮ হাজার ডলারের বেশি করার লক্ষ্য রয়েছে। এ জন্য পরবর্তী দুই দশক ধরে বছরে প্রায় ৭ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে হবে। দীর্ঘ সময় ধরে এমন প্রবৃদ্ধি অর্জন কঠিন হলেও চীনসহ অল্প কয়েকটি দেশ অতীতে এ ধরনের সাফল্য দেখিয়েছে। উন্নয়ন ও বৈষম্যের পাশাপাশি অবস্থান ভারতের অর্থনীতির এই লক্ষ্য বোঝার জন্য দেশটির দৃশ্যমান বৈপরীত্যগুলো বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন শাটজকার। মুম্বাইয়ের উদাহরণ দিয়ে তিনি দেখিয়েছেন, একই শহরে বিপুল সম্পদ ও চরম দারিদ্র্য পাশাপাশি অবস্থান করছে। শহরটিতে এক ধনকুবের পরিবারের ব্যক্তিগত আবাস হিসেবে ২৭ তলা ও প্রায় চার লাখ বর্গফুটের একটি ভবন রয়েছে। অথচ কাছাকাছি এলাকার শিশুরা রাস্তার মাঝের মাটির জায়গায় খেলাধুলা করে। তাঁর লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে, মুম্বাইয়ের আনুমানিক ৪২ শতাংশ মানুষ বস্তিতে বসবাস করে। শুধু সম্পদের বৈষম্য নয়, ভারতের অবকাঠামো ও নাগরিক সেবার মধ্যেও রয়েছে বড় ব্যবধান। দিল্লিতে রয়েছে আধুনিক মেট্রোরেল ব্যবস্থা, কিন্তু শহরটির বায়ুদূষণও গুরুতর। দেশটি ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস বা ইউপিআইয়ের মতো দ্রুত ও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত ডিজিটাল লেনদেনব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। অথচ অনেক শহরে এখনো বর্জ্য সংগ্রহ, বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ও পয়োনিষ্কাশনের মতো মৌলিক নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে আছে। একইভাবে, ভারত দিল্লি ও মুম্বাইয়ের মধ্যে যাতায়াতের সময় কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বিশ্বমানের দ্রুতগতির এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করছে। কিন্তু দেশের অনেক স্থানীয় সড়কে এখনো বড় বড় গর্ত রয়েছে। শাটজকারের মতে, এসব বৈপরীত্যের পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো সরকারের সীমিত সম্পদ, সময় ও প্রশাসনিক সক্ষমতা। একটি সরকার একই সঙ্গে সব সমস্যার সমাধান করতে পারে না। ফলে কিছু খাতে দ্রুত উন্নয়ন ঘটলেও অন্য খাতগুলো পিছিয়ে থাকতে পারে। ভারতের উন্নয়ননীতিকে বোঝার ক্ষেত্রে এই অগ্রাধিকারের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বড় শিল্পগোষ্ঠীর ভূমিকা কেন গুরুত্বপূর্ণ ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ব্যাখ্যায় বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর ভূমিকার কথাও তুলে ধরেছেন শাটজকার। তাঁর মতে, বন্দর, তেল শোধনাগার, টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও কারখানা নির্মাণে দেশটির বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। এসব অবকাঠামো বিনিয়োগ আকর্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং শিল্পায়নের জন্য প্রয়োজনীয়। শাটজকারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই বাস্তবতা ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে কেন মোদি সরকার অল্প কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠীর হাতে বিপুল সম্পদ কেন্দ্রীভূত হওয়ার বিষয়টি মেনে নিয়েছে এবং কখনো কখনো সেই প্রক্রিয়াকে সহজ করেছে। ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে এই শিল্পগোষ্ঠীগুলোর স্বার্থ ও ভূমিকা জড়িয়ে রয়েছে। তবে এখানে উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও রয়েছে। বড় শিল্পগোষ্ঠী যদি অবকাঠামো নির্মাণ, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে, তাহলে তা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারে। কিন্তু সেই প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে কতটা পৌঁছায়, সম্পদের বৈষম্য কতটা কমে এবং নাগরিক সেবার মান কতটা উন্নত হয়, সেগুলোও উন্নয়নের মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ, দেশের মোট উৎপাদন বাড়া এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হওয়া সম্পর্কিত হলেও দুটি বিষয় এক নয়। মাথাপিছু জিডিপি অর্থনীতির গড় উৎপাদনের একটি সূচক; এটি আয়বণ্টন বা সামাজিক বৈষম্যের পূর্ণ চিত্র দেয় না। চীন থেকে বিনিয়োগ আনা ও প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা শাটজকার বলেছেন, ২০১৪ সালে মোদি প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে ভারতের মোট জিডিপি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এখন দেশটির সরকার ব্যাংকিং ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে, চীন থেকে আরো উৎপাদন কার্যক্রম ভারতে আনতে এবং বৈশ্বিক মহাকাশ প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে চায়। সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিকস উৎপাদনে ভারতের অগ্রগতিও এই বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু নতুন শিল্প স্থাপন নয়; বরং বিনিয়োগ আকর্ষণ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ভিত্তি শক্তিশালী করা। তবে ২০৪৭ সালের লক্ষ্য অর্জন করতে হলে শুধু প্রবৃদ্ধির উচ্চ হার বজায় রাখাই যথেষ্ট হবে না। অর্থনীতির বিস্তারের সঙ্গে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, নাগরিক সেবা এবং সম্পদের বণ্টনের বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। প্রবৃদ্ধি দীর্ঘস্থায়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে এসব খাতের উন্নয়ন প্রয়োজন। ১০ হাজার ডলারই কি উন্নয়নের চূড়ান্ত মাপকাঠি? শাটজকারের কাছে অশ্বিনী বৈষ্ণবের বক্তব্যের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, এটি ভারতের উন্নয়ননীতির অগ্রাধিকার সম্পর্কে একটি ধারণা দেয়। দেশটির সরকার জাতীয় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে সামনে রেখে শিল্পায়ন, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগে জোর দিচ্ছে। এই লক্ষ্য অর্জনের পথে কিছু সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান না-ও হতে পারে। শাটজকার লিখেছেন, মন্ত্রীর কণ্ঠের দৃঢ়তা ও চোখের অভিব্যক্তি থেকে তিনি বুঝেছিলেন, লক্ষ্য অর্জনে ভারত যা যা প্রয়োজন, তা করতে প্রস্তুত। এই উপলব্ধির মধ্য দিয়ে ভারতের নানা বৈপরীত্য তাঁর কাছে কিছুটা বোধগম্য হয়ে ওঠে। তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অর্থ এই নয় যে বৈষম্য বা নাগরিক সেবার ঘাটতি গুরুত্বহীন। বরং ভারতের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করবে দেশটি কীভাবে প্রবৃদ্ধির সঙ্গে এসব সমস্যার সমাধানের সমন্বয় ঘটাতে পারে, তার ওপরও। ১০ হাজার ডলারের মাথাপিছু জিডিপি ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে। কিন্তু উন্নত রাষ্ট্র হওয়ার অর্থ শুধু উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধি নয়; সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান, সুযোগের সমতা, পরিবেশের সুরক্ষা এবং মৌলিক নাগরিক সেবার উন্নয়নও এর অংশ। ভারতের সামনে তাই চ্যালেঞ্জটি দ্বিমুখী। একদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি বজায় রেখে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করা, অন্যদিকে সেই অগ্রগতির সুফল আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। ২০৪৭ সালের ‘বিকশিত ভারত’ লক্ষ্য কতটা সফল হবে, তা শেষ পর্যন্ত এই দুই দিকের মধ্যে ভারসাম্য তৈরির সক্ষমতার ওপরও নির্ভর করবে।
নিখোঁজ হওয়ার দুই মাস পরও ফাহাদ বারকাতের পরিবার জানত না, কী ঘটেছে তার। মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আটক, মৃত্যু ও দাফন নিয়ে নানা অভিযোগ। পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে সাম্প্রতিক সহিংসতায় নিহত ব্যক্তিদের বিষয়ে জবাবদিহি ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাদের স্বজনেরা। গত ৫ জুন থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত ওই অঞ্চলে অস্থিরতার মধ্যে ৯০ জনের মৃত্যুর তথ্য সংকলন করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন জম্মু কাশ্মীর হিউম্যান রাইটস অবজারভেটরি (জেকেএইচআরও)। শনিবার (১০ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংগঠনটি নিখোঁজ হওয়া, বেআইনি আটক, মৃত্যু ও দাফনসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৬ বছর বয়সী ফাহাদ বারকাত ৭ জুন রাতে রাওয়ালাকোটের একটি সামরিক হাসপাতালে রক্ত দিতে গিয়েছিলেন। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি তিনি। তার বোনের কাছে সেটিই ছিল ফাহাদের শেষ বার্তা। রাত ১১টা ৩১ মিনিটে বার্তা পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাননি। ফাহাদের বোনের ধারণা ছিল, পুলিশ তার ভাইকে আটক করেছে। দুই মাসের বেশি সময় ধরে তিনি ভাইয়ের মুক্তির জন্য প্রার্থনা করেছেন। কিন্তু পরে জানতে পারেন, ফাহাদ আর বেঁচে নেই। যুক্তরাজ্যে নিবন্ধিত মানবাধিকার সংগঠন জেকেএইচআরওর ৪৭ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে ফাহাদের বোনের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালের ফটকে প্রবেশের সময় রাত একটার কিছু আগে ফাহাদের ঘাড়ে গুলি লাগে। নিরাপত্তার কারণে প্রতিবেদনে তার বোনের নাম প্রকাশ করা হয়নি। ফাহাদের মৃত্যুর জন্য কে দায়ী, তা নিশ্চিত করতে পারেনি জেকেএইচআরও। তবে সংগঠনটি এ ঘটনার স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্তের পাশাপাশি দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে গত জুনে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ থেকে আন্দোলন শুরু হয়। পরে তা অঞ্চলটির সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক কাঠামো পরিবর্তনের দাবিতে বিস্তৃত হয়। জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) নামের একটি জোট আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়। তৃণমূল পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মী ও সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত এই জোট ২৭ জুলাই থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত কয়েক ধাপে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বয়কটের ডাক দিয়েছিল। তাদের অভিযোগ, বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরের বাসিন্দাদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে পারছে না। জেএএসি ৪৫ আসনের আঞ্চলিক আইনসভায় থাকা ১২টি সংরক্ষিত আসন বাতিলের দাবি জানায়। এসব আসন পাকিস্তানের অন্যান্য এলাকায় বসবাসরত ভারতশাসিত কাশ্মীরের শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত। পাকিস্তান সরকার এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে। সরকারের বক্তব্য, সংরক্ষিত আসনগুলো সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত। সাবেক দেশীয় রাজ্য জম্মু ও কাশ্মীরের পুরো ভূখণ্ডের মর্যাদা নিয়ে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অবস্থানের সঙ্গেও বিষয়টি সম্পর্কিত। পরে জেএএসিকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ করে পাকিস্তান সরকার। সংগঠনটির কয়েকজন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা অভিযান চালানো হয়। এ সময় মানবাধিকার লঙ্ঘন, বেআইনি আটক ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ ওঠে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯ জুন পর্যন্ত ওই সহিংসতায় অন্তত ২৪ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক ও পুলিশ সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া পাঁচ শতাধিক মানুষকে আটক করা হয়েছিল। জেএএসি দাবি করেছে, ৫ জুন থেকে এ আন্দোলনে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, সশস্ত্র বিক্ষোভকারীরা সহিংসতায় জড়িত ছিলেন। জেএএসি ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ অভিযোগের বিরোধিতা করে বলেছে, বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী অতিরিক্ত ও প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করেছে। এ পরিস্থিতিতে তথ্য সংগ্রহও কঠিন হয়ে পড়ে। পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয় এবং বিদেশি গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের ওই অঞ্চলে যাতায়াতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫ জুন মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়। ৩১ আগস্ট থেকে ধাপে ধাপে ইন্টারনেট চালু করা হলেও রাওয়ালাকোট ও সুদনোতি এলাকায় তা চালু করা হয়নি। ফাহাদের মতো আরো কয়েকজনের নিখোঁজ হওয়া ও মৃত্যুর ঘটনায় প্রশ্ন তুলেছে জেকেএইচআরও। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩০ জুন ধীরকোট থেকে শওকত নেওয়াজ মিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার পরিবারের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের সময় কোনো পরোয়ানা দেখানো হয়নি। তাকে আটকের আইনি ভিত্তি কিংবা কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়েও কিছু জানানো হয়নি। তিন মাস পেরিয়ে গেলেও তার অবস্থান সম্পর্কে পরিবার কোনো তথ্য পায়নি। জুলাই মাসে শওকতের বোন ইয়ামিন মির আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের হাইকোর্টে আবেদন করেন। এতে শওকতকে আদালতে হাজির করার দাবি জানানো হয়। জেকেএইচআরওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবারের সদস্যরা বারবার পুলিশ ও সরকারি দপ্তরে যোগাযোগ করেও শওকতের অবস্থান জানতে পারেননি। তার সঙ্গে দেখা করার অনুমতিও দেওয়া হয়নি। আবেদনে আরো বলা হয়, পরিবারের জানা মতে, শওকতকে কোনো উপযুক্ত ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়নি এবং তার আটকের বৈধ আদেশও প্রকাশ করা হয়নি। এ কারণে তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পরিবার। এর আগে জিও নিউজ মুজাফফরাবাদের ডেপুটি কমিশনারের বরাত দিয়ে শওকতকে আটকের খবর প্রকাশ করেছিল। তবে পরে সংবাদমাধ্যম ডন জানায়, তার গ্রেপ্তারের বিষয়ে কর্মকর্তারা নীরব ছিলেন। গত ৫ সেপ্টেম্বর চিত্রা টোপি গ্রামের পুলিশ জানায়, নিরাপত্তাকর্মীদের পাল্টা গুলিতে এক হামলাকারী নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের কথাও জানানো হয়। পরে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত হয়—তিনি জাবির মুমতাজ। তবে জাবিরের পরিবারের বক্তব্য ভিন্ন। জেকেএইচআরওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত্যুর আগে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, ওই সময় তিনি আটক ছিলেন। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। পরিবারের অভিযোগ, জাবিরের মরদেহ নিতে হলে তাকে সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচয় দিয়ে একটি বিবৃতিতে স্বাক্ষর করতে বলা হয়েছিল। পরিবার তাতে রাজি না হওয়ায় কর্তৃপক্ষ নিজেরাই তার দাফন সম্পন্ন করে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। জেকেএইচআরওর পরিচালক আজার আহমেদ বলেন, কোনো পরিবারকে তাদের স্বজনের মরদেহের অবস্থান খুঁজে বেড়াতে হওয়া উচিত নয়। আটক, দাফন কিংবা মৃত্যু সম্পর্কে গুজবের ওপরও তাদের নির্ভর করতে হওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ আটক, চিকিৎসা, মর্গ ও দাফনসংক্রান্ত নথি প্রকাশ করলেই এ ধরনের অনেক ঘটনার সমাধান সম্ভব। নীরবতা মানুষের দুর্ভোগ বাড়ায় এবং জনসাধারণের আস্থা ক্ষুণ্ন করে। রাওয়ালাকোটে নিজের মহিষের খামারে যাওয়ার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ২৯ বছর বয়সী নাকাশ জারদাদ। ৬ জুন খামারের কাছাকাছি সংঘর্ষ চলার সময় ছোড়া একটি গুলিতে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে জেকেএইচআরও। এ তথ্যের সূত্র হিসেবে বিবিসির একটি স্বাধীন প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেছে সংগঠনটি। নাকাশের পরিবার প্রশ্ন তুলেছে, বিক্ষোভে অংশ না নেওয়া একজন ব্যক্তি নিজের বা পরিবারের সম্পত্তির ভেতরে কিংবা কাছাকাছি অবস্থান করেও কীভাবে প্রাণঘাতী গুলির শিকার হলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাকাশের মৃত্যু তার পরিবারের ওপর দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ও সামাজিক প্রভাব ফেলেছে। তার বাবা ক্যানসারে মারা যাওয়ার পর নাকাশই ছিলেন পরিবারের একমাত্র জীবিত পুরুষ সদস্য। প্রতিবেদনটির লেখকেরা সতর্ক করে বলেছেন, তালিকাভুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির মৃত্যুর পেছনে একই পক্ষ, একই পরিস্থিতি কিংবা একই আইনি কারণ ছিল—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত হবে না। প্রতিবেদনটির লেখক ইয়াসির শাফাত বলেন, প্রতিটি মৃত্যুকে একটি মাত্র বয়ানে সীমাবদ্ধ করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। বরং এমন একটি বিশ্বাসযোগ্য নথি সংরক্ষণ করা, যা পরিবার, তদন্তকারী, সাংবাদিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো মূল প্রমাণের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করতে পারবে। তিনি আরো বলেন, প্রতিবেদনে নাম থাকা প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে সত্য উদ্ঘাটন, আইনসম্মত তদন্ত ও কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। জেকেএইচআরও ২০২৬ সালের জুন থেকে নথিভুক্ত প্রতিটি সম্ভাব্য বেআইনি মৃত্যু ও গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনার দ্রুত, স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডি জেলায় ৩০ দিনের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) রাওয়ালপিন্ডির ডেপুটি কমিশনার নাদিম নাসির সেখানকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে এ ঘোষণা দেন। আগামী ৮ নভেম্বর পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি থাকবে। বিস্তারিত আসছে...